আল্লাহ–তাআলা তাঁর প্রিয় বান্দাদের জন্য ইবাদত ও ক্ষমা প্রার্থনার অসংখ্য পথ খুলে রেখেছেন। বান্দাদের মধ্যে উৎসাহ, উদ্দীপনা ও প্রতিযোগিতার মনোভাব সৃষ্টির জন্য তিনি নির্দিষ্ট কিছু বিশেষ সময় ও সুযোগ দান করেছেন। এর মাধ্যমে বান্দারা অল্প সময়ে ও পরিশ্রমে অধিক সওয়াব অর্জন করতে পারে।
রমজান মাস যেমন ইবাদতের মাস, লাইলাতুল কদর যেমন হাজার মাসের চেয়ে উত্তম রাত; তেমনি দিনের মধ্যে কিছু দিনকে আল্লাহ শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা দিয়েছেন। রমজান ব্যতীত বছরের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ দিনগুলোর অন্যতম হলো জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন।
যদিও এই দিনগুলো অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ, তবুও রমজানের মতো এতে শয়তান শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকে না। ফলে এই সময়ে ইবাদতের প্রতিযোগিতা তুলনামূলক কঠিন হয়। কিন্তু যে ব্যক্তি আন্তরিকভাবে ইবাদতে অগ্রসর হবে, সেই সফল হতে পারবে।
কোরআনে জিলহজের প্রথম ১০ দিনের গুরুত্ব
সম্মানিত জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের গুরুত্ব এত বেশি যে আল্লাহ নিজে পবিত্র কোরআনে এই দিনগুলোর শপথ করেছেন। তিনি বলেন—‘ওয়াল ফজর, ওয়াল লায়ালিন আশর।’ অর্থ: ‘কসম ফজরের, এবং কসম ১০ রাতের।’ (সুরা ফাজ্র, আয়াত: ১-২)
ইবনে কাসির (রহ.)-এর মতে, ‘১০ রাত’ বলতে জিলহজ মাসের প্রথম ১০ রাতকে বোঝানো হয়েছে।
হাদিসে জিলহজের প্রথম ১০ দিনের মর্যাদা
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘জিলহজের প্রথম ১০ দিনের আমল আল্লাহর কাছে অন্য যেকোনো দিনের আমলের চেয়ে অধিক প্রিয়।’ সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, ‘জিহাদও কি নয়?’ তিনি বললেন, ‘জিহাদও নয়, তবে সেই ব্যক্তি ব্যতীত যে জান-মাল নিয়ে বের হলো এবং আর ফিরে আসেনি।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯৬৯)
তিনি আরও বলেছেন, ‘জিলহজের প্রথম ১০ দিনের ইবাদত আল্লাহর নিকট অন্য দিনের ইবাদতের তুলনায় বেশি প্রিয়। প্রত্যেক দিনের রোজা এক বছরের রোজার ন্যায় আর প্রত্যেক রাতের ইবাদত লাইলাতুল কদরের ইবাদতের ন্যায়।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৭৫৮)
প্রস্তুতি ও স্বাগত জানানো
ইবাদতের এই বিশেষ মৌসুমকে স্বাগত জানানোর জন্য আমাদের কিছু প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন:
১. আত্মশুদ্ধি: জিলহজ মাসকে স্বাগত জানানোর প্রথম প্রস্তুতি হলো আত্মশুদ্ধি। ইবনুল কাইয়ুম (রহ.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিজেকে ভালোভাবে চিনতে পেরেছে, সে অন্যের দোষ না খুঁজে নিজের সংশোধনে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।’
তাই নফসকে নিয়ন্ত্রণ করে সমস্ত কবিরা ও সগিরা পাপ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা জরুরি। মনে রাখতে হবে, বড় নেক আমল করতে না পারলেও অন্তত পাপ থেকে যেন বেঁচে থাকি।
২. সময় সচেতনতা: সময় আল্লাহর দেওয়া বড় নেয়ামত। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘দুটি নেয়ামত রয়েছে, যার ব্যাপারে অধিকাংশ মানুষ ধোকায় আছে: সুস্থতা ও অবসর।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৪২২)
অপ্রয়োজনীয় অনলাইন ব্যবহার বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় নষ্ট করা ইবাদতের পথে বড় বাধা হতে পারে। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলতেন, ‘আমি ওই দিনের চেয়ে অন্য কোনো বস্তুর ওপর অধিক অনুতপ্ত হই না, যে দিনটি আমার জীবন থেকে হ্রাস পেল অথচ তাতে কোনো নেক আমল হলো না।’
৩. তওবা: তওবা মানে হলো ফিরে আসা। ভুল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত হয়ে পাপ আর না করার সংকল্প করাই হলো তওবা। জিলহজের প্রথম ১০ দিন তওবা কবুলের বিশেষ সময়। আন্তরিক তওবার তিনটি শর্ত রয়েছে:
ময়লাযুক্ত গ্লাসে পরিষ্কার পানি রাখলে যেমন তা খাওয়ার অযোগ্য হয়ে যায়, তেমনি তওবা ছাড়া পাপযুক্ত অন্তরে নেক আমল কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা ভাববার বিষয়। আল্লাহ বলেন, ‘যে তওবা করে, ইমান আনে এবং সৎকর্ম করে, আশা করা যায় সে সফল হবে।’ (সুরা কাসাস, আয়াত: ৬৭)
শেষ কথা
জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন অত্যন্ত বরকতময় সময়। এই দিনগুলোতে তওবা, আত্মশুদ্ধি ও নেক আমলের মাধ্যমে একজন মুমিন নিজের আখেরাতকে সুন্দর করতে পারেন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই বিশেষ দিনগুলো যথাযথভাবে কাজে লাগানোর তাওফিক দিন।
ইসমত আরা: শিক্ষক ও লেখক
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক ক্রান্তিলগ্নে নানামুখী চাপ আর গঞ্জনার মধ্যে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে তিন বছর তিন মাস কাটিয়ে মেয়াদপূর্তির আগেই বিদায় নিলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। নব্বই পরবর্তী বাংলাদেশে তিনি দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি, যাকে মেয়াদ পূর্তির আগেই ইস্তফা দিতে হল। এই সময়ে আর কোনো রাষ্ট্রপ্রধানকে এত বিচিত্র অভিজ্ঞতা আর এতটা কঠিন সময় পার করতে হয়নি। বঙ্গভবনবাসের এই ৩৯ মাসে সাহাবুদ্দিন দুটি জাতীয় নির্বাচন দেখেছেন। তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথ পড়িয়েছেন। নজিরবিহীন এক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে একজন সরকারপ্রধানের দেশত্যাগের সাক্ষী হয়েছেন। দূতাবাস থেকে রাষ্ট্রপতির ছবি নামিয়ে ফেলার পর তাকে ক্ষোভ পুষে রাখতে হয়েছে বুকের মধ্যে। সাংবিধানিক নিয়ম রক্ষার খাতিরে নিজের রাজনৈতিক আদর্শের বিপরীত বয়ান উচ্চারণ করতে হয়েছে জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে। দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যমকে বলতে হয়েছে, “আমার ভালো লাগে না।” কিন্তু ২০২৪-২৫ সালের ঝঞ্ঝামুখর ওই সময়ে পদত্যাগ করার বাস্তবতাও তার ছিল না। গত সাড়ে তিন দশকে আর কোনো রাষ্ট্রপ্রধানকে এতটা অসহায় পরিস্থিতিতে দেখেনি বাংলাদেশ। মো.সাহাবুদ্দিনের বিদায় বেলায় তার মূল্যায়ন করতে গিয়ে সংসদ বিষয়ক গবেষক অধ্যাপক নিজামউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির খুব বেশি ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ নেই। তবে চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সময় ‘ইতিবাচক ভূমিকা’ রাখতে পেরেছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন, তা না হলে জটিলতা আরো বাড়তে পারত। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মাহবুবুর রহমান বলছেন, রাষ্ট্রপতির মত মর্যাদাপূর্ণ পদে যাওয়ার জন্য যে ব্যক্তিত্ব, সততা, নিষ্ঠা থাকা দরকার, তার কতটুকু সাহাবুদ্দিনের মধ্যে ছিল, তা এখনও ‘প্রশ্নবিদ্ধ’। ‘আমিই তো ঝড় ওঠাচ্ছি’ টানা দুই বারের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ২০২৩ সালে অবসরে যাওয়ার সময় তার উত্তরসূরি হিসেবে আওয়ামী লীগ যখন মো. সাহাবুদ্দিনকে মনোনয়ন দিল, রাজনৈতিক অঙ্গনের অনেকের কাছেই সেটি ছিল বিস্ময়কর সিদ্ধান্ত। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বা সরকারের প্রভাবশালী কোনো মন্ত্রী নন, জাতীয় রাজনীতিরও প্রথম সারির পরিচিত মুখ নন, এমন একজনকে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তা খুব কম মানুষই অনুমান করেছিলেন। রাষ্ট্রপ্রধান হওয়ার জন্য সরকারপ্রধানের ডাক পেয়ে মো. সাহাবুদ্দিন নিজেও সম্ভবত বিস্মিত হয়েছিলেন। নির্বাচন কমিশনে গিয়ে নিজের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন, “সবই আল্লাহর ইচ্ছা।” তবে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকদের কাছে তার কয়েকটি পরিচয় ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পাবনায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর সামরিক শাসনের সময় রাজনৈতিক কারণে কারাবন্দিও হন। পরে আইন পেশায় যোগ দেন। বিচার বিভাগে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেন। জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে অবসর নেওয়ার পর দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার ছিলেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগ তার রাজনৈতিক অতীত, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের অবস্থান এবং প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাকে সামনে আনে। সংসদে আওয়ামী লীগের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে অন্য কোনো প্রার্থী না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন মো. সাহাবুদ্দিন। ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন তিনি। দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজ জেলা পাবনায় নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেওয়া একটি তাৎক্ষণিক মন্তব্যের কারণে মো. সাহাবুদ্দিন ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসেন। ২০২৩ সালের ১৬ মে পাবনায় গিয়ে এক নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেন সাহাবুদ্দিন। অনুষ্ঠান শেষে তিনি যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন হঠাৎ শুরু হয় কালবৈশাখী। পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব সেদিকে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এ সময় বক্তব্য দিতে দিতেই রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলে ওঠেন, “কিসের ঝড়, ঝড় উঠুক, আমিই তো এখানে ঝড় ওঠাচ্ছি।” রাষ্ট্রপতির মুখে এমন মন্তব্যে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে হাসির সৃষ্টি হয়। তখনো কেউ কল্পনা করেননি, কেমন ঝড়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে। রাষ্ট্রপতি হিসেবে বঙ্গভবনে মো. সাহাবুদ্দিনের প্রথম বছর ছিল গতানুগতিক, দেশের পরিবেশ ছিল শান্ত। ওই বছরের শেষ দিকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে। বিরোধী দলগুলোর নির্বাচন বর্জন, আন্দোলন, সহিংসতা এবং আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা মূলত সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ তার দায়িত্ব পালনের বাস্তবতাই বদলে দেয়। পরবর্তী দুই বছরে তিনি এমন সব ঘটনার মুখোমুখি হন, যার নজির বাংলাদেশে খুব কমই আছে। দুই নির্বাচন, তিন সরকারপ্রধানের শপথ, এক অভ্যুত্থান ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন মো. সাহাবুদ্দিনের মেয়াদকালের প্রথম বড় রাজনৈতিক ঘটনা। বিরোধী দলগুলোর বর্জনের মধ্যে ওই নির্বাচনে জিতে আওয়ামী লীগ টানা চতুর্থবার সরকার গঠন করে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে শপথ নেন। কিন্তু কয়েক মাসের ব্যবধানে দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা আমূল বদলে যায়। জুলাই-অগাস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন, সহিংসতা, প্রাণহানি এবং শেষ পর্যন্ত ৫ অগাস্ট শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি—স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব অধ্যায়ের সাক্ষী হন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হেলিকপ্টারে চড়ে ভারতে চলে গেলে তার বাসভবন, তার কার্যালয় এমনকি জাতীয় সংসদেরও দখল নেয় জনতা। বিশৃঙ্খলা আর সহিংসতার মধ্যে শেখ হাসিনা সরকারের বেশিরভাগ মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের বেশিরভাগ জ্যেষ্ঠ নেতা আত্মগোপনে চলে যান। হাসিনা আমলের কোনো কিছু অবশিষ্ট না থাকলেও অনিবার্য পরিণতির মত বঙ্গভবনে থেকে যান মো. সাহাবুদ্দিন। সেই সংকটময় সময়ে বঙ্গভবনের ওপর গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব বর্তায়। সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর রাষ্ট্রপতিকে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের উদ্যোগ নিতে হয়। তাকেই সংসদ বিলুপ্ত করার আদেশ দিতে হয়। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত চাওয়ার পর তার ভিত্তিতে ২০২৪ সালের ৮ অগাস্ট মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি। সেই অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক অবস্থান অপরিবর্তিত থাকলেও রাজনৈতিক বাস্তবতা পুরোপুরি বদলে যায়। যে রাষ্ট্রপতি আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নির্বাচিত হয়েছিলেন, তাকেই নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোকে অধ্যাদেশে পরিণত করতে তাকেই সই দেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা সারতে হয়। কিন্তু আওয়ামী লীগের রেখে যাওয়া রাষ্ট্রপতি কেন অভ্যুত্থানের পর বঙ্গভবনে থেকে যাবেন, সেই প্রশ্ন তোলেন কেউ কেউ। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও আন্দোলনের নেতারা প্রকাশ্যে তার পদত্যাগ বা অপসারণের দাবি জানান। ২০২৪ সালের অক্টোবরে একটি সাক্ষাৎকারে মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, তিনি শুনেছেন শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেন, কিন্তু তার কাছে সেই পদত্যাগের কোনো দালিলিক প্রমাণ বা নথি নেই। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি পরে সুপ্রিম কোর্টের মতামত নিয়েছিলেন এবং সেই মতামতের ভিত্তিতেই পরবর্তী সাংবিধানিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ওই বক্তব্য প্রকাশের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের সমালোচনা করেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটিসহ বিভিন্ন সংগঠন তার পদত্যাগ দাবি করে। বঙ্গভবনের সামনে বিক্ষোভও হয়। তখন বিএনপি সাংবিধানিক সংকট তৈরির আশঙ্কা তুলে রাষ্ট্রপতিকে সরানোর বিরোধিতা করেছিল। শেষ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার আর সে পথে যায়নি। তবে সব মিলিয়ে দুর্বিষহ পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটছিল রাষ্ট্রপ্রধানের চেয়ারে থাকা সাহাবুদ্দিনের। নির্বাচনের আগে ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের পর সরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন, “আমি বিদায় নিতে আগ্রহী। আমি এখান থেকে চলে যেতে চাই।” সেদিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের পক্ষ থেকে সরাসরি যোগাযোগ করে কখন পদত্যাগ করতে চান জানতে চাইলে রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন, “নতুন সরকার আসলে… নতুন সরকার বললে, অনুরোধ করলে।” কেন পদত্যাগের কথা ভাবছেন, সেই প্রশ্নে তার উত্তর ছিল, “আমার ভালো লাগে না।” অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তাকে কোণঠাসা করে রাখা, বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলো থেকে তার ছবি সরিয়ে ফেলা এবং বঙ্গভবনের প্রেস উইং সংকুচিত করায় ‘অপমানবোধ’ করার কথাও পরে বলেছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করলেও রাষ্ট্রপতি তখন পদত্যাগ করেননি। ১৭ ফেব্রুয়ারি তার কাছেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং নতুন সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা শপথ নেন। এর পরের পরিস্থিতি মো. সাহাবুদ্দিনের জন্য অনেকটা সহনীয় হয়ে আসে। বিস্ফোরক সাক্ষাৎকার নির্বাচনের পর ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে কালের কণ্ঠকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মো. সাহাবুদ্দিন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে নানা ‘চক্রান্ত’ হয় দাবি করে তিনি বলেন, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ‘চিরতরে ধ্বংস করার এবং সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি করার অনেক পাঁয়তারা’ হয় সে সময়। “আমি দৃঢ়চিত্তে আমার সিদ্ধান্তে অবিচল ছিলাম। যে কারণে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হয়নি। বিশেষ করে অসাংবিধানিক উপায়ে রাষ্ট্রপতিকে উপড়ে ফেলার অসংখ্য ছক ব্যর্থ হয়েছে,” বলেছিলেন সাহাবুদ্দিন। তার সেই দুঃসময়ে বিএনপির কাছ থেকে ‘শতভাগ সমর্থন’ পাওয়ার কথাও বলেছিলেন তখনকার রাষ্ট্রপ্রধান। তিনি বলেছিলেন, “আমি নির্দ্বিধায় বলতে পারি, ওই কঠিন সময়েও বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব আমার পাশে ছিলেন। তারা তখনো সংবিধানের ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখার বিষয়টি আমার কাছে স্পষ্ট ভাষায় ব্যক্ত করেছেন। “বিশেষ করে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ঘিরে আমার মনের মধ্যে অনেক কৌতূহল জমা ছিল। কিন্তু আমি পর্যায়ক্রমে বুঝতে পারলাম, তিনি খুবই আন্তরিকতাপূর্ণ মানুষ। হি ওয়াজ সো কর্ডিয়াল! আমার দুঃসময়ে বিএনপির সহযোগিতা শতভাগ ছিল। ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে গত ১২ মার্চ রাষ্ট্রপতির ভাষণ শুরুর পর জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ বিরোধী দলের সদস্যরা ওয়াকআউট করেন। রাষ্ট্রপতির ভূমিকা, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় তার অবস্থান এবং শেখ হাসিনার পদত্যাগ নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের প্রতিবাদে তারা এ কর্মসূচি নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। তখনও বিএনপির মন্ত্রী-এমপিরা সংবিধানের বিধানের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পক্ষে কথা বলেন। হঠাৎ পদত্যাগ স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য গত মে মাসে লন্ডনে ঘুরে আসেন রাষ্ট্রপতি। পরিবারের সদস্য, চিকিৎসক, স্টাফ নার্স ও বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও তার সঙ্গে ছিলেন। ১২ মে কেমব্রিজের রয়াল প্যাপওয়ার্থ হাসপাতালে রাষ্ট্রপতির এনজিওগ্রাম করা হয়। সে সময় হৃদযন্ত্রের একটি ধমনিতে গুরুতর ব্লক শনাক্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে এনজিওপ্লাস্টি করে একটি স্টেন্ট বসানো হয়। নয় দিন পর দেশে ফেরেন রাষ্ট্রপতি। তখন বঙ্গভবনের প্রেস বিভাগ ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের বরাতে তার শারীরিক অবস্থা ‘স্থিতিশীল ও সন্তোষজনক’ বলে জানিয়েছিল। গত দেড় মাসে রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে খুব বেশি আলোচনা দেশের রাজনীতির অঙ্গনে ছিল না। গত ২২ জুলাই প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের এক ফেইসবুক পোস্ট ঘিরে হঠাৎ করেই আবার রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের গুঞ্জন শুরু হয়। সায়ের ফেইসবুকে লেখেন, “আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। এর চাইতেও বিস্ময়কর খবর হলো নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির কোনো শীর্ষ নেতার পরিবর্তে পছন্দের তালিকায় রয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।” রাষ্ট্রপতির দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা এবং তার ঘনিষ্ঠ একজন বৃহস্পতিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। তবে স্পিকার দেশে না থাকায় পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি বিলম্বিত হচ্ছে। চিকিৎসার জন্য গত ১৯ জুলাই ব্যাংককে গিয়েছিলেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। আগামী ২৬ জুলাই তার ফেরার কথা ছিল। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সফর সংক্ষিপ্ত করে তাকে শুক্রবার দুপুরে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর বিকাল সোয়া ৪টার দিকে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলে নিজেই পদত্যাগের কথা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন মো. সাহাবুদ্দিন। পদত্যাগের বিষয়ে প্রশ্ন করলে রাষ্ট্রপতি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এটা তো সর্বজনবিদিত, আমার মুখ থেকে শুনে কী লাভ? আই অ্যাম সিক, সো ইট ইজ ডান।” পদত্যাগপত্রে তিনি দাবি করেন, চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর তার ‘সুদৃঢ় ও ইতিবাচক’ ভূমিকার কারণেই সাংবিধানিক বিপর্যয় এড়াতে পেরেছিল বাংলাদেশ। আর পদত্যাগের কারণ হিসেবে বলেন, তিনি নানা রোগে আক্রান্ত। ‘শারীরিক ও মানসিক অসমর্থ্যতার’ কারণে রাষ্ট্রপতির মত গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। ইতিহাস কীভাবে মনে রাখবে? রাজনীতিবিদ, বিশ্লেষক, বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. মুশতাক হোসেন মনে করেন, ইতিহাস একটি কারণেই রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে মনে রাখতে পারে। “বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাতো খুবই সীমিত, আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। তো উনি সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করেছেন, এটা মোটাদাগে বলা যায়।” সংসদ বিষয়ক গবেষক নিজামউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির খুব বেশি ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ না থাকলেও চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের সময় তার ভূমিকা রাখার বড় সুযোগ ছিল। “উনি সেই মুহূর্তে সুপ্রিম কোর্টের মতামত না চাইলে, রেফারেন্স না চাইলেতো এক ধরনের স্টেলমেট লেগে যেতে পারত সেখানে।” চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের এই সাবেক অধ্যাপকের মতে, ২০২৪ সালের অগাস্ট মাসের অস্থির ওই সময়টায় মো. সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা ইতিবাচকই ছিল। “আমি মনে করি জনমতের পক্ষে তার অবস্থানটা ছিল। যদিও আওয়ামী লীগের কারণে উনি ওখানে। উনি চাইলে হয়তো বেঁকেও বসতে পারতেন, এখানে বেঁকে বসার সুযোগ ছিল। তো সেখানে উনি জনমত, আন্দোলনকারীদের উপর প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই দেখা যাচ্ছিল যে, সংকট সমাধানের ক্ষেত্রে তার একটা ভূমিকা ছিল। আমি মনে করি, যেটা একটা পজিটিভ দিক রয়ে গেছে তার।” সংসদ ভেঙে দেওয়ার মত মৌলিক সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়া রাষ্ট্রপতির দেওয়ার সুযোগ না থাকলেও সাহাবুদ্দিনকে বাস্তবতার খাতিরে তা ‘করতে হয়েছে’ বলে মন্তব্য করেন নিজামউদ্দিন আহমদ। চব্বিশের ৫ অগাস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার কথা বললেও পরে মানবজমিন সম্পাদককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই পদত্যাগপত্র না পাওয়ার কথা বলেছিলেন সাহাবুদ্দিন; বিষয়টিকে তার ‘বিতর্কিত মতামত’ বলতে চান নিজামউদ্দিন। আবার মতাদর্শের দিক দিয়ে ভিন্ন মেরুর বাসিন্দা হলেও গত পাঁচ মাসে বিএনপি সরকারের কথা মতই চলেছেন সাহাবুদ্দিন। সে প্রসঙ্গ ধরে নিজামউদ্দিন বলেন, “পতিত সরকারের মনোনীত প্রেসিডেন্ট হয়েও এরা যা চেয়েছেন, যা করতে বলছেন, ঠিক সেভাবে উনি করে গেছেন। তবে আওয়ামী লীগ আমলে রাষ্ট্রপতি পদে সাহাবুদ্দিনকে রাষ্ট্রপতি করার বিষয়টি নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, “দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়িত্বসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাকে নিয়ে বিতর্ক ছিল। বাংলাদেশে অনেক যোগ্য লোক থাকার পরও আওয়ামী লীগ একজন বিতর্কিত লোককে নির্বাচিত করেছিল। আওয়ামী লীগের স্বৈরাচারী আচরণের কারণে এ ধরনের একজন লোককে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানুষ বাধা দিতে পারে নাই। ফলশ্রুতিতে রাষ্ট্রপতির মত একটা সম্মানজনক পদে এ ধরনের একজন ব্যক্তিকে গ্রহণ করে নিতে হয়েছিল। মাহবুবুর রহমান মনে করেন, চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার প্রশ্ন আসে। নতুন করে আরো সংকট যাতে না হয়, সেজন্য সাহাবুদ্দিনকে বাদ দেওয়ার চিন্তা থেকে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো সরে এসেছিল। তাতে তার পদ রক্ষা পায়। কিন্তু ওই সময়ে ১৫-২০ দিন যে মহাসংকট গিয়েছিল, ওই সময়ে উনার মহা ভূমিকা থাকতে পারত। উনার তো কোনো ভূমিকা নাই। ৫ অগাস্টের পরে শান্তি-শৃঙ্খলায় উনার কোনো ভূমিকা নাই। সেটা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো, সেনাবাহিনীর ভূমিকা ছিল।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তারের সময় অসদাচরণের অভিযোগে শাস্তির মুখে পড়তে যাচ্ছেন বাংলাদেশ পুলিশের তিন নারী অতিরিক্ত ডিআইজি। তাদের মধ্যে একজন কর্মরত আছেন ডিএমপিতে, একজন সিআইডিতে এবং আরেকজন নৌপুলিশে। আজ-কালের মধ্যেই তাদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে জানা গেছে। এছাড়া আওয়ামী লীগের প্রতি আনুগত্য, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে অনিয়মে সহযোগিতা, বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়ন এবং দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে আরও ১৭ জন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুমোদনের জন্য এরই মধ্যে প্রস্তাব পাঠিয়েছে। বাধ্যতামূলক অবসরের সেই প্রস্তাবের একটি কপি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে। সেখানে রয়েছেন তিনজন উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি), ১২ জন অতিরিক্ত ডিআইজি, একজন পুলিশ সুপার (এসপি) এবং একজন উপপুলিশ কমিশনার। নথিতে সবাইকে ফ্যাসিবাদের সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করে অভিযোগ করা হয়েছে, কয়েকজন কর্মকর্তা আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করে পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন পেয়েছেন। এছাড়া ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে অনিয়মে সহযোগিতা, বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার, হয়রানি, গুম এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তিন নারী পুলিশ কর্মকর্তার বিষয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে নেওয়ার সময় হেনস্তা করার অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে সিআইডিতে কর্মরত অতিরিক্ত ডিআইজি রেবেকা সুলতানা এবং নৌপুলিশে কর্মরত অতিরিক্ত ডিআইজি জেসমিন বেগম সম্পর্কে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘সাবেক তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী ম্যাডাম খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাসা থেকে টেনেহিঁচড়ে বাসা থেকে উচ্ছেদ করেন।’ জেসমিন সম্পর্কে নথিতে তাকে সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ এবং দুর্নীতিপরায়ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য সরকারি নম্বরে ফোন দিলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। রেবেকা সুলতানার বিষয়ে নথিতে বলা হয়েছে, তার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় গোপনীয় তথ্য পলাতক আওয়ামী লীগের নেতাদের কাছে যাচ্ছে। তিনি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি রেবেকা সুলতানা বলেন, ‘আপনারা ভিডিও ফুটেজ দেখলেই বুঝবেন, আমি ওনাকে (খালেদা জিয়া) গ্রেপ্তারের সময় ওখানে ছিলাম না। এখন পদোন্নতির সময় হয়েছে, তাই একটি চক্র এমন ভিত্তিহীন খবর ছড়াচ্ছে।’ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার হিসেবে কর্মরত ফরিদা ইয়াসমিন সম্পর্কে নথিতে বলা হয়েছে, ‘২০১৮ সালের অবৈধ মামলার রায় ঘোষণার পর তার নিজ দায়িত্বে সাবেক ৩ বারের সফল প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জোরপূর্বক গ্রেপ্তার করে গাড়িতে উঠিয়ে আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার সময় তিনি একই গাড়ির দ্বিতীয় সিটে অবস্থান করেন। এ বিষয়ে তৎকালীন ডিএমপির অফিসারদের কাছ থেকে বাহবা পান এবং সবাই তার প্রশংসা করেন।’ ফরিদা বর্তমানে ডিএমপিতে যুগ্ম কমিশনার (হেডকোয়ার্টার্স) হিসেবে কর্মরত আছেন। বক্তব্যের জন্য তার সরকারি নম্বরে কয়েকবার ফোন দিলেও তাকে পাওয়া যায়নি। বাধ্যতামূলক অবসরের তালিকায় থাকা অন্য কর্মকর্তারা হলেন—ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল্লাহীল বাকী, ওয়ালিদ হোসেন ও সানা শামীনুর রহমান। এছাড়া অতিরিক্ত ডিআইজি এ কে এম ইকবাল হোসেন, মোহাম্মদ তবারক উল্লাহ, মোহাম্মদ সারোয়ার হোসেন, বিধান ত্রিপুরা, সহেলী ফেরদৌস, ফয়সাল মাহমুদ, হাসিনা রহমান, কানিজ ফাতেমা ও সুলতানা নাজমা হোসেন এবং পুলিশ সুপার আবদুর রহিম শাহ চৌধুরী ও উপপুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমানও বাধ্যতামূলক অবসরের তালিকায় রয়েছেন। সূত্র: টিবিএস
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিতর্কিত ঘটনার বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি জানিয়েছে, ঘটনার সত্যতা ও প্রকৃত পরিস্থিতি যাচাই-বাছাই শেষে সাংগঠনিক বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। জামায়াতের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অতি সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রচারিত বিভিন্ন সংবাদের দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে দল। সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে গাজী নজরুল ইসলামের নিজের বিবৃতি, তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার ভিডিও বক্তব্য মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দল থেকে আরও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা এবং তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করার পর জামায়াতে ইসলামী তাদের সাংগঠনিক নিয়ম মেনে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।’ গতকাল সোমবার (২০ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সাবেক আমির ও বর্তমানে দলীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের এক নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি প্রকাশের শুরুতে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (ডিপফেক) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা একটি মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রীমূলক ফুটেজ। তবে তথ্য যাচাইকারী একাধিক প্রতিষ্ঠান ফুটেজটি পর্যালোচনা করে জানায়, ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি নয়, বরং এটি আসল। ফ্যাক্টচেকারদের প্রতিবেদনের পর ঘটনাটি নতুন দিকে মোড় নেয়। পরবর্তী সময়ে আজ দুপুরে এক সামাজিক মাধ্যম বার্তায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম তার অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তিনি দাবি করেন, ভিডিওতে থাকা নারী তার মোছা. মরিয়ম বেগম নামে ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’। চলতি বছরের ১৭ জুন প্রথম স্ত্রীর সম্মতিত তাদের বিয়ে হয়। বিবৃতিতে এমপি নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সম্প্রতি তিনি পরিবারসহ ঢাকার মগবাজারে অবস্থানকালে তার গাড়িচালক ও দ্বিতীয় স্ত্রীর এক আত্মীয় বহিরাগতদের নিয়ে এসে তাদের জিম্মি করে এবং অর্থ দাবি করে। চাঁদা না পেয়ে এবং পূর্বশত্রুতার জেরে ওই সিসিটিভি ফুটেজ অবৈধভাবে সংগ্রহ করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে সংসদ সদস্যের প্রথম ও কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী এবং শ্বশুরের বক্তব্যসংবলিত ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ পায়, যেখানে তারা বিষয়টিকে পারিবারিক ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেন।