মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুযায়ী নগদ ক্রয় চুক্তি নম্বর জি-টু-জি-০২ এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫৮ হাজার ৩৫৯ মেট্রিক টন গম নিয়ে এমভি ডব্লিউএফ আর্টেমিস জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহিঃনোঙরে পৌঁছেছে।
বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সরকারের (জি-টু-জি) ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম আমদানি কার্যক্রম শুরু করেছে। জি-টু-জি-০২ চুক্তির আওতায় মোট ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন গম আমদানি করা হবে। এর তৃতীয় চালান হিসেবে ৫৮ হাজার ৩৫৯ মেট্রিক টন গম নিয়ে এমভি ডব্লিউএফ আর্টেমিস বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের বহিঃনোঙরে অবস্থান করছে। এর আগে প্রথম ও দ্বিতীয় চালানে মোট ১ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ মেট্রিক টন গম দেশে এসেছে।
উল্লেখ্য, জি-টু-জি-০১ চুক্তির আওতায় ইতোমধ্যে মোট ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন গম আমদানি সম্পন্ন হয়েছে।
জাহাজে থাকা গমের নমুনা পরীক্ষার কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার ফলাফল শেষে দ্রুত গম খালাসের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) এক জরিপে বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদীতে একক সংস্থা হিসেবে ওয়াসার ৬৬টি বর্জ্য উৎসমুখ (আউটলেট) শনাক্ত হয়েছে। রাজধানী-সংলগ্ন নদীগুলোয় মোট ৪২৪টি প্রত্যক্ষ বর্জ্য উৎসমুখের তথ্য উঠে এসেছে জরিপে। এর মধ্যে ২৪৪টি ব্যক্তিমালিকানাধীন ও বেসরকারি শিল্প-কারখানার, যেখান থেকে প্রতিদিন অপরিশোধিত বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলা হচ্ছে। রাজধানীর নদী দূষণের পেছনে ওয়াসার দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাকেও বড় কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। পর্যাপ্ত স্যুয়ারেজ নেটওয়ার্ক না থাকায় রাজধানীর বিপুল পরিমাণ গৃহস্থালি ও মানববর্জ্য সরাসরি বুড়িগঙ্গা, তুরাগ ও শীতলক্ষ্যাসহ আশপাশের নদীতে গিয়ে পড়ছে। অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টির পানি ও পয়োবর্জ্যের জন্য পৃথক লাইন না থাকায় একই ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব বর্জ্য নদীতে মিশছে। ফলে শিল্পবর্জ্যের পাশাপাশি নগর বর্জ্যও নদীর পানির গুণগত মান দ্রুত নষ্ট করছে। ‘ঢাকা ওয়াসা যে এ শহরের সবচেয়ে বড় নদী দূষণকারী’—এ তথ্য জেনে মোটেও অবাক হননি বলে জানান পরিবেশ ও পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘হঠাৎ করে এ কথাটা এখন প্রকাশ পাওয়ায় আমি অবাক হচ্ছি! এটা তো ওয়াসা বহু আগে থেকেই জানে। এটা পাবলিক হেলথ ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট জানে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ও ভালো করেই জানে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের নগর ব্যবস্থাপনার প্রধান সমস্যায় হলো স্যানিটারি লাইন এবং বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের রেইন ওয়াটার লাইন আলাদা করা নেই। পৃথিবীর সব সভ্য দেশে স্যানিটারি লাইন আর বৃষ্টির পানির লাইন সম্পূর্ণ আলাদা থাকে। কিন্তু আমাদের এখানে কার্যকর কোনো স্যানিটেশন সিস্টেমই গড়ে ওঠেনি। ঢাকা শহরে প্রতিদিন মানুষ যে পরিমাণ মলমূত্র ত্যাগ করে, তার হয়তো ১০-২০ শতাংশ পরিশোধনের ব্যবস্থা আছে। আর দাশেরকান্দিতে বিশাল এক ফ্যাসিলিটি বানানো হয়েছে বটে, কিন্তু সেখানে যে ময়লা যাবে সে পাইপলাইনই হয়নি। পয়োনিষ্কাশন লাইন না থাকার ফলে শহরের সব বর্জ্য গিয়ে সোজা বুড়িগঙ্গায় পড়ছে।’ বিআইডব্লিউটিএর তালিকা অনুযায়ী, সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে দূষণের সবচেয়ে বড় উৎস ঢাকা ওয়াসা। এর পরই রয়েছে সিটি করপোরেশনগুলো। ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মোট ৭৮টি আউটলেট দিয়ে নিয়মিত দূষিত পানি নদীতে যাচ্ছে। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৩৭টি, ঢাকা দক্ষিণের ২১টি, ঢাকা উত্তরের ১৬টি ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের চারটি আউটলেট রয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ ও পরিবেশবিদরা ঢাকায় নদী দূষণের জন্য ওয়াসাকে দায়ী করলেও তা মানতে নারাজ সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আমিনুল ইসলাম। এ প্রসঙ্গে তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বুড়িগঙ্গা ও তুরাগে ওয়াসার ৬৬টি বর্জ্য উৎসমুখ থাকার তথ্য সঠিক নয়। ঢাকার চারপাশে নদী দূষণের প্রায় ৫৫ শতাংশই শিল্প খাত থেকে আসে।’ ভবিষ্যতে ওয়াসার কোনো অপরিশোধিত বর্জ্য সরাসরি নদী বা জলাশয়ে যাবে না বলে জানান এমডি আমিনুল ইসলাম। এ বিষয়ে তিনি জানান, দেশীয় বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি দুটি ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা হচ্ছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন হলে ওয়াসার কোনো অপরিশোধিত বর্জ্যই আর সরাসরি নদী বা জলাশয়ে যাবে না। এদিকে শিল্প-কারখানার পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর ড্রেনেজ ব্যবস্থাও নদী দূষণে ভূমিকা রাখছে। রূপগঞ্জ পৌরসভার ১১টি, তারাবো পৌরসভার পাঁচটি, বালিগাঁও পৌরসভার দুটি এবং কাঞ্চন ও ঘোড়াশাল পৌরসভার একটি করে আউটলেট শীতলক্ষ্যা নদীতে বর্জ্য ফেলছে। এছাড়া কুতুবপুর, কালিন্দী, শাক্তা, কাউন্দিয়া, জিঞ্জিরা ও কাঁচপুর ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন ড্রেনেজ লাইন দিয়ে বুড়িগঙ্গা ও তুরাগে দূষিত পানি যাচ্ছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি আউটলেটও দূষণের উৎস হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীর নদী দূষণের অন্যতম কারণ অপরিকল্পিত পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা। আধুনিক স্যুয়ারেজ নেটওয়ার্কের অভাবে বিপুল পরিমাণ গৃহস্থালি ও মানববর্জ্য সরাসরি নদীতে গিয়ে পড়ছে। অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টির পানি ও পয়োবর্জ্যের জন্য পৃথক পাইপলাইন না থাকায় একই লাইনে সব ধরনের বর্জ্য নিষ্কাশন করা হচ্ছে। ফলে শিল্পবর্জ্যের সঙ্গে এসব বর্জ্য মিশে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ ও শীতলক্ষ্যার পানির গুণগত মান দ্রুত অবনতি ঘটছে। অন্যদিকে ঢাকাসহ সারা দেশে যেসব সংস্থা নদী দূষণ করছে, তাদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘ঢাকা শহরের প্রায় ৮০ শতাংশ পয়োবর্জ্য শেষ পর্যন্ত ওয়াসার স্যুয়ারেজ লাইনের মাধ্যমে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ ও শীতলক্ষ্যাসহ আশপাশের নদীতে গিয়ে পড়ে। দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগার নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও রাজধানীর অধিকাংশ স্যুয়ারেজ লাইন এখনো এর সঙ্গে সংযুক্ত হয়নি। ফলে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত পয়োবর্জ্য সরাসরি নদীতে মিশছে। নদী দূষণের জন্য দায়ী সরকারি সংস্থা ও বেসরকারি শিল্প-কারখানার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে, অবৈধ বর্জ্য সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হবে এবং দীর্ঘদিনের দূষণের জন্য “পলিউটার মাস্ট পে” নীতিতে পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ আদায় করতে হবে।’ এদিকে রাজধানীর চারপাশের নদী রক্ষায় সমন্বিত ও সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে গতকাল ‘বুড়িগঙ্গা নদীর পানি ও পরিবেশ উন্নয়ন’ বিষয়ক এক সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন বলে জানিয়েছেন তার উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন। তিনি জানান, নদী দূষণ রোধে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে একটি আন্তঃসংস্থা সমন্বয় কমিটি গঠন করা হবে। কমিটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর কার্যক্রম সমন্বয় করবে এবং নিয়মিত অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে। তিনি আরো জানান, বৈঠকে শিল্প-কারখানায় বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) কার্যকর রাখা, পয়োনিষ্কাশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, দূষণকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান এবং পরিবেশ আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। একই সঙ্গে পরিবেশ অধিদপ্তর, বিআইডব্লিউটিএ, ঢাকা ওয়াসা, সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে রাজধানীর নদীগুলোকে দূষণমুক্ত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।
রাজধানী ঢাকার বারিধারাস্থ পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারের সরকারি বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এসময় ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে হাইকমিশনার ও তার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়ে ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে অগ্নিকাণ্ডে বাসভবনের কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানা যায়নি। ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা আনোয়ার ইসলাম দোলন বলেন, ভোর ৪টা ৫৬ মিনিটে কূটনৈতিক এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে বারিধারা ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দেখতে পান, কক্ষে বড় ধরনের আগুন ছিল না, তবে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছিল। বালতি ও মগ দিয়ে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এরপর ফায়ার সার্ভিস পুরো ভবন তল্লাশি করে বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে ধোঁয়া বের করে দেয়। ফায়ার সার্ভিস ও পাকিস্তান হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডে হাইকমিশনার ও তার পরিবারের সদস্যরা মোটামুটি সুস্থ ছিলেন। তবে অগ্নিকাণ্ডের পরপরই ধোঁয়ার সংস্পর্শে আসায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাদের চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং পরবর্তী চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। পাকিস্তান হাইকমিশনের এক কর্মকর্তা বলেন, ফজরের নামাজের সময় বাসভবনে শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনে সৃষ্ট ধোঁয়ায় আক্রান্ত হওয়ায় হাইকমিশনার ও তার স্ত্রীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। দুজনই বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছেন এবং তাদের শারীরিক অবস্থা গুরুতর নয়।
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় তিতাস গ্যাসের হাই-প্রেসার সঞ্চালন লাইনে অবৈধভাবে সংযোগ দিয়ে একটি চুনাপাথর কারখানায় গ্যাস নেওয়ার অভিযোগে দুই জমির মালিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আরও একজনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। বুধবার (৬ আগস্ট) প্রকাশিত তিতাস গ্যাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৪ ইঞ্চি ব্যাসের ১ হাজার পিএসআইজি চাপসম্পন্ন হাই-প্রেসার লাইনে অবৈধ সংযোগ দেওয়া হয়েছিল। অতিরিক্ত চাপের কারণে সংযোগস্থলে গ্যাস লিকেজ সৃষ্টি হয়, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করে এবং এলাকায় আতঙ্ক ছড়ায়। একই সঙ্গে এতে রাষ্ট্রের গ্যাস অপচয় হচ্ছিল। এ ঘটনায় গত ৩ আগস্ট কটিয়াদী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লাবনী আক্তার তারানার নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। অভিযানে জোবিঅ-কিশোরগঞ্জ, তিতাস গ্যাসের আঞ্চলিক অপারেশন বিভাগ, প্রশাসন ও লিগ্যাল বিভাগের কর্মকর্তারা অংশ নেন। ঘটনাস্থল থেকে অবৈধ সংযোগে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়। পরে ৪ আগস্ট বাংলাদেশ গ্যাস আইন, ২০১০ অনুযায়ী কটিয়াদী থানায় মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় গ্রেফতার হওয়া দুই ব্যক্তি হলেন— সুলতান উদ্দিন আকন্দ সুমন মিয়া তারা চুনাপাথর কারখানার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জমির মালিক বলে জানিয়েছে পুলিশ। মামলার অপর আসামি, চুনাপাথর কারখানার মালিককে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তিতাস গ্যাস আরও জানায়, গত ৫ আগস্ট লিকেজ মেরামত করা হয়েছে এবং বর্তমানে গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।