একদিনের সফরে কক্সবাজার যাবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ দুই দশক পর তার এই সফর ঘিরে প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক তৎপরতা ও প্রাণচঞ্চলের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) তিনি কক্সবাজার সফরে যাবেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিনব্যাপী এ সফরে রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। এর মধ্যে রয়েছে খাল পুনঃখনন প্রকল্প উদ্বোধন, দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন, নবগঠিত পৌরসভা ও উপজেলার ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং চকরিয়ায় বিএনপির রাজনৈতিক জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, চারদলীয় জোট সরকারের সময় দায়িত্বশীল অবস্থায় কক্সবাজার সফরের পর এবার দীর্ঘ বিরতিতে পুনরায় এ জেলায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পর এটি হবে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে তার প্রথম সরকারি সফর।
প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার -১ মো. উজ্জ্বল হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সফরের চূড়ান্ত সময়সূচি প্রকাশ করা হয়।
সফরসূচী অনুযায়ী, শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় ঢাকা থেকে রওনা হয়ে সকাল ১০টায় কক্সবাজার পৌঁছবেন প্রধানমন্ত্রী। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি কক্সবাজার সদরের পিএমখালী এলাকায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খনন করা ‘পাতলীখাল’ পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন এবং সংক্ষিপ্ত পথসভায় বক্তব্য দেবেন।
এরপর দুপুর ১২টায় চকরিয়ার ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করবেন। সেখান থেকে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থান-২৪ আন্দোলনে কক্সবাজারের প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করবেন এবং শহীদ পরিবার সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। পরে নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তি প্রস্তর স্হাপন করবেন।
কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের পেকুয়ার বাড়িতে বিশ্রাম ও মধ্যাহ্নভোজ শেষে ৪টায় চকরিয়া পৌরবাস টার্মিনালে আয়োজিত বিএনপির রাজনৈতিক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
জনসভা শেষে কক্সবাজার শহরে সুধী সমাবেশে অংশ নিয়ে মেরিন ড্রাইভ ও সমুদ্র সৈকত পরিদর্শন করে রাত ১০টায় ঢাকার উদ্দেশে ফ্লাইটে কক্সবাজার ত্যাগ করবেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েব মুফতি সৈয়দ মো. ফয়জুল করীম বলেছেন, ‘বাংলাদেশের মাটিতে শরিয়া আইন বাস্তবায়ন করতে চায় ইসলামী আন্দোলন। কোনো আমেরিকার রক্তচক্ষু, কোনো ভারতের রক্তচক্ষু ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে থাকবে না।’ রোববার (১৬ আগষ্ট) কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খোকসা উপজেলা শাখার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ফয়জুল করীম বলেন, ‘যে ব্যক্তি দুর্নীতিবাজ, সে কি দুর্নীতি বন্ধ করতে পারে? এখন বলেন তো বাংলাদেশে দুর্নীতির সংখ্যা কী পরিমাণ? শোনেন, আপনারা বোঝেন আর না বোঝেন, দুই নম্বর জমিতে এক নম্বর ফসল হয় না। দুই নম্বর ওস্তাদের কাছে এক নম্বর ছাত্র গঠন হয় না। দুই নম্বর নেতার কাছে দেশ কখনো এক নম্বর হতে পারে না। এটা হবে না। সম্ভব না।’ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফয়জুল করীম বলেন, ‘আমাদের দেশে বার বার পরিবর্তন হয়েছে। ব্রিটিশের শাসন পরিবর্তন করেছি। আমরা পাকিস্তানকে পরিবর্তন করেছি। বিগত ২৪-এর শাসন পরিবর্তন করেছি। এরপরে আবার আমরা নতুন শাসন বসিয়েছি। কয়েক মাস হয়ে গেল কিন্তু আমরা দুর্নীতি বন্ধ করতে পারিনি। চুরি বন্ধ করতে পারিনি। শাসক বারবার পরিবর্তন হয়, কিন্তু আমাদের দুর্নীতি পরিবর্তন করতে পারিনি। আসলে সরিষায় যদি ভূত পাই, সে সরিষা দিয়ে ভূত ছাড়ানো যায় না।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল নেতারা হলো দুর্নীতিগ্রস্থ। দলের মধ্যে রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি। আমরা দল কেন করি? দল করি দুর্নীতির জন্য, এদেশে চাঁদাবাজি আমি করব। এই এলাকার চাঁদা আমি তুলব। এই ঘাট আমি দখল করব। তাই যদি উদ্দেশ্যে হয়, তাহলে দেশে শান্তি আসবে কীভাবে? হ্যাঁ কিছু সংখ্যক লোক আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হবে, কিন্তু অধিকাংশ লোকের পরিবর্তন হওয়া সম্ভব না।’
‘মোরা ঝঞ্ঝার মত উদ্দাম’ এই শিরোনাম নিয়ে গত ১৪ আগস্ট শুক্রবার বিকেলে গাইবান্ধা সদরের বাদিয়াখালীর সংগঠন নজরুল চর্চা কেন্দ্র ও কবি নজরুল পাঠাগার আয়োজন করে এই আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। গাইবান্ধা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও নজরুল চর্চা কেন্দ্রের উপদেষ্টা রোটারিয়ান কর্নেল ময়নুল হক (অব) এর সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন নজরুল চর্চা কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ফেরদৌসী জাহান সিদ্দিকা, প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গাইবান্ধা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ. কে. এম হেদায়েতুল ইসলাম। বিশেষ অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও লেখক অধ্যাপক মাজহারউল মান্নান, গাইবান্ধা জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাড. সেকেন্দার আযম আনাম, গাইবান্ধা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুর রশিদ, অ্যাডভোকেট এন্তাজ আলী সরকার এবং সনাকের সভাপতি ও বিশিষ্ট নজরুল সংগীত শিল্পী আফরোজা বেগম লুপু। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বাচিক ও সাংস্কৃতিক কর্মী শাহজাদী হাবিবা সুলতানা পলাশ অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা করেন। শুরুতে বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সববেত কণ্ঠে নজরুলের গান পরিবেশন করেন মোরা ঝঞ্ঝার মত উদ্দাম গানটি। নজরুল বর্ষ উপলক্ষে এই সংগঠনের আরেকটি কার্যক্রম হচ্ছে সংগঠনের শিক্ষার্থীদের মাসব্যাপী বইপড়া অনুষ্ঠান। একমাস পর ভালো পড়ুয়াদের পুরস্কৃত করা হবে বলে জানা গেছে। সকল শিক্ষার্থীদের হাতে নজরুলের বই দিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও লেখক অধ্যাপক মাজহারউল মান্নান। আলোচকগণ নজরুলের অসাধারণ প্রতিভার কথা বার বার বলতে গিয়ে বলেন, তিনি দরিদ্রের কষাঘাতের মধ্যেও তাঁর প্রতিভাকে বিকশিত করেছেন। তিনি ব্রিটিশ ভারতে ইংরেজদের বিরুদ্ধে অনেক লেখা লিখে কারাবরণ করেছেন এবং তরুণদের সবসময় প্রেরণা যুগিয়েছেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার জন্য। এ কথাগুলো আলোচকগণ তাঁদের আলোচনায় তুলে ধরেন। প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, পাঠাভ্যাস খুব ভালো একটি অভ্যাস। এই কার্যক্রম ছড়িয়ে দিতে হবে সবদিকে। তিনি আরো বলেন, নিজের শিকড় না জানলে জ্ঞানকে শাণিত করা যাবে না। আলোচনা শেষে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। নজরুল সংগীত পরিবেশন করেন গাইবান্ধার জনপ্রিয় কণ্ঠ ও নৃত্যশিল্পী সিরাজুল ইসলাম সোনা, শিল্পী সুভাস মল্লিক এবং নজরুল সংগীত শিল্পী লায়লা তাজনুর সাউদী। গানের পর নজরুলের গানের সাথে একক ও দলীয় নৃত্য পরিবেশন করা হয়।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিএনপির অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নতুন কমিটির একটি খসড়া বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে রয়েছে। তাঁর চূড়ান্ত অনুমোদনের পর যেকোনো সময় কমিটি ঘোষণা হতে পারে। তবে নতুন কমিটি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত পাননি বলে জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ফলে সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা থাকলেও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিশ্চিত নয়। সম্প্রতি রাজধানীর গুলশানে তারেক রহমানের সঙ্গে ছাত্রদলের বর্তমান শীর্ষ পাঁচ নেতার বিদায়ী সাক্ষাতের পর নতুন কমিটি গঠনের আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। সাক্ষাতের পর বর্তমান সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদায়ী বার্তা দেন। মেয়াদ শেষ হয়েছে বর্তমান কমিটির: ২০২৪ সালের ১ মার্চ রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে সভাপতি এবং নাছির উদ্দীন নাছিরকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। একই সময় আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহইয়াকে সিনিয়র সহসভাপতি, শ্যামল মালুমকে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং আমান উল্লাহ আমানকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়। পরবর্তীতে ১৫ জুন ২৬০ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। সংগঠনের খসড়া গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সংসদের মেয়াদ দুই বছর। সে হিসাবে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। শীর্ষ পদে আলোচনায় যাঁরা: নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি ইজাজুল কবির রুয়েল, সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান, এক নম্বর যুগ্ম সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান, যুগ্ম সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান। এ ছাড়া কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিক, রিয়াদ রহমান, আরিফুল ইসলাম আরিফ, খোরশেদ আলম সোহেল, তরিকুল ইসলাম তারিক, মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স, রাজু আহমেদ, গাজী সাদ্দাম হোসেন, শরীফ প্রধান শুভ, মোস্তাফিজুর রহমান শুভ, সাফি ইসলাম ও নুর আলম ভূঁইয়া ইমনের নামও বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনায় রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত কারা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হবেন, তা নির্ভর করছে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের ওপর। নতুন নেতৃত্বে কী গুরুত্ব পাবে: ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের একটি অংশের প্রত্যাশা, অতীতের আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত, সাংগঠনিকভাবে দক্ষ ও ত্যাগী নেতাদের মধ্য থেকেই নতুন নেতৃত্ব বেছে নেওয়া হবে। পাশাপাশি নিয়মিত শিক্ষার্থী, নারী নেতৃত্ব এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্য নেতাদেরও গুরুত্ব দেওয়ার দাবি রয়েছে। নতুন নেতৃত্বকে শুধু রাজনৈতিক আন্দোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, অধিকার, নিরাপত্তা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয় হওয়ার প্রত্যাশাও রয়েছে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে। কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ইজাজুল কবির রুয়েল বলেন, নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়েছে এবং যেকোনো সময় ঘোষণা হতে পারে। হাইকমান্ড যেভাবে উপযুক্ত মনে করবে, সে সিদ্ধান্তের প্রতি সবাই আস্থাশীল। মমিনুল ইসলাম জিসানও জানিয়েছেন, সহযোদ্ধাদের একটি অংশ তাঁকে নেতৃত্বে দেখতে চায়। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের এবং তিনি সেই সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থাশীল। বিদায়ী বার্তায় রাকিব-নাছির: নতুন কমিটি নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই বিদায়ী সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন বার্তা দেন। তিনি দায়িত্ব পালনে কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে ক্ষমা চেয়ে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক জীবনের জন্য সবার কাছে শুভকামনা চান। সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরও বিদায়ী বার্তায় বলেন, দায়িত্ব থেকে বিদায় নিলেও ছাত্রদল থেকে তাঁর সম্পর্ক শেষ হচ্ছে না। নতুন নেতৃত্বের অধীনে সংগঠন আরও শক্তিশালী ও গতিশীল হবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা: বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়া, শীর্ষ নেতাদের বিদায়ী সাক্ষাৎ, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিদায়ী বার্তা এবং সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে তৎপরতা—সব মিলিয়ে ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘিরে আলোচনা এখন তুঙ্গে। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। শেষ মুহূর্তে আলোচনার বাইরে থাকা কোনো নেতাও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসতে পারেন। ফলে এখন সবার নজর বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের দিকে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলেই স্পষ্ট হবে, রাকিব-নাছির পর্বের পর ছাত্রদলের নেতৃত্বের দায়িত্ব কারা পাচ্ছেন।