রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৬ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫.৭।
শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে ভূমিকম্পের ফলে আতঙ্কিত মানুষজন দ্রুত ঘর ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। এ সময় বিভিন্ন জায়গায় দেয়াল ধস ও ফাটলের ঘটনা ঘটে।
দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. মঈনুল আহসান জানান, ঢাকায় অন্তত তিনজনের মৃত্যু এবং শতাধিক মানুষের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হতাহতদের চিকিৎসায় দেশের সব হাসপাতালে জরুরি মেডিকেল টিম কাজ করছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরিস্থিতি সরাসরি মনিটর করছে।
ঢাকায় মৃতদের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। বাকি দুজনের পরিচয় জানা যায়নি। আর ঢাকার বাইরে নরসিংদীতে দুজন এবং নারায়ণগঞ্জে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে নরসিংদীর গাবতলীতে বাসার দেওয়াল চাপা পড়ে ওমর (১০) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পলাশে মাটির দেওয়াল ধসে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। আর রূপগঞ্জে দেয়াল ধসে ফাতেমা (১) নামে এক শিশু মারা গেছে।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্পের প্রভাবে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে মেডিকেল কলেজের ৫২তম ব্যাচের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাফিউল ইসলাম রয়েছেন। তার মা-ও আরও অনেকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া এই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত শতাধিক হতাহতের খবর পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে অনেকে গুরুতর রয়েছেন।
আরও বলা হয়েছে, আনঅফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী— স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে ১০ জন আহত গিয়েছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও একই সংখ্যক ১০ জন আহত ভর্তি হয়েছেন। গাজীপুরের তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজে আহত ১০ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও নরসিংদী জেলা হাসপাতালে ৪৫ জন আহত, এর মধ্যে ৩ জনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। এমনকি ১০০ বেড হাসপাতালেও ১০ জন আহত ভর্তি আছেন।
গাজীপুরে শতাধিক শ্রমিক আহত
অপরদিকে ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত হয়ে গাজীপুরের শ্রীপুরে তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে শতাধিক পোশাক শ্রমিক আহত হয়েছেন।
শুক্রবার সকালে ভূমিকম্পে উঁচু ভবন দুলতে শুরু করলে ঘরবাড়ি, অফিস, শিল্পকারখানা, দোকানপাট থেকে বের হয়ে মানুষ দ্রুত খোলা জায়গায় ছুটে আসে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শ্রীপুর উপজেলার গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি ডেনিমেক কারখানা ও নগরীর ইটাহাটা এলাকায় স্থানীয় কোস্ট টু কোস্ট কারখানায় ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে শতাধিক শ্রমিক আহত হন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আবার অনেকেই গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কারখানা ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।
শ্রীপুরের ডেনিমেক কারখানার শ্রমিকরা জানান, সকালে কারখানার সাত তলা ভবনের বিভিন্ন ফ্লোরে কাজ চলছিল। হঠাৎ ভূমিকম্প শুরু হলে ভবন দুলতে থাকে। এ সময় সাইরেন বেজে উঠলে কারখানার শ্রমিকরা ভয়ে দ্রুত নিচে নামতে গেলে পদদলিত হয়ে অনেক শ্রমিক আহত হন।
এছাড়া, গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী, জয়দেবপুর ও জেলার কালিয়াকৈর, শ্রীপুর, কালীগঞ্জ ও কাপাসিয়াজুড়ে হঠাৎ মোবাইল নেটওয়ার্কে চাপ বৃদ্ধি পায়। কলড্রপ ও নেটওয়ার্ক অস্থিরতার সৃষ্টি হয়।
গাজীপুরের নবাগত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলম হোসেন বলেন, গাজীপুরে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। কিছু শ্রমিক হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে আহত হয়েছেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
রাজধানীর মতিঝিল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। স্বজনদের অভিযোগ, অ্যাপেনডিক্স ফেটে যাওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও সময়মতো অস্ত্রোপচার না হওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, হাসপাতালে আনার সময়ই রোগীর শারীরিক অবস্থা গুরুতর ছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তীব্র পেটব্যথা নিয়ে মাহিমা নামের ওই কিশোরীকে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নেওয়া হয়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের পরামর্শে আলট্রাসনোগ্রাম করানো হলে অ্যাপেনডিক্স ফেটে যাওয়ার বিষয়টি শনাক্ত হয়। পরে অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার আগেই শনিবার সকালে মাহিমার মৃত্যু হয়। হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, রোগীর মৃত্যুর পর স্বজনরা মরদেহ নিয়ে গাজীপুরে চলে যান এবং সেখানেই রাতে দাফন করা হয়। পরে রাত ১০টার দিকে শাহজাহানপুর ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের পরিচয় দিয়ে শাহরিয়ার সবুজ নামে একজন হাসপাতালে এসে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তোলেন এবং ১০ লাখ টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। আবুল কালাম আজাদের ভাষ্য, হাসপাতালের পক্ষ থেকে তাদের জানানো হয়, চিকিৎসায় কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তারা আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে পারেন। তবে এভাবে আর্থিক সমঝোতা করা হবে না। পরদিন দুপুরে এ বিষয়ে আলোচনায় বসার কথা থাকলেও স্বজনদের পক্ষ থেকে কেউ উপস্থিত হননি বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, বিকেলে প্রায় ১০০ জন হাসপাতালে এসে জরুরি বিভাগের সামনে অবস্থান নেন এবং সেখানে থাকা রোগীদের ভয়ভীতি দেখাতে থাকেন। তাদের অন্যত্র অবস্থান করতে বললে তাকে মারধর করা হয়। পরে দ্বিতীয় তলার লেবার রুমে গিয়ে ভাঙচুর চালানো হয়। এ ঘটনায় হাসপাতালের প্রায় ১০ কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। তবে ১০ লাখ টাকা চাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাহরিয়ার সবুজ। তার দাবি, মাহিমা তার চাচাতো বোন। অ্যাপেনডিক্স ফেটে যাওয়ার পর প্রথমে তাকে প্যান প্যাসিফিক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে এবং রোগীর শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শাহরিয়ার সবুজ বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মাহিমাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নিলেও রাতে অপারেশন না হওয়ায় পরদিন সকালে তার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য, ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাওয়ার জন্য তারা হাসপাতালে গেলে উল্টো তাদের ওপর হামলা করা হয়। ১০ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ প্রসঙ্গে শাহরিয়ার সবুজ বলেন, তিনি কোনো অর্থ দাবি করেননি। বরং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই বিষয়টি আর্থিকভাবে মীমাংসার প্রস্তাব দিয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, তারা কোনো ধরনের আর্থিক সমঝোতায় রাজি হননি এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান। ঘটনার সময় হাসপাতালে থাকা আরেক রোগীর স্বজন তৌফিক মেজবাহ বলেন, তিনি গত শুক্রবার থেকে তার বোনকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তার পাশেই ওই ঘটনার সূত্রপাত হয় বলে জানান তিনি। তৌফিকের দাবি, রোগীর মৃত্যুর পর তার বাবা-মা মরদেহ নিয়ে চলে যান। পরে রাতে একদল লোক হাসপাতালে এসে অর্থ দাবি করে। পরদিন সন্ধ্যার পর আবারও কয়েকজন হাসপাতালে এসে কয়েকজনকে মারধর করেন এবং ভাঙচুর চালান বলে জানান তিনি। পরিস্থিতি একপর্যায়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠলে হাসপাতালের কর্মীরা হামলাকারীদের ধাওয়া দেন বলেও জানান তিনি। ঘটনাটি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও রোগীর স্বজনদের বক্তব্যে পরস্পরবিরোধী অভিযোগ উঠেছে। রোগীর মৃত্যুর কারণ ও চিকিৎসায় কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার বিষয়।
ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রয়োজনীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দক্ষতা বাড়াতে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ১৪০ শিক্ষার্থীকে দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ দিচ্ছে এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই)। নোবিপ্রবি ও এটুআইয়ের যৌথ আয়োজনে চতুর্থ বর্ষ ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা চারটি ব্যাচে এ প্রশিক্ষণে অংশ নেন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নোবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এটুআইয়ের প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আনোয়ার উদ্দিন এবং হেড অব প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট সাম্স উল আরেফিন খান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এটুআইয়ের ফিউচার অব ওয়ার্ক টিম লিড সালাহউদ্দিন মোহাম্মদ উজ্জ্বল। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নোবিপ্রবির উপ উপাচার্য অধ্যাপক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, রেজিস্টার মো. হাছান উদ্দীন, ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আসাদুন নবী, ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুর রহমান, এটুআইয়ের চিফ টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজর মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, হেড অব কমিউনিকেশনস মোহাম্মদ সফিউল আযম, জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির সহকারী পরিচালক এম নিয়াজ মোহাম্মাদ নাজমুল হুদা মিঠু, এজেন্সি টু ইনোভেটের কর্মকর্তা মো. রিয়াজুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, ‘প্রযুক্তির উৎকর্ষতাকে ধারণ করে দৈনন্দিন কাজে এআইয়ের ব্যবহার বাড়াতে হবে, যাতে আমরা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে পারি। প্রবন্ধ, আর্টিকেল ও গবেষণায় এআই ব্যবহার করা যাবে, তবে অবশ্যই চৌর্যবৃত্তি পরিহার করে নৈতিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।’ মোহাম্মদ আনোয়ার উদ্দিন বলেন, ‘প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতার ধরনও বদলাচ্ছে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও শ্রমবাজারের চাহিদার মধ্যে ব্যবধান কমাতে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েই এআইসহ উদীয়মান প্রযুক্তির ব্যবহারিক জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়ানো প্রয়োজন।’ সাম্স উল আরেফিন খান বলেন, ‘ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রে শুধু একটি ডিগ্রি যথেষ্ট নয়, নতুন কিছু শেখা এবং প্রযুক্তিকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর সক্ষমতাও প্রয়োজন। এ প্রশিক্ষণের লক্ষ্য শুধু কয়েকটি এআই টুলের ব্যবহার শেখানো নয়, বরং শিক্ষার্থীরা যেন শিক্ষা, গবেষণা ও কর্মজীবনের বাস্তব প্রয়োজনে এআইকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারেন, সেই সক্ষমতা তৈরি করা।’ মো. হাছান উদ্দীন বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জ্ঞানের পাশাপাশি প্রযুক্তি ও এআই দক্ষতা অর্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের প্রশিক্ষণ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রের জন্য আরও দক্ষ ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।’ মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান বলেন, এআই, মেশিন লার্নিং ও অটোমেশন দ্রুত কাজের ধরন বদলে দিচ্ছে। তাই প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি ডাটা প্রাইভেসি ও এআইয়ের দায়িত্বশীল ব্যবহার শেখাও জরুরি। প্রশিক্ষণে এআই, মেশিন লার্নিং ও জেনারেটিভ এআইয়ের মৌলিক ধারণার পাশাপাশি বিভিন্ন এআই টুল ব্যবহারের হাতে কলমে অনুশীলন করানো হয়। শিক্ষার্থীরা কার্যকর প্রম্পট লেখা, জীবনবৃত্তান্ত ও কভার লেটার তৈরি, চাকরির সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি, গবেষণা ও একাডেমিক লেখালেখি, তথ্য যাচাই, প্রেজেন্টেশন তৈরি এবং ‘ভাইব কোডিং’ সম্পর্কে ধারণা নেন। এ ছাড়া এআইয়ের নৈতিক ও নিরাপদ ব্যবহার, সম্ভাব্য পক্ষপাত ও সীমাবদ্ধতা এবং ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার বিষয়েও আলোচনা করা হয়। এআই টুলে সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য না দেওয়া এবং এআই থেকে পাওয়া তথ্য ব্যবহারের আগে যাচাই করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও শ্রমবাজারের পরিবর্তনশীল দক্ষতা চাহিদার মধ্যে ব্যবধান কমিয়ে এআইসহ উদীয়মান প্রযুক্তি ব্যবহারে তরুণদের সক্ষম করে তোলাই এ প্রশিক্ষণের লক্ষ্য। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সনদ প্রদান করা হবে।
দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে এবং রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়ছে বলে দাবি করেছেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী। তার ভাষ্য, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়লেও বাজারে কোনো পণ্যের দাম বাড়েনি। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জয়পুরহাট জেলা শহরের শহীদ ডা. আবুল কাশেম ময়দানে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার’ প্রতিবাদে জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলো এ কর্মসূচির আয়োজন করে। এর আগে শহরের প্রধান সড়কে একটি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। আব্দুল বারী বলেন, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আগের তুলনায় ভালো অবস্থানে রয়েছে। রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ও বাড়ছে। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দ্বিগুণ হলেও বাজারে পণ্যের দাম বাড়েনি বলে দাবি করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, তার দায়িত্ব গ্রহণের পর রমজান মাসেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়েনি। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলের সংকট তৈরি হলেও সরকার তা মোকাবিলা করেছে এবং দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে জ্বালানি তেলের দাম তুলনামূলক বেশি থাকায় বাংলাদেশ থেকে সেখানে তেল পাচারের আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে কয়েকদিন আগে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানান তিনি। সমাবেশে দেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিষয় নিয়েও বক্তব্য দেন আব্দুল বারী। তিনি বলেন, জুলাই-আগস্টে নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন তিনি। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে এবং এ উদ্দেশ্যে গঠিত কমিটিতে বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন। এতে জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মাসুদ রানা প্রধান, সদর থানা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট হেনা কবির, শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু রায়হান উজ্জ্বলসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।