ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এ হামলায় রাজধানী কিয়েভসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত ১০ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (২ জুন) ভোরে এ হামলা চালায় রাশিয়া।
স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে কিয়েভে চারজন এবং মধ্যাঞ্চলীয় শহর দিনিপ্রোতে ছয়জন রয়েছেন। এছাড়া হামলায় ১০০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
সিএনএন সূত্রে খবর, কিয়েভে চালানো সম্মিলিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় বেশ কয়েকটি আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং বহু গাড়ি পুড়ে যায়। মঙ্গলবার সকালেও রাজধানীতে হামলার আশঙ্কা অব্যাহত ছিল। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কতা জারি করা হয় এবং শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
কিয়েভের মেয়র এই হামলাকে ‘শত্রুপক্ষের ব্যাপক আক্রমণ’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, শহরের পোদিলস্কি জেলায় একটি বহুতল আবাসিক ভবন রুশ বাহিনীর ধারাবাহিক দুটি হামলায় আংশিকভাবে ধসে পড়েছে।
ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো কয়েকজন আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
উত্তর সিনাই প্রদেশের পূর্বাঞ্চলীয় শহর রাফায় মিসর ও গাজা উপত্যকার মধ্যকার কংক্রিটের সীমানাপ্রাচীরের সামনে মোতায়েন মিসরীয় সেনাবাহিনীর বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা। ২০ অক্টোবর, ২০২৩ উত্তর সিনাই প্রদেশের পূর্বাঞ্চলীয় শহর রাফায় মিসর ও গাজা উপত্যকার মধ্যকার কংক্রিটের সীমানাপ্রাচীরের সামনে মোতায়েন মিসরীয় সেনাবাহিনীর বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা ইরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের দুর্বল করার পর সুন্নি মুসলিম রাষ্ট্রগুলোই ইসরায়েলের পরবর্তী কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলে দাবি করেছেন এক শীর্ষস্থানীয় জায়নবাদী অধিকারকর্মী। তাঁর পূর্বাভাস, ১৫ বছরের মধ্যে মিসরের সঙ্গে যুদ্ধে জড়াবে ইসরায়েল। জেরুজালেমে অনুষ্ঠিত ‘জিউইশ নিউজ সিন্ডিকেট (জেএনএস) ইন্টারন্যাশনাল পলিসি সামিট’–এ এই মন্তব্য করেন আমিয়াদ কোহেন নামের এ অধিকারকর্মী। ইসরায়েলের জাতীয়তাবাদী শিবিরের অন্যতম শীর্ষ নেতা এবং হারুত সেন্টারের প্রধান নির্বাহী কোহেনের মতে, মিসর ও তুরস্ক দীর্ঘ মেয়াদে ইসরায়েল এবং পশ্চিমা বিশ্বের জন্য বড় হুমকি। সম্মেলনে অংশ নেওয়া অতিথিদের উদ্দেশে কোহেন বলেন, ‘এখন থেকে ১৫ বছর পর মিসরের সঙ্গে ইসরায়েলের যুদ্ধ হবে।’ এ বক্তব্যের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে কোহেন পূর্বাভাস দেন, ‘শেষ পর্যন্ত মুসলিম ব্রাদারহুডই মিসরের ক্ষমতা দখল করবে।’ ইরান ও দেশটির কথিত ‘প্রতিরোধের অক্ষ’ (অ্যাকসিস অব রেজিস্ট্যান্স)-এর সঙ্গে সংঘাতের পর ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অবস্থান নিয়ে আলোচনাকালে কোহেন এ মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, ইসরায়েলের নজর এখন ‘শিয়া শক্তি’র দিক থেকে সরিয়ে ‘সুন্নি’ রাজনৈতিক দলগুলোর দিকে দেওয়া উচিত। শেষ পর্যন্ত মুসলিম ব্রাদারহুডই মিসরের ক্ষমতা দখল করবে। আমিয়াদ কোহেন, ইসরায়েলি জাতীয়তাবাদী নেতা কোহেন বারবার মিসরের ইসলামপন্থী আন্দোলন মুসলিম ব্রাদারহুডকে একটি বৈশ্বিক হুমকি হিসেবে চিত্রিত করেন। আন্দোলনটি ‘যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক নম্বর হুমকি’ দাবি করে তিনি সতর্ক করেন, তারা ফ্লোরিডা ও টেক্সাসের মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতেও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। মুসলিম রাজনীতিবিদ জোহরান মামদানির নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনে জয়ের প্রসঙ্গ টেনে কোহেন দাবি করেন, এ জয়ের ফলে নিউইয়র্ক ইতিমধ্যে মুসলিম ব্রাদারহুডের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্য উদ্ধৃত করে তুরস্ককেও একটি উদীয়মান হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন আমিয়াদ কোহেন। তাঁর দাবি, ‘তুরস্ক এখন আধিপত্য বিস্তার করছে।’ আঙ্কারার এ ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক প্রভাবকে ইসরায়েলের জন্য একটি বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা উচিত বলেও তিনি যুক্তি দেন। ইরান ও দেশটির কথিত ‘প্রতিরোধের অক্ষ’-এর সঙ্গে সংঘাতের পর ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অবস্থান নিয়ে আলোচনাকালে কোহেন এ মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, ইসরায়েলের নজর এখন ‘শিয়া শক্তি’র দিক থেকে সরিয়ে ‘সুন্নি’ রাজনৈতিক দলগুলোর দিকে দেওয়া উচিত। কোহেনের এ বক্তব্য ইসরায়েলের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলের একটি ক্রমবর্ধমান প্রবণতাকে ফুটিয়ে তোলে। সেখানে সুন্নি শক্তিগুলো, বিশেষ করে তুরস্ক ও মিসরকে, ভবিষ্যতের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলি গুপ্তচরবৃত্তি মামলার দণ্ডিত আসামি জোনাথন পোলার্ডও গত মাসে সতর্ক করেন যে ইরান দুর্বল হওয়ার পর তুরস্ক ও মিসর ইসরায়েলের পরবর্তী লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। ইসরায়েলকে শক্তিশালী হতে হবে, যুক্তরাষ্ট্রকেও শক্তিশালী হতে হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, যুক্তরাষ্ট্র এখন দুর্বল। পোলার্ড যুক্তি দেখান, ইসরায়েলের প্রধান কৌশলগত হুমকি হিসেবে তেহরানের জায়গা নিচ্ছে আঙ্কারা। তিনি তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের বিরুদ্ধে আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টার অভিযোগ তোলেন। একই আলোচনায় পোলার্ড জানান, কায়রো ও তেল আবিবের মধ্যে কয়েক দশকের পুরোনো শান্তিচুক্তি থাকা সত্ত্বেও মিসর ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। ইসরায়েলি ও আন্তর্জাতিক রক্ষণশীল ব্যক্তিত্ব, নীতিনির্ধারক ও অধিকারকর্মীদের জন্য ‘জেএনএস সামিট’ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম বা মঞ্চে পরিণত হয়েছে। এবারের সম্মেলনে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের ভবিষ্যৎ, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইসরায়েলের যুদ্ধগুলোর ভূরাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়। মুসলিম রাজনীতিবিদ জোহরান মামদানির নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনে জয়ের প্রসঙ্গ টেনে কোহেন দাবি করেন, এ জয়ের ফলে নিউইয়র্ক ইতিমধ্যে মুসলিম ব্রাদারহুডের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। ইসরায়েল ও মিসর ১৯৭৯ সালে একটি শান্তিচুক্তি সই করে এবং কয়েক দশক ধরে তাদের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা বজায় রয়েছে। অন্যদিকে গাজা, জেরুজালেম এবং সামগ্রিক আঞ্চলিক সমস্যা নিয়ে উত্তেজনার কারণে ইসরায়েল ও তুরস্কের মধ্যকার সম্পর্কে ওঠানামা চলছে। কোহেন জোর দিয়ে বলেন, ইসরায়েলকে অবশ্যই এমন একটি ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে, যেখানে দেশটির প্রধান চ্যালেঞ্জ শিয়াদের কাছ থেকে নয়, বরং সুন্নি রাজনৈতিক শক্তি ও আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে আসবে। কোহেন বলেন, ‘ইসরায়েলকে শক্তিশালী হতে হবে, যুক্তরাষ্ট্রকেও শক্তিশালী হতে হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, যুক্তরাষ্ট্র এখন দুর্বল।’
কোনো অভিযোগ বা বিচার ছাড়াই আড়াই বছরের বেশি সময় ধরে ইসরায়েলের কারাগারে আটক থাকার পর মুক্তি পেয়েছেন ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মী আবদুল্লাহ শাতাত। দীর্ঘ সময় কারাবন্দি থাকার পর মুক্তি পেলেও মুক্তির মুহূর্তেই তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কারাগার থেকে বের হওয়ার কয়েক মুহূর্ত পরই আবদুল্লাহ শাতাত হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে তাকে ঘিরে থাকা লোকজন দ্রুত তাকে সহায়তা করতে এগিয়ে যান। মুক্তির সময় শাতাতকে খুবই দুর্বল ও বিভ্রান্ত অবস্থায় দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। অধিকারকর্মীদের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে তাকে নির্যাতন করা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত খাবার না দিয়ে রাখা হয়েছিল। তাদের অভিযোগ, এসব কারণে তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে। তবে এ বিষয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অভিযোগ করে যে দীর্ঘদিন ধরে কোনো অভিযোগ বা বিচার ছাড়াই ফিলিস্তিনিদের আটক রাখার নীতি অনুসরণ করছে ইসরায়েল। এই ব্যবস্থাকে তারা ‘প্রশাসনিক আটক’ হিসেবে উল্লেখ করে। সংস্থাটির দাবি—এই নীতিটি ‘বর্ণবৈষম্যভিত্তিক শাসনব্যবস্থা’র একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অ্যামনেস্টির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইসরায়েলের বিভিন্ন কারাগারে ৯ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি পুরুষ, নারী ও শিশু বন্দি অবস্থায় আছেন। অন্যদিকে চলতি মাসের শুরুতে প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা দাবি করে, ফিলিস্তিনি বন্দিদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতা, শারীরিক নির্যাতন এবং অপমানজনক আচরণের একাধিক ঘটনা ঘটেছে। ওই প্রতিবেদনে নির্যাতন থেকে বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের সাক্ষ্যও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেখানে তারা কারাগারে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়। এই ঘটনার পর ফিলিস্তিনি বন্দিদের পরিস্থিতি এবং ইসরায়েলের আটক নীতি নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তাচ, জাহাজ চলাচল, সংশ্লিষ্ট সেবা এবং ফি নির্ধারণের বিষয়গুলো নিয়ে যৌথ কমিটি গঠনে সম্মত হয়েছে ইরান ও ওমান। মঙ্গলবার (২৩ জুন) মাসকাটে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির ওমান সফরকালে সুলতান হাইথাম বিন তারিক এবং ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল-বুসাইদির সঙ্গে বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে গঠিত যৌথ কমিটি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, সংশ্লিষ্ট সেবা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সম্ভাব্য ফি নির্ধারণের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করবে। পাশাপাশি উপকূলীয় অন্যান্য রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গেও এ বিষয়ে আলোচনা চালানো হবে। ইরান ও ওমান পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একইসঙ্গে প্রণালিসংক্রান্ত যেকোনও ব্যবস্থাপনায় দুই উপকূলীয় রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও সার্বভৌম অধিকারকে সম্মান জানানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।