আন্তর্জাতিক

কলকাতায় যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নিলেন মোদি

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ২১, ২০২৬
কলকাতার রেড রোডে যোগ ব্যায়ামে অংশ নেন নরেন্দ্র মোদি। ছবি : সংগৃহীত
কলকাতার রেড রোডে যোগ ব্যায়ামে অংশ নেন নরেন্দ্র মোদি। ছবি : সংগৃহীত

যোগব্যায়াম এমন একটি অনুশীলন, যা জীবনের যেকোনো পর্যায়ে মানুষের জন্য উপকারী এবং দৈনন্দিন জীবনের অংশ হিসেবে এটি গ্রহণ করা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কলকাতার রেড রোডে ১২তম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে একথা বলেন তিনি।

 

তিনি বলেন, ‘২১ জুন, যা পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘ দিন হিসেবে পরিচিত, এখন যোগের কারণে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামাজিক উদযাপনের দিন হয়ে উঠেছে। যোগ মানুষকে একত্র করে। এই উপলক্ষে আমি বিশ্বের সকল মানুষকে শুভেচ্ছা জানাই।’ খবর এনডিটিভির।

 

২০২৬ সালের ১২তম আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল প্রতিপাদ্য হলো ‘যোগ ফর হেলদি এজিং’। এই থিমে বলা হয়েছে, যোগব্যায়াম কোনো নির্দিষ্ট বয়সের জন্য সীমাবদ্ধ নয়; বরং জীবনের যেকোনো পর্যায়ে এটি সবার জন্যই উপকারী।

 

নরেন্দ্র মোদি আরও বলেন, ‘যখন আমরা হেলদি এজিংয়ের জন্য যোগের কথা বলি, তখন এর অর্থ হলো বয়স যেন মানুষের সম্ভাবনাকে কমিয়ে না দেয়। যোগ মানুষের জীবনকে ধারাবাহিকভাবে উন্নতির পথে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত ৪০ বছরে ২০ বছরের চেয়েও বেশি নমনীয় থাকা, ৫০ বছরে ৩০ বছরের চেয়েও বেশি প্রাণবন্ত থাকা এবং ৭০ বছরে ৫০ বছরের চেয়েও বেশি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখা। এ ক্ষেত্রে যোগ আমাদের সাহায্য করতে পারে।’

 

প্রধানমন্ত্রী যোগব্যায়ামকে শুধু শারীরিক ব্যায়াম নয় বলেও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘যোগ শুধু শরীরচর্চা নয়, এটি কোনো নির্দিষ্ট বয়সের মধ্যে সীমাবদ্ধও নয়। এটি মানব আত্মার একটি প্রকাশ।’

 

সবশেষে মোদি বলেন, নিয়মিত যোগব্যায়াম মানুষকে নিজের শরীর ও মনের সম্পর্কে আরও সচেতন করে তোলে। তিনি বলেন, ‘যোগ আমাদের শেখায় জীবনের শেষ পর্যন্ত শেখার মানসিকতা বজায় রাখতে। তাই ‘হেলদি এজিং’ থিমটি শুধু বয়স্কদের জন্য নয়, সব বয়সের মানুষের জন্যই প্রযোজ্য।’

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ভারতে ককরোচ জনতা পার্টির নেতাদের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ

ভারতের রাজস্থানের জয়পুরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) একটি সরকারি স্কুলের পরিস্থিতি দেখতে যাওয়ার পথে তাদের গাড়ি ঘিরে ধরে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছে দলটি।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিজেপির সহপ্রতিষ্ঠাতা আশুতোষ রাঙ্কার নেতৃত্বে একটি দল জয়পুরের বাগরুর এলাকার একটি সরকারি স্কুল পরিদর্শনে যাচ্ছিল। পথে একদল লোক তাদের গাড়ি ঘিরে ধরে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। তাদের ‘শহুরে নকশাল’, ‘জাতীয়তাবিরোধী’ ও ‘পাকিস্তানি’ বলে স্লোগান দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।   হামলায় সিজেপির কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন বলে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এ সময় গাড়ি ও মোবাইল ফোন ভাঙচুর করা হয় এবং এক নারী কর্মীকেও মারধরের অভিযোগ করা হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে নেতাকর্মীরা শেষ পর্যন্ত স্কুলটিতে না গিয়ে ফিরে যান।   সিজেপি এ ঘটনার জন্য ক্ষমতাসীন বিজেপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়ী করেছে। দলটির সহপ্রতিষ্ঠাতা আশুতোষ রাঙ্কা দাবি করেন, গ্রামের একটি গোয়ালঘরে দীর্ঘদিন ধরে স্কুলটি পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয় গ্রামবাসীর অনুরোধেই তারা স্কুলটির পরিস্থিতি দেখতে সেখানে যাচ্ছিলেন।   রাঙ্কার অভিযোগ, সফরের বিষয়টি পুলিশকে আগেই জানানো হয়েছিল। কিন্তু তাদের পৌঁছানোর আগেই বিজেপির লোকজন সেখানে অবস্থান নেয় এবং সিজেপির স্বেচ্ছাসেবকদের ওপর হামলা চালায়। তার দাবি, হামলায় একজন সদস্যের হাত ভেঙে গেছে এবং তার নিজের শার্টও ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে।   তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন স্থানীয় বিজেপি নেতা ও বিধায়ক স্বামী বালমুখন্দ্রচার্য্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, সিজেপির সফরের বিরোধিতা করেছিলেন স্থানীয় গ্রামবাসীরাই। তাদের মতে, সিজেপির কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করতে পারে।   ঘটনাটি নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যে হামলার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো জানা যায়নি।   সূত্র: এনডিটিভি

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আলাস্কায় যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত

ছবি: সংগৃহীত

হাসপাতাল থেকে আবারও কারাগারে ইমরান খান

ট্রাম্পের কঠোর অর্থনৈতিক চাপে কি নতি স্বীকার করবে ইরান?

ত্রাণকর্মী হত্যার তদন্ত বন্ধের ঘটনায় ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে তলব পোল্যান্ডের

গাজায় ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের ত্রাণবাহী গাড়িবহরে হামলায় সাত বিদেশি ত্রাণকর্মী নিহত হওয়ার ঘটনায় ইসরায়েলের তদন্ত বন্ধের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ জানিয়েছে পোল্যান্ড। এ ঘটনায় দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওয়ারশতে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। শুক্রবার আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।   প্রতিবেদনে পোল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতি উদ্ধৃত করা হয়। তাতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল গাজায় ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের ত্রাণবাহী গাড়িবহরে ইসরায়েলি হামলায় নিহত সাতজনের মধ্যে পোলিশ নাগরিক দামিয়ান সোবলও ছিলেন। ওই হামলার তদন্ত বন্ধের ইসরায়েলি সিদ্ধান্তে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে ওয়ারশ। বিবৃতিতে হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত নেওয়া পদক্ষেপের নিন্দা ও প্রত্যাখ্যান করে হামলার কারণ ও পরিস্থিতি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা দাবি করেছে পোল্যান্ড।   মন্ত্রণালয় জানায়, সোবলের নিজ শহর প্রজেমিশলের আঞ্চলিক প্রসিকিউটর কার্যালয়ও ঘটনাটি তদন্ত করছে। পোল্যান্ড আশা করছে, দেশটির তদন্তকারীদের চাওয়া সব ধরনের ব্যাখ্যা ও প্রমাণ ইসরায়েল সরবরাহ করবে। পোলিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, ত্রাণকর্মীদের নিহত হওয়ার প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পূর্ণভাবে পরিষ্কার করতে হবে। একই সঙ্গে হামলার জন্য দায়ীদের আইনি ও নৈতিক জবাবদিহি এড়িয়ে যাওয়ার কোনো প্রচেষ্টা তারা মেনে নেবে না।   ২০২৪ সালের ওই হামলায় ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের সাত কর্মী নিহত হন। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয় এবং গাজায় মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়।   সূত্র: আলজাজিরা

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ২১, ২০২৬

নাইজেরিয়ায় নৌকাডুবিতে প্রাণ গেল ৪৬ জনের

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দরে আবারও ঊর্ধ্বগতি

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ বলল তেহরান

ছবি: সংগৃহীত
পর্তুগালে জনসমক্ষে মুখ ঢাকলে ৩ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানা

পর্তুগালে জনসমক্ষে এমনভাবে মুখ ঢেকে রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে নতুন আইন কার্যকর হয়েছে, যাতে ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। নতুন এই বিধান বোরকা ও নিকাব পরা মুসলিম নারীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হওয়ায় দেশটিতে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।   নতুন আইনে বলা হয়েছে, জনসমক্ষে এমন কোনো পোশাক বা উপকরণ ব্যবহার করা যাবে না, যার কারণে ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়। আইন লঙ্ঘন করলে ১৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।   তবে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে এই বিধান থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যগত প্রয়োজন, পেশাগত দায়িত্ব, শিল্প ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতি এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ে মুখ ঢাকার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।   আইনটির সমর্থকদের মতে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনের সময় ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করার সুযোগ রাখতেই এই বিধান করা হয়েছে।   অন্যদিকে মানবাধিকারকর্মীরা এর বিরোধিতা করেছেন। তাদের মতে, জনসমক্ষে মুখঢাকা পোশাক নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ব্যক্তির নিজস্ব পোশাক নির্বাচনের অধিকারে হস্তক্ষেপের ঝুঁকি রয়েছে।   স্পেনেও বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধের উদ্যোগ: এদিকে স্পেনের বালিয়ারিক দ্বীপপুঞ্জেও বোরকা ও নিকাব নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ আলোচনায় এসেছে। দেশটির ডানপন্থী দল ভক্স ও পিপলস পার্টির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবে নিষেধাজ্ঞা বারবার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার ইউরো জরিমানা এবং কাউকে জোর করে বোরকা বা নিকাব পরতে বাধ্য করলে সর্বোচ্চ চার বছর কারাদণ্ডের বিধানের কথা বলা হয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মুখঢাকা পোশাক নিয়ে এমন উদ্যোগের ফলে জননিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত অধিকারের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে নিশ্চিত করা হবে—এ নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হচ্ছে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

তাপপ্রবাহে ফ্রান্সে স্বাভাবিকের চেয়ে ৭ হাজারের বেশি মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কর্মকর্তাদের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

ছবি: সংগৃহীত

ইরানে ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্রের সরঞ্জাম ও বিস্ফোরক পাঠিয়েছে রাশিয়া

0 Comments