প্রবাসী

কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশি যুবক নিহত

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ১৮, ২০২৬

কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় সজিব সিকদার (২৬) নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টার দিকে কাতারের একটি সড়কে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে তিনি মারা যান। ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন নিহতের মামা কামাল হোসেন অপু মোল্লা।

 

নিহত সজিব সিকদার বরিশালের মুলাদী উপজেলার পৌরসভা চরডিক্রী গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত আব্দুর রহিম সিকদারের ছেলে। তিনি প্রায় ছয় বছর আগে জীবিকার সন্ধানে কাতারে পাড়ি জমান। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে সজিব ছিলেন সবার বড়।

 

পারিবারিক সূত্র জানায়, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে কাতারে চাকরি শুরু করলেও পরে তিনি নিজস্ব ব্যবসায় মনোনিবেশ করেন। প্রায় দেড় বছর আগে ছোট ভাই বেল্লাল সিকদারকেও কাতারে নিয়ে যান এবং তাকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেন। সম্প্রতি তিনি নিজ উদ্যোগে একটি প্রাইভেট কার কেনেন।

 

শুক্রবার ওই গাড়ি চালিয়ে বাসায় ফেরার পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন সজিব। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর মরদেহ কাতারের একটি হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

 

নিহতের পরিবার জানিয়েছে, মরদেহ দেশে আনার প্রস্তুতি চলছে এবং এক সপ্তাহের মধ্যে তা বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারে। সজিবের অকাল মৃত্যুর খবরে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশেষ করে সন্তানের মৃত্যুতে তার মা শোকাহত ও বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

প্রবাসী

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবে গাড়ি দুর্ঘটনায় চালকসহ চার বাংলাদেশি নিহত

সৌদি আরবের তায়েফ থেকে জেদ্দাগামী একটি গাড়ি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে চালকসহ চার বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হয়েছেন।   স্থানীয় সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে তায়েফের আল-খুরমা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, নিহত প্রবাসীরা জেদ্দা বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন।   স্থানীয় সূত্র ও প্রবাসীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় নিহত চারজনেরই বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায়। প্রাথমিকভাবে নিহতদের মধ্যে দুজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন-করিম উদ্দিন ও খালিদ মিয়া। তবে নিহত অন্য দুজনের নাম-পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে আকস্মিক এ দুর্ঘটনায় চার বাংলাদেশির প্রাণহানির ঘটনায় সৌদি আরবে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে নিহতদের নিজ এলাকায়ও শোকের আবহ বিরাজ করছে।   নিহত অন্য দুজনের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি মরদেহ দেশে ফেরত পাঠানোসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

এক দোকান দিয়ে শুরু, এখন ৮০ দোকানের ব্যবসা: স্পেনে আল-আমিনের সাফল্যের গল্প

ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় প্রবাসীদের সঙ্গে ফুটসাল খেললেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

সৌদি আরবে বাংলাদেশী প্রবাসীদের ই-পাসপোর্ট সেবায় নতুন নির্দেশনা

ছবি: সংগৃহীত
কর্পোরেট থেকে বিশ্বমঞ্চের নেতৃত্ব, সম্মানসূচক ডক্টরেট পেলেন নোয়াখালীর হেমি হোসাইন

নোয়াখালীর লালপুর গ্রামের সন্তান হেমি হোসাইন। অস্ট্রেলিয়ায় কর্পোরেট পেশাজীবন থেকে উদ্যোক্তা, আর সেখান থেকে আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও নেতৃত্বের জগতে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি।     এবার ব্যবসা ও ব্যবস্থাপনায় সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করে সাফল্যের সেই যাত্রায় যুক্ত করলেন নতুন এক মাইলফলক। হেমি হোসাইন নোয়াখালীর মাইজদী-সোনাপুর এলাকার লালপুর গ্রামের মরহুম আবুল কাশেমের তৃতীয় সন্তান। তার বাবা ছিলেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের একজন অবসরপ্রাপ্ত পরিদর্শক। সততা, আদর্শ এবং শিক্ষার প্রতি অনুরাগ ছিল তার জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।     সেই মূল্যবোধকে ধারণ করেই হেমি পাড়ি জমান অস্ট্রেলিয়ায়। অস্ট্রেলিয়ার আরএমআইটি ইউনিভার্সিটি থেকে বিজনেস ইনফরমেশন সিস্টেমস-এ ডিগ্রি অর্জনের পর শুরু হয় তার কর্পোরেট ক্যারিয়ার। কাজ করেছেন Telstra, MYOB ও ANZ-এর মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানে।       তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রচলিত কর্পোরেট জীবনের বাইরে নতুন কিছু করার তাগিদ অনুভব করেন তিনি।       শেষ পর্যন্ত নিরাপদ ও পরিচিত পথ ছেড়ে বেছে নেন অনিশ্চয়তাকে। আর সেই সিদ্ধান্তই বদলে দেয় তার জীবন। কর্পোরেট পেশাজীবী থেকে তিনি হয়ে ওঠেন 'NeXgen Global Group'-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। শিক্ষা, নিয়োগ, অর্থায়ন, প্রযুক্তি, এডটেক এবং বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে কাজ করছে তার নেতৃত্বাধীন এই বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে মানুষ, পুঁজি ও উদ্ভাবনকে একসঙ্গে যুক্ত করে বৈশ্বিক বাজারে ভবিষ্যৎ-উপযোগী প্রবৃদ্ধির সুযোগ তৈরিই তার অন্যতম লক্ষ্য।       উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যেও কাজ করছেন হেমি। তার উদ্যোগ 'Grow With Hemi' চাকরিজীবীদের চাকরি থেকে উদ্যোক্তা জীবনে পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত করতে সহায়তা করছে। এই উদ্যোগের অভিজ্ঞতা থেকেই প্রকাশিত হয় তার আন্তর্জাতিক বেস্টসেলার বই 'Fire Your Boss'—যা ব্যক্তিগত রূপান্তর ও আত্মনেতৃত্বের একটি দিকনির্দেশনা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বক্তা হিসেবেও এক মিলিয়নের বেশি মানুষের সামনে নেতৃত্ব, মানসিকতা ও ডিজিটাল যুগের সাফল্য নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।       ব্যবসার পাশাপাশি তরুণদের মানসিক সুস্থতা নিয়েও কাজ করছেন হেমি হোসাইন। তিনি গ্লোবাল ইয়ুথ মেন্টাল হেলথ অ্যাওয়ারনেস বা GYMHA-এর বোর্ডে দায়িত্ব পালন করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় ব্যবসা ও ব্যবস্থাপনায় সম্মানসূচক ডক্টরেট অর্জন তার দীর্ঘ পথচলার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি।       নোয়াখালীর একটি গ্রাম থেকে অস্ট্রেলিয়ার করপোরেট জগৎ, সেখান থেকে বৈশ্বিক উদ্যোক্তা ও নেতৃত্বের মঞ্চ—হেমি হোসাইনের গল্প মূলত পরিবর্তনকে গ্রহণ করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার গল্প। তার জীবনদর্শনের চারটি শব্দ যেন পুরো যাত্রাটিকেই ধারণ করে 'Dream. Build. Grow. Inspire'। স্বপ্ন দেখুন, গড়ে তুলুন, বেড়ে উঠুন এবং অন্যকে অনুপ্রাণিত করুন।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬

সৌদিতে দেড় মাসে ৬৫ হাজারের বেশি বাংলাদেশীর ই-পাসপোর্টের বায়োমেট্রিক গ্রহণ

ছবি: সংগৃহীত

ইপোহতে ইমিগ্রেশন অভিযান, বাংলাদেশিসহ আটক ১৭৫

ছবি: সংগৃহীত

কুয়েতে মিসাইল-ড্রোন হামলা, প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি নির্দেশনা

ছবি: সংগৃহীত
তিন ক্যাটাগরিতে ১৩৫ প্রবাসী পাবেন সিআইপি মর্যাদা, আবেদন শুরু

প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগ, রেমিট্যান্স পাঠানো এবং বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে অবদানের স্বীকৃতি দিতে এবার তিনটি ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ ১৩৫ জন অনাবাসী বাংলাদেশিকে বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি) হিসেবে নির্বাচিত করবে সরকার।   এ লক্ষ্যে ‘বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (অনিবাসী বাংলাদেশি) নির্বাচন নীতিমালা, ২০১৮’ অনুযায়ী যোগ্য প্রবাসীদের কাছ থেকে অনলাইনে আবেদন আহ্বান করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।   মন্ত্রণালয়ের প্রবাসী কল্যাণ ভবন থেকে এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাস ও মিশনের মাধ্যমেও যোগ্য প্রবাসীদের আবেদন করার বিষয়ে জানানো হয়েছে।   বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সিআইপি নির্বাচনের ক্ষেত্রে তিনটি পৃথক ক্যাটাগরি নির্ধারণ করা হয়েছে।   শিল্পে সরাসরি বিনিয়োগকারী: প্রথম ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের শিল্প খাতে সরাসরি বিনিয়োগকারী সর্বোচ্চ ৫০ জনকে সিআইপি হিসেবে নির্বাচিত করা হবে। এ ক্ষেত্রে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের শিল্প খাতে মূলধন হিসেবে ন্যূনতম ৩ লাখ মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সরাসরি বিনিয়োগকারীদের বিবেচনায় নেওয়া হবে।   বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রেরণকারী: দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানো সর্বোচ্চ ৭৫ জন প্রবাসী সিআইপি মর্যাদার জন্য নির্বাচিত হবেন। এ ক্যাটাগরির জন্য ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বৈধ চ্যানেলে বাংলাদেশে কমপক্ষে ১ লাখ মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানোর শর্ত রয়েছে।   বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে অবদান: তৃতীয় ক্যাটাগরিতে বিদেশে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সংশ্লিষ্ট সর্বোচ্চ ১০ জনকে নির্বাচিত করা হবে। এ ক্ষেত্রে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ন্যূনতম ৩ লাখ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে হবে। এ ক্যাটাগরিতে প্রসিডস রিয়ালাইজেশন সার্টিফিকেট (পিআরসি) অনুযায়ী বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিকারকদের পাশাপাশি অধিক মূল্য সংযোজনসম্পন্ন পণ্য রপ্তানিকারকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   আবেদন করা যাবে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত: সিআইপি নির্বাচনের জন্য অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে ১ সেপ্টেম্বর থেকে। আবেদন করা যাবে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত নির্ধারিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে। নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পর কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাস বা মিশন কিংবা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে সরাসরি হার্ড কপি জমা দেওয়ার সুযোগ নেই। আবেদনকারীদের যথাযথভাবে প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র সংযুক্ত করে আবেদন করতে বলা হয়েছে। অসম্পূর্ণ বা ত্রুটিপূর্ণ আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে। এ ছাড়া কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো আবেদন বা সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম বাতিল কিংবা স্থগিত করার অধিকার সংরক্ষণ করে। প্রবাসীদের বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করা এবং বাংলাদেশি পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই প্রতিবছর সিআইপি মর্যাদা দেওয়া হয়ে থাকে।   গত পাঁচ বছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বৈধ চ্যানেলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানোর স্বীকৃতি হিসেবে মোট ৩২৬ জন বাংলাদেশি প্রবাসী সিআইপি মর্যাদা পেয়েছেন। এ তালিকায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত বাংলাদেশিরা। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে যথাক্রমে ৩০, ৩৭, ২৬, ১৬ ও ৪০ জন প্রবাসী রেমিট্যান্স প্রেরণকারী হিসেবে সিআইপি মর্যাদা পেয়েছেন। একই সময়ে বাংলাদেশি পণ্যের আমদানিকারক হিসেবেও দেশটি থেকে আরও ১০ জন প্রবাসী সিআইপি হয়েছেন। এবার সিআইপি নির্বাচনের পরিধি বাড়িয়ে তিন ক্যাটাগরিতে মোট ১৩৫ জনকে নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আগ্রহ আরও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মাদ্রিদে ঢাকা ফ্রুতাসের দুই দশক পূর্তি, লেকের পাড়ে জমকালো মিলনমেলা

ছবি: সংগৃহীত

মাদ্রিদে জকিগঞ্জ প্রবাসীদের মিলনমেলা, আনন্দ-উৎসবে মুখর রুইদেরাতা

রমজান আলী

পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলায় প্রবাসী নিহত, দেশে ফেরা হলো না রমজান আলীর

0 Comments