বিশ্ব

কিমের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ন করতে চান ট্রাম্প, মিলবেন বৈঠকে

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার (১৯ আগস্ট) বলেছেন, তিনি এ বছরের শেষ দিকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

 

প্রথম মেয়াদে পরমাণু শক্তিধর দেশটির নেতার সঙ্গে গড়ে তোলা সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ।

 

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, কিমের সঙ্গে ‘ভালো সম্পর্ক রাখা’ গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, উত্তর কোরিয়ার কাছে এখন ৫৭টি ‘অত্যন্ত শক্তিশালী’ পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে।

 

তবে, কিমকে নিয়ে ট্রাম্পের হঠাৎ আগ্রহ এবং যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া কমিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত এশিয়ার মিত্রদের উদ্বিগ্ন করেছে। একই সঙ্গে ইরান যুদ্ধ থমকে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প পররাষ্ট্রনীতিতে একটি সাফল্য অর্জনের চেষ্টা করছেন কি না, তা নিয়েও জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে।

 

হোয়াইট হাউসে নতুন হেলিপ্যাড পরিদর্শনের সময় ট্রাম্পকে ২০২৬ সালের শেষ দিকে কিমের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা আছে কি না জানতে চাওয়া হয়। জবাবে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি করব।’

 

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানোর মধ্যেও উত্তর কোরিয়ার নেতার সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনার পক্ষে যুক্তি দেন ট্রাম্প। ইরানের হাতে পারমাণবিক বোমা ঠেকানোর কারণেই তিনি এ যুদ্ধ চালাচ্ছেন বলে দাবি করে আসছেন।

 

কিমের প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘তার কাছে ৫৭টি অত্যন্ত শক্তিশালী পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। কখনোই এমনটা হতে দেয়া উচিত ছিল না। আমি প্রেসিডেন্ট হলে তা হতে দিতাম না।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু তার কাছে এগুলো আছে। তার সঙ্গে আমার খুব ভালো সম্পর্ক। আমি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে দিতে পারি না। আর আমি কিম জং উনকে খুব ভালোভাবে চিনি এবং সে ভালোই থাকবে।’

 

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, নভেম্বরে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা (এপেক) সম্মেলনে যোগ দিতে চীনের শেনঝেনে যাওয়ার সময় তিনি কিমের সঙ্গে বৈঠকের কথা ভাবছেন।

 

এর কয়েক ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-ব্যাক বলেন, উত্তর কোরিয়ার কাছে আনুমানিক ৮০ থেকে ১২০টি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

 

আন গিউ-ব্যাক আইনপ্রণেতাদের বলেন, ‘আমরা সাধারণত এর সংখ্যা প্রায় ৮০ থেকে ১২০টি বলে ধারণা করি।’ তবে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা দিতে অস্বীকৃতি জানান।

 

তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্রধর রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার বিরোধিতা করে যাচ্ছে সিউল।

 

ওয়াশিংটন উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার লক্ষ্য থেকে ‘সরে গেছে’ কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে আন বলেন, তিনি তা মনে করেন না।

 

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর দেশের নির্ভরতা কমাতে নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন।

 

বুধবার রাতে তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে সমর্থন ও এতে অবদান রাখতে তিনি ‘সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন’।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

রয়টার্স ছবি
ইয়েমেনে সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াই, হুতিদের লোহিত সাগর দখলের দাবি

ইয়েমেনে সৌদি আরব ও ইরান-সমর্থিত হুতিদের মধ্যে গত কয়েক দিনে সংঘাত আরো তীব্র হয়েছে। উপকূলীয় কিছু এলাকায় সশস্ত্র বাহিনীর চালানো অভিযানকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ শান্তির জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছে হুতিরা।     ফলে এসব হামলা বন্ধ এবং অবরোধ প্রত্যাহার করা হলে চলমান সামরিক অভিযান বন্ধ করা হবে বলে জানিয়েছে গোষ্ঠীটি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে হুতি মুখপাত্র মোহাম্মদ আবদুল সালাম বলেন, হুতিদের চলমান অভিযান নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ এবং তা ‘আত্মরক্ষামূলক’।       ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে রাতভর হুতিদের দ্রুত অগ্রসর হওয়ার পর তিনি এ মন্তব্য করেন। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোকা দখলে নেওয়ার দাবি করেছে হুতিরা।       একই সঙ্গে সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলেও জানা গেছে। এক বিবৃতিতে হুতিরা বলছে, ইয়েমেনের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠাই হবে সবচেয়ে কম ব্যয়বহুল ও দ্রুততম পথ।     প্রতিবেশী দেশগুলোর পাশাপাশি বিশ্বের কোনো আরব, মুসলিম বা অন্য কোনো দেশের প্রতি ইয়েমেনের কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই বলেও দাবি করা হয়েছে। আরো বলা হয়, ইয়েমেন কোনো দেশের ওপর হামলা চালায়নি; বরং আরব ও ইসলামী ভ্রাতৃত্বের নীতির পরিপন্থীভাবে ইয়েমেনই আগ্রাসনের শিকার হয়েছে।       লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে নৌ চলাচল এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন রয়েছে বলেও দাবি করেছে হুতিরা। তাদের ভাষ্য, এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই এবং ইয়েমেনের পক্ষ থেকে এসব নৌপথ কোনো হুমকির মুখে নেই।       বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, বর্তমানে পরিচালিত অভিযান সীমিত পরিসরে এবং আগে ঘোষণা করা নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এগুলো প্রতিরক্ষামূলক প্রকৃতির। ইয়েমেনের ওপর ‘আগ্রাসন’ বন্ধ এবং অবরোধ প্রত্যাহার করা হলে চলমান অভিযানও বন্ধ হয়ে যাবে।     এর আগে ইয়েমেনের কয়েকটি সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, হুতিরা লোহিত সাগর উপকূলের শহর মোকা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। একই সঙ্গে কৌশলগত হানিশ দ্বীপপুঞ্জে হামলা চালাচ্ছে তারা।       অন্যদিকে ইয়েমেন সরকারের বাহিনী ও তাদের মিত্ররা লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছাকাছি দক্ষিণে ধুবাব এলাকায় সরে যাচ্ছে। প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ নিতে ধুবাব ও এর বিপরীতে অবস্থিত পেরিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ বলেও সূত্রগুলো জানিয়েছে।     ‘গেট অব টিয়ার্স’ নামে পরিচিত বাব আল-মান্দেব প্রণালি ইয়েমেনের পাশাপাশি আফ্রিকার জিবুতি ও ইরিত্রিয়ার মাঝখানে অবস্থিত। এটি উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সুয়েজ খাল হয়ে ভূমধ্যসাগরে অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এ পথে এশিয়াগামী বিভিন্ন পণ্য, এমনকি রুশ তেলও পরিবহন করা হয়।     ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার পর বাব আল-মান্দেবও বন্ধ হয়ে গেলে সৌদি আরবের মতো উপসাগরীয় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো তাদের প্রধান সমুদ্রপথ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে।       চলতি সপ্তাহে হুতিদের হামলায় সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের চারটি শহরে অন্তত ৭৩ জন আহত হয়েছেন। হুতিরা দাবি করেছে, তারা খামিস মুশাইত শহরের একটি বিমানঘাঁটি ও আশপাশের শহরের তেল স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর সৌদি আরবে এটি অন্যতম বড় হামলা বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে এ ক্ষয়ক্ষতি হয়। সংগৃহীত ছবি

ইরানের পাল্টা হামলায় জর্ডানের ঘাঁটিতে ৯টি মার্কিন যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত

সংগৃহীত ছবি

গাজায় আবাসিক ভবনে হামলা, দুই শিশুসহ চারজনের মৃত্যু

ইরানের হামলায় একাধিক মার্কিন যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত: সিবিএস

হারেৎজ পত্রিকার বিরুদ্ধে মামলার ঘোষণা নেতানিয়াহুর

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তিনি হারেৎজ পত্রিকার বিরুদ্ধে মামলা করবেন। কারণ পত্রিকাটি একটি প্রতিবেদনে দাবি করেছে যে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার কয়েক দিন আগে হামাসের একটি আক্রমণের পরিকল্পনা সম্পর্কে তাকে সতর্ক করা হয়েছিল।   বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এক্সে দেয়া এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু প্রতিবেদনটিকে ‘বানোয়াট’ ও ‘মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, তিনি তার আইনজীবীদের হারেৎজ এবং প্রতিবেদনের লেখক শ্লোমি এলদার ও রুথ ইয়াভালের বিরুদ্ধেও মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন।   মঙ্গলবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ঘটনার ১০ দিন আগে হামাসের সম্ভাব্য একটি হামলার বিষয়ে নেতানিয়াহুকে সতর্ক করেছিলেন।   ওই দিন ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা দক্ষিণ ইসরায়েলে অন্তত ১ হাজার ১৯৫ জনকে হত্যা করে এবং আরও প্রায় ২৫১ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যায়। এসব হামলার পর ইসরায়েল গাজায় গণহত্যামূলক যুদ্ধ শুরু করে, যাতে অন্তত ৭৩ হাজার ৬৬৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।   হারেৎজের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট, যিনি এমবিজেড নামেও পরিচিত, নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং তৎকালীন হামাস নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ারের কাছ থেকে আসা একটি হুমকি সম্পর্কে তাকে সতর্ক করেন।   হারেৎজের মতে, বন্দীবিনিময় আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ায় এবং ইসরায়েলের গাজা অবরোধ অব্যাহত থাকায় ক্ষুব্ধ সিনওয়ার একজন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে এই সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি বলেছিলেন, তিনি একটি ‘বিশাল চমক’ প্রস্তুত করছেন এবং তার পরিচিত ব্যক্তিদের ইসরায়েলকে বলতে বলেছিলেন, ‘ভূমিকম্পের জন্য প্রস্তুত থাকতে’।   প্রতিবেদনে বলা হয়, এমবিজেড ও তার সহযোগীরা এটিকে পূর্ণমাত্রার একটি হামলা আসন্ন হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখেন এবং এই গোয়েন্দা তথ্য ইসরায়েলের শিন বেত সংস্থার কাছে পাঠিয়ে দেন। কিন্তু অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থাটি ওই হুমকিকে গুরুত্ব দেয়নি।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬

২০ বছরের মধ্যে প্রথমবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানো হলো ইরানকে

ফিলিপাইনে ফেরিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৫, নিখোঁজ ৮৭ জন

সৌদিতে হামলার পর ইয়েমেনকে হুঁশিয়ারি দিলো পাকিস্তান

ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক প্রধানের পদ ছাড়লেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল

  বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। জালিয়াতির অভিযোগে ডব্লিউএইচও ও বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের চল তদন্তের মধ্যে বুধবার (৮ সেপ্টেম্বর) তিনি পদত্যাগ করেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।   সায়মা ওয়াজেদ ২০২৪ সালের শুরুতে পাঁচ বছরের মেয়াদে ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন। গত বছরের শেষ দিকে তাকে বেতনবিহীন প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠায় ডব্লিউএইচও। এর আগে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে তাকে প্রথমবার ছুটিতে পাঠানো হয়। একই বছরের মার্চে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে মামলা করে।   রয়টার্স জানায়, গত ৩ জুলাই ডব্লিউএইচওকে দেওয়া সায়মা ওয়াজেদের আইনজীবীদের একটি চিঠিতে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, চীনে সফরসংক্রান্ত আর্থিক প্রতারণা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগে সায়মার বিরুদ্ধে তদন্ত করছে ডব্লিউএইচও। সায়মা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।   ডব্লিউএইচওর অভিযোগ, সায়মা বাংলাদেশে অবৈধভাবে একটি জমির প্লট অধিগ্রহণ করেছেন। তবে ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুসকে দেওয়া পদত্যাগপত্রে সায়মা দাবি করেন, ডব্লিউএইচওতে যোগ দেওয়ার আগেই তিনি ওই জমি অধিগ্রহণ করেছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য একটি আইনের আওতায় তিনি ওই জমির অধিকারী ছিলেন বলেও জানান সায়মা।   জুলাইয়ে দেওয়া আইনজীবীদের চিঠিতে সায়মা সফরসংক্রান্ত আর্থিক প্রতারণার অভিযোগও অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, নিয়মিত খরচ ফেরতের আবেদন প্রক্রিয়াকরণের দায়িত্বে থাকা একজন সহকারীর প্রশাসনিক ভুলের কারণে বিষয়টি ঘটেছিল। ওই অর্থের পরিমাণ ছিল ৯০১ ডলার।   শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে সায়মা বলেন, বাংলাদেশে অটিজম নিয়ে তার কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি একটি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছেন। এই যোগ্যতার বিষয়টি তিনি ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোসের কাছেও স্পষ্ট করেছিলেন বলেও দাবি করেন।   ‘আস্থা ও বিশ্বাস হারিয়েছি’   বুধবার রাতে টেড্রোসকে পাঠানো পদত্যাগপত্রে সায়মা ওয়াজেদ বলেন, তিনি যে অঞ্চলের দেশগুলোর সেবা করার জন্য আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচিত হয়েছিলেন, সেই দায়িত্ব আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করেছেন।   পদত্যাগপত্রে তিনি আরও বলেন, টেড্রোসের নেতৃত্বে ডব্লিউএইচওর ওপর তার আস্থা ও বিশ্বাস হারিয়েছে। দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালনে তাকে বাধা দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।   সায়মা বলেন, বেতনবিহীন ছুটিতে রাখার সিদ্ধান্তের পর প্রায় এক বছর ধরে কোনও পারিশ্রমিক না পাওয়ায় তার আর্থিক পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে তিনি পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিম তীর ইস্যুতে যুক্তরাজ্য-ইসরায়েল কূটনৈতিক সম্পর্কে নজিরবিহীন টানাপোড়েন

ছবি: সংগৃহীত

এক ভিসায় ছয় দেশ: মধ্যপ্রাচ্যে চালু হচ্ছে ‘জিসিসি গ্র্যান্ড ট্যুরিস্ট ভিসা’

ছবি : রয়টার্স

দক্ষিণ চীন সাগর বিরোধ: চীনের পাঠানো নোট ঘিরে ফিলিপিন্সের কড়া প্রতিবাদ

0 Comments