আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মতো আচরণ করছে: ইরান

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৯, ২০২৬
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি। ছবি : সংগৃহীত
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি। ছবি : সংগৃহীত

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি বলেছেন, যে দেশ একসময় নিজেকে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রধান প্রবক্তা হিসেবে তুলে ধরেছিল, তাদের সর্বশেষ অর্জন এখন বেসামরিক সেতু ও অবকাঠামো ধ্বংসের দৃশ্য প্রকাশ করা। যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মতো আচরণ করছে। খবর ইরনার।

 

রোববার (১৯ জুলাই) সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বাঘায়ি দাবি করেন, গত ১৬ জুলাই চাবাহার বন্দরের নৌ-নিরাপত্তা ও নৌচলাচল তদারকির একটি বেসামরিক স্থাপনায় ইচ্ছাকৃতভাবে হামলা চালিয়ে ধ্বংস করে যুক্তরাষ্ট্র।

 

তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী গর্বের সঙ্গে ওই টাওয়ার ধ্বংসের ভিডিও প্রকাশ করেছেন। সুযোগ পেলে মিনাবের একটি স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং লামের্দে বেসামরিক মানুষ হত্যার দৃশ্যও একইভাবে প্রচার করা হতো।

 

বাঘায়ি আরও বলেন, সর্বশেষ হামলায় যুক্তরাষ্ট্র জাস্কের বুনজি গ্রামের বিদ্যুৎ স্থাপনা ও সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণ পাম্প লক্ষ্যবস্তু করেছে। এতে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিরাপদ পানির সরবরাহ থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

 

তার মতে, যে রাষ্ট্র একসময় আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা, উদার মূল্যবোধ ও সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ের নেতৃত্বের দাবি করত, তাদের এখনকার গর্বের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের ছবি প্রকাশ করা।

 

বাঘায়ি বলেন, প্রতিটি সেতু, টাওয়ার ও বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংসের সঙ্গে শুধু কংক্রিট বা ইস্পাতই ভেঙে পড়ছে না; বিশ্বের সামনে ভেঙে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের নৈতিক অবস্থান, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি তাদের অঙ্গীকার এবং পশ্চিমা বিশ্বের সভ্যতার দাবিও।

 

তিনি প্রশ্ন তোলেন, চাবাহার, মিনাব, লামের্দ ও জাস্কে যুক্তরাষ্ট্র যে হামলা চালিয়েছে, তার সঙ্গে সেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রকৃত পার্থক্য কোথায়, যেগুলোকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র অতীতে বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ ও সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
অবৈধ অভিবাসী ঠেকাতে মালয়েশিয়ায় ৬ দফা দাবি

মালয়েশিয়ার তেরেংগানু রাজ্যের কেমামানকে অবৈধ অভিবাসী (পিএটিআই) মুক্ত করতে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার, আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ এবং অবৈধ অভিবাসী নিয়োগকারী নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। এ দাবিতে রোববার কেমামানে সমাবেশ করেছে দেশটির রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা।   ‘কেমামান বেবাস পিএটিআই’ (কেমামান অবৈধ অভিবাসীমুক্ত) শীর্ষক এ শান্তিপূর্ণ সমাবেশে দেওয়ান পেমুদা পাস কাওয়াসান কেমামান, পেমুদা ইউএমএনও কেমামান এবং এনজিও কিতা কেমামানের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা অংশ নেন।   সমাবেশ-পরবর্তী এক বিবৃতিতে আয়োজকরা বলেন, তাদের কর্মসূচি ছিল সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। কোনো ধরনের সহিংসতা বা কোনো জাতিগোষ্ঠীকে অপমান করার উদ্দেশ্যে তারা সমাবেশ করেননি। জনগণের দাবি সরকারের কাছে তুলে ধরতেই এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।   বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা মানুষকে সম্মান করি, একই সঙ্গে আইনকেও সম্মান করি। আমরা মানবিকতাকে সমুন্নত রাখি, পাশাপাশি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ় থাকি।’   মালয়েশিয়া যেন তার সামর্থ্য অনুযায়ী মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখে, তবে এর কারণে দেশটির নাগরিকরা যেন নিজেদের দেশেই পিছিয়ে না পড়েন—এমন আহ্বানও জানানো হয়।   সমাবেশ থেকে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, দেশের সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ জোরদার, আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ, অবৈধ অভিবাসী-সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযান, আইন লঙ্ঘনকারী নিয়োগকর্তাদের গ্রেফতার, শরণার্থী ব্যবস্থাপনায় সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন এবং জনগণের নিরাপত্তা ও কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া।   আয়োজকরা বলেন, অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে শুধু বিদেশিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই হবে না; যারা অবৈধভাবে বিদেশি কর্মী নিয়োগ ও আশ্রয় দিয়ে আইন লঙ্ঘন করছে, সেই নিয়োগকর্তা ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।   তারা আরও বলেন, সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত এবং দেশের প্রচলিত আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। একই সঙ্গে শরণার্থী ও অভিবাসীদের বিষয়ে সরকারের সুস্পষ্ট ও কার্যকর নীতি থাকা প্রয়োজন।   বিবৃতিতে মালয়েশিয়াকে শান্তিপূর্ণ, সার্বভৌম ও মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। পাশাপাশি দেশের নাগরিকদের স্বার্থ, নিরাপত্তা ও কল্যাণ সুরক্ষায় সরকারকে আরও কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।   আয়োজকরা বলেন, জনগণের নিরাপত্তা, দেশের সার্বভৌমত্ব এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করার দাবিতে তাদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান অব্যাহত থাকবে। সমাবেশের শেষে ‘জনগণের জয় হোক, মালয়েশিয়ার জয় হোক’ এবং ‘মালয়েশিয়া একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র’ এমন স্লোগান দেওয়া হয়।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

জিম্বাবুয়েতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৭

সংগৃহীত ছবি

গাছে বেঁধে গায়ে আগুন, সেই ভারতীয় ইনফ্লুয়েন্সারের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের ভাষণ নিয়ে বাজি, সাবেক হোয়াইট হাউস কর্মীকে জরিমানা

সংগৃহীত ছবি
নেপালে বন্যা-ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৭৫, ডিএনএ সংরক্ষণের নির্দেশ

ভয়াবহ বন্যায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া নেপালে এবার নিখোঁজ ও মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে এক নজিরবিহীন ও মানবিক পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে দেশটির সরকার। ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলো থেকে এ পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া ৬৭৫টি মরদেহের মধ্যে যেসব লাশের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না, সেগুলোর দাফন বা শেষকৃত্যের আগে ডিএনএ নমুনা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   উদ্ধার হওয়া লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর বা সরকারি ব্যবস্থাপনায় ব্যবস্থাপনার প্রক্রিয়া চলাকালেই এই বৈজ্ঞানিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।   শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানান, যেসব মরদেহের পরিচয় তাদের পরিবার ও স্বজনেরা শনাক্ত করতে পেরেছেন, সেগুলো ইতিমধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। তবে যেসব লাশ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি, কেবল সেগুলোর ক্ষেত্রে সরকার নিজ দায়িত্বে ব্যবস্থাপনার কাজ হাতে নেবে। এ ক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে শনাক্তকরণের সুবিধার জন্য প্রতিটি মরদেহের ডিএনএসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য সকল জৈবিক প্রমাণ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সংরক্ষণ করা হবে। সরকারের এই মরদেহ ব্যবস্থাপনা নিয়ে যাতে কোনো প্রকার ভুল বোঝাবুঝি বা বিভ্রান্তি না ছড়ায়, সে বিষয়ে সাধারণ জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।   সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নেপালের ৮টি প্রধান ক্ষতিগ্রস্ত জেলা—রাসুয়া, ধাদিং, নুয়াকোট, চিতওয়ান, তানাহুন, গোর্খা, নাওয়ালপারাসি পূর্ব এবং নাওয়ালপারাসি পশ্চিমের বিভিন্ন দুর্গম স্থান থেকে এ পর্যন্ত মোট ৬৭৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত এই মরদেহগুলো পচন থেকে রক্ষা করতে বিশেষ এয়ারটাইট (বায়ুরোধক) ব্যাগে রাখা হচ্ছে। গোটা প্রক্রিয়াটি নেপালের ‘শনাক্তহীন ও দাবিহীন মরদেহ ব্যবস্থাপনা (প্রথম সংশোধন) নির্দেশিকা, ২০২৬’-এর অধীনে পরিচালনা করা হচ্ছে।   প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, গত ২৬ আগস্ট রাসুয়া জেলার ভোটেকোশি নদীতে হঠাৎ ধেয়ে আসা প্রলয়ংকারী বন্যার ফলে ভয়াবহ বিপর্যয় সৃষ্টি হয়। এই প্লাবন রাসুয়া, নুয়াকোট এবং ধাদিং জেলাসহ পুরো নদী অববাহিকায় চরম প্রাণহানি ঘটায় এবং ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে।   বিপর্যয়ের পরপরই নেপাল সরকার সমন্বিতভাবে অনুসন্ধান, উদ্ধার, আহতদের চিকিৎসা, ত্রাণ বণ্টন এবং বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া যোগাযোগব্যবস্থা পুনর্বহালের কাজ জোরদার করেছে। দেশটির ফেডারেল বা কেন্দ্রীয় সরকার, প্রাদেশিক সরকার এবং স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সরাসরি সমন্বয় রেখে সরকারি প্রতিটি সংস্থা তাদের পূর্ণ সক্ষমতা নিয়ে মাঠে কাজ করছে।    বিপন্ন নাগরিকদের জীবন রক্ষা করাকেই এই মুহূর্তে সরকারের সবচেয়ে বড় ও প্রথম অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ আশ্বাস দেন যে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া এবং পুনর্বাসন দৃশ্যমান না হওয়া পর্যন্ত সরকার ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি মানুষের পাশে থাকবে। সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইরান-ওমানের হরমুজ সমঝোতা, বাস্তবায়নে নির্ভরতা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর

ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ায় প্রতিদিন ১ হাজার ড্রোন হামলার লক্ষ্য জেলেনস্কির

ছবি: সংগৃহীত

নাসা-সিনেটসহ মার্কিন গুরুত্বপূর্ণ সংস্থায় চীনা হ্যাকারদের নজর

ছবি : সংগৃহীত
খাড়গের সভাস্থলে ‘শুদ্ধিকরণ’, ক্ষুব্ধ রাহুল

ভারতের উত্তরাখণ্ডের হলদোয়ানিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের সভাস্থলে তথাকথিত ‘শুদ্ধিকরণ’ অনুষ্ঠান আয়োজনের অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী।   তার অভিযোগ, ঘটনাটি শুধু খাড়গেকে অপমান করার বিষয় নয়; এর মাধ্যমে দেশের কোটি কোটি দলিত মানুষের প্রতি বৈষম্যমূলক মানসিকতারও বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।   শনিবার নয়াদিল্লির ইন্দিরা ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি তুলে ধরে বিজেপি ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) বিরুদ্ধে সরব হন রাহুল।    ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তপশিলি জাতি ও উপজাতির ওপর নির্যাতন প্রতিরোধ আইনে (এসসি-এসটি অ্যাক্ট) অবিলম্বে মামলা করার দাবিও জানান তিনি।   গত ৮ আগস্ট হলদোয়ানির রামলীলা ময়দানে কংগ্রেসের একটি বড় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান বক্তা ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে।    কংগ্রেসের অভিযোগ, সমাবেশ শেষ হওয়ার পর শ্রীরাম সেনার পক্ষ থেকে ওই মাঠে ‘শুদ্ধিকরণ’ অনুষ্ঠান করা হয়। উত্তরাখণ্ড প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গণেশ গোদিয়াল প্রথম এ অভিযোগ সামনে আনেন।   কংগ্রেসের দাবি, খাড়গে দলিত সম্প্রদায়ের হওয়ায় তার সভাস্থলেই এ ধরনের তথাকথিত শুদ্ধিকরণ করা হয়েছে। এ নিয়ে শুরু থেকেই রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। শনিবার সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধীর বক্তব্যে সেই বিতর্ক আরও জোরালো হয়।   রাহুল বলেন, ‘শুদ্ধিকরণ আসলে অস্পৃশ্যতারই অন্য নাম।’ ভারতের সংবিধানে অস্পৃশ্যতা নিষিদ্ধ হলেও বিজেপির লোকজন প্রকাশ্যে এমন আচরণ করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।   তিনি বলেন, মল্লিকার্জুন খাড়গের মতো একজন প্রবীণ ও শীর্ষস্থানীয় নেতার সঙ্গে যদি এমন আচরণ করা হয়, তাহলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন দলিত শিশুর সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করা হয়, তা সহজেই অনুমান করা যায়।   দেশের বিভিন্ন স্থানে দলিত শিশুদের সঙ্গে বৈষম্যের অভিযোগও তুলে ধরেন রাহুল। তার দাবি, কোথাও দলিত শিশুদের দিয়ে শৌচাগার পরিষ্কার করানো হয়, কোথাও তাদের ঝাড়ু দিতে বাধ্য করা হয়। আবার কোনো কোনো চায়ের দোকানে তাদের জন্য আলাদা প্লাস্টিকের কাপ ব্যবহারের ঘটনাও ঘটে।   রাহুলের ভাষায়, বর্তমানে ভারতে দুটি চিন্তাধারার মধ্যে লড়াই চলছে। একদিকে রয়েছেন ড. ভীমরাও আম্বেদকর, মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু ও সর্দার প্যাটেল এবং তাঁদের প্রতিষ্ঠিত সংবিধানের আদর্শ। অন্যদিকে রয়েছে বিজেপি ও আরএসএসের বিভাজনের রাজনীতি।   ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উত্তরাখণ্ড সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানান রাহুল। পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে কংগ্রেস চুপ করে থাকবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। প্রয়োজনে দল ‘উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া’ জানাবে বলে উল্লেখ করেন কংগ্রেস নেতা।   ঘটনায় উত্তরাখণ্ড বিজেপির রাজ্য সভাপতির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাহুল। তার বক্তব্য, এ ধরনের ঘটনায় নীরবতা বা নিষ্ক্রিয়তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।   এর আগে চলতি মাসের শুরুতে রাজ্যসভায় বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন মল্লিকার্জুন খাড়গে। সে সময় বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও রাজ্যসভার নেতা জে পি নাড্ডা জানিয়েছিলেন, বিজেপি এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে না। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।   তবে কংগ্রেসের অভিযোগ, এরপরও এ ঘটনায় দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ কারণেই ফের প্রকাশ্যে বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন রাহুল গান্ধী।   হলদোয়ানির ঘটনাকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস এখন শুধু রাজনৈতিক অভিযোগই নয়, দলিত অধিকার ও সংবিধানের মর্যাদার প্রশ্নও সামনে আনতে চাইছে বলে দলটির নেতাদের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৯, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যাবে: বিশ্লেষক

ছবি: সংগৃহীত

নেপালে ৬৬৯ লাশ উদ্ধার, নিখোঁজ ২৩৬২

ছবি: সংগৃহীত

নেপালে বিপর্যয়ের ৫ মাস আগেই মিলেছিল দুর্যোগের পূর্বাভাস

0 Comments