যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সাম্প্রতিক ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারি নির্বাচনে ফিলিস্তিনপন্থি অবস্থান নেওয়া একাধিক প্রার্থী জয় পেয়েছেন। এতে করে দেশটির প্রো-ইসরায়েল রাজনৈতিক বলয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির সমর্থিত প্রার্থীদের বিজয় ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরে পরিবর্তিত জনমতের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। খবরে বলা হয়েছে, গত দুই বছরে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা অভিযান, একাডেমিক শাস্তি, দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের রাজনীতিকদের আক্রমণ এবং বহিষ্কার অভিযানের মুখোমুখি হয়েছেন। সেই একই এলাকার প্রতিনিধিত্ব এখন এমন এক নেতার হাতে যেতে পারে, যিনি গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনের সংগঠক ছিলেন।
গত মঙ্গলবার নিউইয়র্কের কংগ্রেসনাল প্রাইমারিতে বড় চমক দেখান দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ার। কেফিয়াহ জড়িয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো এই অভিবাসী অধিকারকর্মী প্রবীণ কংগ্রেসম্যান আদ্রিয়ানো এসপাইয়াতকে পরাজিত করে ডেমোক্র্যাটিক মনোনয়ন নিশ্চিত করেন। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি নিজেকে অভিবাসন ব্যবস্থায় বিচ্ছিন্ন পরিবারগুলোর সংগঠক এবং ‘ফিলিস্তিনে চলমান গণহত্যার’ বিরুদ্ধে সোচ্চার কর্মী হিসেবে তুলে ধরেন।
শেভালিয়ারের পাশাপাশি মামদানির সমর্থিত আরও দুই প্রার্থীও জয় পেয়েছেন। সাবেক সিটি কম্পট্রোলার ব্র্যাড ল্যান্ডার, যিনি ইসরায়েলে সামরিক সহায়তার বিরোধিতা করেন, তিনি কট্টর প্রো-ইসরায়েল রাজনীতিক ড্যান গোল্ডম্যানকে পরাজিত করেন। এছাড়া ডেমোক্র্যাটিক সমাজতান্ত্রিক আইনপ্রণেতা ক্লেয়ার ভালদেজও একটি উন্মুক্ত আসনে জয়ী হন।
স্থানীয় পর্যায়েও ইসরায়েলবিরোধী অবস্থানের কয়েকজন প্রার্থী জয় পেয়েছেন। এর মধ্যে আবর কাওয়াস নিউইয়র্কের প্রথম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত স্টেট সিনেটর হওয়ার পথে রয়েছেন।
অ্যাডভোকেসি গ্রুপ জিউইশ ভয়েস ফর পিস (জেভিপি) অ্যাকশনের রাজনৈতিক পরিচালক বেথ মিলার বলেন, নিউইয়র্কে গত রাত ছিল এক রাজনৈতিক ভূমিকম্প। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে নির্ভীক অবস্থান শুধু নৈতিক নয়, এটি এখন বিজয়ের পথও।
সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের সমাজবিজ্ঞান অধ্যাপক হেবা গোওয়ায়েদ বলেন, এই ফলাফল দেখিয়েছে যে মার্কিন রাজনীতিতে ইসরায়েলের সমালোচনা আর অগ্রহণযোগ্য বিষয় হিসেবে থাকছে না। তার মতে, এসব প্রার্থী ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থানের কারণে জিতেছেন, তা সত্ত্বেও নয়।
যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোয় বিশেষ করে ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের মধ্যে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন কমে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে অধিকারকর্মীরা মনে করছেন, নিউইয়র্কের এই ফলাফল ভবিষ্যতে দেশজুড়ে ফিলিস্তিনপন্থী রাজনীতির আরও বিস্তারের পথ খুলে দিতে পারে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, কংগ্রেসে ইসরায়েলবিরোধী কণ্ঠ বাড়লেও মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে তাৎক্ষণিক বড় পরিবর্তন আসবে না। কারণ, দীর্ঘদিন ধরেই ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় প্রশাসনই ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন বজায় রেখেছে।
তারপরও পর্যবেক্ষকদের মতে, নিউইয়র্কের এই নির্বাচন মার্কিন রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতার সূচনা করেছে এবং ভবিষ্যতে ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নিঃশর্ত সমর্থনের নীতিতে চাপ বাড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নতুন শুল্কের জবাবে এবার মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক বসানোর ঘোষণা দিয়েছে কানাডা। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৮ বিলিয়ন কানাডীয় ডলার মূল্যের পণ্যে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হবে। মঙ্গলবার কানাডা সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নতুন শুল্কের আওতায় থাকবে ইস্পাত, আসবাবপত্র, পোশাক, তাজা টুনা মাছসহ বিভিন্ন মার্কিন পণ্য। যুক্তরাষ্ট্র যেসব কানাডীয় পণ্যে শুল্ক আরোপ করেছে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাল্টা শুল্কের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন করে শুল্কযুদ্ধের উত্তেজনা তৈরি হলো। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বাণিজ্য আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। এরপর উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে আলোচনার শেষ পর্যায়ে অযৌক্তিক অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ তোলে। ‘সমানুপাতিক’ পদক্ষেপ বলছে কানাডা: কানাডার অর্থমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেন জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কানাডীয় পণ্যে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তের জবাবেই নতুন পাল্টা শুল্ক কার্যকর করা হচ্ছে। তিনি বলেন, মার্কিন শুল্কের প্রভাব কানাডার শ্রমিক, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের ওপর পড়বে। তাই সরকারের নেওয়া পদক্ষেপকে তিনি ‘সমানুপাতিক’ ও ‘কৌশলগত’ বলে উল্লেখ করেন। মার্কিন শুল্কের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা ও কর্মীদের সহায়তায় অতিরিক্ত ৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন কানাডীয় ডলার বরাদ্দের কথাও জানিয়েছেন তিনি। কর্মী ছাঁটাই কমানো এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সংকট মোকাবিলায় সহায়তা করাই এই অর্থের মূল উদ্দেশ্য। প্রায় ৯০০ মার্কিন পণ্যে শুল্ক: কানাডা মঙ্গলবার প্রায় ৯০০টি মার্কিন পণ্যের তালিকা প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে— ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামজাত কিছু পণ্যে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ শুল্ক; মধু, আসবাবপত্র, পোশাক, প্রসাধনী ও সুগন্ধিজাত পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক; গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি, দুগ্ধজাত পণ্য, মাছ ও সামুদ্রিক খাদ্যসহ কিছু পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক; ফর্কলিফট ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রসহ নির্দিষ্ট যন্ত্রপাতিতে ১৫ শতাংশ শুল্ক। কানাডীয় কর্মকর্তাদের দাবি, এমন পণ্যই তালিকায় রাখা হয়েছে যেগুলোর বিকল্প সরবরাহকারী অন্য দেশ থেকে পাওয়া সম্ভব। এর ফলে কানাডার ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ তুলনামূলকভাবে কম পড়বে বলে আশা করছে সরকার। পাল্টা আক্রমণ ট্রাম্পের: কানাডার সিদ্ধান্তের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একাধিক পোস্টে তিনি কানাডার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্যায্য বাণিজ্য করার অভিযোগ তোলেন। ট্রাম্প বলেন, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা পাওয়ার অধিকারী নয়। একই সঙ্গে কানাডীয় গাড়ির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরও বাড়ানোর ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি। এর জবাবে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি অভিযোগ করেছেন, ট্রাম্পের নীতির লক্ষ্য কানাডার গাড়ি, ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামসহ গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করা। আবারও আলোচনার সম্ভাবনা: দুই দেশের নেতাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে উত্তেজনা বাড়লেও মঙ্গলবার কিছুটা নমনীয় অবস্থানের ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে। কানাডার অন্টারিও প্রদেশের প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড বলেছেন, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও তিনি এমন একটি বাণিজ্য চুক্তি চান, যা কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় দেশের জন্যই লাভজনক হবে। বাণিজ্য বিরোধ দীর্ঘায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মধ্যে বিদ্যমান উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য কাঠামো ইউএসএমসিএর ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। এদিকে কানাডার সঙ্গে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর মেক্সিকোও পরিস্থিতি সামাল দিতে উদ্যোগ নিয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউম আলোচনার জন্য অর্থমন্ত্রী মার্সেলো এব্রার্দকে ওয়াশিংটনে পাঠিয়েছেন। বিশ্বের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক অংশীদারদের মধ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার এই নতুন শুল্ক বিরোধ দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি উত্তর আমেরিকার দীর্ঘদিনের সরবরাহব্যবস্থাতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ আরও তীব্র হওয়ার মধ্যে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন পণ্যে পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে কানাডা। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে এসব শুল্ক কার্যকর হবে। মঙ্গলবার রয়টার্স এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। কানাডার সরকারের ঘোষণায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা প্রায় ৭০০ ধরনের পণ্যের ওপর ১৫, ২৫ ও ৫০ শতাংশ হারে শুল্ক বসানো হবে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক শুল্কের জবাব দেওয়া হচ্ছে। গত শনিবার কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়। দুই দেশের মধ্যে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর এই শুল্ক আরোপ করা হয়। কানাডার পাল্টা শুল্কের আওতায় ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, আসবাবপত্র ও পোশাকে ৫০ শতাংশ, পনির, গৃহস্থালি সরঞ্জাম ও কিছু সামুদ্রিক খাবারে ২৫ শতাংশ এবং ইলেকট্রনিক পণ্য ও বিভিন্ন সরঞ্জামে ১৫ শতাংশ শুল্ক বসবে। এ ছাড়া প্রক্রিয়াজাত খাবার, সুগন্ধি, প্রসাধন ও পরিচর্যা সামগ্রী, প্লাস্টিক, কাঠ, কাগজ, কার্পেট, যন্ত্রপাতি, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, রেল ইঞ্জিন, মোটরসাইকেল ও গেমিং সরঞ্জামও শুল্কের আওতায় থাকবে। কানাডার শিল্পমন্ত্রী মেলানি জোলি বলেছেন, এসব পাল্টা শুল্কের মূল লক্ষ্য কানাডার ব্যবসাগুলোকে সুরক্ষা দেওয়া। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঙ্গরাজ্যে রাজনৈতিক চাপ তৈরিও এর অন্যতম উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তাই কোন পণ্যে শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে, সেটি নির্ধারণের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়টিও বিবেচনা করা হয়েছে। শুধু পাল্টা শুল্ক নয়, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা ও কর্মীদের জন্য ৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন কানাডীয় ডলারের সহায়তা প্যাকেজও ঘোষণা করেছে অটোয়া। এর আওতায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার জন্য অর্থায়ন এবং শুল্কের কারণে ঝুঁকিতে পড়া কর্মীদের সহায়তা দেওয়া হবে। কানাডার সরকারি ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক অব কানাডা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাগুলোকে ২৫ লাখ থেকে ৫০ লাখ কানাডীয় ডলার পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ দেবে। এসব ঋণের অর্থ পরিশোধ শুরু করতে ৩৬ মাস সময় দেওয়া হবে। সূত্র: রয়টার্স
গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের উপকূল থেকে দুটি নৌকা থেকে ৭৯ অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে দেশটির কোস্টগার্ড। মঙ্গলবার দক্ষিণ ক্রিটের কাল্লি লিমেনেস বন্দরের কাছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একটি ড্রোন নৌকা দুটির অবস্থান শনাক্ত করার পর তাদের উদ্ধার করা হয়। গ্রিক কোস্টগার্ডের এক কর্মকর্তা জানান, উদ্ধার হওয়া অভিবাসীদের মধ্যে অন্তত দুই নারী ও দুই শিশু রয়েছে। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ ও যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদানের নাগরিকও ছিলেন। এর আগে গ্রিসের সংবাদ সংস্থা এএনএ জানিয়েছিল, ওই অভিযানে ৮৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে উদ্ধার হওয়া মানুষের সংখ্যা ৭৯ বলে নিশ্চিত করা হয়। উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়া থেকে প্রায় ৩২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ক্রিট ও কাছের গাভদোস দ্বীপ সাম্প্রতিক সময়ে গ্রিসে আশ্রয়প্রার্থীদের প্রবেশের অন্যতম প্রধান পথ হয়ে উঠেছে। তবে সামগ্রিকভাবে গ্রিসে অভিবাসী আগমনের সংখ্যা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কমেছে। এএনএর প্রতিবেদনে দেশটির অভিবাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, আগস্ট ২০২৫ পর্যন্ত ১২ মাসে গ্রিসে প্রায় ৬১ হাজার অভিবাসী পৌঁছেছিলেন। পরবর্তী ১২ মাসে এ সংখ্যা কমে প্রায় ৪২ হাজারে দাঁড়িয়েছে, যা প্রায় ৩১ শতাংশ হ্রাস। ইউরোপে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন দেশ কঠোর নীতি গ্রহণ করেছে। একই সময়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অভিবাসনবিরোধী ও ডানপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর জনপ্রিয়তাও বেড়েছে। অবৈধ অভিবাসন কমাতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন লিবিয়ার মতো ট্রানজিট দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করেছে। গ্রিসের অভিবাসনমন্ত্রী থানস প্লেভরিসও অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আগমন ঠেকাতে কঠোর নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এ ছাড়া অভিবাসীদের আবেদন প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে ‘রিটার্ন হাব’ স্থাপনের বিষয়ে জার্মানি ও অন্যান্য ইইউ দেশের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে গ্রিস। সূত্র: টাইমস অফ মাল্টা