রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৬ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫.৭।
শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে ভূমিকম্পের ফলে আতঙ্কিত মানুষজন দ্রুত ঘর ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। এ সময় বিভিন্ন জায়গায় দেয়াল ধস ও ফাটলের ঘটনা ঘটে।
দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. মঈনুল আহসান জানান, ঢাকায় অন্তত তিনজনের মৃত্যু এবং শতাধিক মানুষের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হতাহতদের চিকিৎসায় দেশের সব হাসপাতালে জরুরি মেডিকেল টিম কাজ করছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরিস্থিতি সরাসরি মনিটর করছে।
ঢাকায় মৃতদের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। বাকি দুজনের পরিচয় জানা যায়নি। আর ঢাকার বাইরে নরসিংদীতে দুজন এবং নারায়ণগঞ্জে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে নরসিংদীর গাবতলীতে বাসার দেওয়াল চাপা পড়ে ওমর (১০) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পলাশে মাটির দেওয়াল ধসে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। আর রূপগঞ্জে দেয়াল ধসে ফাতেমা (১) নামে এক শিশু মারা গেছে।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্পের প্রভাবে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে মেডিকেল কলেজের ৫২তম ব্যাচের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাফিউল ইসলাম রয়েছেন। তার মা-ও আরও অনেকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া এই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত শতাধিক হতাহতের খবর পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে অনেকে গুরুতর রয়েছেন।
আরও বলা হয়েছে, আনঅফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী— স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে ১০ জন আহত গিয়েছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও একই সংখ্যক ১০ জন আহত ভর্তি হয়েছেন। গাজীপুরের তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজে আহত ১০ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও নরসিংদী জেলা হাসপাতালে ৪৫ জন আহত, এর মধ্যে ৩ জনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। এমনকি ১০০ বেড হাসপাতালেও ১০ জন আহত ভর্তি আছেন।
গাজীপুরে শতাধিক শ্রমিক আহত
অপরদিকে ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত হয়ে গাজীপুরের শ্রীপুরে তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে শতাধিক পোশাক শ্রমিক আহত হয়েছেন।
শুক্রবার সকালে ভূমিকম্পে উঁচু ভবন দুলতে শুরু করলে ঘরবাড়ি, অফিস, শিল্পকারখানা, দোকানপাট থেকে বের হয়ে মানুষ দ্রুত খোলা জায়গায় ছুটে আসে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শ্রীপুর উপজেলার গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি ডেনিমেক কারখানা ও নগরীর ইটাহাটা এলাকায় স্থানীয় কোস্ট টু কোস্ট কারখানায় ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে শতাধিক শ্রমিক আহত হন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আবার অনেকেই গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কারখানা ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।
শ্রীপুরের ডেনিমেক কারখানার শ্রমিকরা জানান, সকালে কারখানার সাত তলা ভবনের বিভিন্ন ফ্লোরে কাজ চলছিল। হঠাৎ ভূমিকম্প শুরু হলে ভবন দুলতে থাকে। এ সময় সাইরেন বেজে উঠলে কারখানার শ্রমিকরা ভয়ে দ্রুত নিচে নামতে গেলে পদদলিত হয়ে অনেক শ্রমিক আহত হন।
এছাড়া, গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী, জয়দেবপুর ও জেলার কালিয়াকৈর, শ্রীপুর, কালীগঞ্জ ও কাপাসিয়াজুড়ে হঠাৎ মোবাইল নেটওয়ার্কে চাপ বৃদ্ধি পায়। কলড্রপ ও নেটওয়ার্ক অস্থিরতার সৃষ্টি হয়।
গাজীপুরের নবাগত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলম হোসেন বলেন, গাজীপুরে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। কিছু শ্রমিক হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে আহত হয়েছেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ঘিরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) শতাধিক মামলা কেন্দ্র করে নতুন করে সংকট তৈরি হয়েছে। খাত সংশ্লিষ্টদের দাবি, সরকার অনুমোদিত প্রক্রিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর পরও রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে হঠাৎ করে মানব পাচার ও অর্থ পাচারের মুখোমুখি দাঁড় করানো হচ্ছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) একটি মামলার তদন্তে অভিযোগগুলোকে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ উল্লেখ করে আসামিদের অব্যাহতির সুপারিশ করলেও একই অভিযোগে এরপরও দুদক মামলা করেছে, যা রহস্যের জন্ম দিয়েছে। তবে দুদকের এসব মামলার কোনোটিতেই কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগকারী নেই, নেই কোনো ভুক্তভোগী বা মানব পাচারের শিকার কোনো ব্যক্তির অভিযোগ, এমনকি অর্থ পাচারের কোনো আলামতও নেই মামলার এজাহারে। এ ছাড়া মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকেও অনিয়মের প্রমাণ না পাওয়ার কথা জানানোর পরও দুদকের একের পর এক মামলা দায়েরে থমকে গেছে মালয়েশিয়া শ্রমবাজার, অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ব্যবসায়ী ও কর্মীরা। এই অচলাবস্থা কাটিয়ে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য ফের উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার দেশটির রাজধানী পুত্রজায়ায় দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোকে কেন্দ্র করে চলমান মামলা ও তদন্ত নিষ্পত্তির শর্তে ফের শ্রমবাজার খুলে দেওয়ার কথা বলেছে মালয়েশিয়া। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক শেষে যৌথ ঘোষণাপত্রে এই শর্তের কথা উল্লেখ করা হয়। ঘোষণাপত্রে সাতটি বিষয় উল্লেখ করে মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে সব সোর্স কান্ট্রির জন্য প্রযোজ্য একটি ডিজিটাল ও এআই ভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা চালুর কথা জানানো হয়, যার লক্ষ্য দালালদের দৌরাত্ম্য ও অভিবাসন খরচ কমানো এবং নিয়োগকর্তারাই যেন নিয়োগের সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন, তা নিশ্চিত করা। এর ফলে বাংলাদেশি শ্রমিকরা ‘জিরো কস্টে’ মালয়েশিয়ায় যেতে পারবে, অর্থাৎ মালয়েশিয়ায় কাজ পেতে তাদের কোনো খরচ থাকবে না। তথ্য বলছে, ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পরপরই অফিয়া ওভারসিজের (আরএল:১০১০) মালিক ব্যবসায়ী আলতাফ খান মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো ১০১টি রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে পল্টন থানায় মানব পাচার ও চাঁদাবাজির একটি মামলা দায়ের করেন। অভিযোগ রয়েছে, সে সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বেশ কয়েকজনকে দিয়ে তৎকালীন ওসির ওপর চাপ সৃষ্টি করে মামলা গ্রহণে বাধ্য করা হয়। এরপর মামলাটির তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আদালত থেকে সিআইডিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সিআইডি তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, মামলা তদন্তে চূড়ান্তভাবে প্রতীয়মান হয় যে, মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর ধারা ৬/৭/৮/৯/১০ তৎসহ দণ্ডবিধির ধারা ৪০৬/৪২০/৩৮৫/৩৮৬/৪২৭/৩৪ অনুযায়ী আলতাফ খানের করা অভিযোগগুলো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় তাদের অত্র মামলার দায় হতে অব্যাহতি প্রদানের প্রার্থনা করা হলো। একই সঙ্গে, মিথ্যা মামলা দায়ের করায় বাদীর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২১১ ধারায় এবং মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর ১৫ ধারার বিধান অনুযায়ী প্রসিকিউশন দাখিলের প্রস্তাব করা হয় সিআইডির প্রতিবেদন। এরপর বাদী আলতাফ হোসেন আদালতে নারাজি প্রতিবেদন দিলে ফের মামলাটি তদন্ত করার জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) দায়িত্ব দেওয়া হয়। বর্তমানে মামলাটি ডিবিতে তদন্তাধীন। এর মধ্যেই একই ধরনের অভিযোগে দুদক মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো ১০১টি রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে মামলা করে। সে সময় মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশন অনুসন্ধান করে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে মানব পাচার ও অর্থ পাচার হয়নি মর্মে প্রতিবেদন প্রদান করে। তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের এপ্রিলে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি দেয়। সেখানে তারা মামলাগুলো অসত্য উল্লেখ করে দুই দেশের স্বার্থে মামলাগুলো প্রত্যাহারের অনুরোধ জানায়। এরপর বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে একই মাসের শেষ সপ্তাহে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারি জেনারেলের কাছে সত্যতা না পাওয়ায় এসব মামলা প্রত্যাহার করা হবে জানিয়ে ফের কর্মী পাঠানো শুরু করার অনুরোধ করা হয়। তবে সে সময় দুদক মামলা প্রত্যাহারের পরিবর্তে ধারাবাহিকভাবে মামলা দিতেই থাকে। যদিও তৎকালীন এই মামলাগুলো দায়ের নিয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আপত্তি ছিল বলে জানা গেছে। মামলার তথ্য বিশ্লেষণ: দুদকের মামলাগুলোর নথি সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করেছে কালবেলা। এতে দেখা গেছে, প্রতিটি মামলার ধরন একই। প্রতিটি মামলার এজাহারে ঐকিক নিয়মে যোগ করে টাকার অঙ্কে বসিয়ে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। কোনো এজাহারেই সুনির্দিষ্ট কোনো ভুক্তভোগীর নাম-ঠিকানা নেই। প্রতিটি মামলার মূল অভিযোগেই বলা হয়েছে—‘আসামিরা অপরাধজনক বিশ্বাস ভঙ্গের মাধ্যমে অসৎ উদ্দেশ্যে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে বায়রার বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালনকালে সিন্ডিকেট করে বিএমইটি ও বায়রার রেজিস্ট্রেশনের শর্ত ভঙ্গ করে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা গ্রহণপূর্বক মালয়েশিয়া শ্রমিক রিক্রুটের জন্য এজেন্ট হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে রিক্রুটেড শ্রমিকদের অবৈধভাবে ক্ষতি সাধন করে বিভিন্ন ধাপে বাড়তি অর্থ গ্রহণের অসৎ উদ্দেশ্যে সরকারি দলের বিভিন্নভাবে প্রভাব খাটিয়ে চুক্তিবদ্ধ আইনসংগত পারিশ্রমিক ব্যতীত এবং চুক্তি বহির্ভূত কর্মকাণ্ড করে সরকারের এজেন্ট হিসেবে অবৈধ পারিতোষিক গ্রহণ করে মালয়েশিয়ায় প্রেরিত কর্মীর নিকট হতে পাসপোর্ট, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রতি কর্মীর নিকট হতে নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণপূর্বক আত্মসাৎ করেছেন এবং অবৈধভাবে গৃহীত উক্ত অর্থ অবৈধ পন্থায় ছদ্মাবৃত্ত পূর্বক, হস্তান্তর, স্থানান্তর, রূপান্তরের মাধ্যমে অর্থ পাচার করে আসামি দণ্ডবিধির ১২০(বি)/১৬১/১৬২/১৬৩/১৬৪/১৬৫(ক)/৪২০/৪০৯ ধারা ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।’ প্রতিটি রিক্রুটিং এজেন্সি যে পরিমাণ শ্রমিক মালয়েশিয়ায় পাঠিয়েছে, সেই সংখ্যাকে ১ লাখ ৫০ হাজার দিয়ে গুণ করে টাকার অঙ্ক বের করা হয়েছে। তার সঙ্গে যোগ করা হয়েছে প্রতি কর্মীর পাসপোর্ট বাবদ ১০ হাজার টাকা এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাবদ ৭ হাজার ৫০০ টাকা। সেই মোট টাকার অঙ্কে ছদ্মাবৃত্ত, হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে আসামিদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এই অর্থ কোন চ্যানেলে, কীভাবে, কার মাধ্যমে কোথায় লন্ডারিং হয়েছে—এ-সংক্রান্ত তথ্য কোনো মামলার এজাহারেই নেই। এ ছাড়া মামলার এজাহারে আনা অভিযোগের সঙ্গে বাস্তবের বিস্তর ফারাক দেখা গেছে। সব মামলাতেই বলা হয়েছে—আসামিরা বায়রার বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। তবে ১০১টি রিক্রুটিং এজেন্সির মধ্যে অন্তত ৯০টি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক ওই সময়ে বায়রার কোনো পদেই ছিল না। এ ছাড়া এজাহারে আসামিদের বিরুদ্ধে ‘বিএমইটি ও বায়রার রেজিস্ট্রেশনের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে বাস্তবতা হলো—বিএমইটির স্মার্ট কার্ড বা ছাড়পত্র ছাড়া কোনো কর্মীই ইমিগ্রেশন পার হতে পারে না। সেক্ষেত্রে শর্ত ভঙ্গ করে বা অনুমোদন না নিয়ে একজন কর্মীর পক্ষেও মালয়েশিয়া যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। মামলার এজাহারে আরও অভিযোগ আনা হয়েছে, ‘রিক্রুটেড শ্রমিকদের অবৈধভাবে ক্ষতিসাধন করে বিভিন্ন ধাপে বাড়তি অর্থ গ্রহণ করা হয়েছে। তবে কোনো মামলাতেই কোনো সুনির্দিষ্ট ভুক্তভোগীর তথ্য বিবরণী নেই। কবে কার কাছ থেকে কত টাকা বেশি নেওয়া হয়েছে, সেই সংক্রান্ত কোনো তথ্য কোনো মামলার এজাহারে উল্লেখ নেই। এজাহারের আরেক জায়গায় মন্ত্রণালয়ের বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সরকার নির্ধারিত অর্থের চেয়েও অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে বাস্তবতা হলো—দুদকের মামলা দায়েরের আগেই বিএমইটি থেকে সালিশি বোর্ড গঠন করে রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে কোনো কর্মীর অভিযোগ থাকলে যেসব অভিযোগের নিষ্পত্তি করা হয় এবং সব রিক্রুটিং এজেন্সিকে ‘গুড সার্টিফিকেট’ দেওয়া হয়। এ ছাড়া কোনো রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে সেই এজেন্সির লাইসেন্স নবায়ন করা হয় না। তবে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকায় বেশিরভাগ লাইসেন্স নবায়ন করা হয়েছে। এ ছাড়া বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার খোলার উদ্যোগ নিয়ে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ে বেশ কিছু রিক্রুটিং এজেন্সির নামের তালিকা পাঠানো হয়, যেখানে এই ১০১টি এজেন্সির অধিকাংশই ছিল। জানতে চাইলে দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মীর আহমেদ আলী সালাম কালবেলাকে বলেন, ‘অনুসন্ধান পর্যায়ে মূলত একটি প্রাথমিক ভিত্তি তৈরি করা হয়। সেখানে যদি কোনো ভুলত্রুটি থাকে, সেগুলো তদন্তের মধ্যেই ঠিক হয়ে যায়। তদন্তে গেলে আরও বিস্তারিত বিষয় সামনে আসে—কীভাবে টাকা নেওয়া হয়েছে, কার কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে, কারা ভুক্তভোগী—এসব বিষয় তখন পরিষ্কার হয়। তবে ভুক্তভোগী সবসময় প্রয়োজন হয় না, কারণ কোনো ক্রিমিনাল অফেন্স হলে সেটি একটি পেনাল অফেন্স হিসেবে গণ্য হয়। অনেক সময় মামলায় বিভিন্ন ত্রুটি থেকে যায়, তা হতে পারে অনুসন্ধানকারী বা তদন্ত কর্মকর্তার সীমাবদ্ধতার কারণে, আবার অন্য কোনো কারণেও হতে পারে। তবে মামলাটি ট্রায়ালে গেলে এসব ত্রুটি ধরা পড়ে। তখন প্রয়োজন হলে আদালত থেকে ফের তদন্তের জন্য পাঠানো হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিচার প্রক্রিয়ায় অবশ্যই উভয়পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়। প্রসিকিউশনের পাশাপাশি আসামিপক্ষও তাদের ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ পায়। যদি তারা প্রমাণ করতে পারে যে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার পেছনে যুক্তিযুক্ত কারণ ছিল, তাহলে আদালত তা বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত দেন। বাজার খুলতে মামলা প্রত্যাহারের শর্ত মালয়েশিয়ার: মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে শ্রমবাজার খোলার প্রশ্নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল চলমান মামলাগুলোর নিষ্পত্তি। বৈঠক শেষে দুই দেশের পক্ষ থেকে যে যৌথ ঘোষণাপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছে, তাতে সাতটি প্রধান বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘোষণাপত্রে মালয়েশিয়া পক্ষ তাদের আন্তর্জাতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করতে পারে—এমন যেকোনো ভিত্তিহীন বা বিদ্বেষপূর্ণ কর্মকাণ্ড (মামলা) বন্ধের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে। মূলত এসব মামলার কারণেই শ্রমবাজার খোলার বিষয়টি থমকে আছে। ঘোষণাপত্রে বলা হয়, পুত্রজায়ায় এক সৌহার্দ্যপূর্ণ ও গঠনমূলক পরিবেশে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া সরকারের মধ্যে শ্রম অভিবাসন বিষয়ে একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে। এতে মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রী দাতোশ্রী রামানান রামাকৃষ্ণ এবং বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তার সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। বৈঠক শেষে যৌথ ঘোষণাপত্রে সাতটি বিষয় উল্লেখ করে বলা হয়, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া শ্রম অভিবাসনে তাদের দীর্ঘস্থায়ী এবং পরস্পরের লাভজনক অংশীদারত্বের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছে। একটি স্বচ্ছ, অন্তর্ভুক্তিমূলক, বাস্তবসম্মত কাঠামোর মাধ্যমে সহযোগিতা জোরদার করে নিয়োগ-সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করার পাশাপাশি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করা হবে। বৈঠকে উভয়পক্ষ মালয়েশিয়ার খাতভিত্তিক চাহিদার ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রম বাজার ফের খোলার প্রক্রিয়া দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়ে সম্মত হয়। পাশাপাশি একটি ন্যায্য, নৈতিক ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতেও উভয়পক্ষ সম্মত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মধ্যস্থতাকারী ও অভিবাসন খরচ কমানোর জন্য কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা দূর করা, বিশ্বাসযোগ্য ও যোগ্য নিয়োগকারী সংস্থার (রিক্রুটিং এজেন্সি) মাধ্যমে শ্রমিক পাঠানো এবং আটকে পড়া কর্মীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা। ঘোষণাপত্রে মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে সব সোর্স কান্ট্রির জন্য প্রযোজ্য একটি ডিজিটাল ও এআই ভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা চালুর কথাও জানানো হয়, যার লক্ষ্য দালালদের দৌরাত্ম্য ও অভিবাসন খরচ কমানো এবং নিয়োগকর্তারাই যেন নিয়োগের সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন, সেটা নিশ্চিত করা। এর ফলে বাংলাদেশি শ্রমিকদের মালয়েশিয়ায় কাজ পেতে কোনো খরচ থাকবে না, যা আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) নির্দেশনা অনুযায়ী ‘নিয়োগকর্তাই পরিশোধ করবেন’ নীতির অংশ। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কর্মী পাঠানো অন্য সব দেশকে সম্পৃক্ত করে একটি বৈশ্বিক উদ্যোগ হিসেবে এই ধরনের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বাস্তবায়নে পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়। উভয়পক্ষ শ্রমিক নিয়োগে মানব পাচার সংক্রান্ত চলমান মামলাগুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মালয়েশিয়া পক্ষ তাদের আন্তর্জাতিক সুনামকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে—এমন যেকোনো ভিত্তিহীন বা বিদ্বেষপূর্ণ কর্মকাণ্ড বন্ধের ওপর জোর দিয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ পক্ষ আইনের শাসন, যথাযথ প্রক্রিয়া, জবাবদিহি এবং সময়োপযোগী বিচার নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছে।
নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন নব্য জেএমবির সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে এক শিশুকে হেফাজতে নিয়েছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে হবিগঞ্জ সদর থানার এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিটিটিসির একটি আভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে তাকে হেফাজতে নেয়। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফা আখতার প্রীতি। সিটিটিসি সূত্রে জানা যায়, হেফাজতে নেওয়া শিশু শেরে বাংলা নগর থানায় দায়েরকৃত সন্ত্রাসবিরোধী মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আহসান জহির খান, দানিয়েল ইসলাম হাসান ও রাসেল ওরফে পলাশ ওরফে আবু বাছের আল ফারুকীর সাথে যোগাযোগ রয়েছে মর্মে জানা যায়। সিটিটিসি সূত্রে আরও জানা যায়, হেফাজতে নেওয়া শিশু অনলাইনে অত্যন্ত সক্রিয়। সে দাওলাতুল ইসলাম (আইএস) এর পক্ষে উগ্রবাদী পোস্ট শেয়ার করে সদস্য নিয়োগ করত। এছাড়া বোমা তৈরির পিডিএফ ফাইল শেয়ার করত এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মাধ্যমে শিয়া মসজিদ, পুলিশের চেকপোস্ট ও ইসকন মন্দিরে হামলার পরিকল্পনা ও উসকানি দিত বলে জানা যায়। বিধি অনুযায়ী হেফাজতে নেওয়া শিশুকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
রাজধানীর বনানী এলাকায় ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে অভিযান শুরুর কয়েক মিনিটের মধ্যেই দোকানদার ও ব্যবসায়ীরা নিজ উদ্যোগে মালামাল সরিয়ে নেন। বুধবার (১ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ট্রাফিক গুলশান বিভাগের উদ্যোগে এ উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। অভিযান শুরুর মাত্র ৫ মিনিটের মধ্যেই ফুটপাত ও সড়কের ওপর থাকা দোকানের বর্ধিত অংশ, রান্নার সরঞ্জাম, গ্রিল মেশিন, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন সামগ্রী দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে এ সময় ফুটপাতে রাখা কয়েকটি হোটেলের মালামাল জব্দ করা হয় বলে জানা গেছে। কর্মকর্তারা জানান, ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা সম্পূর্ণ অবৈধ। নিয়মিত অভিযান ও নজরদারির কারণে ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হয়েছে। তাই অভিযান শুরুর আগেই তারা নিজেদের মালামাল সরিয়ে নেন। ট্রাফিক গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, “আমরা ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। ভবিষ্যতেও এই তদারকি অব্যাহত থাকবে।” তিনি আরও জানান, অভিযানে ডিএমপির স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট এবং সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ট্রাফিক গুলশান বিভাগের ডিসি মো. মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে থেকে কার্যক্রম তদারকি করেন। ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।