জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে উল্লেখ করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীর প্রতীক বলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে আমাদের বীর সন্তানরা, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম যে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছে, এমন অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সেই আত্মত্যাগ সফল ও সার্থক হতে যাচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ নজিরবিহীন উৎসবমুখর পরিবেশ দেখে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সব বয়সি মানুষ ঈদের দিনের মতো উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট উৎসবে অংশ নিচ্ছেন।
আজ সকালে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসনের আওতাধীন নগরীর বাংলাদেশ মহিলা সমিতি বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এরপর সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি একথা বলেন।
ফারুক-ই-আজম বলেন, দেশে গণতান্ত্রিক ধারায় প্রত্যাবর্তনের প্রচেষ্টার প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত বহুল আলোচিত এই নির্বাচন ও গণভোট বিশ্ববাসী, বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং জাতিসংঘ গভীর আগ্রহ নিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে।
তিনি বলেন, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়া, ফলাফল ঘোষণা এবং নির্বাচিত সরকারের কাছে সফলভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর পর্যন্ত যদি এ ধরনের শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় থাকে, তবে তা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার ও উজ্জ্বল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, নগরী ও পার্শ্ববর্তী জেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে যে শান্তিপূর্ণ ও উৎসাহব্যঞ্জক পরিবেশ দেখেছি, তা গণতন্ত্রপ্রেমী সকল মানুষের জন্য অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক।
ভোটদান শেষে ফারুক-ই-আজম চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন আসন- চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী-বায়েজিদ), চট্টগ্রাম-৪ (ফটিকছড়ি), চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) ও চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) পরিদর্শনে যান।
উপদেষ্টা বলেন, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আন্তরিকভাবে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করতে বদ্ধপরিকর ছিল।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সর্বোপরি দেশের জনগণের সহযোগিতায় সরকারের সেই লক্ষ্য এখন বাস্তবায়নের পথে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ অঞ্চলের গুদাম রক্ষক হিসেবে অবসরের পর মারা যাওয়া মো. হাবিবুর রহমানের পেনশনের টাকা তার প্রতিবন্ধী ছেলে মো. আশফাকুর রহমান শাওনকে কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ছাড়াও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ ৮ জনকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এদিন আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. পারভেজ। তিনি জানান, ময়মনসিংহ সদরের হাবিবুর রহমান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের গুদাম রক্ষক হিসেবে ২০১৬ সালের ২০ জানুয়ারি অবসর গ্রহণ করেন। অবসরের পর তিনি বিধি অনুযায়ী পেনশনসহ অন্যান্য সুবিধাদি পেয়ে আসছিলেন। এই অবস্থায় চলতি বছরের ৪ মার্চ তিনি মৃত্যুবরণ করেন। আর তার মৃত্যুর আগেই স্ত্রীও মারা যান। এই আইনজীবী আরও জানান, মৃত্যুকালে হাবিবুর রহমান ৩ মেয়ে ও এক ছেলে রেখে যান। যার মধ্যে ছেলে সন্তানটি প্রতিবন্ধী। তাই অন্য উত্তরাধিকারীরা তাকে এককভাবে পেনশনভোগী হিসেবে মনোনীত করেন। সে অনুযায়ী তিনি বাবার পেনশনসহ অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধাদি নিজের অনুকূলে মঞ্জরির জন্য গত ১৫ আগস্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবার আবেদন করেন। তবে গত ২৭ আগস্ট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক তৌফিক আহমদ খান তার সেই আবেদন নামঞ্জুর করেন। পরবর্তীতে এই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে গত ১৩ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে রিট পিটিশনটি দায়ের করা হয়।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানীর মহাখালীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তর। কর্মসূচি থেকে জ্বালানির দাম কমানো, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের দাবি জানানো হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে মহাখালী কলেরা হাসপাতালের সামনে রেলগেট এলাকায় এ কর্মসূচি শুরু হয়। পরে সেখান থেকে মিছিল বের হয়ে নাবিস্কো এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি দাবি করেন, ছয় মাসের মধ্যে সরকার তিন দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। তার অভিযোগ, জ্বালানি সংকটের প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও অর্থনীতিতে পড়ছে। জুবায়ের আরও দাবি করেন, এর আগে জ্বালানি সংকটের সময় বিভিন্ন পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেখা গেলেও বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিষয়টি সংসদে উত্থাপনের উদ্যোগের পর কয়েক দিনের মধ্যেই সেই সংকট কেটে যায়। এ ঘটনায় তিনি কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ তোলেন। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন কি না, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। তার ভাষ্য, জ্বালানি সংকটের কারণে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, কৃষিখাতে সমস্যা এবং গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানার ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। সংকট মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হলেও সরকার তাতে সাড়া দেয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। জুবায়ের বলেন, গভীর রাতে প্রজ্ঞাপন জারি করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। তিনি মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে সরকারের বিরুদ্ধে নেতাকর্মীদের আর্থিক সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে দাম বাড়ানোর অভিযোগও করেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম। তিনি দাবি করেন, গত ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, দুর্নীতি ও অরাজকতার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন রেজাউল করিম। বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদে থাকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। একই সঙ্গে শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের দেশে ফিরিয়ে এনে ডিসেম্বরের মধ্যে বিচার কার্যকরের দাবি জানান। রেজাউল করিম আরও বলেন, তেল, গ্যাস, সারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। অন্যথায় সরকারকে পদত্যাগের দাবি জানান তিনি। এ সময় বিক্ষোভকারীদের ‘তেল দে, গ্যাস দে, নয়তো গদি ছেড়ে দে’ স্লোগান দিতে দেখা যায়। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিকের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগর সহকারী সেক্রেটারি নাজিম উদ্দীন মোল্লা এবং ইয়াসিন আরাফাত। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য আতাউর রহমান সরকার, জামাল উদ্দিন, মুহিবুল্লাহ ও নাসির উদ্দীনসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ ও মিছিল থেকে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের দাবি জানানো হয়।
খুলনা নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. আজমুল হোসেন হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সোনাডাঙ্গায় প্রায় তিন ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশ ও খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া আশ্বাসের পর ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়ে অবরোধ প্রত্যাহার করেন তারা। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে এবং টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন তারা। আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকও সংহতি জানান। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, হত্যাকাণ্ডের ৬০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও মামলার কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। তারা দ্রুত এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। একই সঙ্গে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন। অবরোধের কারণে সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লা ও অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন রুটের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দুপুরের পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ খালেদ এবং কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, সামান্য একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে একজন শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। তাদের ভাষ্য, এ ঘটনা শিক্ষার্থীদের আবাসিক ও মেসজীবনের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, এত সময় পেরিয়ে গেলেও গ্রেপ্তার না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কানাই লাল বলেন, আজমুলকে ভাত চুরির অভিযোগে মারধর করা হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। তার ভাষ্য, তাকে ছাদে নিয়ে গিয়ে ফেলে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এ ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন। উপাচার্য আরও বলেন, ঘটনাস্থলে আজমুলের চুল পড়ে থাকতে দেখা গেছে এবং তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। পুলিশ কর্মকর্তা শাহনেওয়াজ খালেদ বলেন, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে। দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি আগামী এক মাসের মধ্যে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন বা চার্জশিট দাখিলের আশ্বাস দেন তিনি। পুলিশের এই আশ্বাসের পর দুপুর দেড়টার দিকে শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন। তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার না হলে পরবর্তী কর্মসূচি দেওয়ার কথা জানান তারা। মামলার তথ্য: গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হলের বিপরীতে মসজিদ গলির একটি মেসে আজমুল হোসেনকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, ভাত খাওয়াকে কেন্দ্র করে তাকে নির্যাতন করা হয় এবং পরে তার বাবার কাছে ফোন করে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। এ ঘটনায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। ঘটনার পর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।