আন্তর্জাতিক

জেট থেকে রাডার, যুদ্ধে শত শত কোটি ডলারের ক্ষতি আমেরিকার, তুলনায় সামান্য লোকসান ইসরায়েলের: ‘দুই মিত্রে’ এত বৈষম্য কেন?

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানে হওয়া শান্তিবৈঠক ডাহা ফেল! ফলে যে কোনও মুহূর্তে আবার মুখোমুখি সংঘাতে জড়াতে পারে ইরান ও আমেরিকা। প্রথম দফায় সংঘর্ষে অপূরণীয় ক্ষতি সত্ত্বেও ‘সুপার পাওয়ার’ যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা মার দিতে দ্বিধা করেনি তেহরান। সাবেক পারস্যের সেই প্রত্যাঘাতে বিপুল লোকসানের মুখে পড়েছে ওয়াশিংটন। অন্য দিকে সংশ্লিষ্ট লড়াইয়ে মার্কিন ফৌজের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ইজ়রায়েল কিন্তু অনেকটাই এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে ক্ষয়ক্ষতি। একযাত্রায় পৃথক ফল কী ভাবে? উঠছে প্রশ্ন।

 

‘দ্য ইউরেশিয়ান টাইম্স’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ইরান যুদ্ধে একগুচ্ছ লড়াকু জেট, বেশ কয়েকটা মাঝ-আকাশে জ্বালানি ভরার ট্যাঙ্কার-বিমান, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সক্ষম ড্রোন এবং কয়েক কোটি মূল্যের আকাশ প্রতিরক্ষা (এয়ার ডিফেন্স) সিস্টেমের রেডার হারিয়েছে মার্কিন ফৌজ। সেখানে ইহুদিদের ক্ষয়ক্ষতির তালিকায় আছে মাত্র ১৮টা ‘আত্মঘাতী’ পাইলটবিহীন যান। শুধু তা-ই নয়, এখনও পর্যন্ত ইজ়রায়েলের একটা জেটকেও গুলি করে নামাতে পারেনি তেহরান।

 

পশ্চিম এশিয়ার রণাঙ্গনে লোকসানের অঙ্ক অবশ্য সরকারি ভাবে ঘোষণা করেনি মার্কিন যুদ্ধ দফতরের (ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়ার) সদর কার্যালয় পেন্টাগন। তবে সেখানকার বেশ কিছু সূত্রকে উদ্ধৃত করে এই সংক্রান্ত বহু তথ্য গত দেড় মাসে প্রকাশ্যে এনেছে যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম। তাঁদের দাবি, সংশ্লিষ্ট লড়াইয়ে একটি পঞ্চম প্রজন্মের ‘স্টেলথ’ শ্রেণির এফ-৩৫ লাইটনিং টু এবং চতুর্থ প্রজন্মের অন্তত ৭-৮টি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল লড়াকু জেট ধ্বংস হয়েছে আমেরিকার।

 

সূত্রের খবর, এ ছাড়া ইরান যুদ্ধে ট্যাঙ্ক ও সাঁজোয়া গাড়ি ধ্বংসকারী একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট টু যুদ্ধবিমান এবং মাঝ-আকাশে জ্বালানি ভরার ছ’টি কেসি-১৩৫ ট্যাঙ্কার বিমান হারিয়েছে আমেরিকার বায়ুসেনা। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনকেও মাঝ-আকাশে ধ্বংস করে তেহরানের আধা সেনা ‘ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর’ বা আইআরজিসি। রহস্যজনক ভাবে হরমুজ় প্রণালীতে টহলদারির সময় গায়েব হয়ে গিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি এমকিউ-৪সি ট্রিটন নজরদারি ড্রোন।

 

মার্কিন ফৌজের বহরে থাকা বিভিন্ন পাইলটবিহীন যানের মধ্যে এমকিউ-৪সি ট্রিটন সবচেয়ে দামি। এর এক একটি ইউনিটের নির্মাণখরচ প্রায় ২০ কোটি ডলার। সূত্রের খবর, পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ় প্রণালীতে ঘণ্টা তিনেক নজরদারি চালানোর পর সংশ্লিষ্ট ড্রোনটি ইটালির সিগোনেলা নৌঘাঁটিতে ফিরছিল। কিন্তু তার আগেই রহস্যজনক ভাবে সেটি উধাও হয়ে যায়। তবে ড্রোনটি ভেঙে পড়েছে না কি গুলি করে সেটিকে নামানো হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।

 

ফ্লাইটরেডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন ড্রোনটি ইরানি বেলাভূমির দিকে সামান্য বাঁক নিয়েছিল। ঠিক তখনই জরুরি বার্তা যায় সেটি থেকে। সূত্রের খবর, সংশ্লিষ্ট ড্রোনটি সিগোনেলা ঘাঁটিতে ৭৭০০ কোড পাঠাচ্ছিল। এটি প্রকৃতপক্ষে জরুরি ভিত্তিতে অবতরণের সঙ্কেত। ওই কোড পাঠানোর কিছু ক্ষণের মধ্যেই পাইলটবিহীন যানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর। গোটা ঘটনার নেপথ্যে তেহরানের হাত থাকার আশঙ্কাই প্রবল, বলছেন বিশ্লেষকেরা।

 

এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে ইরানের আকাশে ধ্বংস হয় দু’টি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল মার্কিন লড়াকু জেট। যদিও শেষ মুহূর্তে ককপিট থেকে বেরিয়ে প্রাণ বাঁচান যোদ্ধা-পাইলটেরা। সাবেক পারস্যের ভিতরেই আত্মগোপন করে ছিলেন তাঁরা। কয়েক ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযান চালিয়ে শত্রুভূমি থেকে তাঁদের উদ্ধার করে যুক্তরাষ্ট্রের কমান্ডো বাহিনী। সেই অপারেশন চলাকালীন আইআরজিসির গুলিতে তিনটি সিকোরস্কি ইউএইচ-৬০ ব্ল্যাক হক সামরিক হেলিকপ্টার মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

 

এই সংঘর্ষের একেবারে গোড়ায় পশ্চিম এশিয়ার আরব দেশগুলিতে মোতায়েন আমেরিকার চারটি ‘টার্মিনাল হাই-অল্টিচ্যুড এরিয়া ডিফেন্স’ বা থাড আকাশ প্রতিরক্ষা (এয়ার ডিফেন্স) ব্যবস্থা এবং কয়েক কোটি ডলারের একটি এএন/এফপিএস-১৩২ ব্লক ৫ আপগ্রেডেড আর্লি ওয়ার্নিং রেডারকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উড়িয়ে দেয় আইআরজিসি। এর মধ্যে দ্বিতীয় অস্ত্রটিকে আবার কাতারের ঘাঁটিতে রেখেছিল মার্কিন ফৌজ।

 

এর পাশাপাশি একটি ই-৩ সেন্ট্রি অ্যাওয়াক্স উড়ন্ত রেডার ধ্বংস হয়েছে আমেরিকার। অন্য দিকে ইজ়রায়েল হারিয়েছে এলবিট হার্মিস ৪৫০/৯০০ এবং আইএআই হেরনের মতো ১৮টা ধীরগতির ড্রোন। এ ছাড়া ইহুদিভূমিতে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তিনটি অসামরিক বিমানকেও উড়িয়েছে আইআরজিসি। হামলার সময় সেগুলিতে অবশ্য কোনও যাত্রী ছিলেন না। ফলে কেউ নিহত বা আহত হননি।

 

বিশ্লেষকদের দাবি, ইরান যুদ্ধে ইজ়রায়েলের তুলনায় মার্কিন সামরিক সম্পদ বেশি ধ্বংস হওয়ার নেপথ্যে একাধিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, ইহুদি বিমানবাহিনী ইলেকট্রনিক লড়াইয়ে বেশি পটু। ফলে শত্রুর ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন অকেজো করে ফেলার মুনশিয়ানা আছে তাদের। অন্য দিকে যুক্তরাষ্ট্রের যোদ্ধা পাইলটদের বার বার তেহরানের পাতা ফাঁদে পা দিতে দেখা গিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, কিছু ক্ষেত্রে নিজেদের জেট নিজেরাই ধ্বংস করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

 

দ্বিতীয়ত, ইজ়রায়েল এবং আমেরিকার উপর প্রত্যাঘাতের জন্য মূলত রাশিয়া এবং চিনের থেকে গোয়েন্দা তথ্য পাচ্ছে তেহরান। মস্কো ও বেজিঙের ‘শত্রুতা’ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যতটা, ইহুদিদের ক্ষেত্রে ততটা নেই। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের সুযোগ নিয়ে ওয়াশিংটনের সামরিক সম্পদ ধ্বংস করাই তাদের মূল লক্ষ্য। আর তাই মার্কিন যুদ্ধবিমান, ড্রোন বা রেডার সংক্রান্ত খবরই বেশি করে আইআরজিসিকে দিয়ে চলেছে ক্রেমলিন ও ড্রাগন প্রশাসন, বলছেন বিশ্লেষকেরা।

 

তা ছাড়া ইজ়রায়েল এবং মার্কিন ফৌজের আক্রমণের ধরনেও আকাশ-পাতাল ফারাক রয়েছে। ইরান যুদ্ধের প্রথম দিনে (পড়ুন ২৮ ফেব্রুয়ারি) যৌথ ভাবে তেহরানের গুপ্তঘাঁটিতে হামলা চালায় তারা। তাতে প্রাণ হারান সাবেক পারস্যের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই। কিন্তু, পরবর্তী সময়ে সে ভাবে আর তাদের একসঙ্গে অভিযান করতে দেখা যায়নি। আলাদা আলাদা ভাবে অবশ্য আইআরজিসিকে নিশানা করে যাচ্ছে তেল আভিভ ও ওয়াশিংটন।

 

এ বছরের গোটা মার্চ এবং এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ জুড়ে পশ্চিম ও মধ্য ইরানের বিভিন্ন সামরিক ঠিকানায় হামলা চালিয়ে গিয়েছে ইহুদি বিমানবাহিনী। মূলত তেহরানের ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলি উড়িয়ে দেওয়াই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য। পাশাপাশি, তেহরানের অসামরিক শাসকগোষ্ঠীর গুপ্তঘাঁটি, খনিজ তেল উত্তোলন কেন্দ্র এবং পারমাণবিক পরিকাঠামো ধ্বংসে তেল আভিভকে মনোযোগী হতে দেখা গিয়েছে।

 

অন্য দিকে মার্কিন বিমান ও নৌবাহিনী সর্বাধিক আক্রমণ চালিয়েছে দক্ষিণ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলিতে। পাশাপাশি, তেহরানের নৌসেনাকেও নিশানা করতে দেখা গিয়েছে তাদের। সাবেক পারস্যের রণতরী ডোবাতে ডুবোজাহাজ ব্যবহার করতেও পিছপা হয়নি পেন্টাগন। এ ছাড়া পাহাড়ের ভূগর্ভস্থ আণবিক হাতিয়ারের গবেষণা ও নির্মাণকেন্দ্র উড়িয়ে দিতে দূরপাল্লার কৌশলগত ‘স্টেলথ’ বোমারু বিমান পর্যন্ত নামিয়েছে ওয়াশিংটন।

 

সাবেক সেনাকর্তাদের বড় অংশই মনে করেন, আইআরজিসির শক্তিকে গুরুত্ব না দিয়েই ইরান যুদ্ধে নেমে পড়ে আমেরিকা। এর বড়সড় খেসারত দিতে হচ্ছে তাদের। তেহরানে প্রথম আঘাতের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়ে দেন সাবেক পারস্যের যাবতীয় আকাশ প্রতিরক্ষা (এয়ার ডিফেন্স) ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। যদিও গোয়েন্দা সূত্রকে উদ্ধৃত করে এ ব্যাপারে বিস্ফোরক প্রতিবেদন প্রকাশ করে সিএনএন। সেখানে দাবি করা হয়, ইরানি সেনার ৫০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অক্ষত রয়েছে।

 

তা ছাড়া পশ্চিম এশিয়ার প্রায় প্রতিটা আরব দেশেই রয়েছে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রত্যাঘাত শানাতে সংশ্লিষ্ট ছাউনিগুলি যে আইআরজিসি বেছে নিতে পারে সেটা যুক্তরাষ্ট্রের কমান্ডারেরা কল্পনাও করতে পারেননি। যদিও বাস্তবে ঠিক সেটাই হয়েছিল। ফলে সেখানে মোতায়েন থাকা রেডার বা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে গোড়াতেই হারিয়ে বসে আমেরিকা।

 

সব শেষে অবশ্যই বলতে হবে ইরানের ‘হাইপারসনিক’ ক্ষেপণাস্ত্রের কথা। শব্দের পাঁচ গুণের চেয়ে গতিশীল এই ব্রহ্মাস্ত্র ঠেকানোর কোনও কৌশল যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর হাতে নেই। এর জেরে ‘চরম মূল্য’ দিতে হচ্ছে তাদের। তা ছাড়া মার্কিন ফৌজের কাছে যুদ্ধের কারণ স্পষ্ট নয়। কারণ, কখনও তেহরানের রাজনৈতিক নেতৃত্বের কুশাসন, কখনও আবার সেখানকার খনিজ তেল কব্জা করার কথা প্রকাশ্যে বলছেন ট্রাম্প।

 

ইহুদিদের মনে কিন্তু ইরান আক্রমণের কারণ নিয়ে কোনও রকমের ধোঁয়াশা নেই। ইজ়রায়েলকে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে ফেলতেই তেহরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে চাইছে বলে মনে করে তেল আভিভ। আর তাই সেখানে ক্ষমতাবদল না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন ইহুদি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
চীনা জাহাজে বিষাক্ত সায়ানাইড উদ্ধার, ফিলিপাইনে উত্তেজনা

দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত জলসীমায় চীনা জাহাজে বিষাক্ত সায়ানাইড পাওয়ার দাবি করেছে ফিলিপাইন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীল এ অঞ্চলে নতুন করে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।   ফিলিপাইন কর্তৃপক্ষ জানায়, সেকেন্ড থমাস শোল এলাকায় নৌ অভিযানের সময় জব্দ করা উপকরণ ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে সায়ানাইডের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে।   নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মতে, এটি শুধু পরিবেশগত নিয়ম লঙ্ঘন নয়, বরং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডও হতে পারে। সায়ানাইড ব্যবহারের ফলে সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। এতে মাছের মজুত ধ্বংস হয় এবং প্রবাল প্রাচীরের কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে।   ওই প্রবাল প্রাচীরের ওপর ফিলিপাইনের একটি নৌ জাহাজ অবস্থান করছে, যা ম্যানিলার আঞ্চলিক দাবির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। এই প্রাচীর ক্ষতিগ্রস্ত হলে ফিলিপাইনের কৌশলগত অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।   এ অভিযোগ এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ওই অঞ্চলে দুই দেশের মধ্যে একাধিকবার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে। ২০২৪ সালের এক ঘটনায় ফিলিপাইনের একজন নাবিক আহত হন। ফিলিপাইন অভিযোগ করে আসছে, চীন তাদের রসদ সরবরাহে বাধা দিচ্ছে। অন্যদিকে চীন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ফিলিপাইনকেই জলসীমা লঙ্ঘনের জন্য দায়ী করছে।   দক্ষিণ চীন সাগর বিশ্বের অন্যতম বিতর্কিত অঞ্চল। চীন প্রায় পুরো জলপথ নিজেদের বলে দাবি করে, যা দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার একাধিক দেশের দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ২০১৬ সালের আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের রায়েও চীনের এই দাবি প্রত্যাখ্যাত হলেও বেইজিং তা মানেনি। প্রতি বছর এই জলপথ দিয়ে ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি বিশ্ব বাণিজ্য পরিচালিত হয়।   বিশ্লেষকদের মতে, সায়ানাইডের এই ঘটনা সমুদ্র বিরোধে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন কেবল সামরিক উপস্থিতি নয়, পরিবেশ ও অবকাঠামোকেও কৌশলগতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।   সূত্র এএফপি

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0
গাজায় শরণার্থী শিবিরে ইসরাইলের হামলা। ছবি: সংগৃহীত

গাজায় শরণার্থী শিবিরে ইসরাইলি হামলা, শিশুসহ ৪ জন নিহত

যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়াই হরমুজ সচল করার পরিকল্পনা ইউরোপের। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়াই হরমুজ সচল রাখার পরিকল্পনা ইউরোপের

ইসরাইলি সামরিক ঘাঁটিতে হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলা। ছবি: সংগৃহীত

হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলায় কাঁপল ইসরাইলি সামরিক ঘাঁটি

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের আলোচনা নিয়ে যা বললেন জাতিসংঘের মহাসচিব

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার ‘প্রবল সম্ভাবনা’ রয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু হতে পারে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতির উন্নয়নে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে চলমান আলোচনাও ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ’।   মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদরদপ্তরে তিনি এসব কথা বলেন। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত প্রসঙ্গে আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘সারা বিশ্বে এবং বিশেষভাবে মধ্যপ্রাচ্যে আন্তর্জাতিক আইনকে পদদলিত করা হচ্ছে। শক্তি প্রয়োগের নিয়মগুলো উপেক্ষা করা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই। জোরালো সদিচ্ছা নিয়ে অবশ্যই আলোচনা পুনরায় শুরু করতে হবে। একইসঙ্গে যেকোনো যুদ্ধবিরতি অবশ্যই রক্ষা করতে হবে।’

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

ইরান বৈঠক নিয়ে আলোচনায় মার্কিন কর্মকর্তারা

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে আলোচনায় আবারও নেতৃত্ব দেবেন জেডি ভ্যান্স

ছবি: সংগৃহীত

গেম অব চিকেন: বিপজ্জনক মোড় নিচ্ছে ইরান যুদ্ধ?

ছবি: সংগৃহীত
জেট থেকে রাডার, যুদ্ধে শত শত কোটি ডলারের ক্ষতি আমেরিকার, তুলনায় সামান্য লোকসান ইসরায়েলের: ‘দুই মিত্রে’ এত বৈষম্য কেন?

পাকিস্তানে হওয়া শান্তিবৈঠক ডাহা ফেল! ফলে যে কোনও মুহূর্তে আবার মুখোমুখি সংঘাতে জড়াতে পারে ইরান ও আমেরিকা। প্রথম দফায় সংঘর্ষে অপূরণীয় ক্ষতি সত্ত্বেও ‘সুপার পাওয়ার’ যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা মার দিতে দ্বিধা করেনি তেহরান। সাবেক পারস্যের সেই প্রত্যাঘাতে বিপুল লোকসানের মুখে পড়েছে ওয়াশিংটন। অন্য দিকে সংশ্লিষ্ট লড়াইয়ে মার্কিন ফৌজের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ইজ়রায়েল কিন্তু অনেকটাই এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে ক্ষয়ক্ষতি। একযাত্রায় পৃথক ফল কী ভাবে? উঠছে প্রশ্ন।   ‘দ্য ইউরেশিয়ান টাইম্স’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ইরান যুদ্ধে একগুচ্ছ লড়াকু জেট, বেশ কয়েকটা মাঝ-আকাশে জ্বালানি ভরার ট্যাঙ্কার-বিমান, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সক্ষম ড্রোন এবং কয়েক কোটি মূল্যের আকাশ প্রতিরক্ষা (এয়ার ডিফেন্স) সিস্টেমের রেডার হারিয়েছে মার্কিন ফৌজ। সেখানে ইহুদিদের ক্ষয়ক্ষতির তালিকায় আছে মাত্র ১৮টা ‘আত্মঘাতী’ পাইলটবিহীন যান। শুধু তা-ই নয়, এখনও পর্যন্ত ইজ়রায়েলের একটা জেটকেও গুলি করে নামাতে পারেনি তেহরান।   পশ্চিম এশিয়ার রণাঙ্গনে লোকসানের অঙ্ক অবশ্য সরকারি ভাবে ঘোষণা করেনি মার্কিন যুদ্ধ দফতরের (ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়ার) সদর কার্যালয় পেন্টাগন। তবে সেখানকার বেশ কিছু সূত্রকে উদ্ধৃত করে এই সংক্রান্ত বহু তথ্য গত দেড় মাসে প্রকাশ্যে এনেছে যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম। তাঁদের দাবি, সংশ্লিষ্ট লড়াইয়ে একটি পঞ্চম প্রজন্মের ‘স্টেলথ’ শ্রেণির এফ-৩৫ লাইটনিং টু এবং চতুর্থ প্রজন্মের অন্তত ৭-৮টি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল লড়াকু জেট ধ্বংস হয়েছে আমেরিকার।   সূত্রের খবর, এ ছাড়া ইরান যুদ্ধে ট্যাঙ্ক ও সাঁজোয়া গাড়ি ধ্বংসকারী একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট টু যুদ্ধবিমান এবং মাঝ-আকাশে জ্বালানি ভরার ছ’টি কেসি-১৩৫ ট্যাঙ্কার বিমান হারিয়েছে আমেরিকার বায়ুসেনা। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনকেও মাঝ-আকাশে ধ্বংস করে তেহরানের আধা সেনা ‘ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর’ বা আইআরজিসি। রহস্যজনক ভাবে হরমুজ় প্রণালীতে টহলদারির সময় গায়েব হয়ে গিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি এমকিউ-৪সি ট্রিটন নজরদারি ড্রোন।   মার্কিন ফৌজের বহরে থাকা বিভিন্ন পাইলটবিহীন যানের মধ্যে এমকিউ-৪সি ট্রিটন সবচেয়ে দামি। এর এক একটি ইউনিটের নির্মাণখরচ প্রায় ২০ কোটি ডলার। সূত্রের খবর, পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ় প্রণালীতে ঘণ্টা তিনেক নজরদারি চালানোর পর সংশ্লিষ্ট ড্রোনটি ইটালির সিগোনেলা নৌঘাঁটিতে ফিরছিল। কিন্তু তার আগেই রহস্যজনক ভাবে সেটি উধাও হয়ে যায়। তবে ড্রোনটি ভেঙে পড়েছে না কি গুলি করে সেটিকে নামানো হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।   ফ্লাইটরেডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন ড্রোনটি ইরানি বেলাভূমির দিকে সামান্য বাঁক নিয়েছিল। ঠিক তখনই জরুরি বার্তা যায় সেটি থেকে। সূত্রের খবর, সংশ্লিষ্ট ড্রোনটি সিগোনেলা ঘাঁটিতে ৭৭০০ কোড পাঠাচ্ছিল। এটি প্রকৃতপক্ষে জরুরি ভিত্তিতে অবতরণের সঙ্কেত। ওই কোড পাঠানোর কিছু ক্ষণের মধ্যেই পাইলটবিহীন যানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর। গোটা ঘটনার নেপথ্যে তেহরানের হাত থাকার আশঙ্কাই প্রবল, বলছেন বিশ্লেষকেরা।   এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে ইরানের আকাশে ধ্বংস হয় দু’টি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল মার্কিন লড়াকু জেট। যদিও শেষ মুহূর্তে ককপিট থেকে বেরিয়ে প্রাণ বাঁচান যোদ্ধা-পাইলটেরা। সাবেক পারস্যের ভিতরেই আত্মগোপন করে ছিলেন তাঁরা। কয়েক ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযান চালিয়ে শত্রুভূমি থেকে তাঁদের উদ্ধার করে যুক্তরাষ্ট্রের কমান্ডো বাহিনী। সেই অপারেশন চলাকালীন আইআরজিসির গুলিতে তিনটি সিকোরস্কি ইউএইচ-৬০ ব্ল্যাক হক সামরিক হেলিকপ্টার মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।   এই সংঘর্ষের একেবারে গোড়ায় পশ্চিম এশিয়ার আরব দেশগুলিতে মোতায়েন আমেরিকার চারটি ‘টার্মিনাল হাই-অল্টিচ্যুড এরিয়া ডিফেন্স’ বা থাড আকাশ প্রতিরক্ষা (এয়ার ডিফেন্স) ব্যবস্থা এবং কয়েক কোটি ডলারের একটি এএন/এফপিএস-১৩২ ব্লক ৫ আপগ্রেডেড আর্লি ওয়ার্নিং রেডারকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উড়িয়ে দেয় আইআরজিসি। এর মধ্যে দ্বিতীয় অস্ত্রটিকে আবার কাতারের ঘাঁটিতে রেখেছিল মার্কিন ফৌজ।   এর পাশাপাশি একটি ই-৩ সেন্ট্রি অ্যাওয়াক্স উড়ন্ত রেডার ধ্বংস হয়েছে আমেরিকার। অন্য দিকে ইজ়রায়েল হারিয়েছে এলবিট হার্মিস ৪৫০/৯০০ এবং আইএআই হেরনের মতো ১৮টা ধীরগতির ড্রোন। এ ছাড়া ইহুদিভূমিতে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তিনটি অসামরিক বিমানকেও উড়িয়েছে আইআরজিসি। হামলার সময় সেগুলিতে অবশ্য কোনও যাত্রী ছিলেন না। ফলে কেউ নিহত বা আহত হননি।   বিশ্লেষকদের দাবি, ইরান যুদ্ধে ইজ়রায়েলের তুলনায় মার্কিন সামরিক সম্পদ বেশি ধ্বংস হওয়ার নেপথ্যে একাধিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, ইহুদি বিমানবাহিনী ইলেকট্রনিক লড়াইয়ে বেশি পটু। ফলে শত্রুর ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন অকেজো করে ফেলার মুনশিয়ানা আছে তাদের। অন্য দিকে যুক্তরাষ্ট্রের যোদ্ধা পাইলটদের বার বার তেহরানের পাতা ফাঁদে পা দিতে দেখা গিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, কিছু ক্ষেত্রে নিজেদের জেট নিজেরাই ধ্বংস করেছে যুক্তরাষ্ট্র।   দ্বিতীয়ত, ইজ়রায়েল এবং আমেরিকার উপর প্রত্যাঘাতের জন্য মূলত রাশিয়া এবং চিনের থেকে গোয়েন্দা তথ্য পাচ্ছে তেহরান। মস্কো ও বেজিঙের ‘শত্রুতা’ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যতটা, ইহুদিদের ক্ষেত্রে ততটা নেই। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের সুযোগ নিয়ে ওয়াশিংটনের সামরিক সম্পদ ধ্বংস করাই তাদের মূল লক্ষ্য। আর তাই মার্কিন যুদ্ধবিমান, ড্রোন বা রেডার সংক্রান্ত খবরই বেশি করে আইআরজিসিকে দিয়ে চলেছে ক্রেমলিন ও ড্রাগন প্রশাসন, বলছেন বিশ্লেষকেরা।   তা ছাড়া ইজ়রায়েল এবং মার্কিন ফৌজের আক্রমণের ধরনেও আকাশ-পাতাল ফারাক রয়েছে। ইরান যুদ্ধের প্রথম দিনে (পড়ুন ২৮ ফেব্রুয়ারি) যৌথ ভাবে তেহরানের গুপ্তঘাঁটিতে হামলা চালায় তারা। তাতে প্রাণ হারান সাবেক পারস্যের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই। কিন্তু, পরবর্তী সময়ে সে ভাবে আর তাদের একসঙ্গে অভিযান করতে দেখা যায়নি। আলাদা আলাদা ভাবে অবশ্য আইআরজিসিকে নিশানা করে যাচ্ছে তেল আভিভ ও ওয়াশিংটন।   এ বছরের গোটা মার্চ এবং এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ জুড়ে পশ্চিম ও মধ্য ইরানের বিভিন্ন সামরিক ঠিকানায় হামলা চালিয়ে গিয়েছে ইহুদি বিমানবাহিনী। মূলত তেহরানের ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলি উড়িয়ে দেওয়াই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য। পাশাপাশি, তেহরানের অসামরিক শাসকগোষ্ঠীর গুপ্তঘাঁটি, খনিজ তেল উত্তোলন কেন্দ্র এবং পারমাণবিক পরিকাঠামো ধ্বংসে তেল আভিভকে মনোযোগী হতে দেখা গিয়েছে।   অন্য দিকে মার্কিন বিমান ও নৌবাহিনী সর্বাধিক আক্রমণ চালিয়েছে দক্ষিণ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলিতে। পাশাপাশি, তেহরানের নৌসেনাকেও নিশানা করতে দেখা গিয়েছে তাদের। সাবেক পারস্যের রণতরী ডোবাতে ডুবোজাহাজ ব্যবহার করতেও পিছপা হয়নি পেন্টাগন। এ ছাড়া পাহাড়ের ভূগর্ভস্থ আণবিক হাতিয়ারের গবেষণা ও নির্মাণকেন্দ্র উড়িয়ে দিতে দূরপাল্লার কৌশলগত ‘স্টেলথ’ বোমারু বিমান পর্যন্ত নামিয়েছে ওয়াশিংটন।   সাবেক সেনাকর্তাদের বড় অংশই মনে করেন, আইআরজিসির শক্তিকে গুরুত্ব না দিয়েই ইরান যুদ্ধে নেমে পড়ে আমেরিকা। এর বড়সড় খেসারত দিতে হচ্ছে তাদের। তেহরানে প্রথম আঘাতের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়ে দেন সাবেক পারস্যের যাবতীয় আকাশ প্রতিরক্ষা (এয়ার ডিফেন্স) ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। যদিও গোয়েন্দা সূত্রকে উদ্ধৃত করে এ ব্যাপারে বিস্ফোরক প্রতিবেদন প্রকাশ করে সিএনএন। সেখানে দাবি করা হয়, ইরানি সেনার ৫০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অক্ষত রয়েছে।   তা ছাড়া পশ্চিম এশিয়ার প্রায় প্রতিটা আরব দেশেই রয়েছে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রত্যাঘাত শানাতে সংশ্লিষ্ট ছাউনিগুলি যে আইআরজিসি বেছে নিতে পারে সেটা যুক্তরাষ্ট্রের কমান্ডারেরা কল্পনাও করতে পারেননি। যদিও বাস্তবে ঠিক সেটাই হয়েছিল। ফলে সেখানে মোতায়েন থাকা রেডার বা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে গোড়াতেই হারিয়ে বসে আমেরিকা।   সব শেষে অবশ্যই বলতে হবে ইরানের ‘হাইপারসনিক’ ক্ষেপণাস্ত্রের কথা। শব্দের পাঁচ গুণের চেয়ে গতিশীল এই ব্রহ্মাস্ত্র ঠেকানোর কোনও কৌশল যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর হাতে নেই। এর জেরে ‘চরম মূল্য’ দিতে হচ্ছে তাদের। তা ছাড়া মার্কিন ফৌজের কাছে যুদ্ধের কারণ স্পষ্ট নয়। কারণ, কখনও তেহরানের রাজনৈতিক নেতৃত্বের কুশাসন, কখনও আবার সেখানকার খনিজ তেল কব্জা করার কথা প্রকাশ্যে বলছেন ট্রাম্প।   ইহুদিদের মনে কিন্তু ইরান আক্রমণের কারণ নিয়ে কোনও রকমের ধোঁয়াশা নেই। ইজ়রায়েলকে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে ফেলতেই তেহরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে চাইছে বলে মনে করে তেল আভিভ। আর তাই সেখানে ক্ষমতাবদল না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন ইহুদি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

‘যুদ্ধের বিরুদ্ধে কথা বলেই যাব’—পোপ লিওর দৃঢ় অবস্থান

ছবি: সংগৃহীত

‘দুই দিনের মধ্যেই’ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা হতে পারে: ট্রাম্পের ইঙ্গিত

ছবি: সংগৃহীত

সংকটাপন্ন লেবাননের পাশে কানাডা, ৪০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা ঘোষণা

0 Comments