আন্তর্জাতিক

ইসরাইলকে সতর্কবার্তা, হিজবুল্লাহর অভিজ্ঞতা মনে করালেন ইসমাইল ঘানি

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ২০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের কমান্ডার ইসমাইল ঘানি সতর্ক করে বলেছেন, লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর কাছে পরাজয় থেকে ইসরাইলকে অবশ্যই শিক্ষা নিতে হবে। 

 

শুক্রবার (১৯ জুন) গভীর রাতে নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘গাজারও নিজস্ব প্লাবন রয়েছে। আমরা যখন বলেছিলাম হিজবুল্লাহর কাছে ‘মিরাসাদ’ (ড্রোন) আছে, তখন আপনারা পাত্তা দেননি এবং ফাঁদে পড়েছেন। এই একশত হতাহতের জবাব কে দেবে?’ 

 

ঘানি আরও বলেন, ‘গাজারও নিজস্ব প্লাবন রয়েছে। আপনারা যদি আপনাদের রাজনীতিবিদদের ইচ্ছা অনুযায়ী চলেন, তবে ঝড়ের কবলে পড়বেন। সতর্ক থাকুন।’ 

 

‘মিরাসাদ’ হলো একটি ছোট চালকবিহীন আকাশযান যা লেবাননের প্রতিরোধ গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের জন্য ব্যবহার করে থাকে।

 

উল্লেখ্য, মিরাসাদ ইরানের একটি ঐতিহাসিক সামরিক অভিযানেরও নাম। ১৯৮৮ সালের জুলাই মাসে সাদ্দাম হোসেনের শাসনামলের মদদপুষ্ট এমকেও বাহিনীর একটি আক্রমণ নস্যাৎ করে দিয়েছিল ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। সেই অভিযানে শত্রুপক্ষের ৪,৮০০-এরও বেশি সেনা হতাহত হয় এবং ১২০টি ট্যাংক ও ৪০০টি সাঁজোয়া যান ধ্বংস হয়েছিল।

 

ইসরাইলি সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক একটি অভিযানে হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলায় একটি ইসরাইলি সামরিক ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে আলেকজান্ডার ফিলিন নামে এক ইসরাইলি সেনা নিহত এবং আরও সাতজন আহত হন। 

 

পৃথক আরেকটি হামলায়, রাস্তার পাশে পুঁতে রাখা বোমার আঘাতে আরেকটি ইসরাইলি বাহিনী লক্ষ্যবস্তু হয়, যেখানে চারজন সেনা আহত হন। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

 

হিজবুল্লাহ সম্প্রতি লেবাননের অধিকৃত অঞ্চলে ইসরাইলি বাহিনীর বিরুদ্ধে তাদের সামরিক তৎপরতা জোরদার করেছে। 

 

গত শুক্রবার হিজবুল্লাহ প্রতিরোধ আন্দোলনের সেক্রেটারি জেনারেল শেখ নাঈম কাসেম বলেন, ‘আমরা মৃত্যুকে ভয় পাই না, আর এটিই বিজয়ের একটি অপরিহার্য উপাদান।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘শত্রু যখন আমাদের দিকে অস্ত্র তাক করবে, আমরাও অস্ত্রের মাধ্যমেই তার মোকাবিলা করব।’ 

 

কাসেম যুক্তি দেখিয়ে বলেন যে, প্রতিরোধ নিজেই বিজয়ের একটি রূপ। দখলদারিত্বকে প্রত্যাখ্যান করার প্রতিটি পদক্ষেপই একেকটি বিজয়। 

 

এদিকে, সম্প্রতি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক ইলেকট্রনিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়া সত্ত্বেও লেবানন সীমান্তে ইসরাইলের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর এই যুদ্ধ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। 

সূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি 

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
মদিনার বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা

ইসলামের অন্যতম পবিত্র নগরী মদিনার বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ড্রোন হামলার অভিযোগ উঠেছে। মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী ওই বিতরণ কেন্দ্রটিতে চালানো হামলার জন্য ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের দায়ী করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। তবে এই অভিযোগ সরাসরি ভিত্তিহীন দাবি করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে হুথি গোষ্ঠী।   সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত মঙ্গলবার মদিনার একটি প্রধান বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে ওই হামলা চালানো হয়। হামলার ফলে কেন্দ্রটির একটি ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে পড়লেও বিকল্প ব্যবস্থায় তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়। সৌদি জোটের দাবি, হামলার পর ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা ও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে এই আক্রমণের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে হুথি বিদ্রোহীরাই সরাসরি জড়িত। তাদের ভাষ্যমতে, মক্কার মসজিদুল হারাম ও মদিনার মসজিদে নববীকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে হামলার যে ধারাবাহিক ষড়যন্ত্র চলছে, এটি তারই অংশ; যার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের অনুভূতিতে আঘাত হানার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। তবে হুথিদের নিয়ন্ত্রিত বার্তা সংস্থা সাবার এক প্রতিবেদনে এই অভিযোগকে পুরোপুরি ‘মিথ্যা ও সাজানো’ বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীর এক সামরিক কর্মকর্তা দাবি করেন, পূর্বে মক্কায় হামলার যে ভুয়া অভিযোগ সৌদি আরব তুলেছিল, তার কোনো প্রমাণ হাজির করতে না পেরে সেই ব্যর্থতা ঢাকতেই এখন মদিনার ঘটনার নাটক সাজানো হচ্ছে।   এদিকে সীমান্তে পাল্টাপাল্টি সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সৌদি জোট জানিয়েছে, তারা দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতের আকাশ থেকে হুথিদের ছোড়া চারটি ড্রোন এবং খামিস মুশাইত ও জাজানের আকাশসীমা থেকে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে।   সৌদি সীমানার বাইরে ইয়েমেনের অভ্যন্তরেও সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে হুথিদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে কয়েক ডজন হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার। সামরিক সূত্রের বরাতে সেনাবাহিনী জানায়, বুধবার সন্ধ্যায় তাইজের পশ্চিমে জাবাল হাবাশি, মাকবানাহ এবং দক্ষিণ-পূর্বের আল-আকরুদ ফ্রন্টে হুথিরা প্রচণ্ড গোলাবর্ষণ চালালে তুমুল সংঘর্ষ বাধে। এতে কেবল আল-আকরুদ যুদ্ধক্ষেত্রেই অন্তত ৩০ হুথি সদস্য নিহত এবং বহু যোদ্ধা আহত হয়। এছাড়া তাইজের বিভিন্ন ফ্রন্টে সরকারি বাহিনীর চালানো ছয়টি নিখুঁত বিমান হামলায় হুথিদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ইয়েমেনে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের মানবিক সংকট নতুন করে ঘনীভূত হচ্ছে। দেশটির বাস্তুচ্যুত শিবির ব্যবস্থাপনা ইউনিটের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত ২৯ হাজার ৫১৯টি পরিবারের মোট ১ লাখ ৯৭ হাজার ৯০৬ জন বাস্তুচ্যুত মানুষের নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। এদের একটি বড় অংশই আশ্রয় নিয়েছে সংঘাতকবলিত তাইজ প্রদেশে, যার সংখ্যা ৯৭ হাজারের বেশি। এছাড়া লাহিজ প্রদেশে আশ্রয় নিয়েছে আরও ৫০ হাজারের বেশি বাস্তুহারা মানুষ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

শান্তিতে নোবেল নিয়ে অনিশ্চয়তা, ট্রাম্পকে ঘিরে বাড়ছে আন্তর্জাতিক আলোচনা

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে আনুষ্ঠানিক জবাব যুক্তরাষ্ট্রের

ফাইল ছবি

পাকিস্তানের বিমান হামলায় আফগানিস্তানে ২২ জনের প্রাণহানি

ছবি: সংগৃহীত
গাজায় ইসরাইলি হামলায় সাংবাদিকসহ ৮ জন নিহত

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় দখলদার ইসরাইলি হামলায় এক সাংবাদিকসহ অন্তত আটজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে প্রায় এক বছর ধরে চলমান ‘যুদ্ধবিরতি’ চুক্তি লঙ্ঘন অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল।   গাজার গভর্নমেন্ট মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, বুধবারের (৩০ সেপ্টেম্বর) হামলায় নিহতদের মধ্যে ফিলিস্তিনি সাংবাদিক মুহাম্মদ আবদেল আজিজ আল-নাজ্জারও ছিলেন। খবর আল জাজিরার।   তবে হামলার স্থান বা পরিস্থিতি সম্পর্কে কোনো তথ্য মেলেনি। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ২৬৩ জন সাংবাদিককে হত্যা করল ইসরাইল।   পৃথক ঘটনায় বুধবার গাজা সিটির দক্ষিণ-পশ্চিমের তাল আল-হাওয়া এলাকায় একটি যাত্রীবাহী ভ্যানে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় ছয়জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র।   অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি সেবা পরিচালনাকারী মানবিক সংস্থা ‘ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি’ জানিয়েছে, তাদের কর্মীরা ১৩ জন আহত ব্যক্তিকে আল-কুদস হাসপাতালে নিয়ে গেছেন।   চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, হামলায় আহতরা ‘গুরুতর’ আঘাত পেয়েছেন।   গাজা সিটি থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক হিন্দ খুদারি বলেন, ‘চিকিৎসকরা বলছেন আহতদের জীবন বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়েছে। কারণ বছরের পর বছর ধরে চলা ইসরাইলি হামলা ও অবরোধের ফলে সেখানকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। এই হামলায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।’   এর আগে, ফিলিস্তিনের সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানায়, গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতালের কাছে একটি আবাসিক ভবনে ইসরাইলি হামলায় অন্তত একজন নারী নিহত হয়েছেন।   এছাড়া, ওয়াফার উদ্ধৃতি দিয়ে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, দক্ষিণ গাজায় বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় দুই শিশুসহ চারজন ফিলিস্তিনি আহত হন।   মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকার দক্ষিণ-পূর্বে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় আরও দুজন ফিলিস্তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ছাড়া দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিস এলাকায় ইসরাইলি ট্যাংকের গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে।   গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বুধবার জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৯ জনের মরদেহ হাসপাতালে আনা হয়েছে। আটজন নিহত হয়েছেন এবং আগের আঘাতের কারণে এক নারী মারা গেছেন। এর মধ্য দিয়ে গত অক্টোবর মাসে ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতি’ শুরুর পর থেকে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১ হাজার ৪৩১ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে অন্তত ৫ হাজার ২৬ জন আহত হয়েছেন, যাদরে মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আহত হয়েছেন ৩১ জন।   গাজার বাসিন্দাদের জন্য পরিস্থিতি কতটা ‘ভয়াবহ’ তা তুলে ধরে সাংবাদিক হিন্দ খুদারি বলেন, ‘গাজায় যুদ্ধবিরতির কথা থাকলেও ইসরাইলি বাহিনীর সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিন ফিলিস্তিনিরা নিহত ও আহত হচ্ছেন এবং মানবিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।’   তিনি আরও বলেন, ‘অবরুদ্ধ এই এলাকার ভেতরে সুপারমার্কেটে যাওয়া, সন্তানদের স্কুলে নিয়ে যাওয়া কিংবা স্বাভাবিক জীবনযাপন করা—সব কিছুতেই মানুষ আতঙ্কিত ‘   স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলের বর্বর হামলায় অন্তত ৭৪ হাজার ৩২ জন নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজার ১৪২ জন আহত হয়েছেন।   জাতিসংঘের স্যাটেলাইট সেন্টারের আগস্ট মাসের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ‘যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজাজুড়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত স্থাপনার সংখ্যা ৯ শতাংশ বেড়েছে।   জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজার প্রায় ৮২ শতাংশ স্থাপনা অর্থাৎ প্রায় ২ লাখ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এর মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

জাপানে স্থায়ী বসবাসের সুযোগে নতুন বাধা

সংগৃহীত ছবি

ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতায় উদ্বেগ, নিন্দা সুইজারল্যান্ডের

সংগৃহীত ছবি

মোদি-ট্রাম্পের বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা, সামনে এলো যেসব তথ্য

ছবি: সংগৃহীত
আর্কটিক অভিযান শেষে শাংহাইয়ে ফিরল চীনের দুই গবেষণা জাহাজ

প্রায় তিন মাসের আর্কটিক মহাসাগর অভিযান শেষে চীনের দুই গবেষণা জাহাজ ‘সুয়েলং’ ও ‘সুয়েলং-২’ বুধবার শাংহাই বন্দরে ফিরেছে। ‘স্নো ড্রাগন’ ও ‘স্নো ড্রাগন-২’ নামে পরিচিত জাহাজ দুটি চীনের ১৬তম আর্কটিক মহাসাগর অভিযানে অংশ নেয়।   অভিযানটিতে জলবায়ু ও পরিবেশ পর্যবেক্ষণ, বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের অভিযানের গবেষণার পরিধি ও সম্পন্ন হওয়া কার্যক্রমের সংখ্যার দিক থেকে নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে।   অভিযান চলাকালে বেশ কিছু নতুন বৈজ্ঞানিক তথ্য ও আবিষ্কার সামনে এসেছে। পাশাপাশি তাত্ত্বিক গবেষণা, প্রযুক্তিগত পরীক্ষা এবং আধুনিক বৈজ্ঞানিক সরঞ্জামের ব্যবহারেও অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।   গবেষকদের মতে, এসব গবেষণার ফলাফল বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আরও ভালোভাবে বোঝার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং আর্কটিক অঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন নিয়েও গবেষণার সুযোগ বাড়বে।   চীনের প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত এবারের অভিযানে মোট চারটি গবেষণা জাহাজ অংশ নেয়। এগুলো হলো—‘সুয়েলং’, ‘সুয়েলং-২’, ‘চিতি’ ও ‘থানসো-৩’।   এর মধ্যে ‘চিতি’ ও ‘থানসো-৩’ এখনো আর্কটিক অঞ্চলে গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। জাহাজ দুটি অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে চীনে ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।   চীন নিয়মিত আর্কটিক অঞ্চলে বৈজ্ঞানিক গবেষণা পরিচালনার মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন, সামুদ্রিক পরিবেশ ও মেরু অঞ্চলের পরিবর্তন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছে। এসব কার্যক্রমের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের গবেষকদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সহযোগিতাও জোরদার করা হচ্ছে।   সূত্র: সিএমজি

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

গাজা সিটিতে ইসরায়েলি হামলা, নিহত ৫

ছবি: সংগৃহীত

ইরাক থেকে সর্বশেষ সেনাসদস্যও প্রত্যাহার করল ইতালি

ছবি: সংগৃহীত

মরক্কোর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ফাতিমা জাহরা এল মানসুরি

0 Comments