আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চায় ভেনেজুয়েলা

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ১০, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চায় ভেনেজুয়েলা। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) এই ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। 

 

ডেলসি রদ্রিগেজ বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান গিলের সেই বক্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যেখানে তিনি বলেছেন, ভেনেজুয়েলা সরকার ও যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস খোলার জন্য সম্ভাব্য পথগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। যাতে আমাদের জনগণ যে আগ্রাসনের শিকার হয়েছে তার প্রতিবাদ জানানো যায়। 

 

তিনি আরও  বলেন, 'আগেও বলেছি, ভেনেজুয়েলার জনগণ পারমাণবিক শক্তিধর দেশের কাছ থেকে এমন আগ্রাসনের যোগ্য নয়।কিন্তু আমাদের প্রতিক্রিয়া হবে কূটনৈতিক।' 

 

এ সময় নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী আটকের পর ওয়াশিংটনের সাথে যোগাযোগের পথ তৈরি করে দেয়ার জন্য কাতারের আমিরকে ধন্যবাদ জানান রদ্রিগেজ। 

 

এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলায় আবারও দূতাবাসের কার্যক্রম চালুর বিষয়টি পর্যালোচনা করছে তারা।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
চাঁদে পারমাণবিক চুল্লি বসানোর দৌড়ে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া

ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযান এবং চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি গড়তে এবার নতুন প্রতিযোগিতায় নেমেছে বিশ্বের তিন পরাশক্তি— যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া। সেখানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের জন্য তারা পারমাণবিক চুল্লি বসানোর পরিকল্পনা করছে। সৌরবিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে চাঁদের দীর্ঘ রাতের আঁধারেও নিজেদের কার্যক্রম সচল রাখতেই মূলত এই উদ্যোগ।   নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত আগস্টে নাসা তাদের ঠিকাদারদের পারমাণবিক চুল্লি তৈরির নির্দেশ দিয়েছে, যা মহাকাশযাত্রা শেষে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে কোনো রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়াই কাজ করবে। ২০৩০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই এটি উৎক্ষেপণের লক্ষ্য নাসার। এই ‘লুনার রিঅ্যাক্টর ১’ থেকে পাঁচ বছর ধরে ২০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। পিছিয়ে নেই রাশিয়া ও চীনও। ২০৩৬ সালের মধ্যে যৌথভাবে ‘সেলিনা’ নামের একটি চুল্লি তৈরি করবে তারা, যা ১০ বছর ধরে ১০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ দেবে।   চাঁদে পৃথিবীর হিসেবে রাত স্থায়ী হয় দুই সপ্তাহের বেশি। তাই সেখানে শুধু সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে বড় ঘাঁটি চালানো অসম্ভব। তবে এই পারমাণবিক চুল্লি স্থাপন নিয়ে বিজ্ঞানীদের গুরুতর নিরাপত্তা উদ্বেগও রয়েছে। রকেট উৎক্ষেপণ ব্যর্থ হলে তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়ানোর মারাত্মক ঝুঁকি থাকে। পৃথিবীতে চুল্লির চারপাশে যেমন সুরক্ষাবলয় থাকে, চাঁদে তেমনটি করা বেশ কঠিন। তাই বিকিরণের ঝুঁকি এড়াতে যাত্রাপথে চুল্লিগুলো সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় অবস্থায় পাঠানো হবে।   ১৯৬৭ সালের ‘আউটার স্পেস ট্রিটি’ বা মহাকাশ চুক্তি অনুযায়ী কোনো দেশই চাঁদের মালিকানা দাবি করতে পারে না। কিন্তু নাসা আশঙ্কা করছে, চীন ও রাশিয়া সুরক্ষার অজুহাতে চাঁদের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় অন্যদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে। দেশগুলোর এমন পারমাণবিক পরিকল্পনাগুলো এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়েই রয়েছে। কারিগরি ও নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে গিয়ে ভবিষ্যতে এসব প্রকল্পের সময়সীমা পাল্টাতে পারে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ০৫, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মানা না পর্যন্ত হরমুজ বন্ধ রাখার ঘোষণা ইরানের

প্রতীকী ছবি

নতুন হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে কানাডা

সংগৃহীত ছবি
দিল্লি বিক্ষোভে নারী সাংবাদিকদের হেনস্তা, পুলিশের বিরুদ্ধে তদন্ত

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছেন তিন নারী সাংবাদিক।    অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্তের জন্য ক্রাইম ব্রাঞ্চে পাঠিয়েছে দিল্লি পুলিশ। নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতেই অভিযোগগুলো ক্রাইম ব্রাঞ্চে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।   শনিবার যন্তর মন্তরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধনসংক্রান্ত কার্যক্রম এবং সিইসির ভূমিকার প্রতিবাদে এই কর্মসূচি দেওয়া হয়েছিল।   দিল্লি পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ৩ অক্টোবর নয়াদিল্লি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের সময় তিন নারী সাংবাদিক পুলিশের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন। নয়াদিল্লি জেলা পুলিশ তাদের অভিযোগ গ্রহণ করেছে এবং ‘ন্যায্য ও নিরপেক্ষ তদন্তের’ জন্য সেগুলো ক্রাইম ব্রাঞ্চে পাঠানো হয়েছে।   এক সাংবাদিকের গুরুতর অভিযোগ অভিযোগকারী সাংবাদিকদের একজন দাবি করেছেন, বিক্ষোভস্থলে দায়িত্ব পালন করার সময় একজন সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসিপি) তাকে যৌন হয়রানি ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।   ওই সাংবাদিকের অভিযোগ, তিনি পুলিশের পদক্ষেপের ভিডিও ধারণ করছিলেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা তাকে অনুপযুক্তভাবে স্পর্শ করেন এবং পরে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই সাংবাদিক পরবর্তী সময়ে ভিডিও বার্তায় ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগও তোলেন।   অভিযোগকারীদের দাবি, ঘটনার পর তারা অভিযোগ জানাতে থানায় যান। কিন্তু তাদের অভিযোগ তাৎক্ষণিকভাবে এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়নি। পরে সাংবাদিকেরা দীর্ঘ সময় পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার বাইরে অবস্থান করে মামলা নেওয়ার দাবি জানান।   প্রেস কাউন্সিলের ক্ষোভ নারী সাংবাদিকদের অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে প্রেস কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া। সাংবাদিকদের সঙ্গে পুলিশের আচরণে ‘স্তম্ভিত ও হতাশ’ হওয়ার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।   প্রেস কাউন্সিল বলেছে, গণতন্ত্রে এ ধরনের আচরণকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না। বিভিন্ন দাবি নিয়ে যারা সমবেত হন, তাদের কার্যক্রম স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহ ও নথিবদ্ধ করার সুযোগ সাংবাদিকদের দিতে হবে।   দেশটির রাজধানীর কেন্দ্রস্থলেও সাংবাদিকদের কাজ করতে বাধা দেওয়া হলে তা ভারতের গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য ইতিবাচক বার্তা দেয় না বলেও মন্তব্য করেছে প্রতিষ্ঠানটি।   পাশাপাশি নারী সাংবাদিকের অভিযোগের বিষয়ে দিল্লি পুলিশকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রেস কাউন্সিল বলেছে, সাংবাদিকদের যেন আগ্রাসন ও হুমকির মুখে না পড়ে স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া হয়।   রাহুল গান্ধীর প্রশ্ন, ‘অমিত শাহ কোথায়?’ ঘটনার পর ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে জবাব চেয়েছেন।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, দিল্লি পুলিশ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন। তাই পুলিশের বিরুদ্ধে নারী সাংবাদিক ও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জবাব দিতে হবে।   রাহুল গান্ধীর দাবি, একজন নারী সাংবাদিক এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ করেছেন। কিন্তু অভিযোগ নথিভুক্ত করার দাবিতে সাংবাদিকেরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অবস্থান করলেও এফআইআর নেওয়া হয়নি।   তিনি আরও অভিযোগ করেন, শনিবার যন্তর মন্তর এলাকা থেকে শত শত মানুষকে আটক করা হয়েছে। নারী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে, সাংবাদিকদের ক্যামেরা কেড়ে নেওয়া ও তাদের টেনে-হিঁচড়ে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।   রাহুলের অভিযোগ, এর আগেও নারী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের অসদাচরণের ভিডিও সামনে এসেছে। দিল্লির নারী ও শিক্ষার্থীরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে প্রতিবাদ করছেন, অথচ তাদের সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা পুলিশই তাদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ করছে।   তিনি প্রশ্ন তোলেন, একজন নারীর অভিযোগ নথিভুক্ত করতেও যদি সরকার ভয় পায়, তাহলে সরকার আসলে কী রক্ষা করতে চাইছে?   বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে চলমান বিক্ষোভ ঘিরে এরই মধ্যে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শুক্রবারের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ৫৫০ জনের বেশি মানুষকে আটক করার কথা জানিয়েছিল পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষার্থী সংগঠনের সদস্য ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও ছিলেন।   শনিবারও একাধিক বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়। বিক্ষোভকারীরা মূলত ভোটার তালিকার ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ বা বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি এবং সিইসির পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছেন।   এরই মধ্যে নারী সাংবাদিকদের করা যৌন হয়রানির অভিযোগ নতুন করে পুলিশের ভূমিকা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তের দায়িত্ব ক্রাইম ব্রাঞ্চে যাওয়ায় এখন অভিযোগগুলো নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০৪, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

ফ্লাইদুবাই ঘটনার পর মার্কিন-ইসরায়েলি বিমানে হামলার হুমকি

স্পেনে আবাসন সংকট, রাস্তায় নেমেছে লাখো মানুষ

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হামলার দাবি হুথিদের

ছবি: সংগৃহীত
রুশ হামলায় দুই দিনে কিয়েভের দুই গুরুত্বপূর্ণ সেতু অচল

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের একটি সেতুতে রাশিয়ার জেটচালিত ড্রোন আঘাত হানার পর ধোঁয়া উঠছে। ২ অক্টোবর ২০২৬। ছবি: রয়টার্স   ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের গুরুত্বপূর্ণ নর্দার্ন ব্রিজে রুশ হামলার পর যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এর এক দিন আগেই রুশ ড্রোন হামলায় সাউদার্ন ব্রিজ বন্ধ করা হয়েছিল। ফলে দুই দিনের মধ্যে কিয়েভের আটটি ডিনিপ্রো নদী পারাপারের সেতুর দুটি অচল হয়ে পড়েছে।   শনিবার রাজধানীতে ড্রোন হামলার সতর্কতা জারির পর নর্দার্ন ব্রিজে হামলার খবর জানান কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিৎসকো। তিনি বলেন, জরুরি সেবার কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন।   পরে ক্লিৎসকো জানান, হামলায় সেতুর সড়কের কিছু অংশ এবং ট্রলিবাস চলাচলের জন্য ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাম তীর থেকে ডান তীরে সেতু দিয়ে যান চলাচল আপাতত বন্ধ রয়েছে।   ডিনিপ্রো নদী কিয়েভের পূর্ব ও পশ্চিম অংশকে আলাদা করেছে। শহরের দুই অংশের মধ্যে যোগাযোগের জন্য মোট আটটি সেতু রয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েক দিনের হামলায় এসব সেতুর ওপর চাপ বাড়ছে। শহরটির কর্মকর্তারা বলছেন, রুশ হামলা কিয়েভের যোগাযোগব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।   এর আগে শুক্রবার দ্রুতগতির জেটচালিত ড্রোনের কয়েক দফা হামলার পর সাউদার্ন ব্রিজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। কর্মকর্তারা জানান, বৃহস্পতিবার থেকেই সেতুটিতে কয়েকবার হামলা হয়েছে। আরেকটি সেতুতেও যান চলাচল সীমিত করা হয়েছে।   সেতুগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কিয়েভে তীব্র যানজট তৈরি হয়েছে। বিকল্প পথ খুঁজতে গিয়ে বিভিন্ন সড়কে গাড়ি ও বাসের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। অনেক যাত্রীকে বাধ্য হয়ে কিছু পথ হেঁটে যেতে হয়েছে।   শুক্রবার মেয়র ক্লিৎসকো সতর্ক করে বলেন, কিয়েভকে এখন যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।   ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার হামলা শুরুর পর যুদ্ধের মূল লড়াই এতদিন ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে কেন্দ্রীভূত ছিল। এ কারণে সামনের সারির এলাকাগুলোর তুলনায় কিয়েভে তুলনামূলক কম ধ্বংসযজ্ঞ দেখা গেছে।   সূত্র: ইউরোনিউজ

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ০৪, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

নেপালে বন্যার ৩৭ দিন পর জীবিত মিলল নিখোঁজ মালয়েশিয়ান নাগরিক

সংগৃহীত ছবি

স্পেনে আবাসন সংকটের প্রতিবাদে রাজপথে জনস্রোত

ছবি: সংগৃহীত

বৈধ ভিসা থাকলেও ভারতে প্রবেশে বাধা

0 Comments