জাপানে জন্মহার ও প্রজনন হার ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। কম সংখ্যক বিয়ে ও পরিবার গঠনের প্রবণতাকে এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখছে দেশটির গণমাধ্যম ও বিশেষজ্ঞরা।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে জাপানে জন্ম নিয়েছে মাত্র ৬ লাখ ৭১ হাজারের কিছু বেশি শিশু, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৫ হাজার কম। ১৮৯৯ সালে রেকর্ড সংরক্ষণ শুরুর পর এটি সর্বনিম্ন জন্মসংখ্যা বলে জানিয়েছে জাপানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে।
একই সময়ে দেশটির মোট প্রজনন হার (একজন নারী তার জীবদ্দশায় গড়ে কতজন সন্তানের জন্ম দিতে পারেন) কমে দাঁড়িয়েছে ১.১৪-এ, যা এখন পর্যন্ত রেকর্ড করা সর্বনিম্ন হার।
এ নিয়ে টানা দশ বছর ধরে জাপানে জন্মহার কমছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পতনের গতি পূর্বাভাসের তুলনায় অনেক দ্রুত ঘটছে।
সরকারি গবেষকেরা ধারণা করেছিলেন, প্রজনন হার এত নিচে নামতে ২০৪০ সালের কাছাকাছি সময় লাগতে পারে। তবে বাস্তবে তা অনেক আগেই ঘটে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জন্মহার কমার অন্যতম প্রধান কারণ হলো বিয়ের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাওয়া। শতাব্দীর শুরুতে জাপানে বছরে প্রায় ৮ লাখ বিয়ে নিবন্ধিত হতো, যা এখন কমে প্রায় ৫ লাখে নেমে এসেছে।
জাপানে সাধারণত বিবাহিত দম্পতিদের মধ্যেই সন্তান জন্মের হার বেশি হওয়ায় বিয়ে কমে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়ছে জন্মহারের ওপর।
তবে সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, অবিবাহিত জাপানিদের প্রায় ৮০ শতাংশ এখনো বিয়ে করতে আগ্রহী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক পরিবর্তনের কারণে জীবনসঙ্গী খুঁজে পাওয়া আগের তুলনায় কঠিন হয়ে উঠেছে। কর্মক্ষেত্র ও সামাজিক যোগাযোগের পরিবর্তন, বিশেষ করে রিমোট ওয়ার্কের বিস্তার, ব্যক্তিগত যোগাযোগের সুযোগ কমিয়ে দিয়েছে।
এ ছাড়া কর্মক্ষেত্রে হয়রানি নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সামাজিক মেলামেশার ক্ষেত্রও সংকুচিত হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে বিয়ে বিষয়ক সংস্থা ও ম্যাচমেকিং সেবাগুলোর চাহিদা আবারও বাড়তে শুরু করেছে, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, দ্রুত বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং জনসংখ্যা হ্রাস এখন জাপানের সবচেয়ে বড় সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তথ্যসূত্র: আনাদোলু
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে তার পদ থেকে সরানোর দাবি জানিয়েছেন বিরোধী দলীয় এমপি গিলাদ কারিভ। তিনি বলেছেন, ইসরাইলে অস্তিত্ব রক্ষার জন্যই নেতানিয়াহুকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরানো জরুরি। খবর আনাদোলুর শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা ঘিরে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর তদন্ত নিয়ে নেতানিয়াহুর অবস্থানের সমালোচনা করে এসব মন্তব্য করেন তিনি। কারিভ অভিযোগ করেন, ৭ অক্টোবরের হামলার পর কয়েক মাস ধরে গাজার আশপাশের কিবুতজ এলাকায় যাওয়ার বিষয়টি যেমন নেতানিয়াহু এড়িয়ে গেছেন, তেমনি ওই দিনের ঘটনাগুলো নিয়ে সেনাবাহিনীর তদন্তের বিষয়টিও তিনি এড়িয়ে যাচ্ছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, নেতানিয়াহু বারবার ইসরাইলের নিরাপত্তার বিষয়টিকে ‘অবহেলা’ করেছেন এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিচালনায় ‘সম্পূর্ণ অযোগ্যতার’ পরিচয় দিয়েছেন। কারিভ বলেন, ‘এমন একজন ব্যক্তিকে আমাদের ভবিষ্যৎ এবং আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।’ তার মতে, নেতানিয়াহুকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরানো এখন ইসরাইলি সমাজের ‘অস্তিত্বের জন্য প্রয়োজন’। এদিকে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার আগে ও পরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতা খতিয়ে দেখতে ইসরাইলেরাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি উঠেছে। বিরোধী দলগুলোর পাশাপাশি দেশটির সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশও এ দাবি জানিয়ে আসছে। তবে নেতানিয়াহুর সরকার রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। এর পরিবর্তে সরকারের নিয়োগ করা একটি তদন্ত প্যানেলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে তারা। নির্বাচনে চাপ বাড়ছে নেতানিয়াহুর ইসরাইলে আগামী ২৭ অক্টোবর পার্লামেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা। জনমত জরিপে নেতানিয়াহু ও তার দল লিকুদ পার্টির জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে দুর্নীতির অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিচারও চলছে। পাশাপাশি গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিভাবে স্বীকৃত সরকারের অনুগত বাহিনীগুলোর সঙ্গে হুথি বিদ্রোহীদের সংঘর্ষে অন্তত ৬০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন। ২০২২ সালে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির পর থেকে দেশটির কিছু তীব্র লড়াইয়ের মধ্যে এটি অন্যতম। শনিবারের (৫ সেপ্টেম্বর) এ সংঘর্ষে নিহতদের মধ্যে বেসামরিকরাও রয়েছেন বলে দেশটির চিকিৎসা ও সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। খবর গার্ডিয়ানের। ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীর তিনটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এ দিন দেশটির দক্ষিণপশ্চিমে দু'পক্ষের মধ্যে কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা লড়াইয়ে সরকারি বাহিনীর ২৬ সেনা নিহত হয়। অপরদিকে ইরান সমর্থিত হুথি গোষ্ঠির চিকিৎসা ও সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, এ লড়াইয়ে ৩১ বিদ্রোহী যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা তায়িজ শহরের এক মেডিকেল সূত্র জানিয়েছে, একটি যাত্রীবাহী বাসে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ছয় বেসামরিক নিহত ও আরও সাতজন আহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) হুথিদের অবস্থানে ধারাবাহিকভাবে বিমান হামলা চালায়। এতে দু'পক্ষের সংঘাত উল্লেখযোগ্যভাবে তীব্র হয়ে ওঠে।
জর্ডানের ক্যাম্প তিতিন ঘাঁটিতে বিধ্বংসী ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা চালিয়েছিল ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ইরানের দক্ষিণ অঞ্চলের সিরিক এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন বাহিনীর নৃশংস বিমান হামলায় এক শিশুসহ পাঁচজন নিহত এবং প্রায় ৭০ জন আহত হওয়ার সরাসরি প্রতিশোধ হিসেবে এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। আইআরজিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, জর্ডানের মার্কিন মেরিন কোরের এই ক্যাম্পে পরিচালিত সফল হামলায় বিপুল সংখ্যক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে এবং ঘাঁটির বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। ইরানি সংবাদমাধ্যম ফার্স এবং তাসনিম এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, লোহিত সাগরের উত্তরাংশে আকাবা ও ইলাত বন্দরের কাছাকাছি এবং সৌদি সীমান্তের অদূরে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে অবস্থিত ক্যাম্প তিতিন। মার্কিন মেরিন কোরের প্রশিক্ষণ এবং দ্রুত সেনা মোতায়েনের সুবিধার্থে ব্যবহৃত এই ঘাঁটিতে আমেরিকা সম্প্রতি গোপনে তাদের কিছু সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নিয়েছিল। মার্কিন সামরিক কৌশলবিদদের ধারণা ছিল যে এই নতুন স্থাপনা এবং গোপন স্থানান্তর সম্পর্কে ইরানের কাছে কোনো গোয়েন্দা তথ্য নেই। তবে আইআরজিসির এই অতর্কিত ও নিখুঁত হামলা প্রমাণ করেছে যে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক গতিবিধির ওপর তেহরানের অত্যন্ত শক্তিশালী ও বিস্তারিত গোয়েন্দা নজরদারি বজায় রয়েছে। সূত্র: আল মায়াদিন