আধুনিক ফুটবলের রাজা কে? লিওনেল মেসি নাকি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো? এই তর্ক বোধহয় আরও অনেকদিন থেকে যাবে। দু'জনকে প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে খেলতে দেখা গেলেও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে একে অপরকে বেশ সম্মান দিয়েই কথা বলতে দেখা গেছে।
তেমনই এক সাক্ষাৎকার একটি গণমাধ্যমকে দু'জন দিয়েছিলেন ২০১৯ সালের ইউসিএল ড্র'তে। যে সাক্ষাৎকারে অবশ্য বেশিরভাগ কথা রোনালদোই বলেছেন। মেসি স্প্যানিশ ভাষায় অল্প কথা বলে অংশ নিয়েছিলেন মাত্র। সেই সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ যমুনার পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।
উপস্থাপক: ক্রিশ্চিয়ানো, আপনি এখনও এই প্রতিযোগিতার ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা, সেই রেকর্ড এখনও আপনারই আছে। ক্লাব এবং দেশের হয়ে আপনার দারুণ একটা বছর কেটেছে, ইতালিতে আপনার প্রথম মৌসুমেই স্কুদেত্তো জিতেছেন, পর্তুগালের হয়ে নেশন্স লিগও জিতেছেন। আপনি চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসেন। ইতালিতে এই প্রথম বছরটা আপনার কেমন কাটলো?
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো: অসাধারণ। এটি একটি বিশেষ বছর ছিল কারণ আমি রিয়াল মাদ্রিদে ৯ বছর ছিলাম এবং সেখান থেকে ইতালিয়ান লিগে যাওয়াটা একটি বড় সিদ্ধান্ত ছিল। তবে এটি বেশ ভালো ছিল। বছরটি চমৎকার ছিল। আমি তিনটি শিরোপা জিতেছি। সুপার কাপ, সিরি এ, এবং নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে নেশন্স কাপ, যা অসাধারণ।
বছরটা অসাধারণ ছিল এবং আমি খুবই আনন্দিত। আরও এক বছর, আরও একটি রেকর্ড। একদম নিখুঁত।
উপস্থাপক: আপনাদের দুজনকেই (মেসি ও রোনালদো) আমরা বেশ কিছুদিন একসাথে পাইনি। তাই আপনারা যখন দুজনেই এখানে আছেন, আমরা লক্ষ্য করেছি আপনারা অনেক কথা বলছেন। আপনারা কি একে অপরকে মিস করেন?
লিওনেল মেসি: হ্যাঁ, আমি তো আগেই বলেছিলাম, ওকে স্পেনে পাওয়াটা দারুণ ছিল। আমাদের একটা সুন্দর প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল, বিশেষ করে ও রিয়াল মাদ্রিদে ছিল বলে। আর এখন ও অন্য একটা বড় দলে আছে এবং আমরা স্পেন থেকে ওকে দেখি।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো: বিষয়টা মজার। কারণ আমরা ১৫ বছর ধরে এই মঞ্চটি ভাগ করে নিচ্ছি, আমি এবং সে (মেসি)। ফুটবলে এমনটা কখনও ঘটেছে কি না আমার জানা নেই। একই মঞ্চে সব সময় একই দুজন মানুষ। আপনারা জানেন এটা সহজ নয়। আর অবশ্যই, আমাদের সম্পর্ক ভালো। যদিও আমরা এখনও একসাথে রাতের খাবার খাইনি, তবে আশা করি ভবিষ্যতে খাবো।
আরেকটা কথা, স্পেনে খেলাটা আমি মিস করি। গত ১৫ বছর ধরে আমাদের মধ্যে যে লড়াইটা ছিল, তা দারুণ। সে আমাকে অনুপ্রাণিত করত, আমিও তাকে তাগিদ দিতাম। ফুটবলের এমন ইতিহাসের অংশ হতে পেরে ভালো লাগছে। আমি সেখানে আছি এবং অবশ্যই লিও-ও সেখানে আছে।
উপস্থাপক: সম্প্রতি আপনার একটি সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছিল? আপনি বলেছিলেন যে আপনি আগামী বছর অবসর নিতে পারেন (২০১৯ সালে বলা কথা)। আমার মনে হয় এটা খুব স্পষ্ট যে আপনি এখনই অবসর নিচ্ছেন না, আপনি আরও কিছুদিন খেলবেন। আমরা কি আপনাকে একটা অনুরোধ করতে পারি, যাতে আপনি আর লিও একই সময়ে অবসর নেন?
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো: ও আমার চেয়ে দুই বছরের ছোট। তাই চালিয়ে যাওয়া উচিত। তবে আমি মনে করি আমার বয়সের তুলনায় আমাকে ভালোই দেখায়। আমি এখনও খারাপ নেই (মজার ছলে)। আমি আশা করি আগামী বছর, দুই বছর পর, এমনকি তিন বছর পরও এখানে থাকবো। তাই যারা আমাকে অপছন্দ করে, তাদের আমাকে এখানেই দেখতে হবে।
উপস্থাপক: নিন্দুকেরা তো খেলারই অংশ, তাই না ক্রিশ্চিয়ানো? আমরা চাই এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা যতদিন সম্ভব চলতে থাকুক। আপনাদের দুজনকেই অনেক ধন্যবাদ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
নিয়মিত ক্রিকেটারদের বেশিরভাগকে ছাড়াই এশিয়ান গেমসে পুরুষদের ক্রিকেট ইভেন্টে পদক জয়ের মঞ্চে ফেরার অভিযানে নামবে শ্রীলঙ্কা। দলকে নেতৃত্ব দেবেন সাহান আরাচ্চিগে। টি-টোয়েন্টি সংস্করণের প্রতিযোগিটির জন্য মঙ্গলবার ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের নির্বাচক কমিটি। এই দলটি ইংল্যান্ডে সদ্য সমাপ্ত তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে খেলা দলটির চেয়ে অনেকটাই আলাদা। শ্রীলঙ্কার ৩-০ ব্যবধানে হারা ওই সিরিজের দল থেকে এবারের দলে আছেন কেবল নুয়ান থুশারা ও থারিন্দু রাত্নায়েকে। ইংল্যান্ড সফরে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন চারিথ আসালাঙ্কা; কারণ মূল অধিনায়ক কুশাল মেন্ডিস ও বিনুরা ফার্নান্দো চোটের কারণে ছিটকে পড়েছিলেন। এখন সেরে উঠে এশিয়ান গেমসের দলে জায়গা পেয়েছেন ফার্নান্দো। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা চার জন আছেন এই দলে- টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান সিনেথ জায়াওয়ার্দেনা, কিপার-ব্যাটসময়ান সোহান ডি লিভেরা, বাঁহাতি স্পিনিং অলরাউন্ডার ওয়ানুজা সাহান ও পেসার গারুকা সানকেথ। অনেকেই টি-টোয়েন্টি দলে ফিরেছেন দীর্ঘদিন পর। ৩০ বছর বয়সী অলরাউন্ডার আরাচ্চিগে যেমন এই সংস্করণে শ্রীলঙ্কার হয়ে একমাত্র ম্যাচটি খেলেছেন ২০২৩ সালে এবং সেটিও ছিল এশিয়ান গেমসে। সেবারও দলের অধিনায়ক ছিলেন তিনি। দলে ফেরা অভিজ্ঞ কিপার-ব্যাটসম্যান নিরোশান ডিকওয়েলা সবশেষ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন ২০২১ সালে। ২০১০ সালে অন্তর্ভুক্তি হওয়া থেকে এশিয়ান গেমসে তিনবার ক্রিকেট ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সেখানে শ্রীলঙ্কার পারফরম্যান্স ছিল মিশ্র। ২০১০ সালে গুয়াংজুতে অনুষ্ঠিত আসরে তারা ব্রোঞ্জ জিতেছিল এবং ২০১৪ সালে ইনচন গেমসের ফাইনালে আফগানিস্তানকে হারিয়ে স্বর্ণপদক জয় করেছিল। তবে ২০২৩ সালে হাংজু গেমস থেকে তারা কোনো পদক ছাড়াই ফিরেছিল; সেবার ভারত সোনা, আফগানিস্তান রুপা ও বাংলাদেশ ব্রোঞ্জ জিতেছিল। এবারের আইচি ও নাগোয়া এশিয়ান গেমসে ১০ দলের আসরে আগামী মঙ্গলবার সরাসরি কোয়ার্টার-ফাইনালে খেলবে শ্রীলঙ্কা। যে ম্যাচের প্রতিপক্ষ চূড়ান্ত হবে ছয় দলের প্রাথমিক পর্ব শেষে। এশিয়ান গেমসের শ্রীলঙ্কা দল: সাহান আরাচ্চিগে (অধিনায়ক), লাসিথ ক্রুসপুল্লে, নিরোশান ডিকওয়েলা, সিনেথ জায়াওয়ার্দেনা, নুয়ানিদু ফার্নান্দো, সোহান ডি লিভেরা, আশেন বান্দারা, চামিকা কারুনারাত্নে, থারিন্দু রাত্নায়েকে, ওয়ানুজা সাহান, ভিজায়াকান্থ ভিয়াসকান্থ, দুশান হেমান্থা, নুয়ান থুসশারা, বিনুরা ফার্নান্দো, গারুকা সানকেথ।
জাপান জাতীয় ক্রিকেট দল তাদের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম এক মাইলফলক স্পর্শ করার অপেক্ষায় রয়েছে। প্রথমবারের মতো আইসিসির কোনো পূর্ণ সদস্য দেশের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ খেলতে নামছে তারা, আর প্রতিপক্ষ হিসেবে পাচ্ছে টি-টোয়েন্টির বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ও র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দল ভারতকে। ভারত ও জাপানের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘সুজুকি কাপ’ শীর্ষক এই একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি মঙ্গলবার জাপানের সানো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টায় শুরু হবে। দুই দলের র্যাঙ্কিংয়ে আকাশ-পাতাল ব্যবধান (ভারত ১ নম্বর, জাপান ৪১তম) এবং আইসিসির বাছাইপর্বের বাইরে এত বড় র্যাঙ্কিং ব্যবধানের দুই দলের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচে ভারত প্রবলভাবে ফেবারিট হলেও, আগেভাগে ভড়কে না গিয়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নিজেদের সামর্থ্য ও লড়াই করার মানসিকতা প্রদর্শন করতে মুখিয়ে আছে জাপান দল। জাপানে প্রথাগতভাবে বেসবলের জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি থাকলেও, ভারতের বিপক্ষে এই ঐতিহাসিক ম্যাচকে কেন্দ্র করে দেশটিতে ক্রিকেটেও দারুণ উন্মাদনা সৃষ্টি হয়েছে। দর্শকদের অভূতপূর্ব আগ্রহের কারণে স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা বাড়িয়ে ৩ হাজারে উন্নীত করা হলেও টিকিটের চাহিদা মেটানো যায়নি; মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই সব টিকিট বিক্রি শেষ হয়ে গেছে। আসন্ন এশিয়ান গেমসকে সামনে রেখে এই ম্যাচটিকে দুই দলের জন্যই শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতির মঞ্চ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এশিয়ান গেমসের নিয়ম মেনেই নিজেদের স্কোয়াড সাজিয়েছে স্বাগতিক জাপান, যার ফলে দলে নেই অভিষেক আনন্দ, ইসাম রহমান, আব্দুল সামাদ ও সাবোরিশ রবিচন্দ্রনের মতো নিয়মিত ক্রিকেটাররা। তাঁদের পরিবর্তে লাচলান ইয়ামামোতো-লেক, মাকোতো তানিয়ায়া ও ওয়াতারু মিয়াউচিদের মতো তরুণ ও উদীয়মান খেলোয়াড়রা ভারতের বিপক্ষে নিজেদের মেলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন। আইসিসি ডিজিটালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জাপানি অলরাউন্ডার বেঞ্জামিন ইতো-ডেভিস এই চ্যালেঞ্জ নেওয়ার জন্য নিজের চরম উন্মুখতার কথা জানিয়েছেন। তিনি জানান, বিশ্ব মঞ্চে জাপানের প্রতিনিধিত্ব করা এবং জাপানে ক্রিকেটকে এগিয়ে নেওয়ার কাজটি তাঁর জন্য অত্যন্ত সম্মানের ও গর্বের। শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে কেবল মাঠে নামাই নয়, বরং জাপানি চেতনা ও নিজেদের সামর্থ্যের সেরাটা দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে ৫–৩ গোলের রোমাঞ্চকর জয় পেয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। তবে আট গোলের ম্যাচ শেষে আলোচনায় উঠে এসেছে সিটির মাঝমাঠের ভারসাম্য, বিশেষ করে এনজো ফার্নান্দেজের ভূমিকা। দারুণ এক ফ্রি-কিকে গোল করলেও আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডারের অবস্থান ও দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের ফুটবল প্রতিবেদক রিচার্ড জলি মনে করছেন, সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি ফার্নান্দেজের শক্তি ও সীমাবদ্ধতা—দুটিই সামনে এনেছে। সিটির হয়ে নিজের প্রথম গোলটি করেন ফার্নান্দেজ। তাও ছিল চোখধাঁধানো এক ফ্রি-কিক, যা গোলরক্ষক রবিন রুফসকে পরাস্ত করে। তবে গোলের পর ম্যাচে তার ভূমিকা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়। সিটির মাঝমাঠে ফার্নান্দেজের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জলি। তার মতে, কখনো কখনো আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে খেলতে চাওয়া ফার্নান্দেজ মাঝমাঠের কেন্দ্র ছেড়ে সাইডলাইনের দিকে সরে যাচ্ছেন। এতে সতীর্থ এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে মাঝমাঠে একা লড়তে হচ্ছে। সিটির কোচ এনজো মারেস্কাও ম্যাচ শেষে দলের ভারসাম্যের অভাবের কথা বলেছেন। তবে ফার্নান্দেজের অবস্থানগত সমস্যার কতটা কোচের নির্দেশনা, আর কতটা খেলোয়াড়ের নিজের সিদ্ধান্ত—তা নিশ্চিত নয়। নতুন সতীর্থদের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সময়ও হয়তো এখনো পুরোপুরি পাননি তিনি। গত গ্রীষ্মে মাঝমাঠ পুনর্গঠনে বিপুল অর্থ খরচ করেছে সিটি। বিদায় নিয়েছেন রদ্রি ও বার্নার্দো সিলভার মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়েরা। এমন পরিস্থিতিতে ফার্নান্দেজকে মাঝমাঠের আরও গভীরে থেকে খেলতে হবে কি না, সেই প্রশ্নই সামনে এসেছে। এদিকে সিটির আক্রমণভাগে রায়ান শেরকির পারফরম্যান্সও তৈরি করেছে নতুন সমীকরণ। আক্রমণাত্মক ভূমিকায় শেরকি ও ফার্নান্দেজ—দুজনই বেশি স্বাধীনতা চাইলে তাদের পেছনে অ্যান্ডারসন ও আইয়ুব বুয়াদ্দির মতো খেলোয়াড়দের ওপর বাড়তি চাপ পড়তে পারে। অবশ্য ফার্নান্দেজের সিটির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া এখনো চলছে। এর আগে টানা চার ম্যাচে ক্লিনশিট রেখেছিল দলটি। তাই সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে তিন গোল হজম করাকে সাময়িক ছন্দপতন হিসেবেও দেখা যেতে পারে।