সিরাজগঞ্জে শনিবার বিকেলে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনী জনসভায় বক্তৃতা দিয়েছেন। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলীর বিসিক শিল্প পার্ক এলাকায় অনুষ্ঠিত এই সভায় তিনি ভোটারদের সতর্ক করে বলেন, “আমাদের সতর্ক থাকতে হবে যেন কোনো ষড়যন্ত্র করে কেউ আবার আপনাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে। অনেকেই আসবে আপনাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করতে। যারা বিভ্রান্ত করবে, দেখামাত্র তাদের বলবেন, গুপ্ত তোমরা। কারণ, তাদের গত ১৬ বছর আমরা দেখিনি, তারা ওদের সঙ্গে মিশে ছিল, যারা ৫ তারিখে পালিয়ে গিয়েছে।
সভায় তারেক রহমান সিরাজগঞ্জ ও পাবনার বিভিন্ন আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের ধানের শীষ প্রতীক তুলে দিয়ে ভোটারদের সঙ্গে পরিচয় করিয়েছেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ এখন জানতে চায়, কোন রাজনৈতিক দল দেশ ও জনগণের জন্য কী পরিকল্পনা গ্রহণ করবে। বিএনপি সেই অভিজ্ঞতা ও পরিকল্পনা জনগণের সামনে রেখেছে। মানুষের ভরসা আসে যে দলের অভিজ্ঞতা রয়েছে, এবং সেই গুণ একমাত্র বিএনপির মধ্যে আছে।
তারেক রহমান বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও সামাজিক উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “সিরাজগঞ্জ ও পাবনায় যেমন কৃষি আছে, তেমন ছোট ছোট মিল-কারখানা আছে। আমাদের লক্ষ্য কৃষিকে এগিয়ে নেয়া এবং কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়ানো। একই সঙ্গে লক্ষ লক্ষ তরুণ-যুবকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই। নতুন নতুন শিল্প পার্ক স্থাপনের মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। উত্তরাঞ্চল কৃষিনির্ভর হওয়ায় আমরা ঠাকুরগাঁও থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত সমগ্র এলাকায় কৃষিনির্ভর শিল্প গড়ে তুলতে চাই।
তিনি দেশের তাঁতশিল্পকে এগিয়ে নেয়ার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে বলেন, “যখন তাঁতের কথা বলি, লুঙ্গির কথা বলি, তখন চোখের সামনে ভেসে ওঠে সিরাজগঞ্জ-পাবনার এই এলাকা। এখানকার বহু মানুষ তাঁতশিল্পের সঙ্গে জড়িত। আমরা চাই, এই শিল্পে উৎপাদিত পণ্য সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হই।
নারী ও মায়েদের স্বাবলম্বী করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক বলেন, “খালেদা জিয়ার সময়ে মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা ফ্রি হয়েছিল। আগামী বিএনপি সরকার মায়েদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলবে। এজন্য প্রতিটি মায়ের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।
কৃষকদের জন্য তিনি বলেন, “কৃষকরা হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেন। আমরা চাই, প্রয়োজনীয় সার, কীটনাশক, বীজ ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হোক, যেন কোনো মধ্যস্বত্বভোগী সুবিধা না পায়। এজন্য কৃষক কার্ড প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হবে।
তরুণদের জন্য তিনি বলেন, “তরুণদের আইটি ও অন্যান্য ক্ষেত্রের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সিরাজগঞ্জ ও পাবনায় ট্রেনিং সেন্টার, ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট তৈরি করে বেকার যুবকদের বিদেশে ভালো বেতনে পাঠানো হবে।
ধর্মগুরুদের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ইমাম, খতিব ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সরকার থেকে মাসিক সম্মাননার ব্যবস্থা করা হবে।
শেষে ধানের শীষ প্রতীকের প্রতি ভোটের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “১২ তারিখে ধানের শীষকে বিজয়ী করলে ১৩ তারিখ থেকে আমরা রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ ও হাসপাতালের কাজ শুরু করব ইনশা আল্লাহ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
দিল্লিতে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের সঙ্গে ভারতের সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেন, ওই অনুষ্ঠানটি একটি বেসরকারি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান আয়োজন করেছে। এতে ভারত সরকারের কোনো ভূমিকা ছিল না এবং সেখানে দেয়া কোনো বক্তব্যকেই ভারত সরকার সমর্থন করে না। জয়সোয়াল বলেন, বিশেষ করে বাংলাদেশের যথাযথভাবে গঠিত সরকারের বিষয়ে ওই অনুষ্ঠানে দেয়া কোনো বক্তব্যের সঙ্গেও ভারতের সরকারের কোনো সমর্থন নেই। শেখ হাসিনার ওই ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিল ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি) অব সাউথ এশিয়া, যা একটি বেসরকারি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান। গত বুধবার দিল্লি থেকে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ ছাড়ার পর এটিই ছিল তার প্রথম গণমাধ্যমে বক্তব্য। সেখানে তিনি চলতি বছরের শেষ দিকে নিজ দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানান। শেখ হাসিনা বলেন, ‘যে ভাগ্যই আমার জন্য অপেক্ষা করুক, আমি আমার জনগণের কাছে ফিরে যাব। আমার দেশবাসী কষ্ট পাচ্ছে, আমি তাদের কাছ থেকে দূরে থাকতে পারি না। আমি ডিসেম্বরে ফিরে যেতে চাই।’ তার এই সংবাদ সম্মেলন নিয়ে ঢাকায় সমালোচনা হয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একই এক বিবৃতিতে দিল্লি থেকে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি ‘অপমান’ হিসেবে উল্লেখ করে। একই সঙ্গে বলা হয়, এ ধরনের আয়োজন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের প্রচেষ্টায় প্রভাব ফেলতে পারে। এর আগেও সংবাদ সম্মেলনটি নিয়ে ভারতের সরকারের সম্পৃক্ততার প্রশ্ন উঠলে জয়সোয়াল জানিয়েছিলেন, অনুষ্ঠানটির সঙ্গে সরকারের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই এবং সেখানে প্রকাশিত কোনো মতামতকেই ভারত সরকার সমর্থন করে না।
দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ইসলামী ছাত্রশিবিরের চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর শাখা। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দিবাগত রাতে নগরের চকবাজার এলাকার প্যারেড মাঠের উত্তর প্রান্ত থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে নবাব ওয়ালী বেগ খাঁ মসজিদের সামনে গিয়ে এটি শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর শাখার সভাপতি মোমিনুল হক এবং সঞ্চালনা করেন শাখার সেক্রেটারি খুররম মুরাদ। বক্তব্যে মোমিনুল হক বলেন, শিক্ষাঙ্গনে ভিন্নমত দমনে হামলা ও সহিংসতার রাজনীতি পরিহার করে সকল শিক্ষার্থীর গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও সহনশীল পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় বক্তব্য দেন সংগঠনটির সাবেক কেন্দ্রীয় শিক্ষা সম্পাদক তাওহিদুল ইসলাম। তিনি দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ওপর সংঘটিত হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস, সহিংসতা ও ভয়ভীতির সংস্কৃতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তিনি হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক শিক্ষা পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভকারীরা শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতা বন্ধ, দোষীদের বিচার এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
পতেঙ্গা থেকে হাতিয়া হয়ে কুতুবদিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত শিপিং চ্যানেলে অনিয়ন্ত্রিতভাবে মাছের জাল বসানোয় তৈরি হয়েছে মারাত্মক নৌ-ঝুঁকি। বিশেষ করে আলফা, ব্রাভো ও চার্লি অ্যাংকারেজ এলাকায় ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। প্রপেলারে জাল আটকে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে জাহাজডুবির শঙ্কার সঙ্গে আছে জলদস্যুর আতঙ্ক। এতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বন্দরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এমএসসি শিপিংয়ের হেড অব অপারেশন আজমীর হোসাইন চৌধুরী বলেন, ‘কমপ্লেইনটা পাই। তারা ম্যানুভার করতে পারছে না, তারা মুভ করতে পারছে না। কারণ হচ্ছে, অতিমাত্রায় ফিশিং নেট এবং যত্রতত্র জাহাজ অ্যাংকার করা রয়েছে সেখানে। বিশেষ করে যখন ইভিনিং টাইম হয়, সেলিং টাইম হয়, তখন তো বিপদ অন্যরকম।’ বন্দরের বহির্নোঙরে ২৪ ঘণ্টা পণ্য খালাস হয়। জালের আতঙ্কে রাতে নৌচলাচল ব্যাহত হলে সরাসরি প্রভাব পড়বে জাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড টাইমের ওপর। এতে আন্তর্জাতিক শিপিং লাইনগুলোকে গুনতে হবে অতিরিক্ত ডেমারেজ চার্জ। নিজেদের নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে লাইটার মাস্টাররা বলেন, ‘বন্দরের বহির্নোঙরে ২৪ ঘণ্টাই পণ্য খালাস হয়। জালের আতঙ্কে রাতে নৌচলাচল ব্যাহত হলে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে জাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড টাইমের ওপর। এতে শিপিং লাইনগুলোকে গুনতে হবে অতিরিক্ত ডেমারেজ চার্জ। এই জাহাজটা যে জালগুলো কেটে যায়, সেই জাহাজটাই আবার লোড করব, বা লোড করে ঘাটে নিয়ে আসব—এ রকম পরিস্থিতি থাকে না। আমরা যখন ফাঁকা অবস্থায় চলাচল করি, তখন জালের অনেক মোটা রশি সেখানে থাকে। যখন সেগুলো প্রপেলারের সঙ্গে বেঁধে যায়, তখন আমাদের ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গেলে আমাদের দুর্ঘটনার মুখে পড়তে হয়।’ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়ে নৌ বাণিজ্য অধিদপ্তরের প্রিন্সিপাল অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ক্যাপ্টেন শেখ জালাল উদ্দিন গাজী বলেন, ‘আন্ডারওয়াটার অপারেশন বা কোনো ধরনের কিছু টানা, যেটাকে ড্র্যাগিং বলে—এ ধরনের অপারেশন অনেক সময় হয়ে থাকে। অনেক জায়গায় এটা রয়েছে। আমাদের এখানেও বিষয়টি নিয়ে অনেক দিন ধরে আলোচনা চলছে, কিন্তু এখনও ব্যাপারটা চূড়ান্ত হয়নি।’ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বন্দর ও দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আগেই এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।