সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়ার আগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আজ পরিদর্শন করেছেন ঢাকায় কর্মরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকেরা। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে তাঁরা জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ও প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন।
সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী কূটনীতিকদের জাদুঘরের বিভিন্ন অংশ ঘুরিয়ে দেখান এবং এর ধারণা, প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। পরিদর্শনের শুরুতে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনে নিহত প্রায় চার হাজার মানুষের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, জুলাই জাদুঘর বিশ্বের অন্যান্য দেশের অনুরূপ স্মৃতি জাদুঘর ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতার উদ্যোগ নেবে। তিনি বলেন, ‘এই জাদুঘরের মূল ভাবনা হলো—এ ধরনের দুঃশাসন ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের পুনরাবৃত্তি যেন আর না ঘটে। এই বার্তা শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, সারা বিশ্বের জন্য প্রযোজ্য।’
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, এই জাদুঘর শেখ হাসিনার দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জনগণের দীর্ঘ সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি। তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের ৩৬ দিনের গণ-অভ্যুত্থানের চূড়ান্ত পর্যায় এখানে তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা দুঃশাসনের নানা উপাদানও এতে তুলে ধরা হয়েছে। ইতিহাসের প্রকৃত শিক্ষা হলো—যাতে একই ভুল আবার না ঘটে।’
জাদুঘরের প্রধান কিউরেটর তানজীম ওয়াহাব কূটনীতিক ও অতিথিদের সামনে জাদুঘরের বিভিন্ন প্রদর্শনী, নথি, আলোকচিত্র ও মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনার ব্যাখ্যা দেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও বাংলাদেশে ইইউ প্রতিনিধিদলের প্রধান মাইকেল মিলার বলেন, ‘জুলাই জাদুঘর পরিদর্শন করে আমি আনন্দিত। এটি অনুপ্রেরণাদায়ক এবং ইতিহাস বোঝার গুরুত্বের একটি শক্তিশালী স্মারক। কীভাবে গণ-অভ্যুত্থান ঘটে এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পটভূমি কী ছিল—তা বোঝার ক্ষেত্রে এই জাদুঘর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
পরিদর্শনে অংশ নেওয়া কূটনীতিকদের মধ্যে ছিলেন আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত ড. আবদেলুয়াহাব সাইদানি, আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা, ভুটানের রাষ্ট্রদূত দাশো কার্মা হামু দর্জি, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার, মিসরের রাষ্ট্রদূত ওমর মোহি এলদিন আহমেদ ফাহমি, ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শার্লে, ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রহিমি জাহানাবাদি, ইরাকের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স উইসাম হুসেইন আল ইথাওয়ি, ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো, কসোভোর রাষ্ট্রদূত লুলজিম প্লানা, লিবিয়ার রাষ্ট্রদূত আবদুলমুতালিব এস এম সুলিমান, মরক্কোর চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স বুশাইব এজ জাহরি, নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারি, নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকোন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন, পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার, ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস ওয়াই রমাদান, রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্ডার গ্রিগোরিয়েভিচ খোজিন, সিঙ্গাপুরের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মিচেল লি, স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল মারিয়া সিস্তিয়াগা ওচোয়া দে চিনচেত্রু, তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস শেন, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের পাবলিক ডিপ্লোমেসি কাউন্সেলর মনিকা ও কর্মকর্তা স্কট, চীনের দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন ড. লিউ ইউইন, জাপানের দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব ও সাংস্কৃতিক শাখার প্রধান আওয়াগি ইউ এবং ব্রুনাই দারুসসালামের হাইকমিশনের প্রেস অ্যাটাশে।
পরিদর্শনে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থার প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন আগা খান ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের কূটনৈতিক প্রতিনিধি ফারুক আদাতিয়া, এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ং, বিমসটেকের মহাসচিব ইন্দ্র মণি পাণ্ডে, সিআইআরডিএপির মহাপরিচালক পি চন্দ্র শেখারা, এফএওর বাংলাদেশ প্রতিনিধি শি জিয়াওছুন, আইএফডিসির কান্ট্রি ডিরেক্টর মুনতাসির সাকিব খান, আইওএমের চিফ অব মিশন ল্যান্স বনো, ইউনেসকোর ভারপ্রাপ্ত প্রধান ড. সুসান ভাইজ, ইউএনএইচসিআরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ ইফতেখার আলী, ডব্লিউএফপির আবাসিক প্রতিনিধি ও কান্ট্রি ডিরেক্টর কোকো উশিয়ামা এবং ইউএনওপসের কান্ট্রি ম্যানেজার সুধীর মুরলিধরন উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া প্রধান উপদেষ্টার কার্ষালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ, পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থাণে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনকে সংরক্ষণ ও রূপান্তরের মাধ্যমে গড়ে তোলা হয়েছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর। আগামী সপ্তাহে জাদুঘরটি সীমিত পরিসরে দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বরগুনার আমতলী উপজেলায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে দুই নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) সকালে পৌর শহরের একে স্কুল সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, আমতলী উপজেলার হলদিয়া এলাকার জাহিদুল ইসলাম (৩৫) এবং চাওড়া এলাকার আবু জাফর (৫৫)। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় বাসিন্দা ইউসুফ মাওলানার নির্মাণাধীন ভবনের নতুন সেপটিক ট্যাংকের সাটারিং খুলতে সকালে সেখানে কাজ করতে যান দুই শ্রমিক। প্রথমে জাহিদুল ইসলাম ট্যাংকের ভেতরে নামেন। কিছুক্ষণ পর তিনি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে উদ্ধার করতে আবু জাফর নিচে নামেন। কিন্তু তিনিও ট্যাংকের ভেতরে অচেতন হয়ে যান। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুজনকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। আমতলী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর মো. হানিফ জানান, সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে, আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাহাদাৎ মো. হাসনাইন পারভেজ জানান, এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একইসঙ্গে সেপটিক ট্যাংক বা বদ্ধ স্থানে কাজ করার সময় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঝালকাঠি জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মাইনুল ইসলাম পদত্যাগ করেছেন। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে তিনি এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়কের কাছে অব্যাহতিপত্র পাঠিয়েছেন। রবিবার (৩১ মে) রাতে ফেসবুক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন। এ বিষয়ে মাইনুল ইসলাম বলেন, গত ২৩ মে তিনি এনসিপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মাহামুদা মিতুকে ঝালকাঠিতে বসে পদত্যাগের বিষয়টি জানান। এ ছাড়া বরিশাল বিভাগীয় আহ্বায়ককেও বিষয়টি জানানো হয়। তবে অব্যাহতিপত্র দেওয়ার এক সপ্তাহ পার হলেও কেন্দ্রীয় কমিটি তা গ্রহণ না করায় তিনি রবিবার বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন। এ বিষয়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় বা জেলা পর্যায়ের কোনও নেতার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও এখনও কোনও ঘোষণা আসেনি। চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি ঝালকাঠিতে এনসিপির জেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিতে মাইনুল ইসলামকে আহ্বায়ক এবং জুবায়ের হাওলাদারকে সদস্যসচিব করে ১৮ সদস্যবিশিষ্ট জেলা আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।
বিএনপি সরকারও অতীতের সরকারের মতো ‘রাতের সরকার কি না’—এমন প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসী কায়দায় ব্যর্থ, পলাতক, পরিত্যক্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ডেপুটি গভর্নরকে এখানে বসিয়েছেন, ওকে সরান। এমডিকে জোর করে ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে তাঁর পদত্যাগ নিয়ে রাতের অন্ধকারে মিটিং করে কবুল করেছেন।’ এরপর শফিকুর রহমান বলেন, ‘আসলে আমি বুঝতে পারতেছি না, এটা (বিএনপি) রাতের সরকার কি না। গত পরশু দিন তেলের দাম বাড়াইছে মধ্যরাতে, মানুষ যখন ঘুমাই পড়ছে, তখন। এখন দেখি, বোর্ড মিটিং করে সবচেয়ে বড় ব্যাংকের, এটাও দেখি রাতের বেলা। এরা কি দিনের আলোকে ভয় পায়?’ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিলেট নগরের পূর্ব শাহি ঈদগাহ এলাকার জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামী সিলেট মহানগর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান এ কথা বলেন। এ সময় তিনি জামায়াতের নেতাদের ‘গুপ্ত’ বলার সমালোচনা করেন। জামায়াতের আমির বলেন, ‘এখন আমাদের দেখবেন গুপ্ত বলা হয়। তাই না? তো আমি বলেছিলাম, গুপ্ত তো অবশ্যই। দেশের ভেতরে গুপ্ত ছিলাম। বাইরে যাইনি। গুপ্ত তো অবশ্যই। তিন বৎসরের মতো জেলে ছিলাম, ওইটা তো গুপ্তই। ওই রকম গুপ্ত থেকে থেকেই তো লড়াই করে এই দেশটা মুক্ত হয়েছে। আমরা ইনশা আল্লাহ এই দেশেই থাকব। এই দেশে থাকার নাম যদি গুপ্ত হয়, তাহলে অবশ্যই আমি গর্বিত গুপ্ত। দেশ ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নাম যদি বীরত্ব হয়ে থাকে, তাহলে ওই বীরত্বকে ঘৃণা করি। রাজনীতি করতে হলে দেশের মানুষকে ধারণ করতে হবে। সুদিনে যেমন থাকব, ইনশা আল্লাহ দুর্দিনেও থাকব। দেশ ছেড়ে পালব না।’ সুধী সমাবেশে জামায়াতের আমির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হলেও গণনা ও ফলাফল সঠিক হয়নি বলে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘ভোট সুষ্ঠু হয়েছে। গণনা এবং রেজাল্ট—দুটা দুষ্টু হয়েছে। অনেকেই এখন সত্য কথাটা বিভিন্ন কায়দায় বলে ফেলছেন। সত্য চাপা পড়ে না। একসময় বের হয়ে আসে। আমাদের লোকে আফসোস করে নির্বাচনের পরপর বলতেন, “আমরা এত ভোট দিলাম, আপনারা ভোটগুলা ঘরে উঠাইতে পারলেন না।” ট্রু। জনগণ তো দিয়েছে আমাদের। এর প্রমাণ হচ্ছে গণভোটের রায়।’ গণভোটের রায়কে সম্মান দিয়ে বিএনপির শপথ না নেওয়ার সমালোচনা করে জামায়াতের আমির বলেন, ‘আপনারা দেশের ৭০ ভাগ মানুষের রায়কে অগ্রাহ্য করার মাধ্যমে দুইটা জিনিসকে অপমান করেছেন। একটা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে অপমান করেছেন। আরেকটা জনগণকে অপমান করেছেন। মনে রাখবেন, অপমানের প্রতিশোধ জনগণ নিয়েই ছাড়ে। কাউকে ছাড় দিয়ে কথা বলে না। আমরা ছাড়ব না। সংসদের ভেতরে দুই-তৃতীয়াংশের উনাদের যে শক্তি আছে, সেই শক্তির বলে এটাকে ধামাচাপা দিয়েছেন; কিন্তু এটা ছাইচাপা আগুন হয়ে একসময় আগ্নেয়গিরির রূপ নেবে, ইনশা আল্লাহ।’ বাংলাদেশ ব্যাংকে গভর্নর নিয়োগের সমালোচনা সুধী সমাবেশে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগের সমালোচনা করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো সেনসেটিভ জায়গা, যেটাকে অর্থনীতির হার্ট বলা হয়ে থাকে। সেই জায়গায় একজন লোককে গভর্নর হিসেবে বসানো হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে না, বিশ্বের ইতিহাসে এ ধরনের কোনো দুর্বল ব্যক্তিকে সেন্ট্রাল ব্যাংকের গভর্নর করা হয়েছে, এর কোনো ইতিহাস নাই, নজির নাই। নিজে একজন ঋণখেলাপি। তিন মাস আগে তিনি ঋণখেলাপির দায় থেকে মুক্তি পেয়েছেন।’ এরপর জামায়াতের আমির অভিযোগ করেন ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, জেলা পরিষদের প্রশাসক, তার পরে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বিভিন্ন জায়গায় এখন এমন সব লোককে বসানো হচ্ছে, আসলে যাঁদের বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম-অপকর্মে দেশের আগে ১১টা পর্যন্ত বাজছিল, এখন সাড়ে ১২টা বাজাইছে।’ সংসদে আলোচনা করে কার্ড দেওয়ার দাবি শফিকুর রহমান বলেন, ‘চাঁদাবাজদের চাঁদাবাজি বন্ধ হয়ে যাক। জিনিসপত্রের দাম তিন ভাগের এক ভাগ অটোমেটিক্যালি বন্ধ হয়ে যাবে। ভাই, আপনার কার্ডের তো তখন প্রয়োজন হবে না। আপনি কার্ড দেবেন ২ হাজার টাকার; আর এই মানুষের পকেট কাটা হবে ২০ হাজার টাকার। তাহলে এই মানুষ বাঁচবে কীভাবে? আর কার্ড যদি দিতে হয়, তাহলে সংসদে আলোচনা করে দেন। কেউ তো নিজের পকেটের টাকা দিচ্ছেন না। জনগণের ট্যাক্সের টাকা দিচ্ছেন। তাহলে সেই কার্ড পাওয়ার ক্রাইটেরিয়া, দেওয়ার ক্রাইটেরিয়া, প্রয়োজনীয়তা সব বিবেচনায় নিয়ে আলোচনা হোক, সমস্যা কী?’ এ সময় জামায়াতের আমির বলেন, ‘নতুন করে পাওয়ার কিছু নাই। আমি বলেছিলাম, সরকারের সুযোগ-সুবিধার যতটুকু না নিয়ে পারি, চেষ্টা করব। আলহামদুলিল্লাহ আমরা তো গাড়ি–বাড়ি নিচ্ছি না। আমার জন্য স্বাভাবিকভাবেই সরকারি প্রটোকল অনুযায়ী একটা গাড়ি আছে, ড্রাইভার আছে, তেল আছে, মেইনটেন্যান্স আছে, সব আছে। আমি লিখিতভাবে জানিয়েছি, আমি কিছুই নেব না এবং আমি নিচ্ছি না।’ সুধী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম। মহানগরের সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলীর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ও জেলা আমির হাবিবুর রহমান।