আন্তর্জাতিক

কিউবাকে ঘিরে নতুন উত্তেজনা, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কা

আক্তারুজ্জামান মে ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র কিউবাকে কেন্দ্র করে ফের উত্তেজনা বাড়ছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস। তাদের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রশাসনের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও পদক্ষেপে কিউবার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত মিলছে।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সম্প্রতি কিউবা ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। ওয়াশিংটন ইতোমধ্যে হাভানার ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত জটিল আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

কিউবাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ নতুন নয়। ১৯৬২ সালের কিউবান ক্ষেপণাস্ত্র সংকট ছিল দুই দেশের সম্পর্কের সবচেয়ে বড় সংঘাতগুলোর একটি। সে সময় সোভিয়েত ইউনিয়ন কিউবায় পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করলে যুক্তরাষ্ট্র সেটিকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে এবং দেশটির ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করে।

 

এক্সিওস বলছে, বর্তমান পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে সেটি হতে পারে কয়েক দশকের মধ্যে দুই দেশের সবচেয়ে বড় বিরোধ।

 

এর আগে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ফেব্রুয়ারি থেকে কিউবার আকাশসীমার আশপাশে নজরদারি বিমানের তৎপরতা বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি গত সপ্তাহে দেশটির বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে ওয়াশিংটন।

 

এসব নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, এটি সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে ‘সমষ্টিগত শাস্তি’ প্রয়োগের সামিল। জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক চাপের কারণে গত কয়েক মাস ধরেই দেশটির পরিস্থিতি নাজুক বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

 

এদিকে এক্সিওস আরও জানিয়েছে, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভাকে ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে আশ্বস্ত করেছেন যে কিউবায় হামলার কোনো পরিকল্পনা তার নেই। তবে একই সময়ে ট্রাম্প একটি রণতরী কিউবার কাছাকাছি মোতায়েনের সম্ভাবনার কথাও বলেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার আগে কিউবাকে ঘিরেও সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। পরে যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ ইরান সংকটে কেন্দ্রীভূত হওয়ায় সেই শঙ্কা কিছুটা কমে আসে।

 

সূত্র: এক্সিওস

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। ছবি: সংগৃহীত
ফের প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার ঘোষণা এরদোগানের

২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আবারও লড়তে পারেন তুরস্কের বর্তমান প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ডেইলি অবজারভার।    এরদোগানের উপদেষ্টা মেহমেত উচুম জানিয়েছেন, সংসদের ৬০০ সদস্যের মধ্যে অন্তত ৩৬০ জন আগাম নির্বাচনের পক্ষে ভোট দিলে ২০২৮ সালের এপ্রিলে নির্বাচন হতে পারে। তিনি সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে ওই বছরের ১৬ এপ্রিলের কথা বলেছেন।    তুরস্কের নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচন সাধারণত ২০২৮ সালের মে মাসে হওয়ার কথা। তবে সংবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক সংসদ সদস্যের সমর্থন পেলে আগাম নির্বাচন ডাকা সম্ভব। এমন নির্বাচন হলে এরদোগানের আবার প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।     বর্তমানে এরদোগানের একে পার্টি এবং জোটসঙ্গী ন্যাশনালিস্ট মুভমেন্ট পার্টি (এমএইচপি) মিলিয়ে সংসদে ৩২৬টি আসন রয়েছে। অর্থাৎ ৩৬০ ভোটের প্রয়োজন হলে তাদের আরও ৩৪ জন সংসদ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হবে।   এতদিন তুরস্কের সরকার বলে আসছিল, নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এমনকি এরদোগানের দল একেপির মুখপাত্র ওমের চেলিকও সম্প্রতি বলেছেন, সরকারের নির্বাচনের সময় এগিয়ে আনার কোনো পরিকল্পনা নেই।    তবে এরদোগানের উপদেষ্টার সাম্প্রতিক বক্তব্যে আগাম নির্বাচন নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে।   এরদোগানের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ এরদোগান ২০০৩ সালে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় আসেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিন মেয়াদ দায়িত্ব পালনের পর তিনি ২০১৪ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।   পরে এরদোগানের সময়েই তুরস্কের রাজনৈতিক ব্যবস্থা সংসদীয় পদ্ধতি থেকে প্রেসিডেন্টকেন্দ্রিক ব্যবস্থায় পরিবর্তিত হয়। এরপর তিনি ২০১৮ ও ২০২৩ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হন।   ২০২৩ সালের নির্বাচনে জয় পাওয়ার পর এরদোগান সেটিকে তার শেষ প্রেসিডেন্ট মেয়াদ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। সে সময় তিনি ভোটারদের কাছে তাকে আরেকবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।   তবে আগাম নির্বাচন হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। তুরস্কের সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের দ্বিতীয় মেয়াদের সময় সংসদ আগাম নির্বাচন ডাকলে বর্তমান প্রেসিডেন্ট আবারও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পান।    ফলে ২০২৮ সালের নির্বাচন নির্ধারিত সময়ে হবে, নাকি আগেই হবে—এবং হলে এরদোগান আবারও প্রার্থী হবেন কি না, এখন তুরস্কের রাজনীতিতে সেটিই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘে ইরানের পক্ষে চীন-রাশিয়ার ভেটো

ছবি: সংগৃহীত

তাইজে ২৪ ঘণ্টার সংঘাতে ৩০ হুথি নিহতের দাবি ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের সামরিক শক্তিকে সম্মান করে পাকিস্তান, অস্ত্র প্রতিযোগিতা নয়: ডিজি, আইএসপিআর

ছবি: সংগৃহীত
বিতর্কের মধ্যেই প্রথম বিমানবাহী রণতরী পেল ইন্দোনেশিয়া

অবশেষে নিজেদের সামরিক বহরে প্রথম বিমানবাহী রণতরী যুক্ত করল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম অর্থনৈতিক শক্তি ইন্দোনেশিয়া।   ইতালীয় সাবেক যুদ্ধজাহাজটি হস্তান্তরের মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়ার সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং দুর্যোগ মোকাবেলার সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে দাবি করছে দেশটির সরকার। তবে বিশাল অঙ্কের পরিচালন ব্যয় ও উদ্দেশ্য নিয়ে ইতোমধ্যেই দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিক এবং সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।   শুক্রবার সকালে উত্তর জাকার্তার তানজুং প্রিয়োক বন্দরের একটি নৌঘাঁটিতে এসে পৌঁছায় স্বল্প দূরত্ব থেকে উড্ডয়ন এবং উলম্বভাবে অবতরণে সক্ষম ৪১ বছরের পুরোনো সাবেক ‌‘আইটিএস জিউসেপ্পে গ্যারিবালডি’ রণতরীটি।    সেখানে এক জাঁকজমকপূর্ণ সামরিক আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে যুদ্ধজাহাজটিকে স্বাগত জানানো হয়। আগামী সপ্তাহে ১৪ শতকের বিখ্যাত মাজাপাহিৎ আমলের সামরিক নেতার নামানুসারে এটিকে ‘কেআরআই গাজা মাদা’ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ইন্দোনেশীয় নৌবাহিনীতে কমিশন করা হবে।   দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নিজেদের সামরিক ও বাণিজ্যিক প্রভাব বাড়াতে গত মার্চ মাসে ইতালি তাদের ২০২৪ সালে অবসরে পাঠানো রণতরীটি ইন্দোনেশিয়াকে উপহার দিতে সম্মত হয়। একদিকে ইতালি ইন্দোনেশিয়ার কাছে সাবমেরিন ও যুদ্ধবিমান বিক্রির চুক্তি ত্বরান্বিত করতে চাইছে, অন্যদিকে পুরানো জাহাজটি উপহার দেওয়ায় সেটির ব্যয়বহুল ডিকমিশনিং বা স্ক্র্যাপ করার খরচ থেকেও বেঁচে গেছে রোম।   থাইল্যান্ডের ‘এইচটিএমএস চক্রি নারুয়েবেত’-এর পর দ্বিতীয় দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশ হিসেবে বিমানবাহী রণতরীর মালিক হলো ইন্দোনেশিয়া।   প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো সামরিক আধুনিকায়নে ব্যাপক জোর দিলেও রণতরীটি ঘিরে বাজেট বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে।   এর আগে ২০২৫ সালে ইন্দোনেশিয়ার অর্থ মন্ত্রণালয় এই প্রজেক্টের জন্য ৪৫ কোটি ডলার অর্থায়ন অনুমোদন করে। তবে পার্লামেন্টের কমিশন-১ এর সদস্য টিবি হাসানউদ্দিন সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই পুরোনো রণতরীটি আধুনিকায়ন ও ব্যবহারের উপযোগী করতেই খরচ হতে পারে অন্তত ১৬ ট্রিলিয়ন রুপিয়া (প্রায় ৯০ কোটি ডলার)।   বিদ্যমান অর্থনৈতিক চাপের মুখে একটি পুরোনো জাহাজ সচল রাখতে কেন কোটি কোটি ডলার ঢালা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা।   অন্যান্য পরাশক্তি নৌবাহিনীর মতো দূরদূরান্তে যুদ্ধবিমান পাঠাতে এটি ব্যবহার করবে না ইন্দোনেশিয়া। ইন্দোনেশিয়া এই জাহাজটিকে মূলত হাজার হাজার দ্বীপ জুড়ে হেলিকপ্টার, ড্রোন এবং সামুদ্রিক অভিযানের একটি ভাসমান কমান্ড সেন্টার ও সহায়তা হাব হিসেবে দেখছে।   চলতি মাসের শুরুতে একটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বৈঠকে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রাবোও বলেন, জাহাজটি কর্তৃপক্ষকে বন ও পিটল্যান্ডের আগুন মোকাবেলায় সহায়তা করবে, যা নিয়মিত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু অংশে বিপজ্জনক ধোঁয়াশার সৃষ্টি করে।   সূত্র: গার্ডিয়ান। 

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

হুতিদের দমনে চীনের সহায়তা চায় সৌদি আরব

ছবি: সংগৃহীত

মিশিগানে মার্কিন এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত, নিরাপদে বের হলেন পাইলট

ছবি: সংগৃহীত

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে সেনা না পাঠানোর সিদ্ধান্ত দক্ষিণ কোরিয়ার

সংগৃহীত ছবি
জ্বালানি সংকটে পাকিস্তানে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণসহ নানা নিষেধাজ্ঞা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরানের তীব্র সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। এর পাশাপাশি ইয়েমেনে সৌদি আরব ও ইরান-সমর্থিত হুতিদের লড়াই লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করায় পুরো অঞ্চলের জ্বালানি বাজার চরম অস্থিরতার মুখে পড়েছে। আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর মারাত্মকভাবে নির্ভরশীল পাকিস্তানের জন্য এই পরিস্থিতি দ্বিমুখী সংকট তৈরি করেছে। একদিকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বৈশ্বিক সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় দেশে মারাত্মক গ্যাস ও বিদ্যুৎ ঘাটতি দেখা দিয়েছে, অন্যদিকে পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্য আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। এই কঠিন জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও সরকারি ব্যয় কমাতে পাকিস্তান সরকার একগুচ্ছ কঠোর কৃচ্ছ্রসাধন নীতি ও কড়াকড়ি আরোপ করেছে।   দেশের অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতকে রক্ষা করতে পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) থেকে সম্প্রতি একটি জরুরি সরকারি বিবৃতি জারি করা হয়েছে। এতে ঘোষণা করা হয়, আগামী তিন মাসের জন্য সমস্ত সরকারি যানবাহনের জ্বালানি বরাদ্দ এক ধাক্কায় ৫০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হবে। এছাড়া পুরো ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য কর্মচারী ব্যতীত অন্য সামগ্রিক খরচ বা বাজেটে ৫ শতাংশ কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত সরঞ্জাম ছাড়া অন্য যেকোনো ধরনের টেকসই বা স্থায়ী সরকারি পণ্য ক্রয়ের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এমনকি সরকারের গাড়ি কেনাও পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রেও নেমে এসেছে কঠোর প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা। আগামী তিন মাস যেকোনো ধরনের সরকারি বিদেশ সফর কিংবা ট্রাভেল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কোনো বাধ্যতামূলক বা জরুরি সফর হলেও এই নিয়ম শিথিল করা হবে না, তবে শুধুমাত্র স্কলারশিপ বা শিক্ষাবৃত্তির ক্ষেত্রে এই বাধ্যবাধকতা ছাড় পাবে।   জ্বালানি অপচয় ও যাতায়াত খরচ কমাতে কর্মকর্তাদের সশরীরে উপস্থিত না হয়ে অনলাইনে বা টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে যাবতীয় মিটিং সারতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি আনুষ্ঠানিকতার ক্ষেত্রেও কাটছাঁট করা হয়েছে সমানে; সব ধরনের সরকারি নৈশভোজ বা অফিশিয়াল ডিনার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর বাইরে সাধারণ নাগরিকদের ব্যবহারের ওপরও কিছু সামাজিক বিধিনিষেধ আনা হয়েছে। নতুন নির্দেশনামা অনুযায়ী, দেশজুড়ে যেকোনো ধরনের বিয়ের অনুষ্ঠান বা সামাজিক আয়োজনে অতিথিদের জন্য 'ওয়ান ডিস' পরিবেশন করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।   চলতি বছরে পাকিস্তানে এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে গত মার্চ মাসেও সরকার জ্বালানি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে একই ধরনের কৃচ্ছ্রসাধন নীতি গ্রহণ করেছিল। সে সময় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বাঁচাতে টানা দুই সপ্তাহের জন্য সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছিল, সরকারি দপ্তরে তেলের ব্যবহার কমানো হয়েছিল এবং কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করার বা 'ওয়ার্ক ফ্রম হোম' সংস্কৃতি উৎসাহিত করা হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় জ্বালানি তেলের বিশ্ববাজার আরও বেশি উত্যক্ত হয়ে ওঠায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।   বিশ্ববাজারের উত্তাপের সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশটির স্থানীয় খুচরা বাজারে। গত মঙ্গলবার পাকিস্তানে পেট্রোলের দাম লিটারপ্রতি ৪.১০ পাকিস্তানি রুপি এবং হাই-স্পিড ডিজেলের দাম ৬.৪১ রুপি বাড়ানো হয়েছে। এই রেকর্ড মূল বৃদ্ধির পর দেশটির বাজারে পেট্রোলের দাম দাঁড়ায় প্রতি লিটার ৩৮৪.৩৪ রুপি এবং ডিজেল পৌঁছায় ৪১৫.৮৩ রুপিতে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ ও মধ্যবিত্তরা। মুদ্রাস্ফীতির এই তীব্র চাপ থেকে কম আয়ের মানুষকে সাময়িক স্বস্তি দিতে পাকিস্তান সরকার একটি বিশেষ জ্বালানি ত্রাণ স্কিম চালু করেছে।   জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মুসাদ্দিক মালিক সরকারের এই জ্বালানি ত্রাণ নীতি ব্যাখ্যা করে জানান, খুচরা মূল্যের এই মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধি থেকে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দিতে সরকার প্রতি লিটারে ভর্তুকি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন এই নীতি অনুযায়ী মোটরসাইকেল, রিকশা এবং ছোট গাড়ির মালিকরা নির্দিষ্ট একটি মাসিক কোটার ভিত্তিতে প্রতি লিটার পেট্রোলে ১০০ রুপি (বা প্রায় ৩৬ সেন্ট) করে বিশেষ ভর্তুকি সুবিধা পাবেন।    সূত্র: দ্য প্রিন্ট

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

প্যারিসে অভিবাসী শিবিরে ছুরি হামলা, ৭৩ বছর বয়সী ব্যক্তির ৭ বছরের কারাদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত

মুসলিম দেশের জনগণের সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা করছে সৌদি ও হুথি উভয়ই

ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সংগৃহীত ছবি

সৌদিতে ড্রোন ভূপাতিতের ঘটনায় নিহত বিদেশি নাগরিক

0 Comments