দ্রুততম সময়ের মধ্যে পেশাদার ফুটবলকে বিদায় বলতে চান বলে জানিয়েছেন পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তবে স্পষ্ট করে তিনি ঠিক সময়টা উল্লেখ করেননি। মূলত ৪০ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের এখন মনোযোগ পর্তুগালের হয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ খেলার দিকে। এ ছাড়া পেশাদার ক্যারিয়ারে ১০০০ গোল পূর্ণ করার লক্ষ্যের কথা তিনি আগেই জানিয়েছিলেন। সম্ভবত সেই স্বপ্ন ছোঁয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চান সাবেক এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।
বয়সটা ৪১–এর দিকে ছুটলে মাঠের পারফরম্যান্সে সেই ছাপ রাখতে চান না সিআরসেভেন। জাতীয় দল ও ক্লাবের হয়ে ইতোমধ্যে তিনি ৯৫২টি গোল করে ফেলেছেন। ফলে স্বপ্ন পূরণে খুব একটা দূরে নেই রোনালদো। ব্রিটিশ সাংবাদিক পিয়ার্স মরগানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নানা প্রসঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। দুই পর্বের ওই সাক্ষাৎকারের প্রথমটি গতকাল (মঙ্গলবার) প্রকাশিত হয়েছে।
মরগানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রোনালদো নিজের অবসর প্রসঙ্গে বলেন, ‘শিগগিরই (ঘোষণা দেব)। আমার মনে হয় আমি প্রস্তুত হয়ে উঠছি। যদিও এমন সিদ্ধান্ত খুবই, খুবই কঠিন। কিন্তু ২৫, ২৬-২৭ বছর থেকে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করেছিলাম। এই চাপ নিতে আমি সক্ষম বলে মনে করি। ফুটবলে গোল করার পরের অনুভূতির সঙ্গে কোনো কিছুর তুলনা চলে না।’

‘সবকিছুরই একটি শুরু ও শেষ আছে। ফলে নিশ্চিতভাবে আমি নিজের ও পরিবারের জন্য এবং সন্তান পালনে আরও বেশি সময় পেতে যাচ্ছি’, আরও যোগ করেন রোনালদো। ২০০৬ আসর দিয়ে শুরু, ইতোমধ্যে তিনি পাঁচটি বিশ্বকাপ খেলেছেন। তবে চূড়ান্ত সাফল্যের স্বাদ পাওয়া হয়নি তার। বিশ্বকাপ দিয়ে কাউকে সেরা বিবেচনা করাও ন্যায্য বলে দাবি রোনালদোর, ‘এটা কোনো স্বপ্ন নয়। এটা দিয়ে কী নির্ধারিত হয়? আমি ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়দের একজন কি না? কোনো একটা প্রতিযোগিতা জিতেই? ছয় কিংবা সাতটা ম্যাচ খেলেই! এটা কি ন্যায্য ব্যাপার?’
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরে যুক্ত হওয়ার মুহূর্তটা উপভোগ্য ছিল না সিআরসেভেনের জন্য। ওই সময় তৎকালীন কোচ এরিক টেন হাগের সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল এবং যথেষ্ট খেলার সময় পাচ্ছিলেন না। তবে ওল্ড ট্রাফোর্ডের ক্লাবটির খবরাখবর এখনও রাখেন রোনালদো। যারা ১৯৭৩-৭৪ মৌসুমের পর প্রথমবার সর্বশেষ মৌসুমে শীর্ষ ১৫–তেও জায়গা পায়নি।
ইউনাইটেডের এমন বিপর্যয়ে হতাশ রোনালদো, ‘আমি হতাশ, কারণ এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্লাব এবং তারা এখনও আমার হৃদয়ে রয়েছে। তাদের (এখন) কোনো কাঠামো নেই। আশা করি বর্তমান এবং ভবিষ্যতে সেটি পরিবর্তন হবে, কারণ ক্লাবের সম্ভাবনা অসাধারণ। তারা এখনও সঠিক পথে নেই। এসব অবশ্য কেবল কোচ এবং খেলোয়াড়দের কারণে নয়, আমার মতে…তিনি (ইউনাইটেডের বর্তমান কোচ রুবেন অ্যামোরিম) তার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। আপনি এর বেশি কী করতে পারেন? মিরাকল অসম্ভব।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
এশিয়ান গেমস আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে ১৯ সেপ্টেম্বর। এর আগেই মেয়েদের ফুটবলে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। আজ বুধবার ভোরে নামছে নারী ক্রিকেট দলও। চীনের বিপক্ষে বাংলাদেশ সময় সকাল ছয়টায় শুরু হবে ম্যাচটি। কোয়ার্টার ফাইনাল দিয়েই শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের যাত্রা। এই ম্যাচ জিতলে সেমিফাইনালে নিগার সুলতানার দলের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন ভারত। শুক্রবার ভারত-জাপান কোয়ার্টার ফাইনালে যে ভারত নিরঙ্কুশ ফেবারিট, সেটি না বললেও চলে। কদিন আগেই তাদের কাছে এশিয়া কাপের সেমিফাইনালেও হেরেছিল বাংলাদেশ। এশিয়া কাপের ব্যর্থতা ভুলে এবার ঘুরে দাঁড়াতে চায় বাংলাদেশ। চীনের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট এটিই সবচেয়ে বড় ম্যাচ। ২০১০ এশিয়ান গেমস সেমিতে চীনকে ৩৪ রানে অলআউট করে ৭ ওভারে ৯ উইকেটে জিতে যায় বাংলাদেশের মেয়েরা। কিন্তু সেই ম্যাচের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ছিল না। যার অর্থ আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে আজই প্রথম চীন পরীক্ষা বাংলাদেশের। আইচির নিশিনের কোরিগি অ্যাথলেটিক পার্কে এবার টি-টুয়েন্টি স্বীকৃতি পাওয়ার পরও বাংলাদেশ সহজ জয়ই আশা করছে। এশিয়ান গেমসে নারী ক্রিকেট দল এর আগে দুবার রুপা এবং একবার ব্রোঞ্জ জিতেছে। বাংলাদেশ দলের ব্যাটার সোবহানা মুশতারিও এবার পদক নিয়ে দেশে ফেরার আশাবাদ রেখেছেন বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের পাঠানো ভিডিও বার্তায়, ‘আমরা প্রথম অনুশীলন করলাম। এর আগে আমরা এশিয়ান গেমসে একটা পদক পেয়েছি (আসলে তিনটি)। আশা করছি, এবারও একটা পদক নিয়ে দেশে ফিরতে পারব।’ আইচি-নাগোয়ায় গতকাল সারা দিন বৃষ্টি হয়েছে। মূল মাঠের পাশের ফুটবল মাঠে অনুশীলনের সময় বৃষ্টির বাধায় পড়েছিল বাংলাদেশ দলও। আজ অবশ্য বৃষ্টির শঙ্কা কমই। তারপরও খেলা পণ্ড হলে আইসিসি টি-টুয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা দলকে জয়ী ঘোষণা করা হবে। বাংলাদেশের টি-টুয়েন্টি র্যাঙ্কিং ১০, চীন ৩৬তম।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আজ নিশ্চিত করেছে যে, আগামী বছরের মার্চ মাসে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে নেপাল সফর করবে বাংলাদেশ দল। এই সফরে নেপালের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে টাইগাররা। সম্প্রতি নেপালে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বন্যায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে এই সিরিজটি উৎসর্গ করা হবে। ম্যাচগুলো ২০২৭ সালের ২৬, ২৮ ও ৩০ মার্চ কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত হবে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক এবং বাংলাদেশে নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারির মধ্যকার এক বৈঠকে এই সফর নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল। আজ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড পরিদর্শন করেন রাষ্ট্রদূত ভান্ডারি এবং বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় প্রস্তাবিত সফর এবং দুই দেশের মধ্যে ক্রিকেটের বৃহত্তর সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়। এক বিবৃতিতে বিসিবি জানিয়েছে, ‘ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি বিসিবি গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করছে এবং তাদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে সিরিজটি উৎসর্গ করার গুরুত্ব স্বীকার করছে।’ তারা আরও জানায়, ‘এই তিন ম্যাচ বাংলাদেশ ও নেপালের ক্রিকেটের মাধ্যমে একত্রিত হওয়ার এবং গভীর শোকের এই সময়ে বন্ধুত্ব ও সংহতির বার্তা পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ করে দেবে।’ এছাড়া নেপালে ক্রিকেটের সামগ্রিক উন্নয়নে সহযোগিতা ও সমর্থনের বিষয়ে নেপাল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনকে আশ্বস্ত করেছে বিসিবি। সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে থাকবে পুরুষ ও নারী দলের সফর বিনিময়, হাই-পারফরমেন্স কর্মসূচি, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা এবং অন্যান্য উন্নয়নমূলক উদ্যোগ।
আল-নাসরের হয়ে মাঠ মাতানোর পর এবার ক্লাবটির মালিকানাতেও আরও বড় অংশীদার হওয়ার পথে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তবে সম্ভাব্য এই বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা এখনও চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। ২০২২ সালে নিজের বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ‘রেডবার্ড ক্যাপিটাল পার্টনার্স’-এর মাধ্যমে এসি মিলানের মালিকানা নেওয়ার পর থেকেই ক্লাবটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন কার্ডিনাল। ক্রীড়া খাতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করা এই ব্যবসায়ী এবার আল-নাসর অধিগ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের বিনিয়োগ আরও বিস্তৃত করতে চান। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আল-নাসরের ৫ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা এরই মধ্যে রয়েছে রোনালদোর হাতে। নতুন চুক্তি সম্পন্ন হলে ক্লাবটিতে তার অংশীদারিত্ব আরও বাড়তে পারে। ২০২২ সালের শেষ দিকে সৌদি ক্লাবটিতে যোগ দেওয়ার পর রোনালদো শুধু দলের প্রধান তারকাই হননি, সৌদি ফুটবলের দ্রুত উত্থানের অন্যতম পরিচিত মুখেও পরিণত হয়েছেন। তবে সম্ভাব্য এই অধিগ্রহণের আর্থিক মূল্য এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তিটি সম্পন্ন করতে কনসোর্টিয়ামের পাঁচ সদস্যকেই কয়েক মিলিয়ন ডলারের বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে। এখন মূল লক্ষ্য হলো সৌদি পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (পিআইএফ)-এর সঙ্গে চুক্তির শর্ত নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো। মাঠের বাইরে ফুটবল বিনিয়োগেও ক্রমেই সক্রিয় হয়ে উঠছেন রোনালদো। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে স্প্যানিশ দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব আলমেরিয়ার ২৫ শতাংশ শেয়ার কিনে অন্যতম অংশীদার হন ৪১ বছর বয়সি এই পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড। ফলে খেলোয়াড় হিসেবে ক্যারিয়ারের পাশাপাশি ফুটবল ক্লাবের মালিকানা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও নিজের উপস্থিতি বাড়াচ্ছেন তিনি