প্রবাসী

ইতালি–লিবিয়া অভিবাসন চুক্তি নবায়ন, হস্তান্তর হলো ১০টি টহল জাহাজ

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২৬

অভিবাসন ও মানবপাচার রোধে ইতালি ও লিবিয়ার মধ্যে ২০১৭ সালে স্বাক্ষরিত ‘ইতালি–লিবিয়া মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং (MoU)’ আরও তিন বছরের জন্য নবায়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে লিবীয় কোস্টগার্ডের কাছে ১০টি আধুনিক টহল জাহাজ হস্তান্তর করেছে ইতালি।


ইতালির বর্তমান সরকার জানিয়েছে, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপমুখী অভিবাসীদের অনিয়ন্ত্রিত যাত্রা ঠেকানো এবং মানবপাচারকারীদের কার্যক্রম বন্ধ করতেই এই চুক্তি নবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হওয়া এই চুক্তি ২০২৯ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।


চুক্তি অনুযায়ী, ভূমধ্যসাগরে অবৈধভাবে ইউরোপের উদ্দেশ্যে যাত্রাকারী নৌকা শনাক্ত ও আটকানোর দায়িত্ব থাকবে লিবীয় কোস্টগার্ডের ওপর। আটক নৌকাগুলোকে ইতালিতে না এনে সরাসরি লিবিয়ায় ফেরত পাঠানো হবে এবং যাত্রীদের লিবিয়ার ডিটেনশন সেন্টারে নেওয়া হবে।


ইতালি কর্তৃপক্ষ জানায়, হস্তান্তর করা ১০টি নতুন টহল জাহাজ উচ্চগতিসম্পন্ন এবং আধুনিক রাডার ও নজরদারি ব্যবস্থায় সজ্জিত। এসব জাহাজ দূর থেকেই ছোট নৌকা শনাক্ত করতে সক্ষম হওয়ায় সাগরপথে নজরদারি আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে চুক্তি নবায়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, লিবিয়ায় ফেরত পাঠানো অভিবাসীরা প্রায়ই অমানবিক আচরণ, নির্যাতন এবং অবমাননাকর পরিবেশের শিকার হন।


অন্যদিকে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকার বলছে, সমুদ্রপথে মৃত্যুর সংখ্যা কমানো এবং মানবপাচারকারীদের ব্যবসা বন্ধ করতে এই চুক্তিই বর্তমানে সবচেয়ে কার্যকর উপায়। সরকারের দাবি, নতুন টহল জাহাজ মোতায়েনের ফলে অবৈধভাবে সাগরপথে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করলে ধরা পড়ার ঝুঁকি ৯০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পাবে।


এদিকে ইতালি সরকার আবারও সতর্ক করে জানিয়েছে, দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে সমুদ্রপথে ইউরোপে পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং প্রাণঘাতী হতে পারে। বৈধ উপায় ছাড়া এ ধরনের যাত্রা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

প্রবাসী

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
কানাডার এমপি হলেন বাংলাদেশি-কানাডিয়ান তানভীর শাহনেওয়াজ

কানাডার রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশি-কানাডিয়ান তানভীর শাহনেওয়াজ। সোমবার অনুষ্ঠিত ফেডারেল উপনির্বাচনে টরন্টোর বিচেস–ইস্ট ইয়র্ক আসন থেকে লিবারেল পার্টির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়ে কানাডার পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।   ইলেকশন কানাডার প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, তানভীর শাহনেওয়াজ পেয়েছেন ১৭,২৫১ অর্থাৎ মোট  ভোটের ৫৫.৩ শতাংশ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনডিপির প্রার্থী  শ্যানন ডিভাইন পেয়েছেন ৮১৫৯ অর্থাৎ ২৬.২ %, কনজারভেটিভ পার্টির  জিম সিরবস পেয়েছেন ১৪,৮৫৭ ভোট অর্থাৎ ১৫.৬ শতাংশ, গ্রিন পার্টির ব্রুস লাইভসি ৫৩১ ভোট অর্থাৎ ১.৭%, পিপলস পার্টি অব কানাডার মিশেল লাশাঁস ২৪০ ভোট অর্থাৎ ০.৮ % এবং কানাডিয়ান ফিউচার পার্টির ক্যামেরন থমাস পেয়েছেন ১৫৭ ভোট তথা ০.৫%।   তানভীর শাহনেওয়াজের এই জয় শুধু তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সাফল্য নয়, কানাডার বাংলাদেশি-কানাডিয়ান সম্প্রদায়ের জন্যও এটি একটি গর্বের ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত। দেশটির ফেডারেল পার্লামেন্টে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নতুন একজন জনপ্রতিনিধির অভিষেক কানাডার বহুসাংস্কৃতিক ও বহুজাতিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।   ক্রিসেন্ট টাউনে জন্ম ও বেড়ে ওঠা তানভীর শাহনেওয়াজ দীর্ঘদিন ধরে তার নির্বাচনী এলাকার টরন্টো কমিউনিটির সঙ্গে যুক্ত। তিনি ইউনিভার্সিটি অব টরন্টো স্কারবরো থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পড়াশোনা করেন। প্রায় এক দশক তিনি সাবেক এমপি নাথানিয়েল এরস্কিন-স্মিথের সঙ্গে কাজ করেছেন। এ সময় তিনি কনস্টিটুয়েন্সি অফিস ম্যানেজার এবং পরে স্পেশাল অ্যাডভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।   তানভীর শাহনেওয়াজের নির্বাচন কানাডার রাজনৈতিক অঙ্গনে বাংলাদেশি-কানাডিয়ানদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। অভিবাসী ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ক্রমেই বাড়ছে—তাঁর নির্বাচন তারই একটি উল্লেখযোগ্য প্রতিফলন।   এর আগে আরেক বাংলাদেশি-কানাডিয়ান ডলি বেগম কানাডার পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচিত হন।   এদিকে আগামী ৩ সেপ্টেম্বর স্কারবরো সাউথওয়েস্টে প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই আসনে এমপিপি (MPP) পদে লিবারেল পার্টির প্রার্থী আহসানুল হাকিম এবং কনজারভেটিভ পার্টির প্রার্থী ডা. নূরুল্লাহ—দুই বাংলাদেশি-কানাডিয়ান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এনডিপির প্রার্থী ফাতিমা শাবান।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড পেলেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ইয়াসমিন

ছবি: সংগৃহীত

‘চালককে শনাক্তে তদন্ত চলছে’: মালয়েশিয়ায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশির মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

মৃত্যুর আগে হোয়াটসঅ্যাপে গ্রুপে বাঁচার আকুতি জানিয়েছিলেন স্পেন প্রবাসী আলিফ

ছবি: সংগৃহীত
স্পেনে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ গেল বাংলাদেশি ফুড ডেলিভারি কর্মীর

স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে একটি সাইকেল গ্যারেজে অগ্নিকাণ্ডে এক বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। অবিবাহিত এ তরুণ ফুড ডেলিভারি কর্মী হিসেবে কাজ করতেন।   পাসপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, মো. ইউসুফ হাসান আলিফ (২৬) নামে এ প্রবাসী ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। বাবার নাম আব্দুল মোতালিব এবং মায়ের নাম রহিমা খাতুন।   স্থানীয় সময় রোববার বিকেলে মাদ্রিদের পালোস দে লা ফ্রন্তেরা মেট্রো স্টেশন সংলগ্ন গ্যারেজে এ দুর্ঘটনা ঘটে।   পুলিশ ও অগ্নিনির্বাপণ বাহিনীর বরাতে স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর বলা হয়েছে, ওই সাইকেল গ্যারেজে হঠাৎ আগুন লাগে এবং তা দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে জরুরি পরিষেবা ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।   তবে গ্যারেজের ভেতর আটকা পড়া ইউসুফকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।   প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যারেজে রাখা বৈদ্যুতিক সাইকেলের ব্যাটারি বিস্ফোরণ অথবা বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।   তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও সেখানে কোনো নিরাপত্তাজনিত ত্রুটি ছিল কি না, তা নিশ্চিত হতে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে নিহতের লাশ স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সিঁড়ি থেকে পড়ে আহত, ১৩ দিন পর আবুধাবি প্রবাসীর মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সতর্ক থাকার আহ্বান

ছবি: সংগৃহীত

কুয়েত-ঢাকা রুটে ফিরল বিমানের ফ্লাইট, কমতে শুরু করেছে টিকিটের দাম

মালদ্বীপে ঘুমের মধ্যেই মারা গেলেন কুমিল্লার প্রবাসীর

সংসারের আর্থিক সংকট দূর করতে ঋণ করে প্রায় দেড় বছর আগে মালদ্বীপে গিয়েছিলেন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আবদুল জলিল। সেখানে গিয়ে কাজের অনিশ্চয়তা ও ঋণের চাপে কঠিন সময় পার করছিলেন ৫৪ বছর বয়সী এই প্রবাসী। শেষ পর্যন্ত ঘুমের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়েছে।   শনিবার (২৯ আগস্ট) মালদ্বীপের রাজধানী মালের একটি ভাড়া বাসায় ঘুমন্ত অবস্থায় মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে মারা যান তিনি। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মালেতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন।   আবদুল জলিল কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার যাত্রাপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম আব্দুল গাফুর। দেশে তার স্ত্রী ও দুই শিশুসন্তান রয়েছে।   স্বজনদের ভাষ্য, পরিবারের আর্থিক সংকট কাটাতে ধারদেনা করে প্রায় দেড় বছর আগে মালদ্বীপে পাড়ি জমান জলিল। দেশটিতে যাওয়ার পর প্রথম তিন মাস বৈধভাবে কাজ করেন তিনি। এরপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে বৈধতা হারান।   বৈধতা হারানোর পর নিয়মিত কাজ পাওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। কখনো কাজ পেলেও তা ছিল অনিয়মিত। অন্যদিকে দেশে রেখে যাওয়া ঋণের বোঝা নিয়ে সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকতেন তিনি।   জলিলের চাচাতো শ্যালক প্রবাসী মো. জাকির জানান, বৈধতা হারানোর পর জলিলকে অনেক সময় বেকার থাকতে হতো। দেশে বড় অঙ্কের ঋণ থাকায় কাজ না থাকলে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যেতেন। এসব কারণে মানসিকভাবেও তিনি ভেঙে পড়েছিলেন।   ঘটনার রাতে প্রতিদিনের মতো খাবার খেয়ে ঘুমাতে যান জলিল। মাঝরাতে তার রুমমেট ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাকে উদ্ধার করে ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক পরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।   জলিলের ভাই আবদুর রহমান বলেন, তাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে দেশে রেখে জলিলের এমন মৃত্যুতে পুরো পরিবার অসহায় হয়ে পড়েছে।   তিনি মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন।   এদিকে আবদুল জলিলের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশন। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে হাইকমিশন।   আবদুল জলিলের মৃত্যু প্রবাসী শ্রমিকদের বৈধ কাগজপত্র, নিরাপদ কর্মসংস্থান এবং বিদেশে গিয়ে ঋণ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ার বিষয়টি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ৩০, ২০২৬

মালয়েশিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশীদের যেসব বিষয়ে সতর্ক করল হাইকমিশন

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত, সম্পূর্ণ বিনা খরচে যাবে ১০ হাজার কর্মী

আত্রাইয়ে একই মাঠে ৭ প্রবাসীর জানাজা সম্পন্ন

0 Comments