বিশ্ব

ইউরোপজুড়ে নজিরবিহীন দাবদাহ, হাসপাতালগুলোতে সতর্কতা

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপজুড়ে জেঁকে বসা প্রাণঘাতী নজিরবিহীন দাবদাহের কারণে হাসপাতালগুলো রোগী ধারণক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে উন্মুক্ত স্থানে মদ্যপান নিষিদ্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার তীব্র গরমে পুড়তে থাকা ইউরোপের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষগুলোর সতর্কবার্তার প্রতিধ্বনি করে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

 

বর্তমানে অন্তত ১০ কোটি ১০ লাখ ইউরোপীয় ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার মুখোমুখি হচ্ছেন। রেকর্ড ভাঙা এই দাবদাহে ইতোমধ্যে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ জানিয়েছে, তীব্র গরমে বিশেষ করে বয়োবৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা বেশি আক্রান্ত হওয়ায় জরুরি চিকিৎসাসেবার ডাক ও হাসপাতালে রোগী আসার সংখ্যা ব্যাপক হারে বেড়েছে।

 

তীব্র এই তাপমাত্রার কারণে ফ্রান্স ও স্পেনে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। প্যারিস পুলিশের প্রিফেক্ট প্যাট্রিস ফোরে বলেন, আমরা হাসপাতালগুলোতে ধারণক্ষমতার শেষ সীমায় পৌঁছে যাচ্ছি। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে।

 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্টিফানি রিস্টের কার্যালয় জানিয়েছে, বুধবার প্যারিসে ২৪ ঘণ্টায় ২৫টি হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে এই সংখ্যা থাকে ১০টিরও কম। জাতীয় পর্যায়ে গরমজনিত কারণে জরুরি বিভাগে রোগী আসার সংখ্যা চার গুণ বেড়েছে।

 

লন্ডন অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস জানিয়েছে, বুধবারের তীব্র গরমের কারণে এক দিনে তাদের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি জীবনঝুঁকিপূর্ণ জরুরি কল এসেছে।

 

জার্মান আবহাওয়া দফতর ও ইউরোপীয় জয়েন্ট রিসার্চ সেন্টারের ২০২৫ সালের জনসংখ্যার পূর্বাভাসের ওপর ভিত্তি করে করা হিসাবে দেখা গেছে, ৩৮ কোটিরও বেশি মানুষ ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। জাতিসংঘের জলবায়ু প্রধান সাইমন স্টিল বলেন, এই দাবদাহের পরতে পরতে জলবায়ু সংকটের ছাপ স্পষ্ট। অনুপযোগী ভবন ও অবকাঠামোর কারণে এই পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যতক্ষণ না মানবজাতি বিপুল পরিমাণে কয়লা, তেল এবং গ্যাস পোড়ানো বন্ধ করবে, ততক্ষণ চরম গরমের এই পরিস্থিতি আরও খারাপ হতেই থাকবে।

 

উত্তর ফ্রান্সের পাস-ডি-ক্যালাইস অঞ্চলে তিনজনের মৃত্যু সম্ভবত গরমের কারণেই হয়েছে। একজন প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, প্যারিসের শহরতলিতে একটি গাড়ির ভেতর থেকে তিন বছরের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে বুধবার তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এই সপ্তাহে ফ্রান্সে একই পরিস্থিতিতে আরও দুটি শিশু মারা গেছে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে পুলিশ প্রিফেক্ট ফোরে জানিয়েছেন, শুক্রবার থেকে ফরাসি রাজধানীতে উন্মুক্ত স্থানে মদ্যপান এবং মদ বিক্রি নিষিদ্ধ থাকবে।

 

স্পেনে জুন মাসের তাপমাত্রার আগের সব রেকর্ড ভেঙে গেছে। সেখানকার মৃত্যুহার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মোমো জানিয়েছে, রবিবার থেকে বুধবারের মধ্যে ২১২টি মৃত্যুর পেছনে এই গরমের সম্পর্ক থাকতে পারে। ইতালীয় দৈনিক পত্রিকা কোরিয়ারে ডেলা সেরা দাবদাহে পাঁচজনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে।

 

জার্মানিতে তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রির ঘরে রয়েছে এবং সপ্তাহান্তে তা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোর পূর্বাভাস থাকায় বেশ কয়েকটি উন্মুক্ত স্থানের অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। রেল অপারেটর ডয়চে বান দাবদাহের কারণে সৃষ্ট দাবানল, ভারী বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের ফলে রেল পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার উচ্চ ঝুঁকির কথা জানিয়ে গ্রাহকদের ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। সুইজারল্যান্ডে জুনের রেকর্ড ভেঙে তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে, অন্যদিকে নেদারল্যান্ডস ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গরমের কারণে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সংগৃহীত ছবি
পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহারের ভুলে অবস্থান শনাক্ত, গ্রেপ্তার মাদক কারবারি

পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে একটি আলমারির ভেতর লুকিয়েছিলেন মাদক কারবারি। কিন্তু একটি ভুলের কারণে শেষ রক্ষা হয়নি তার।     পাবলিক ওয়াইফাইয়ে সংযুক্ত হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তার অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ। পরে ওই আলমারি থেকেই তাকে আটক করা হয়। ৩৪ বছর বয়সী জোয়েল লুইস উত্তর-পশ্চিম লন্ডনের ওয়েম্বলির বাসিন্দা। তিনি উত্তর কিলবার্ন এলাকায় কোকেন ও হেরোইন সরবরাহ করতে ‘ববি’ নামের মাদক কারবার পরিচালনা করছিলেন।     ‘দ্য মেট্রো’র বরাত দিয়ে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এনডিটিভি জানিয়েছে, মাদক সরবরাহের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কয়েকজন শিশুর কাছ থেকে জব্দ করা মোবাইল ফোন পরীক্ষা করার পর পুলিশ ওই মাদক কারবারের বিষয়ে তদন্ত শুরু করে। নিজের অবস্থান গোপন রাখতে লুইস বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। তার বিভিন্ন ডিভাইসে ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক বা ভিপিএন ব্যবহার করতেন তিনি।     তবে তিনি যে ঠিকানায় অবস্থান করছিলেন, সেখানে থাকা একটি ডিভাইস পাবলিক ওয়াইফাইয়ের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ায় পুলিশ তার অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।     এরপর ৭ জুলাই ওয়েম্বলির ওই ঠিকানায় তল্লাশি চালায় পুলিশ। গ্রেপ্তার এড়াতে লুইস একটি আলমারির ভেতরে লুকিয়ে পড়েন। তবে পুলিশ দ্রুতই তাকে খুঁজে বের করে। গ্রেপ্তারের সময় তিনি নাকি জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘আপনারা আমাকে কিভাবে খুঁজে পেলেন?’     ‘দ্য মেট্রো’ জানিয়েছে, লুইসের ফোন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তার কাছে থাকা প্রায় ২৫০ জন মাদক ব্যবহারকারীর তালিকা থেকে প্রতিদিন ১০০টিরও বেশি ফোনকল আসত। পুলিশ তার কাছ থেকে কোকেন ও হেরোইনসহ ‘ক্লাস এ’ মাদক উদ্ধার করে।     এসব মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ৮ হাজার ৮০০ পাউন্ড।   এ ছাড়া প্রায় ৮ হাজার পাউন্ড নগদ অর্থ এবং ছয়টি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ফোনগুলোর একটি ‘ববি’ মাদক কারবারের সঙ্গে যুক্ত ছিল। ওই বাড়ি থেকে একটি গুলিভর্তি আগ্নেয়াস্ত্র, ৯ মিলিমিটারের ১৩টি গুলি, একটি ধারালো বড় ছুরি এবং একটি ভাঁজ করা ছুরিও উদ্ধার করে পুলিশ।     পুলিশ জানিয়েছে, উত্তর কিলবার্ন এলাকায় মাদক পরিবহনে সহায়তার জন্য লুইস তরুণদের নিয়োগ করেছিলেন। এর ফলে তারা সহিংসতা, ভয়ভীতি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঝুঁকিতে পড়েছিল। তদন্তের নেতৃত্ব দেওয়া ডিটেকটিভ কনস্টেবল লরেন গ্রেস্টি বলেন, মাদক সরবরাহের এ ধরনের কার্যক্রম তরুণ ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য গুরুতর ক্ষতির কারণ হতে পারে।     দ্য মেট্রো’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তর কিলবার্নে কোকেন ও হেরোইন সরবরাহের অপরাধে হ্যারো ক্রাউন কোর্ট লুইসকে ১২ বছর ৯ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
রণধীর জয়সওয়াল। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীকে ভারতের জোড়া আমন্ত্রণ: ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন ও দ্বিপক্ষীয় সফর

ছবি: সংগৃহীত

মারিব ও তাইজে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ: হুথিদের একাধিক সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু

পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে গত ৫ জুন থেকে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট চলছে। ছবি: আল জাজিরা

ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের ১০০ দিন: চরম ভোগান্তিতে পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীর

পুতিনকে লেখা চিঠিতে রাশিয়ার প্রতি ‘অটুট সমর্থন’ কিমের

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে লেখা এক চিঠিতে উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন রাশিয়ার প্রতি তাঁর দেশের ‘অটুট সমর্থনের’ অঙ্গীকার করেছেন।    একই সঙ্গে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার চলমান যুদ্ধকে তিনি ‘পবিত্র’ বলে উল্লেখ করেছেন। মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।   খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।   ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে উত্তর কোরিয়া ক্রেমলিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিত্রে পরিণত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মস্কোর যুদ্ধ প্রচেষ্টায় সহায়তার বিনিময়ে পিয়ংইয়ং অর্থনৈতিক সুবিধা ও সামরিক প্রযুক্তি পাচ্ছে।   দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা গত বছর জানিয়েছিল, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে প্রায় ২ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা নিহত হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ কোরিয়া বলেছে, নিহত ও আহত মিলিয়ে উত্তর কোরীয় সেনার সংখ্যা প্রায় ৬ হাজার বলে ধারণা করা হয়েছে।’   উত্তর কোরিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) মঙ্গলবার কিমের চিঠির বরাত দিয়ে জানায়, তিনি লিখেছেন, দেশের নিরাপত্তা স্বার্থ ও আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার রক্ষার জন্য চলমান ‘পবিত্র যুদ্ধে’ রাশিয়ার বিজয়ের ব্যাপারে তিনি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী।   চিঠিতে কিম পুতিনকে তাঁর ‘প্রিয় বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, রাশিয়া ও রুশ জনগণের প্রতি উত্তর কোরিয়ার অবিচল সমর্থন থাকবে।   তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌথ সহযোগিতা আরও বিস্তৃত ও গভীর করার বিষয়ে তাঁর এবং উত্তর কোরিয়া সরকারের অবস্থান নিঃসন্দেহে দৃঢ়।   এদিকে, কিমের চিঠি এমন এক সময়ে এল, যখন ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টায় সহায়তার জন্য উত্তর কোরিয়া আরও সেনা পাঠাতে পারে বলে জল্পনা চলছে।   ইউক্রেনের দাবি, ‘উত্তর কোরিয়ার আরও ৫০ হাজার সেনা রাশিয়ায় মোতায়েন করা হতে পারে। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেয়নি কিয়েভ। এসব সেনা কবে মোতায়েন করা হবে, সে বিষয়েও কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি।’   এ দাবির পাশাপাশি জেলেনস্কি দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে সিউল এখনো এ অনুরোধের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

তেহরান দ্রুত সমঝোতা চাইছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেন সংঘাত ও হুথি হামলায় হরমুজ সংক্রান্ত বৈঠক স্থগিত

ইরানে ভাঙা পিঠ-কাঁধ নিয়ে ৫০ ঘণ্টা পাহাড়ে লুকিয়ে ছিলেন মার্কিন সেনা ব্রাভো। ছবি: সংগৃহীত

ইরানি ভূখণ্ডে বিধ্বস্ত মার্কিন যুদ্ধবিমান, ৫০ ঘণ্টা পর সেনা উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত
এক লাফে ১০৭ ডলার ছাড়াল তেলের দাম

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে।  সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৭ ডলারের ওপরে উঠেছে।   সৌদি আরবে নতুন করে হুথি হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার খবরের পাশাপাশি সৌদির একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৭৭ শতাংশ বা ২ দশমিক ৯০ ডলার বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৭ দশমিক ৫১ ডলারে উঠেছে।   একই সময় যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ২ দশমিক ২৭ শতাংশ বা ২ দশমিক ২৭ ডলার বেড়ে ১০২ দশমিক ৩২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বাজার খোলার সময় তেলের দাম ৩ শতাংশেরও বেশি বেড়েছিল।   গত এক সপ্তাহে তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। চলমান সংঘাতের মধ্যে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় ব্রেন্টের দাম এক সপ্তাহে প্রায় ৮ শতাংশ বেড়েছে।   এর ফলে জুলাইয়ের পর প্রথমবারের মতো দুই প্রধান ধরনের অপরিশোধিত তেলের দামই ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে।   এর মধ্যে সৌদি আরব তাদের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। ড্রোন হামলার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাইপলাইনটি বন্ধ করা হয়। ইরাক ও সৌদি আরব জানায়, হামলাটি ইরাক থেকে চালানো হয়েছিল। ইরাকে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা রয়েছে।   প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইনটি আরব উপদ্বীপের মধ্য দিয়ে সৌদি আরবের তেল লোহিত সাগরের দিকে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ পথ। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় গত ছয় মাস ধরে বৈশ্বিক বাজারে সৌদি তেল সরবরাহের জন্য পাইপলাইনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিল।   জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ও বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাইপলাইন দিয়ে প্রতিদিন ৪০ লাখ থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হচ্ছিল, যা বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ৪ থেকে ৫ শতাংশ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬

ইরানে হামলা চালাতে গিয়ে বিমান থেকে পড়ে মেরুদণ্ড ভাঙে মার্কিন কর্মকর্তার

প্রশান্ত মহাসাগরে স্বর্ণ-রুপার বিশাল মজুতের সন্ধান পেলো চীন

মাত্র ৩০০ রুপির ওভেন দিয়ে শুরু, আজ ৭ হাজার ৪০০ কোটির সাম্রাজ্য

0 Comments