ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধান ডেভিড বার্নিয়া মঙ্গলবার বলেছেন, ইরান যাতে তাদের পরমাণু কর্মসূচি পুনরায় শুরু করতে না পারে ইসরাইলকে তা ‘নিশ্চিত’ করতে হবে।
ইরান-ইসরাইলের ১২ দিনব্যাপী যুদ্ধ শেষ হওয়ার ছয় মাস পর তিনি এই মন্তব্য করলেন।
জেরুজালেম থেকে এএফপি এ খবর জানায়।
জেরুজালেমে মোসাদ এজেন্টদের এক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বার্নিয়া বলেন, ‘পারমাণবিক বোমা তৈরির ভাবনা এখনো তাদের হৃদয়ে রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা ইরানের পারমাণবিক প্রকল্পের যে মারাত্মক ক্ষতি করেছি, তা যেন আর কখনোই সচল হতে না পারে, সেই দায়িত্ব আমাদেরই পালন করতে হবে।’
২০২৬ সালের জুনে বিদায় নিতে যাওয়া এই গোয়েন্দা প্রধান যুদ্ধের শুরুতে ইসরাইলের আকস্মিক হামলার প্রশংসা করেন। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, ওই হামলার মাধ্যমেই বোঝা গেছে ইরানে ইসরাইলি গোয়েন্দাদের কত গভীর অনুপ্রবেশ ছিল।
বার্নিয়া বলেন, ‘আয়াতুল্লাহর শাসনব্যবস্থা হঠাৎ টের পায় যে, ইরান পুরোপুরি উন্মোচিত এবং সেখানে আমরা গভীরভাবে ঢুকে পড়েছি।’
তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধান নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘ইরান বিশ্বকে আবারও ধোঁকা দিতে চায় এবং আরেকটি ত্রুটিপূর্ণ পারমাণবিক চুক্তি বাস্তবায়ন করতে চায়। আমরা অতীতেও এমন কোনো খারাপ চুক্তি হতে দেইনি এবং ভবিষ্যতেও দেব না।’
পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টার অভিযোগ এনেছে। তবে তেহরান সব সময়ই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার ঐতিহাসিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিয়েছিলেন। ইসরাইল ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত ওই চুক্তির বিরোধিতা করেছিল।
ওমানের মধ্যস্থতায় গত এপ্রিলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন চুক্তির আলোচনা শুরু হয়েছিল। কিন্তু গত ১৩ জুন ইরানের ওপর ইসরাইলের আকস্মিক হামলার ফলে সেই আলোচনা থমকে যায়। ওই হামলার সূত্র ধরেই ১২ দিনের যুদ্ধ শুরু হয়।
পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন যে মার্কিন হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এখনো অস্পষ্ট।
পেন্টাগন জানিয়েছে, হামলার ফলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এক থেকে দুই বছর পিছিয়ে গেছে। তবে মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি গোপন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ক্ষয়ক্ষতি মাত্র কয়েক মাসের।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ট্রাম্পের দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, ‘স্বপ্ন দেখতেই থাকুন।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্প্রতি সই হওয়া যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে মিসরও যোগ দিতে পারে বলে জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। ভবিষ্যতে আরও দেশকে এই জোটে যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এরদোয়ান বলেন, গত শুক্রবার মক্কায় তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সই করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর বাইরের কোনো পক্ষ হামলা চালালে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এরদোয়ানের মতে, এই চুক্তি বিশ্বকে গুরুত্বপূর্ণ একটি বার্তা দিয়েছে। চুক্তিতে মিসরের যোগ দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানান তিনি। ভবিষ্যতে আরও দেশকে এতে যুক্ত করার সুযোগ রাখা হয়েছে। নতুন এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে অনেকটা ন্যাটোর পারস্পরিক প্রতিরক্ষা নীতির সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। তবে পাকিস্তানের কর্মকর্তারা বলেছেন, এটিকে ন্যাটোর সমতুল্য জোট হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। একই সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে এই চুক্তি করা হয়নি বলেও জানিয়েছে ইসলামাবাদ। সাক্ষাৎকারে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিয়েও কথা বলেন এরদোয়ান। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া তুরস্কের অগ্রাধিকার। দীর্ঘ সময় প্রণালিটি বন্ধ থাকলে কোনো পক্ষই লাভবান হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। সংঘাত বন্ধে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ায় কাতারের ভূমিকাও প্রশংসা করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। সিরিয়া, গাজা ও লেবাননের পরিস্থিতি নিয়েও তুরস্কের অবস্থান তুলে ধরেন এরদোয়ান। তিনি বলেন, আঞ্চলিক অস্থিরতার মধ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোকে তুরস্ক একা ছেড়ে দেবে না। সিরিয়ায় স্থিতিশীলতা ফেরাতে আঙ্কারা কাজ করবে। সিরিয়ার কুর্দিরাও শান্তি ও স্থিতিশীলতার অংশীদার হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। গাজা প্রসঙ্গে এরদোয়ান বলেন, তুরস্ক গাজাকে একা ছেড়ে দিতে পারে না। সেখানকার মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রাখবে আঙ্কারা। লেবাননে ইসরায়েলি হামলা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। সুদান ও লিবিয়ার প্রতিও তুরস্কের সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে জানান এরদোয়ান। ইউরোপীয় ইউনিয়নে তুরস্কের সদস্যপদ নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। এরদোয়ানের মতে, ইইউ এখন তুরস্ককে সদস্য হিসেবে নিতে আগ্রহী নয়। তাই ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেওয়া এখন আর আঙ্কারার প্রধান অগ্রাধিকার নয় বলে জানান তিনি। তুরস্ককে দূরে রাখার কারণে শেষ পর্যন্ত ইউরোপই ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও মন্তব্য করেন এরদোয়ান। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আবার এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান পাওয়ার বিষয়েও আশাবাদী এরদোয়ান। তিনি জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে তাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এখন সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে আঙ্কারা। তবে তুরস্কের রুশ এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনাকে কেন্দ্র করে বিষয়টি জটিল হয়ে আছে। ২০১৯ সালে এস-৪০০ কেনার পর তুরস্ককে এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে বাদ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। তুরস্কের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে। ফলে এফ-৩৫ কর্মসূচিতে ফিরে আসা এবং নতুন করে যুদ্ধবিমান পাওয়ার পথে এখনো মার্কিন কংগ্রেস ও আইনি বাধা রয়েছে।
লন্ডনের প্রাণকেন্দ্রে ঘড়ির কাঁটায় মাত্র সকাল দশটা। অথচ গ্রীষ্মের দাবদাহে শহরের তাপমাত্রা ইতিমধ্যে ছাড়িয়ে গেছে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বলা হচ্ছে, এটিই হতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্যের ইতিহাসের উষ্ণতম গ্রীষ্মকাল। অক্সফোর্ড স্ট্রিটের বিখ্যাত সেলফ্রিজেস ডিপার্টমেন্ট স্টোরের বাইরে যখন রোদ চুঁইয়ে পড়ছে রাজপথে, এক গৃহহীন মানুষ তখন দুটি মুদ্রার জন্য হাত পাতছেন, আর পাশে পড়ে থাকা এক পরিত্যক্ত দৈনিক খবরের কাগজে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দাবানলের ভয়াবহতার নতুন খবর ছাপা হচ্ছে। তবে সেলফ্রিজের ভেতরে প্রবেশ করলেই শহরের এই রুক্ষ রূপ উধাও। সেখানে কুলকুল করে চলছে আধুনিক এয়ার কন্ডিশনিং। একটি কাউন্টারে বিক্রি হচ্ছে সুবাসিত আরবি কফি, আর প্রচার চলছে সৌদি আরবের। কারণ, এই বিখ্যাত ডিপার্টমেন্ট স্টোরের প্রায় ৪০ শতাংশ মালিকানা এখন সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের হাতে। ঠিক গত সপ্তাহেই এই সেলফ্রিজেস থেকেই বেরিয়ে এসেছিলেন দুবাইয়ের শাসক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম। কাছাকাছি নর্থ অডলে স্ট্রিটে হাঁটার সময় সুদানের চলমান যুদ্ধ নিয়ে তাঁর দেশের ভূমিকার প্রতিবাদ জানিয়ে এক ব্যক্তি তাঁকে লক্ষ্য করে স্লোগান দিয়েছিলেন। প্রতিবাদকারী সেই সুদানি যুবক চিৎকার করে বলে উঠেছিলেন, আমিরাত আমাদের দেশে মানুষ হত্যা করছে, আমার দেশের মানুষদের হত্যা করা বন্ধ করুন। রাস্তার ওপার থেকে আসা এই প্রতিবাদের জবাবে দুবাই শাসকের বিশাল বহরের এক সদস্য এগিয়ে যান এবং ওই যুবককে উদ্দেশ্য করে বর্ণবাদী গালাগাল দেন। অবশ্য এরপরও মোহাম্মদ বিন রশিদ লন্ডনেই অবস্থান করছেন। সেখানে তিনি আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং ১৯৬০-এর দশকের সুইং লন্ডনের জন্য পরিচিত চেলসি এলাকায় তাকে দেখা গেছে। তবে ধনী উপসাগরীয় নাগরিকদের জন্য লন্ডনের আসল ঠিকানা হয়ে উঠেছে মেফেয়ার। যে এলাকায় নর্থ অডলে স্ট্রিট অবস্থিত, তা বিশ্বের অন্যতম বিত্তশালী একটি অঞ্চল। দামি রেস্তোরাঁ, বিলাসবহুল গাড়ির শোরুম আর রাজকীয় সব হোটেলে পরিপূর্ণ এই মেফেয়ার। সেলফ্রিজের ভেতরেই মিডলইস্ট আইয়ের কথা হয় দুবাই থেকে আসা ১৫ বছরের কিশোর খালেদ এবং তার ৫৩ বছর বয়সী চাচা মোহাম্মদের সঙ্গে। আত্মবিশ্বাসী তরুণ খালেদ বলছিল, লন্ডনে তাদের অনেক বিনিয়োগ রয়েছে এবং তারা এখানকার অর্থনীতিকে সহায়তা করতে ভালোবাসে। সুদান সংকট নিয়ে দুবাই শাসকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের বিষয়ে জানতে চাইলে খালেদ মন্তব্য করে যে সুদানিরা অজ্ঞ, তারা সুদানকে মানবিক সহায়তা পাঠাচ্ছে এবং এ ধরনের আচরণ অসম্মানজনক। তার চাচা মোহাম্মদ যোগ করেন যে প্রত্যেকের বাকস্বাধীনতা থাকতে পারে, কিন্তু কোনো নেতার সঙ্গে এভাবে কথা বলা যায় না। তেল আবিষ্কারের আগের দুবাইয়ের কঠোর ও সরল দিনগুলোর কথা স্মরণ করে মোহাম্মদ জানান, বর্তমান আমিরাতে যেকোনো জিনিস চাইলে কয়েক মিনিটের মধ্যে হাতের কাছে পৌঁছে যায়, এমনকি কাউকে উঠে দাঁড়াতেও হয় না। প্রতি আগস্ট মাসে তিন সপ্তাহের জন্য মেফেয়ারে এসে থাকাটা তাদের নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সঙ্গে আমিরাতের ঐতিহাসিক সম্পর্ক এবং শহরজুড়ে আমিরাতের অর্থের ছড়াছড়ি তাদেরকে একটা চেনা আবহ উপহার দেয়। খালেদ ভবিষ্যতে লন্ডনেই পড়াশোনা করতে চায়। অথচ মজার ব্যাপার হলো, দুবাইয়ের সাধারণ তাপমাত্রা লন্ডনের এই রেকর্ড গরমের চেয়েও প্রায় দশ ডিগ্রি বেশি থাকে, যেখানে জীবন মূলত এসি-নির্ভর। তা সত্ত্বেও এই কিশোর লন্ডন বলতে কেবল সেন্টারের অভিজাত এলাকাগুলোকেই বোঝে। রোডম্যান, অভিবাসী বা ছুরি নিয়ে হামলা হতে পারে; এমন কোনো বিপজ্জনক এলাকায় তারা পা বাড়ায় না। তার ফোনে মেফেয়ারের আশেপাশেই সীমাবদ্ধ কিছু পছন্দের হ্যাংআউটের তালিকা রয়েছে, যার মধ্যে সিপ্রিয়ানি, আইভি এশিয়া, সেক্সি ফিশ, সুপারনোভা এবং নোবুর মতো নামকরা রেস্তোরাঁগুলো অন্তর্ভুক্ত। মেফেয়ারের বাইরে লন্ডনের বাকি অংশ নিয়ে এই উপসাগরীয় নাগরিকদের মধ্যে এক ধরনের ভীতি কাজ করে। সৌদি আরবের এক নারী জানান, তাদের পরিচিত এক কিশোর সৌদি আরব থেকে লন্ডনে একটি সামার স্কুলে পড়তে এসে প্রতিদিন হার্টস ডিপার্টমেন্ট স্টোরের দিকে ছুটে যায়, যেটির বর্তমান মালিক কাতার। ওই কিশোর স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিল যে তার একজন দেহরক্ষী দরকার, কারণ এখানকার মানুষেরা এতই গরিব যে তার হারমেস ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য তাকে ছুরিকাঘাত করতে পারে। বাহরাইন থেকে আসা ১৭ ও ১৫ বছর বয়সী দুই বোন সেলফ্রিজে দাঁড়িয়ে জানায় যে তারা এখানে এসে নিজেদের পরিচিত অনেকের দেখা পেয়েছে। তাদের মতে, বাহরাইনের তুলনায় এখানকার পাতাল রেল অত্যন্ত জনবহুল ও বিশৃঙ্খল এবং এখানকার স্থাপত্যশৈলীও একেবারেই আলাদা। অক্সফোর্ড স্ট্রিটের অপর প্রান্তে অবস্থিত মার্লবোরো পাবের বাইরে তখন দুপুরের রোদ আরও চড়া হয়েছে। চারপাশের রাস্তায় কুয়েতি ফ্যাশন ইনফ্লুয়েন্সার সাররা ও এহলাফ একে অপরের ছবি তুলছেন, পাশ দিয়ে মুক্তার মালায় সেজে হেঁটে যাচ্ছেন এক প্রবীণ নারী, আর গর্জন করে বেরিয়ে যাচ্ছে একটি বুগাটি গাড়ি। কুয়েত থেকে মেফেয়ারে বেড়াতে আসা সাররা জানান যে তারা মূলত আবহাওয়া, মানুষ এবং কেনাকাটার টানেই এখানে আসেন। মেফেয়ারের গ্রেজ অ্যান্টিকে মার্কেটেও একই চিত্র দেখা যায়। এখানকার এক গহনা ব্যবসায়ী জানান, আগস্ট মাস এলেই উপসাগরীয় অঞ্চলের বিত্তশালী পর্যটকরা উপচে পড়েন। সৌদি আরব, বাহরাইন এবং আমিরাতের রাজপরিবারের সদস্যরাও এই মার্কেটের নিয়মিত ক্রেতা। থাইল্যান্ডের কোনো রাজকুমারী কিংবা সাধারণ গালফ নাগরিকরা এখানে এসে কার্টিয়ার, টিফানি বা বুলগারির মতো ব্র্যান্ডের অলংকার দেদারছে কেনাকাটা করেন। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর আগে রুশ ধনকুবেরদের পদচারণায় মেফেয়ারকে 'লন্ডনগ্রাদ' বলা হতো। তবে বর্তমান ব্যবসায়ী সমাজের মতে, রুশরা সেই ডুবন্ত জাহাজ থেকে ইঁদুরের মতো পালিয়ে গেছে এবং যারা রয়ে গেছে তাদের হাতে সেভাবে অর্থ নেই। গ্রোভসনার স্কয়ারের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের সাবেক বিশাল ভবনটি এখন বিলাসবহুল হোটেল ও রেস্তোরাঁয় রূপান্তরিত হয়েছে। এর মধ্যে কাতারি মালিকানাধীন কিনওয়ান ক্যাফে উপসাগরীয় পর্যটকদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণের জায়গা। আবায়া পরা নারী এবং পোলো শার্ট পরা পুরুষেরা কফির কাপে চুমুক দিয়ে ইনস্টাগ্রামে ছবি আপলোড করতে ব্যস্ত থাকেন। সব মিলিয়ে লন্ডনের এই মেফেয়ার অঞ্চল যেন মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোর অভিজাত সমাজের এক টুকরো নিজেদের মতো করে গড়ে তোলা নিজস্ব দুনিয়া, যেখানে পাউন্ডের হিসেব ছাড়া আর কোনো বাস্তবতার দেখা মেলে না। সূত্র: মিডলইস্ট আই
১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর ও আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। যেকোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকাজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমদাদুল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বাড়তি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে মোতায়েন রয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থান দেখা গেছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি মোড়ে অবস্থান নিয়ে পথচারীদের চলাচল ও গতিবিধিও পর্যবেক্ষণ করছেন দায়িত্বরত সদস্যরা।