বিশ্ব

ভয়াবহ মন্দার ঝুঁকিতে বিশ্ব অর্থনীতি: আইএমএফ

মারিয়া রহমান এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
ছবি: বিবিসি
ছবি: বিবিসি

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য অব্যাহত থাকে, তবে বিশ্ব অর্থনীতি ভয়াবহ মন্দার ঝুঁকিতে পড়বে। ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ রিপোর্টে একথা বলেছে আইএমএফ।

বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত নাজুক উল্লেখ করে আইএমএফের রিপোর্টে বলা হয়েছে, চলতি বছর তেল, গ্যাস ও খাদ্যপণ্যের দাম চড়া থাকবে, এমনকি আগামী বছরও একই অবস্থা থাকতে পারে। ২০২৬ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশের নিচে নেমে যেতে পারে বলে আইএমএফের রিপোর্টে আশঙ্কা করা হয়েছে।
 
এই পরিস্থিতিকে ১৯৮০ সালের পর পঞ্চম বৈশ্বিক মন্দার ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছে আইএমএফ, যার সর্বশেষ একটি রূপ দেখা যায় করোনা মহামারির সময়।


গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিশ্ব অর্থনীতি নতুন করে হুমকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে পণ্য পরিবহনে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বেড়েছে।

আইএমএফ বলছে, তেলের দাম যদি এ বছর গড়ে ১১০ ডলার এবং আগামী বছর ১২৫ ডলারে পৌঁছায়, তবে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক স্থবিরতা চরম রূপ নেবে। এমন পরিস্থিতিতে আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ সালে মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তখন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়াতে বাধ্য হবে। আর যুদ্ধ যদি দুই বছর ছাড়িয়ে যায় তবে মন্দার ঝুঁকি বাড়বে কয়েকগুণ।

আইএমএফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যদি সংকটের সমাধান হয় এবং বছরের মাঝামাঝি নাগাদ মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন ও রপ্তানি স্বাভাবিক হতে শুরু করে, তবে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে। তবে এটি আগের পূর্বাভাস অর্থাৎ ৩ দশমিক ৩ শতাংশের চেয়ে কম।
 
উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো এ বছর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বড় ধরনের ধস বা সংকোচনের মুখে পড়তে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেছে আইএমএফ। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ বছর ইরানের অর্থনীতি ৬ দশমিক ১ শতাংশ সংকুচিত হবে। তবে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলে ২০২৭ সালে দেশটি ৩ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ফিরে পেতে পারে। 

অন্যদিকে, কাতারের মতো দেশ, যারা তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বড় সরবরাহকারী, তারাও ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি শোধনাগার রাস লাফান আক্রান্ত হওয়ায় ২০২৬ সালে কাতারের অর্থনীতি ৮ দশমিক ৬ শতাংশ সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল।
 
আইএমএফ উল্লেখ করেছে, মধ্যপ্রাচ্যের কোনো একটি দেশের অর্থনীতি টিকে থাকা নির্ভর করে তার জ্বালানি অবকাঠামো ও হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীলতার ওপর। যেমন, সৌদি আরবের নিজস্ব ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন থাকায় তারা বিকল্প পথে তেল পাঠাতে পারে। ফলে তাদের প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমলেও ৩ দশমিক ১ শতাংশ টিকে থাকবে বলে আশা করা যায়। তবে এর বাইরে অধিকাংশ তেল রপ্তানিকারক দেশের ভাগ্য নির্ভর করছে আগামী কয়েকমাসে জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থা কতটা দ্রুত স্বাভাবিক হয় তার ওপর।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে মধ্যস্থতা করবেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও৷
লেবানন-ইসরায়েল সংলাপে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতার ঘোষণা

লেবাননে চলমান সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে লেবানন ও ইসরায়েলের প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে। শান্তি উদ্যোগটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায়।   জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচেভেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনায় অংশ নিতে উভয় দেশের প্রতিনিধিরা ওয়াশিংটনে যাচ্ছেন। সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনার টেবিলে বসবে দুই পক্ষ। গত ২ মার্চ ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে হামলা চালালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর পরপরই ইসরায়েল লেবাননে পাল্টা হামলা শুরু করে। এতে করে লেবাননও সরাসরি সংঘাতের মধ্যে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে এ পর্যন্ত লেবাননে দুই হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত এবং দশ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠেয় এই বৈঠকে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করবেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। এছাড়া ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ইসরায়েল ও লেবাননের রাষ্ট্রদূত এবং বৈরুতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতও আলোচনায় অংশ নেবেন। তবে এই শান্তি উদ্যোগ থেকে কোনো চূড়ান্ত চুক্তি বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় রয়েছে। হিজবুল্লাহ ইতোমধ্যে সোমবার এই আলোচনাকে ‘নিরর্থক’ বলে অভিহিত করেছে। অন্যদিকে ইসরায়েল স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র অবস্থায় দেখতে চায়—এ অবস্থানকে যুক্তরাষ্ট্রও সমর্থন করে। তবে হিজবুল্লাহ ধারাবাহিকভাবে নিজেদের নিরস্ত্রীকরণের দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তাদের মতে, এ ধরনের শর্ত লেবাননের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসন অব্যাহত রাখার পথ তৈরি করতে পারে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, মঙ্গলবার ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টায় মার্কিন পররাষ্ট্রদপ্তরে লেবানন ও ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূতদের মধ্যে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে ইসরায়েলের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ইয়েশিয়েল লাইটার এবং লেবাননের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদেহ মাওয়াদ আলোচনায় বসবেন। কয়েক দশক পর দু’পক্ষে এটিই হবে প্রথম সরাসরি আলোচনা। এর আগে সর্বশেষ দুই পক্ষের মধ্যে বৈঠক হয়েছিল ১৯৯৩ সালে।  সূত্র: ডয়েচেভেলে

মোঃ ইমরান হোসেন এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
নরেন্দ্র মোদি ও ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

মোদি-ট্রাম্প ফোনালাপ, যা কথা হলো

ছবি: বিবিসি

ভয়াবহ মন্দার ঝুঁকিতে বিশ্ব অর্থনীতি: আইএমএফ

ছবি : সংগৃহীত

বিদেশি কর্মী নিয়োগ নিয়ে বড় চমক মালয়েশিয়ার

ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ার ইয়ুথ ফেস্টিভ্যালে আবেদন ছাড়াল ৬০ হাজার

আগামী সেপ্টেম্বর রাশিয়ার ইয়েকাতেরিনবার্গ শহরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ ফেস্টিভ্যাল ২০২৬। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ১৯০টি দেশ থেকে এখন পর্যন্ত ৬০ হাজারেরও বেশি তরুণ প্রতিনিধি অংশগ্রহণে আগ্রহ দেখিয়ে আবেদন করেছেন।   রাশিয়ার যুববিষয়ক কেন্দ্রীয় সংস্থা রোসমোলোডেজ-এর আওতাধীন এই উৎসবের আবেদন গ্রহণ চলবে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। আয়োজকরা জানিয়েছে, মোট ১০ হাজার তরুণ প্রতিনিধি এই আন্তর্জাতিক আয়োজনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন—এর মধ্যে রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ৫ হাজার এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে আরও ৫ হাজার প্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন। সম্প্রতি এ আয়োজন নিয়ে রাশিয়ার রাজধানী মস্কো-তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৮৪টি দেশের ১২০ জনেরও বেশি বিদেশি দূতাবাস ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন আবখাজিয়া, আর্জেন্টিনা, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, কাতার, চীন, লিবিয়া, মরক্কো, নেপাল, ওমান, পেরু, দক্ষিণ কোরিয়া, স্লোভাকিয়া ও দক্ষিণ ওসেটিয়ার কূটনীতিকরা।   রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি চেরনিশেঙ্কো বলেন, বিশ্ব যুব উৎসবের ধারাবাহিকতায় এবার ইয়েকাতেরিনবার্গে বড় পরিসরে তরুণদের একত্রিত করা হবে। তিনি জানান, এর আগে ২০২৪ সালে ‘সিরিয়াস’-এ এবং পরবর্তীতে নিজনি নভগোরোদে সফলভাবে যুব উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা বৈশ্বিক অংশগ্রহণে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে ১৭৫টিরও বেশি দেশ থেকে আবেদন এসেছে এবং আইটি, বিজ্ঞান, ক্রীড়া ও প্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের তরুণ পেশাজীবীরা এই উৎসবে অংশ নিতে আগ্রহী।   আয়োজকদের মতে, উৎসবের মূল কর্মসূচির পর ৩০টি গন্তব্যে একটি আঞ্চলিক আয়োজন থাকবে, যা রাশিয়ার ‘জনগণের ঐক্যের বছর’ কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাজানো হয়েছে। যারা সরাসরি অংশ নিতে পারবেন না, তাদের জন্য অনলাইন অংশগ্রহণের সুযোগও রাখা হয়েছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেন, এই উৎসব তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ, নতুন সংযোগ এবং বৈশ্বিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করবে। একই সঙ্গে রোসমোলোডেজ প্রধান গ্রিগরি গুরভ জানান, রাশিয়া বিশ্বের সব দেশের তরুণদের জন্য উন্মুক্ত এবং এই আয়োজন আন্তর্জাতিক সম্প্রীতির একটি বড় প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠবে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, উৎসবে অংশগ্রহণের আবেদন আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত গ্রহণ করা হবে। আরও তথ্য পাওয়া যাবে ওয়েবসাইট wyffest.com-এ।

মোঃ নাহিদ হোসেন এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

জেট ফুয়েলের দাম বাড়ায় বড় অঙ্কের বাড়তি খরচের মুখে কোয়ান্টাস

ছবি : সংগৃহীত

পাহাড়ি দুর্গে ভয়াবহ পদদলন, নিহত ২৫ পর্যটক

ছবি : সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে ‘সব পক্ষকে’ নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে : গুতেরেস

ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ অবরোধে তেলের দাম ৪ শতাংশ বাড়ল

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে নতুন করে উত্থান দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগামী জাহাজে অবরোধ শুরু করার পর সোমবার তেলের দাম প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।   বাজার বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা এবং ইরানের পাল্টা হুমকির কারণে এই মূল্য বেড়েছে। কারণ বিশ্বে মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।   বাজারের তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুড প্রতি ব্যারেল ৪.১৬ ডলার বেড়ে ৯৯.৩৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ২.৫১ ডলার বেড়ে ৯৯.০৮ ডলারে পৌঁছেছে।   তবে দিনের শুরুতে দাম আরও বেশি বেড়েছিল। পরে কিছুটা কমে আসে, যা বাজারে চলমান অস্থিরতার ইঙ্গিত দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনিশ্চিত বক্তব্যও বাজারে দোলাচল তৈরি করছে।   এদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে তেল ও গ্যাস সরবরাহ চাপের মুখে পড়েছে।   এর প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপরও পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ভোক্তারা খরচ কমাতে বাধ্য হচ্ছেন। ইউরোপেও জ্বালানি ব্যয় বেড়ে গেছে, ফলে সরকারগুলো জরুরি সহায়তা পরিকল্পনা নিচ্ছে।   বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি আরও চাপে পড়তে পারে।   সূত্র : শাফাক নিউজ

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সিদ্ধান্তেই নির্ভর করছে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ: জেডি ভ্যান্স

ছবি : সংগৃহীত

ইরানি বন্দর অবরোধে বাজার অস্থিতিশীল হতে পারে : রাশিয়া

ছবি: সংগৃহীত

লেবাননকে যুদ্ধবিরতির আওতায় আনতে চায় যুক্তরাজ্য-জার্মানি

0 Comments