ইরানে যৌথ হামলা চালিয়েছে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। এতে দেশটির মিনাব সিটিতে ২৪ স্কুলছাত্রী নিহত হয়েছে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ হরমুজগানে একটি প্রাক-প্রাথমিক মহিলা বিদ্যালয়ে ইসরাইলি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে প্রথমে পাঁচ শিশু নিহতের খবর পাওয়া গিয়েছিল।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে যে, হামলায় বিদ্যালয়ের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে আর অন্তত ৬০জন আহত হয়েছে।
এদিকে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ আগ্রাসনের কঠোর জবাব দিচ্ছে ইরান। দেশটির সেনাবাহিনী ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী প্রতিশোধমূলক ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশটির মিসাইলগুলো আঘাত হেনেছে উপসাগরীয় দেশগুলোতে। এতে আরব আমিরাতে একজন নিহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
সূত্র: আলজাজিরা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ভারতের লোকসভায় আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে তিন দফা দাবি জানিয়েছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয় (থালাপতি বিজয়)। লোকসভার মোট আসনসংখ্যা স্থায়ীভাবে ৫৪৩ রাখার পাশাপাশি রাজ্যগুলোর বর্তমান আসন বণ্টন অপরিবর্তিত রাখার দাবি জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে আগামী লোকসভা ও পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনগুলোতে নারীদের জন্য এক তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে পাঠানো এক চিঠিতে এসব দাবি জানান বিজয়। চিঠির সঙ্গে তামিলনাড়ু বিধানসভায় বুধবার গৃহীত একটি প্রস্তাবের অনুলিপিও পাঠানো হয়েছে।তামিলনাড়ু বিধানসভায় গৃহীত প্রস্তাবে বলা হয়েছে, আগামী জনগণনার পর জনসংখ্যার ভিত্তিতে লোকসভা আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হলে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলো বড় ধরনের রাজনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে যেসব রাজ্য দীর্ঘদিন ধরে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে, তাদের প্রতি এটি অন্যায় হবে বলে মনে করছে তামিলনাড়ু। বিজয় তার চিঠিতে বলেন, লোকসভার মোট সদস্যসংখ্যা স্থায়ীভাবে ৫৪৩ নির্ধারণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রতিটি রাজ্যের জন্য বর্তমানে যে সংখ্যক লোকসভা আসন নির্ধারিত রয়েছে, সেটিও অপরিবর্তিত রাখতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংশোধনী আনার বিষয়টি বিবেচনা করতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। তামিলনাড়ুর বিধানসভায় আলোচনার সময় আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়, জনসংখ্যার নতুন পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস করা হলে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোর লোকসভা আসন কমে যেতে পারে। অন্যদিকে জনসংখ্যা বেশি এমন উত্তর ভারতের রাজ্যগুলোর আসন বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিধানসভায় এ প্রসঙ্গে তামিলনাড়ুর অতীতের উদাহরণও তুলে ধরা হয়। সীমানা পুনর্নির্ধারণের কারণে ১৯৬৭ সালে রাজ্যটির লোকসভা আসন ৪১ থেকে কমে ৩৯ হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়। তামিলনাড়ুর যুক্তি, ১৯৭১ সালের পর জনসংখ্যার পরিসংখ্যানকে ভিত্তি করে নতুন করে লোকসভা আসন নির্ধারণ করা হলে দক্ষিণের রাজ্যগুলো দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ এসব রাজ্য জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জনকল্যাণের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তামিলনাড়ু সরকারের বক্তব্য, যে রাজ্যগুলো জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে, নতুন আসন পুনর্বিন্যাসে তাদের পুরস্কৃত করার বদলে যদি রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব কমে যায়, তাহলে তা ন্যায্য হবে না।এদিকে লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাসের পাশাপাশি নারীদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছেন বিজয়। আগামী লোকসভা নির্বাচন এবং পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনগুলোতে নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।চিঠিতে বিজয় তামিলনাড়ু বিধানসভার প্রস্তাবটি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংশোধনী আনার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর এই অবস্থান সামনে আসার পর লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাসের প্রশ্নটি ফের জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলো দীর্ঘদিন ধরেই আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছে যে, জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস হলে তাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব কমে যেতে পারে। বিজয়ের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে লোকসভার মোট আসন ৫৪৩-এ স্থায়ী করা, রাজ্যভিত্তিক বর্তমান আসন বণ্টন অপরিবর্তিত রাখা এবং আগামী লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন নিশ্চিত করা।এখন মূল নজর কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থানের দিকে। কারণ লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাসের প্রশ্নটি শুধু নির্বাচনী সীমানা পরিবর্তনের বিষয় নয়, এর সঙ্গে জাতীয় রাজনীতিতে বিভিন্ন রাজ্যের প্রতিনিধিত্বের ভারসাম্যও জড়িয়ে রয়েছে।
ইরানের ওপর অনির্দিষ্টকালের জন্য নৌ-অবরোধ আরোপের মার্কিন হুমকির জেরে মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে আবারও বেড়েছে তেলের দাম। এই প্রবণতা সাপ্তাহিক বৃদ্ধির পথে রয়েছে। শুক্রবার(১৪ আগস্ট) ব্রেন্ট ফিউচারসের দাম ১২ সেন্ট বা ০.১৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৭.১৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত তেলের ফিউচারস ৫০ সেন্ট বা ০.৬২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮১.৭৫ ডলারে পৌঁছেছে। ব্রেন্ট এবং ডব্লিউটিআই-এর ক্ষেত্রে সাপ্তাহিক বৃদ্ধির হার যথাক্রমে প্রায় ৪.৩ শতাংশ এবং ৪.৬ শতাংশ হতে চলেছে। এসইবি রিসার্চের বিয়ার্ন শিল্ড্রপ বলেন, তেলের দাম বৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের একটি স্বাভাবিক ফলাফল। এই পদক্ষেপের ফলে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের স্বল্পমেয়াদী সমাধানের আশা ক্ষীণ। যুদ্ধবিরতি আলোচনা থমকে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা তেহরানের ওপর অনির্দিষ্টকালের জন্য নৌ-অবরোধ অব্যাহত এবং অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে পারে। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট নিউজম্যাক্সের ‘রব স্মিট টুনাইট’ অনুষ্ঠানে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আগামী সপ্তাহে আরও ঘোষণার জন্য চোখ রাখুন, কারণ আমরা এমন সব পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছি যা কোনো দেশের অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নকরণের ইতিহাসে আগে কখনো দেখা যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে শিল্ড্রপ বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক চলাচল পুনরুদ্ধারের কোনো স্বল্পমেয়াদী আশা এখন আর নেই বললেই চলে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌ-চলাচল ধীর হয়ে পড়েছে হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই দাবি করায় এই চ্যানেল দিয়ে জাহাজ চলাচল মাসিক গড় হারের নিচে নেমে গেছে। ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে যুদ্ধ শুরুর আগে, এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের দৈনিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হতো। সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ‘ওয়াম’ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার এই প্রণালী অতিক্রম করার সময় আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির দুটি জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার এই ঘটনাকে তেহরানের হামলা দাবি করে নিন্দা জানিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ সীমিত হয়ে পড়লেও ওপেক -এর পূর্বাভাসে চাহিদার প্রবৃদ্ধি মন্থর হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুদ গত সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সাপ্তাহিক বৃদ্ধির রেকর্ড গড়েছে। জুলিয়াস বায়ের-এর অর্থনীতি ও নেক্সট জেনারেশন রিসার্চ বিভাগের প্রধান নরবার্ট রুকার বলেন, ‘আইইএ এবং ইআইএ-র এই সপ্তাহের প্রতিবেদনগুলো বেশ তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেছে। তেলের মজুদ আশঙ্কার চেয়ে অনেক ভালো অবস্থায় রয়েছে, যা তেলের দাম কমিয়ে আনতে সহায়তা করবে। সূত্র: রয়টার্স।
যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে হারাতে এক অভিনব কৌশল নিয়েছে ইরান। তারা সরাসরি অস্ত্রের সংঘাত এড়িয়ে বেছে নিয়েছে অর্থনৈতিক যুদ্ধ। আর এই যুদ্ধে জয়লাভের ক্ষেত্রে তাদের সবচেয়ে বড় তুরুপের তাস হলো হরমুজ প্রণালি। তারা চাইছে, যুক্তরাষ্ট্র যেন নিজেদের পরাজয় মেনে নিয়ে এই অঞ্চল ছেড়ে চলে যায়। ইরানের রাজধানী তেহরানের ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেস-এর অধ্যাপক মোস্তফা খোশচেশম আল জাজিরাকে এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, ইরান বেশ ভালোভাবেই জানে, আমেরিকাকে পরাজিত করতে হলে একতরফা বা অসম যুদ্ধের পথেই হাঁটতে হবে। আর এমন অর্থনৈতিক যুদ্ধে হরমুজ প্রণালিই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব বহন করে। এ কারণেই তারা হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নিজেদের দাবি আদায়ের চূড়ান্ত হাতিয়ার হিসেবে এই নৌপথটিকে ব্যবহার করছে ইরান। তাদের লক্ষ্য হলো, সমঝোতা স্মারকে উল্লেখ থাকা বিভিন্ন শর্ত মানতে যুক্তরাষ্ট্রকে বাধ্য করা। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের আটকে থাকা সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়া, লেবাননে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের অবসান, গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিকভাবে জাহাজ চলাচলের যে দাবি যুক্তরাষ্ট্র করেছিল, তা পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী। তারা জানিয়েছে, তাদের অনুমতি ছাড়া কোনো নৌযান সেখান দিয়ে যেতে পারবে না। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, অতীতের মতোই হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ইরানের ক্ষমতাধর সশস্ত্র বাহিনীর অনুমতি ও তত্ত্বাবধান ছাড়া কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ বা তেলের ট্যাংকার এই প্রণালি দিয়ে নিরাপদে পার হতে পারবে না।