আন্তর্জাতিক

ইরানের ৩টি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করল ভারত

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬

ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের সাম্প্রতিক উন্নতির প্রেক্ষাপটে আরব সাগরে বড় ধরনের এক অভিযানে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার জাহাজ জব্দ করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। 


মুম্বাই উপকূল থেকে প্রায় ১০০ নটিক্যাল মাইল দূরে ভারতের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন থেকে ‘স্টেলার রুবি’, ‘অ্যাসফল্ট স্টার’ এবং ‘আল জাফজিয়া’ নামের এই তিনটি জাহাজ আটক করা হয়। ভারতীয় কোস্টগার্ড বাহিনীর প্রায় ৫৫টি জাহাজ এবং ১০-১২টি বিমান বর্তমানে সাগরে এই ধরনের অবৈধ লেনদেন রোধে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা কড়া নজরদারি চালাচ্ছে।

মূলত মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা এই জাহাজগুলো বারবার নিজেদের পরিচয় ও নাম পরিবর্তন করে আন্তর্জাতিক আইন ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করছিল। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, এই ট্যাংকারগুলো মাঝসমুদ্রে এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে তেল স্থানান্তরের (শিপ-টু-শিপ ট্রান্সফার) মাধ্যমে তেলের উৎস গোপন করে আসছিল। 

জব্দকৃত জাহাজগুলোর মধ্যে ‘স্টেলার রুবি’ এবং ‘আল জাফজিয়া’ ইরানের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এবং ‘অ্যাসফল্ট স্টার’ মূলত চীনের পথে চলাচল করছিল বলে জানা গেছে। যদিও ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি এই জাহাজগুলোর সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করেছে।

এই অভিযানের নেপথ্যে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উষ্ণ হতে থাকা কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের বড় ভূমিকা রয়েছে। চলতি মাসেই যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করেছে যে তারা ভারতীয় পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নিয়ে আসবে। এর বিনিময়ে ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই শুল্ক ছাড় এবং বাণিজ্য চুক্তির পর ভারতও তাদের জলসীমায় অবৈধ ইরানি তেল পাচার রোধে কড়াকড়ি বাড়িয়ে দিয়েছে।

বর্তমানে জব্দকৃত ৩টি ট্যাংকারকে আরও গভীর তদন্তের জন্য মুম্বাই বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চাবাহার বন্দরে বাজেট বরাদ্দ বন্ধ করা এবং এই ধরনের জাহাজ জব্দ করার ঘটনাগুলো স্পষ্ট করছে যে ভারত বর্তমানে মার্কিন নীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে চাইছে। 

এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক বাজারে তেল চোরাচালান রোধে যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি এটি ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বাণিজ্যিক সমীকরণকেও সামনে নিয়ে এসেছে।

সূত্র: এনডিটিভি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
মান-অভিমান ভুলে ফের একজোট ট্রাম্প-মাস্ক

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইলন মাস্কের সম্পর্কের বরফ অবশেষে গলতে শুরু করেছে। সব মতবিরোধ পেছনে ফেলে তারা নতুন করে রাজনৈতিক জোট গড়েছেন। আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জেতাতে অন্তত ১০ কোটি (১০০ মিলিয়ন) ডলার খরচ করার ঘোষণা দিয়েছেন টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী।   গত মে মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে এয়ারফোর্স ওয়ানে চীনে যান ইলন মাস্ক। সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, দীর্ঘ যাত্রায় দুজনের মধ্যে বেশ আন্তরিক আলোচনা হয়। কারখানার প্রসার ও মহাকাশ নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে বিপুল অর্থ ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দেন মাস্ক।   অথচ কয়েক মাস আগেও তাদের সম্পর্কের বেশ অবনতি হয়েছিল। ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পকে জেতাতে প্রায় ৩০ কোটি ডলার খরচ করেছিলেন মাস্ক। পরে তিনি হোয়াইট হাউসের ‘ডজ’ (DOGE) প্রকল্পে যুক্ত হয়ে সরকারি ব্যয় কমানোর কাজ শুরু করেন। কিন্তু মন্ত্রিসভার সদস্যদের কাজে হস্তক্ষেপের অভিযোগে ট্রাম্পের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়। সেসময় ট্রাম্প মাস্কের সরকারি চুক্তি বাতিলেরও কথা বলেছিলেন।   তবে পর্দার আড়ালে এই দূরত্ব ঘোচাতে কাজ করেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সেপ্টেম্বরে অধিকারকর্মী চার্লি কার্কের স্মরণসভায় ট্রাম্প ও মাস্কের পুনর্মিলন ঘটে। এছাড়া মাস্কের অপছন্দের কর্মকর্তা সার্জিও গোরকে ভারতে রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাঠানো এবং মাস্কের মিত্র জ্যারেড আইজ্যাকম্যানকে নাসার প্রধান করার সিদ্ধান্তটিও সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে।   বর্তমানে দুই শীর্ষ ব্যক্তিত্ব প্রতি মাসে অন্তত একবার কথা বলছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বিশ্ব রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করছেন তারা। তবে ট্রাম্প মনে করেন, আগের মতো ঘনিষ্ঠতা হয়তো আর হবে না। মাস্কও জানিয়েছেন, তিনি রাজনীতিতে আর এতটা জড়াতে চান না।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

মোদি-মেলোনির ‘কোলাকুলি’ নিয়ে দিল্লির বার্তা, ভারত-ইতালি সম্পর্ক ‘গভীর ও শক্তিশালী’

ছবি : সংগৃহীত

আনুগত্য না করলে ন্যাটো মিত্রদের সুরক্ষা দেবে না যুক্তরাষ্ট্র, নথি ফাঁস

ছবি: সংগৃহীত

দ্য ইকোনমিস্টের বিশ্লেষণ: অভ্যন্তরীণ কোন্দলে সংকটে মুসলিম ব্রাদারহুড

ছবি: সংগৃহীত
ইরানকে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক অবরোধের হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বৃহস্পতিবার ইরানকে ‘বিশ্ব আগে কখনো দেখেনি—এমন অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা’র মুখে ফেলার হুমকি দিয়েছেন। তিনি জানান, আগামী সপ্তাহে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কিছু পদক্ষেপ ঘোষণা করা হতে পারে।   টেলিভিশন নেটওয়ার্ক নিউজম্যাক্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, এর মধ্যে এমন অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা থাকবে, ‘যা বিশ্ব আগে কখনো দেখেনি।’ তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালিতে চলমান অবরোধের কারণে ইরানের বন্দরগুলো দিয়ে কোনো পণ্য বা জ্বালানি প্রবেশ বা বের হতে পারবে না।   বেসেন্ট বলেন, আগামী সপ্তাহে আরও ঘোষণা আসতে পারে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনায় দুটি প্রধান দিক রয়েছে—ইরানের ওপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি এবং দেশটির বন্দরগুলোকে অবরোধ করা।   এর আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান অগ্রাধিকার হলো আমেরিকানদের জন্য তেল ও পেট্রলের দাম কমানো। আর ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র আদায় করতে না পারে, সেটি এখন দ্বিতীয় অগ্রাধিকার।   বেসেন্টের সাম্প্রতিক কঠোর অবস্থান তার ৪ আগস্টের বক্তব্যের সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন। ওই দিন তিনি সিএনবিসিকে বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের সঙ্গে কয়েক দিনের মধ্যেই একটি সমঝোতা হতে পারে। সেই বক্তব্যের পর ওয়াল স্ট্রিটের শেয়ারবাজারে উত্থান এবং তেলের দামে পতন দেখা গিয়েছিল। সূত্র: আল-আরাবিয়া

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ১৪, ২০২৬
থালাপতি বিজয় ও নরেন্দ্র মোদি। ছবি: সংগৃহীত

লোকসভা আসন নিয়ে মোদিকে বিজয়ের ৩ প্রস্তাব

সংগৃহীত ছবি

ইউক্রেনের রুশ কৌশলেই যুক্তরাষ্ট্রকে ঘায়েল করছে ইরান

প্রতীকী ছবি

১৫ আগস্টের আগে দিল্লিতে একের পর এক বোমা হামলার হুমকি

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
রাশিয়ার গভীরে ইউক্রেনের হামলা, যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা জানতে চাইল মস্কো

রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের বেশ গভীরে বেসামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালাচ্ছে ইউক্রেন। আর এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের গভীর সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে মনে করে মস্কো। ইউক্রেনকে গোয়েন্দা তথ্য দেওয়াসহ এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ঠিক কী ধরনের সহায়তা করছে, সে বিষয়ে ওয়াশিংটনের কাছে আনুষ্ঠানিক জবাব চেয়েছে রাশিয়া।   শুক্রবার সম্প্রচারিত এক বক্তব্যে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছে লিখিতভাবে এসব প্রশ্নের উত্তর চাওয়া হয়েছে। তবে মার্কিন কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।   চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর থেকেই মূলত মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে মধ্যস্থতার মার্কিন চেষ্টা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ইউক্রেন নিয়ে কোনো শান্তি আলোচনা আর এগোয়নি।   লাভরভ এক বছর আগের একটি শীর্ষ সম্মেলনের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ওই সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া শান্তি প্রস্তাব মেনে নিয়েছিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। পুতিন তখন বলেছিলেন, কিছু বিষয়ে আপসের প্রয়োজন হলেও ট্রাম্পের প্রস্তাব তিনি গ্রহণ করছেন। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এমন চুক্তির কথা অস্বীকার করে জানান, চুক্তি হলে যুদ্ধ এতদিনে শেষ হয়ে যেত।   রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লাভরভ জানিয়েছেন, ট্রাম্পের দূতেরা নতুন কী প্রস্তাব নিয়ে আসেন, তা দেখতে পুতিন তাদের আবারও স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।   বর্তমানে পঞ্চম বছরে গড়ানো এই যুদ্ধে ইউক্রেন এখনো পশ্চিমা মিত্রদের কাছ থেকে সামরিক সহায়তা পাচ্ছে। যদিও রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে তাদের ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতি রয়েছে। তবে লাভরভ স্পষ্ট জানিয়েছেন, কিয়েভকে দেওয়া পশ্চিমা সামরিক সরবরাহ ধ্বংস করতে মস্কো তাদের হামলা আরও জোরদার করবে। 

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন নৌ অবরোধের হুমকিতে ফের বাড়ল তেলের দাম

ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেনের বোমা হামলায় রুশ সামরিক কর্মকর্তা নিহত

ছবি: সংগৃহীত

নৌকায় ইরাকে পৌঁছানোর পর ২৩ পাকিস্তানি আটক

0 Comments