আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে যাচ্ছে শক্তিশালী ‘বোম্ব সাইক্লোন’

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ৩০, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে যাচ্ছে শক্তিশালী ‘বোম্ব সাইক্লোন’। দ্রুত শক্তিশালী হওয়া এ শীতকালীন ঝড়ের প্রভাবে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব ও মধ্য-আটলান্টিক অঞ্চলে অস্বাভাবিক মাত্রার তুষারপাত, বিধ্বংসী ঝোড়ো হাওয়া এবং উপকূলীয় বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

 

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার রাত থেকে শনিবার পর্যন্ত ঝড়টির প্রভাব শুরু হবে। শনিবার রাত নাগাদ নর্থ ক্যারোলাইনা ও ভার্জিনিয়ার উপকূলীয় এলাকায় তুষারপাত ও প্রায় হারিকেন-গতির দমকা হাওয়া মিলিত হয়ে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে। ঝড়ের গতিপথ উপকূলের কাছাকাছি হলে সপ্তাহান্তে নিউ ইংল্যান্ডের উপকূলীয় অঞ্চল, বিশেষ করে পূর্ব ম্যাসাচুসেটসেও তুষারপাত ও প্রবল বাতাস দেখা দিতে পারে।

 

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, ঝড়টি শুক্রবার রাতে নর্থ ক্যারোলিনার উপকূলের কাছে তৈরি হবে এবং শনিবার দ্রুত উত্তরমুখী হয়ে শক্তি সঞ্চয় করবে। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় বোম্বোজেনেসিস, যার ফলে দক্ষিণে প্রচণ্ড ঠান্ডা বাতাস নেমে আসবে। এর ফলে এমন এলাকায়ও তুষারপাত হতে পারে যেখানে সাধারণত শীতকালীন আবহাওয়া খুব কম দেখা যায়।

 

দক্ষিণ-পূর্ব যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ মানুষ শীতকালীন ঝড় সংক্রান্ত সতর্কতা ও সতর্কবার্তার আওতায় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জর্জিয়ার উত্তরাংশ, ক্যারোলাইনা অঞ্চল এবং দক্ষিণ ভার্জিনিয়া। এই এলাকার অনেক অংশ এখনও গত সপ্তাহের প্রাণঘাতী শীতকালীন ঝড়ের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি।

 

ঝড়টি সমুদ্রে শক্তিশালী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উপকূলীয় এলাকায় প্রবল বাতাস পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করবে। নর্থ ক্যারোলিনা ও ভার্জিনিয়ার উপকূলে শনিবার রাতে দমকা হাওয়ার গতি প্রতি ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। ভারী তুষারপাতের সঙ্গে এই বাতাস মিলিত হলে দৃশ্যমানতা প্রায় শূন্যে নেমে আসতে পারে। নর্থ ক্যারোলিনার আউটার ব্যাংকস এবং দক্ষিণ-পূর্ব ভার্জিনিয়াকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

 

প্রবল অনশোর বাতাস মাসের সর্বোচ্চ জোয়ারের সঙ্গে মিলিত হওয়ায় উপকূলীয় বন্যার ঝুঁকিও বেড়েছে। শনিবার রাত থেকে রোববার পর্যন্ত নর্থ ক্যারোলিনার আউটার ব্যাংকস ও ভার্জিনিয়ার টাইডওয়াটার অঞ্চলে মাঝারি থেকে গুরুতর বন্যা দেখা দিতে পারে।

 

আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, ঝড়ের গতিপথে সামান্য পরিবর্তন হলেও প্রভাবের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে যেতে পারে, বিশেষ করে নিউ ইংল্যান্ড অঞ্চলে। তাই সবাইকে সর্বশেষ স্থানীয় আবহাওয়া পূর্বাভাসের দিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলি দূতাবাসের কাছে দুটি ফ্ল্যাট বিক্রির সঙ্গে যেভাবে উঠে এলো মোজতবা খামেনির নাম

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অভিজাত কেনসিংটন এলাকায় ইসরায়েলি দূতাবাসের কাছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে সম্পৃক্ত দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট বিক্রি করা হচ্ছে। দুটি অ্যাপার্টমেন্টের সম্মিলিত ক্রয়মূল্য ছিল প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ড। বর্তমানে সম্পত্তিগুলো ঋণখেলাপির কারণে রিসিভারশিপে রয়েছে।   দ্য সানডে টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেনসিংটনের প্যালেস গ্রিন এলাকার ৩-এ নম্বর ভবনের এসব ফ্ল্যাটের নিবন্ধিত মালিক ইরানি ব্যাংকার আলি আনসারি। তিনি বন্ধকী ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় সম্পত্তিগুলো বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   এর মধ্যে একটি ফ্ল্যাট ৩ হাজার ৯৪৪ বর্গফুটের ডুপ্লেক্স। ভবনের ষষ্ঠ ও সপ্তম তলা নিয়ে তৈরি পাঁচ বেডরুমের এই ফ্ল্যাটে কর্মীদের থাকার ব্যবস্থা এবং ব্যক্তিগত ছাদ রয়েছে। ছাদ থেকে কেনসিংটন গার্ডেনসের দৃশ্য দেখা যায়। নাইট ফ্রাঙ্ক ও সোথেবিজ ইন্টারন্যাশনাল রিয়েলটির মাধ্যমে এর দাম চাওয়া হয়েছে ১ কোটি ২০ লাখ পাউন্ডের কিছু কম।   ২০১৬ সালে আনসারি এই ফ্ল্যাটটি ১ কোটি ৯০ লাখ পাউন্ডে কিনেছিলেন। অর্থাৎ বর্তমান চাওয়া দামের চেয়ে প্রায় ৭০ লাখ পাউন্ড বেশি দামে এক দশক আগে এটি কেনা হয়েছিল।   অন্যটি ভবনের সপ্তম ও অষ্টম তলা নিয়ে গঠিত। এতেও কর্মীদের থাকার ব্যবস্থা ও ব্যক্তিগত ছাদ রয়েছে। ২০১৪ সালে আনসারি এটি ১ কোটি ৬৭ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ডে কিনেছিলেন। তবে এটি এখনো প্রকাশ্যে বিক্রির তালিকায় তোলা হয়নি।   ফ্ল্যাট দুটি ইসরায়েলি দূতাবাসের খুব কাছেই দুটি ফ্ল্যাটেরই সামনের দিকটা কেনসিংটন প্যালেসমুখী এবং প্রিন্স উইলিয়াম ও প্রিন্সেস অব ওয়েলস ক্যাথরিনের সরকারি লন্ডন বাসভবনের কাছাকাছি।   তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয় হলো, এগুলো লন্ডনে ইসরায়েলি দূতাবাসের মাত্র ৫০ মিটারের মধ্যে অবস্থিত। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যাপার্টমেন্ট দুটি থেকে দূতাবাসের পেছনের অংশ সরাসরি দেখা যায়।   ইরানবিরোধী সম্প্রচারমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনালের সাবেক নিরাপত্তা পরিচালক রজার ম্যাকমিলান বলেন, এই অবস্থান থেকে দূতাবাসের কর্মী ও দর্শনার্থীদের পর্যবেক্ষণ বা ছবি তোলা তাত্ত্বিকভাবে সম্ভব। এমনকি বাইরের কথোপকথন পর্যবেক্ষণ কিংবা জানালা ও বেতার নেটওয়ার্ককে লক্ষ্য করে আরও উন্নত নজরদারির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।   তবে এসব ফ্ল্যাট নজরদারির কাজে ব্যবহার করা হয়েছে- এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে ইসরায়েলি দূতাবাসও কোনো মন্তব্য করেনি।   মোজতবা খামেনির সঙ্গে কীভাবে যোগসূত্র সম্পত্তিগুলোর আনুষ্ঠানিক মালিক আনসারি হলেও বিভিন্ন অনুসন্ধানে এগুলোর সঙ্গে মোজতবা খামেনির যোগসূত্রের দাবি সামনে আসে।   জানুয়ারিতে ব্লুমবার্গের এক অনুসন্ধানে লন্ডনসহ বিভিন্ন স্থানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি আন্তর্জাতিক সম্পত্তি নেটওয়ার্কের কথা তুলে ধরা হয়। এতে অফশোর কোম্পানি, বিশ্বস্ত সহযোগী ও বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে সম্পদের মালিকানা আড়াল করার অভিযোগ উঠে আসে।   পরবর্তী সময়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলো সম্পত্তির নথি এবং ওই আর্থিক নেটওয়ার্কের তথ্য মিলিয়ে প্যালেস গ্রিনের ফ্ল্যাট দুটিকেও খামেনির সঙ্গে যুক্ত করে।   মার্চে ইভনিং স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়, খামেনির পক্ষে সহযোগীদের মাধ্যমে ফ্ল্যাট দুটি কেনা হয়েছিলো।   যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ গত জুলাইয়ে আনসারির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তাকে খামেনির গুরুত্বপূর্ণ অর্থদাতা হিসেবে উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করেছে, তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ও দেশটির শাসকগোষ্ঠীর অন্যান্য সদস্যদের সুবিধার্থে পরিচালিত বিস্তৃত আন্তর্জাতিক সম্পদ নেটওয়ার্ক তদারক করতেন।   এর আগে যুক্তরাজ্যও আনসারির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। দেশটি অভিযোগ করেছিল, তিনি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে (আইআরজিসি) আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। ব্রিটেনে থাকায় তার সম্পদ জব্দ করা হয় এবং তার প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়।   তবে আনসারির আইনজীবী এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার দাবি, খামেনি বা আইআরজিসির সঙ্গে আনসারির কোনো আর্থিক সম্পর্ক নেই এবং তিনি ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ করবেন।   ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার পর বিক্রি সম্পত্তি দুটির বিক্রয়সংক্রান্ত প্রকাশ্য নথিতে খামেনি, আনসারি কিংবা ইরানের কোনো উল্লেখ নেই। শুধু জানানো হয়েছে, পাঁচ বেডরুমের ফ্ল্যাট রিসিভারশিপে রয়েছে এবং সম্পত্তি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় সব তথ্য বিক্রেতাদের কাছে নেই।   জানা গেছে, ব্যক্তিগত ঋণদাতারা বকেয়া অর্থ উদ্ধারের জন্য রিসিভার নিয়োগের পর ব্রিটিশ সরকারের অনুমোদন নিয়ে সম্পত্তিগুলো বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু হয়।   বিক্রয় থেকে ঋণদাতা ও সংশ্লিষ্ট খরচ পরিশোধের পর অবশিষ্ট অর্থ আনসারির ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা পর্যন্ত জব্দ অবস্থায় থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্যালেস গ্রিনের কর্মীদেরও আনসারি বা মোজতবা খামেনিকে ফ্ল্যাট দুটিতে দেখেছে বলে জানা যায়নি।   সূত্র : দ্য সানডে টাইমস

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের হামলায় সৌদি জাহাজে ক্ষয়ক্ষতি, ১৬ নাবিককে উদ্ধার করল ওমান

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশি ছাত্রীকে নিপীড়নের চেষ্টা, পালাতে গিয়ে ভবন থেকে পড়ে ভারতীয়ের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় দুই শিশুসহ নিহত ১১

ছবি: সংগৃহীত
দেশে ফিরলে বিমানবন্দরেই হত্যার আশঙ্কা শেখ হাসিনার

বাংলাদেশে ফিরলে বিমানবন্দরেই তাঁকে হত্যা করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়ালকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানালেও নিজের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগের কথা জানান।   সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ তাঁর নিজের দেশ। তাই দেশে ফেরার বিষয়ে তাঁর আগ্রহ রয়েছে। তবে বর্তমান রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে দেশে ফিরলে নিজের জীবন নিয়ে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে মনে করেন তিনি। দ্য ওয়ালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, দেশে ফিরলে শুধু তাঁর নিজের জীবন নয়, তাঁর সঙ্গে দেশে ফেরার উদ্যোগে যুক্ত অন্যদের নিরাপত্তাও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। এ কারণে কাউকে বিপদের মুখে ফেলতে চান না বলেও জানান তিনি। বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ নিয়ে উদ্বেগ বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা। তাঁর দাবি, দেশে জঙ্গিবাদী শক্তির উত্থান ঘটছে এবং এর প্রভাব শুধু বাংলাদেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রতিবেশী দেশ ভারতকেও এর প্রভাব মোকাবিলা করতে হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। দুই দেশের সম্পর্ককে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি। তারেক রহমানকে নিয়ে শেখ হাসিনার অভিযোগ সাক্ষাৎকারে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়েও মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা। তাঁর ভারত সফর এবং দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক দরকষাকষির অভিযোগ তোলেন তিনি। তারেক রহমানকে নিয়ে শেখ হাসিনার বক্তব্যে রাজনৈতিকভাবে তীব্র সমালোচনাও উঠে আসে। লন্ডন থেকে তিনি বাংলাদেশে সহিংসতার নির্দেশ দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে সাক্ষাৎকারে স্বাধীন কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব নিয়েও বক্তব্য আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব প্রসঙ্গেও কথা বলেন শেখ হাসিনা। তাঁর অনুপস্থিতিতে দলের সভাপতির দায়িত্ব শেখ ফজলুল করিম সেলিম পালন করবেন বলে জানান তিনি। শেখ রেহানার রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন করা হলে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর বোন সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন। দলের নেতৃত্বে কারা থাকবেন, সে বিষয়ে তাঁর বক্তব্যে শেখ সেলিমের নাম বিশেষভাবে উঠে আসে। দেশের পরিস্থিতি নিয়ে আবেগপ্রবণ শেখ হাসিনা সাক্ষাৎকারের একপর্যায়ে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আবেগ প্রকাশ করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। দেশের পরিস্থিতি দেখে তাঁর হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দ্য ওয়ালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি ভারতে অবস্থানের পর কোনো ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে শেখ হাসিনার দেওয়া প্রথম টেলিফোনিক সাক্ষাৎকার। এতে তাঁর দেশে ফেরার ইচ্ছা, নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, তারেক রহমান, ভারত বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে। তবে সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার দেওয়া রাজনৈতিক অভিযোগ ও আশঙ্কাগুলো তাঁর নিজস্ব বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এসব দাবির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

মোঃ নাহিদ হোসেন সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

কাতারে হামলা করেছি, বোমাও মেরেছি, দম্ভভরে বললেন নেতানিয়াহু

ছবি: সংগৃহীত

দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের ৬ তলা মেসবাড়ি ধস: ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধারের আকুতি

ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার হামলা ঠেকাতে নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে জার্মানি

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত
ইসরাইলের ভবিষ্যতের স্বার্থে নেতানিয়াহুকে সরানোর দাবি

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে তার পদ থেকে সরানোর দাবি জানিয়েছেন বিরোধী দলীয় এমপি গিলাদ কারিভ। তিনি বলেছেন, ইসরাইলে অস্তিত্ব রক্ষার জন্যই নেতানিয়াহুকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরানো জরুরি। খবর আনাদোলুর   শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা ঘিরে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর তদন্ত নিয়ে নেতানিয়াহুর অবস্থানের সমালোচনা করে এসব মন্তব্য করেন তিনি।   কারিভ অভিযোগ করেন, ৭ অক্টোবরের হামলার পর কয়েক মাস ধরে গাজার আশপাশের কিবুতজ এলাকায় যাওয়ার বিষয়টি যেমন নেতানিয়াহু এড়িয়ে গেছেন, তেমনি ওই দিনের ঘটনাগুলো নিয়ে সেনাবাহিনীর তদন্তের বিষয়টিও তিনি এড়িয়ে যাচ্ছেন।   তিনি আরও অভিযোগ করেন, নেতানিয়াহু বারবার ইসরাইলের নিরাপত্তার বিষয়টিকে ‘অবহেলা’ করেছেন এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিচালনায় ‘সম্পূর্ণ অযোগ্যতার’ পরিচয় দিয়েছেন।   কারিভ বলেন, ‘এমন একজন ব্যক্তিকে আমাদের ভবিষ্যৎ এবং আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।’    তার মতে, নেতানিয়াহুকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরানো এখন ইসরাইলি সমাজের ‘অস্তিত্বের জন্য প্রয়োজন’।   এদিকে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার আগে ও পরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতা খতিয়ে দেখতে ইসরাইলেরাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি উঠেছে। বিরোধী দলগুলোর পাশাপাশি দেশটির সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশও এ দাবি জানিয়ে আসছে।   তবে নেতানিয়াহুর সরকার রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। এর পরিবর্তে সরকারের নিয়োগ করা একটি তদন্ত প্যানেলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে তারা।   নির্বাচনে চাপ বাড়ছে নেতানিয়াহুর ইসরাইলে আগামী  ২৭ অক্টোবর পার্লামেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা। জনমত জরিপে নেতানিয়াহু ও তার দল লিকুদ পার্টির জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।   এর মধ্যে দুর্নীতির অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিচারও চলছে। পাশাপাশি গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সংগৃহীত ছবি

কাতারে হামলা চালানোর কথা দম্ভের সঙ্গে জানালেন নেতানিয়াহু

ছবি: সংগৃহীত

বিমানে হট্টগোল, গালিগালাজ; টেপ দিয়ে বাঁধা হলো যাত্রীকে

নেতানিয়ায় কিরিয়াত হাশারোন এলাকায় পুলিশের গুলিতে এক ইসরাইলি সেনা নিহত হয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

পুলিশের গুলিতে ইসরাইলি সেনার করুণ মৃত্যু

0 Comments