বিশ্ব

ইরানের পাল্টা হামলায় জর্ডানের ঘাঁটিতে ৯টি মার্কিন যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে এ ক্ষয়ক্ষতি হয়। সংগৃহীত ছবি
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে এ ক্ষয়ক্ষতি হয়। সংগৃহীত ছবি

জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত নয়টি মার্কিন যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ। তবে এ হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সেনা মারা গেছে কিনা, জানা যায়নি।

 

 

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে বুধবার ভোরে জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে এই হামলা চালানো হয়। হামলায় একটি A-10 Thunderbolt গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিমানটির একটি ডানা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে সূত্রের বরাতে জানিয়েছে সিবিএস।

 

 

 

এ ছাড়া প্রায় আটটি F-15 যুদ্ধবিমান সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এসব বিমান পরে আবারও ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ ঘটনা এখনও স্বীকার করেনি বা এ বিষয়ে কোনো ব্যাখা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র।

 

 

 

এদিকে হামলা প্রতিহত করতে জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনী ৩০টির বেশি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে সিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

 

 

 

এই হামলা চালানো হয় যুক্তরাষ্ট্রের হাতে পাঁচটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংসের পর। এর আগে ইরান একটি মার্কিন নৌযান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল বলে ওয়াশিংটন দাবি করে। এরপর পাল্টা জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ট্যাংকারগুলোতে হামলা চালায়।

 

 

 

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) পরে জর্ডানে থাকা মার্কিন ঘাঁটিসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর দাবি করে।

 

 

তবে জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হামলায় ছোড়া ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি তারা ভূপাতিত করেছে এবং বাকি দুটি জনবসতিহীন এলাকায় পড়ে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে এ ক্ষয়ক্ষতি হয়। সংগৃহীত ছবি
ইরানের পাল্টা হামলায় জর্ডানের ঘাঁটিতে ৯টি মার্কিন যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত

জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত নয়টি মার্কিন যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ। তবে এ হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সেনা মারা গেছে কিনা, জানা যায়নি।     মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে বুধবার ভোরে জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে এই হামলা চালানো হয়। হামলায় একটি A-10 Thunderbolt গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিমানটির একটি ডানা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে সূত্রের বরাতে জানিয়েছে সিবিএস।       এ ছাড়া প্রায় আটটি F-15 যুদ্ধবিমান সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এসব বিমান পরে আবারও ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ ঘটনা এখনও স্বীকার করেনি বা এ বিষয়ে কোনো ব্যাখা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র।       এদিকে হামলা প্রতিহত করতে জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনী ৩০টির বেশি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে সিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।       এই হামলা চালানো হয় যুক্তরাষ্ট্রের হাতে পাঁচটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংসের পর। এর আগে ইরান একটি মার্কিন নৌযান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল বলে ওয়াশিংটন দাবি করে। এরপর পাল্টা জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ট্যাংকারগুলোতে হামলা চালায়।       ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) পরে জর্ডানে থাকা মার্কিন ঘাঁটিসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর দাবি করে।     তবে জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হামলায় ছোড়া ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি তারা ভূপাতিত করেছে এবং বাকি দুটি জনবসতিহীন এলাকায় পড়ে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

গাজায় আবাসিক ভবনে হামলা, দুই শিশুসহ চারজনের মৃত্যু

ইরানের হামলায় একাধিক মার্কিন যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত: সিবিএস

হারেৎজ পত্রিকার বিরুদ্ধে মামলার ঘোষণা নেতানিয়াহুর

২০ বছরের মধ্যে প্রথমবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানো হলো ইরানকে

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিচালনা পর্ষদ বুধবার ভোট দিয়ে ইরানের পারমাণবিক ‘অমান্যতা’র কারণে বিষয়টি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি তেহরানের ওপর চাপ বাড়ানোর একটি কূটনৈতিক পদক্ষেপ।   ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্রের যোগদানে, ২০২৫ সালের জুনে ১২ দিনের একটি সংঘাত শুরু করার পর থেকে আইএইএ ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে প্রবেশাধিকার পায়নি। ওই সংঘাতে পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলাও চালানো হয়েছিল।   সবশেষ যুদ্ধেও পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা হয়েছে। এই যুদ্ধ ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় এবং আইএইএ বারবার সেখানে প্রবেশাধিকার দেয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে।   প্রস্তাবটির পক্ষে পড়ে ২৩ ভোট আর বিপক্ষে ৩ ভোট। ভোটদানে বিরত থাকে ৮টি দেশ। রাশিয়া, চীন ও নাইজার এর বিপক্ষে ভোট দেয়।   এতে আইএইএ’র মহাপরিচালককে ইরানের বিষয়টি নিরাপত্তা পরিষদ এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ‘প্রতিবেদন করার’ অনুরোধ জানানো হয়েছে।   ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্থাপিত এই প্রস্তাবটি ইরানের পারমাণবিক প্রতিবেদন সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা পালনে ব্যর্থতার কারণে ২০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো দেশটিকে নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানোর ঘটনা।   এই পদক্ষেপকে মূলত প্রতীকী হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ ইরানের মিত্র চীন ও রাশিয়ার তেহরানের বিরুদ্ধে যেকোনো নিষেধাজ্ঞায় ভেটো দেয়ার ক্ষমতা রয়েছে।   ইরান এই প্রস্তাবের নিন্দা করেছে এবং বলেছে, এটি “কোনো ফলাফল বয়ে আনবে না।   আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থায় ইরানের প্রতিনিধি রেজা নাজাফি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, এই প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের রাজনৈতিক চাপের অধীনে পাস হয়েছে এবং আমাদের দৃষ্টিতে এর কোনো ভিত্তি নেই। তিনি এএফপিকেও বলেন যে প্রস্তাবটি সম্পূর্ণ বিপরীত ফল বয়ে আনবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬

ফিলিপাইনে ফেরিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৫, নিখোঁজ ৮৭ জন

সৌদিতে হামলার পর ইয়েমেনকে হুঁশিয়ারি দিলো পাকিস্তান

ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক প্রধানের পদ ছাড়লেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল

ছবি: সংগৃহীত
পশ্চিম তীর ইস্যুতে যুক্তরাজ্য-ইসরায়েল কূটনৈতিক সম্পর্কে নজিরবিহীন টানাপোড়েন

অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্য ও ইসরাইলের সম্পর্কে বড় টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে। এ বসতি স্থাপন ঠেকাতে যুক্তরাজ্য কিছু পদক্ষেপ ঘোষণা করলে পালটা পদক্ষেপ নেয় ইসরাইল। এতে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছেছে।      বিশ্লেষকরা মনে করেন, বসতি স্থাপনসহ ইসরাইলি সরকারের কিছু পদক্ষেপ ঠেকাতে আরও কঠোর হতে পারে যুক্তরাজ্য।     গাজায় ইসরাইলি গণহত্যার বাস্তবতায় যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের এ ধরনের পদক্ষেপ তেল আবিবকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা বিশ্বের নতুন অবস্থানকে তুলে ধরছে।      বুধবার বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতিগুলো থেকে পণ্য আমদানি ও সংশ্লিষ্ট কিছু সেবার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। সেই সঙ্গে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতাকে ‘জাতিগত নিধন’ বলেও আখ্যা দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার।       ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড সংসদে বলেন, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের চালানো হামলার মাধ্যমে জাতিগত নিধন চলছে। এ ক্ষেত্রে ইসরাইল সরকার চোখ বন্ধ করে আছে। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক আইনে এসব বসতি অবৈধ পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতিগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যোগ দেবে ফ্রান্স ও কানাডা। মিলিব্যান্ড জানান, পরবর্তীতে আরও ৯টি দেশ একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নেবে।      দেশগুলো হলো- ডেনমার্ক, স্পেন, ফিনল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, আইসল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল ও সুইডেন।       এ নিষেধাজ্ঞা এমন এক সময় আরোপ করা হয়েছে যখন ইসরাইল অধিকৃত পশ্চিম তীরে ১ হাজার ২০০টি নতুন বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। এ বছর ফিলিস্তিনিদের ওপর বসতি স্থাপনকারীদের হামলা বেড়েছে। মিলিব্যান্ড নিজেও একজন ইহুদি। তবে এখন তাকেও ইহুদি বিদ্বেষের অভিধা দেওয়া হচ্ছে।       যুক্তরাজ্যের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তকে ‘গুরুতর ভুল’ বলে মন্তব্য করেন।      ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি বিবিসিকে বলেন, এ নিষেধাজ্ঞার কারণে যুক্তরাজ্যের কিছু প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে।       ইসরাইলের পালটা পদক্ষেপ পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতিতে যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার জবাবে জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইসরাইল।      মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পর ইসরাইলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার ইসরা ইসরাইলের চার দফা পালটা পদক্ষেপের ঘোষণা দেন। এর মধ্যে রয়েছে-জেরুজালেমে ব্রিটিশ দূতাবাস বন্ধ করে দেওয়া; দক্ষিণ ইসরাইলের কিরিয়াত গাতে ‘ইন্টারন্যাশনাল গাজা সাপোর্ট সেন্টার’ থেকে ব্রিটিশ প্রতিনিধিদের প্রত্যাহার করা; রামাল্লায় ব্রিটিশ সাপোর্ট টিম-এর আওতায় জুদেয়াহ ও সামারিয়ায় (পশ্চিম তীরকে এভাবে বর্ণনা করে ইসরাইলি সরকার) ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্রিটিশ কার্যক্রম বন্ধ করা।      পাশাপাশি যাদের বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষী ও ইসরাইলবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে- এমন ১২ জন ব্রিটিশ এমপিকে ও কয়েকজন ব্রিটিশ নাগরিককে ইসরাইলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।      ইসরাইলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার বর্তমান যুক্তরাজ্য সরকারকে বৈরী আখ্যা দিয়ে বলেছেন, ‘তারা ইসরাইলের বিরুদ্ধে কাজ করছে।’ তার অভিযোগ, আগামী মাসে ইসরাইলে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনের আগে যুক্তরাজ্য সরকার দেশটির নির্বাচনি  প্রক্রিয়ায় ‘নির্লজ্জ হস্তক্ষেপ’ করছে।     বিবিসির কূটনৈতিক প্রতিবেদক পল অ্যাডামস বলেন, অধিকৃত পশ্চিম তীরের ইসরাইলি বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার বিষয়ে ব্রিটিশ সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতি ইসরাইলের তীব্র প্রতিক্রিয়া প্রমাণ করে যে, বর্তমান মুহূর্তটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ইসরাইলের ক্ষোভের মূল লক্ষ্য ছিল ব্রিটেন। তবে ১২টি দেশ যে যৌথভাবে এই পদক্ষেপ নিয়েছে, সেই বিষয়টি ইসরাইলের ক্ষোভের মাত্রাকে আরও বাড়িয়েছে।     লন্ডনের কর্মকর্তারা আগে থেকেই জানতেন যে ইসরাইল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে নীতির এমন নাটকীয় পরিবর্তন বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে। কিন্তু ইসরাইলের প্রতিক্রিয়ার গতি ও তীব্রতা দেখে তারা কিছুটা হতবাকই হয়েছেন।      পূর্ব জেরুজালেমে যুক্তরাজ্যের কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়া, যা পশ্চিম তীরের সেবা প্রদান ও রামাল্লায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষার কাজ করত এবং ইন্টারন্যাশনাল গাজা সাপোর্ট সেন্টার থেকে ব্রিটিশ প্রতিনিধিদের প্রত্যাহার করে নেওয়া অত্যন্ত বৈরী পদক্ষেপ।     সম্প্রতি ব্রিটেন আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের ২০২৪ সালের সেই রায়ের সঙ্গে একমত পোষণ করে, যেখানে বলা হয়েছে-ইসরাইলের সামরিক উপস্থিতিসহ সামগ্রিক দখলদারত্বই বেআইনি। এর প্রেক্ষিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড জানান, সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্কগুলোতেও এ অবস্থানের প্রতিফলন থাকা আবশ্যক

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

এক ভিসায় ছয় দেশ: মধ্যপ্রাচ্যে চালু হচ্ছে ‘জিসিসি গ্র্যান্ড ট্যুরিস্ট ভিসা’

ছবি : রয়টার্স

দক্ষিণ চীন সাগর বিরোধ: চীনের পাঠানো নোট ঘিরে ফিলিপিন্সের কড়া প্রতিবাদ

সংগৃহীত ছবি

মালয়েশিয়ায় লরি-গাড়ির সংঘর্ষে নিহত ৪

0 Comments