দেশজুড়ে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদের নামাজ ও কোরবানি শেষে যথানিয়মে গরিব-অসহায় মানুষের মাঝে মাংস বিলিয়ে দিচ্ছেন সামর্থ্যবানেরা। তবে ঈদের দিন দুপুরে সেই মাংসেরই একটি অংশ আবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সড়কের পাশে বিক্রি হতে দেখা গেছে। বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে মাংস কিনতে এসব অস্থায়ী দোকানে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের উপচে পড়া ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাজধানীর বাংলামোটর, হাতিরপুল, কারওয়ান বাজার ও মিরপুর এলাকার বিভিন্ন সড়ক ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। কোথাও ফুটপাতের ওপর পলিথিন বিছিয়ে, আবার কোথাও ছোট টেবিল সাজিয়ে বিক্রি করা হচ্ছিল গরু ও খাসির মাংস, ভুঁড়ি, মাথা, পা ও হাড়।
প্রতি বছরই ঈদের দিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের অস্থায়ী মাংসের বাজার বসতে দেখা যায়। মূলত বিভিন্ন বাসাবাড়ি থেকে দুস্থ মানুষেরা যে মাংস সাহায্য হিসেবে পান, তার একটি অংশ তারা নিজেদের অন্যান্য জরুরি প্রয়োজন মেটাতে এসব মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেন। আবার অনেকে সরাসরি সংগ্রহ করে এনে বাজারের তুলনায় কিছুটা কম দামে বিক্রি করেন।
সরেজমিনে বাংলামোটর ও হাতিরপুল এলাকায় দেখা যায়, বিক্রেতারা সারিবদ্ধভাবে মাংসের পসরা সাজিয়ে বসেছেন। প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকায়। কোথাও আবার মিশ্র মাংস ও হাড়সহ বিক্রি হচ্ছে আরও কম দামে।
রাজধানীর বাংলামোটর মোড়ে এক মাংস বিক্রেতা জানান, শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে কোরবানির পশুর মাংস, মাথা, পা ও হাড় সংগ্রহ করে এনে এখানে বিক্রি করছেন। কম দামে পাওয়ায় নিম্নআয়ের মানুষ ও শ্রমজীবীরা বেশি কিনছেন।
হাতিরপুল এলাকার এক বিক্রেতা বলেন, দুপুর থেকেই ক্রেতার চাপ বেশি। অনেকেই এক কেজি বা আধা কেজি করে মাংস কিনছেন। বাজারে যে দামে মাংস বিক্রি হয়, তার চেয়ে এখানে দাম বেশ কম।
বাংলামোটরে মাংস কিনতে আসা জাকের আলী বলেন, বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস কিনতে গেলে ৮০০ টাকার ওপরে লাগে। কিন্তু এখানে ভালো মানের মাংস ৬০০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। মাংসের পাশাপাশি গরুর ভুঁড়িও বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে। এতে আমাদের মতো নিম্নআয়ের পরিবারের মাংসের চাহিদা পূরণ হচ্ছে।
রাজধানীর মিরপুর এলাকার মৌসুমি মাংস ব্যবসায়ী রফিক বলেন, যাদের মাংস কেনার সামর্থ্য কম, তারা কম দামে ভুঁড়ি, কলিজা বা হাড় কিনছেন। মানভেদে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। কেউ আধা কেজি চাইলে আমরা তাও দিচ্ছি।
এদিকে এসব অস্থায়ী বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। অনেকেই পরিবারের মুখে ঈদের দিন একটু মাংস তুলে দিতে এখানে ভিড় করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্রেতা বলেন, কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য নেই। বাজারে মাংসের দামও অনেক বেশি। তাই প্রতি বছর ঈদের দিন রাস্তার পাশ থেকে মাংস কিনি। এখানে একটু কম দামে পাওয়া যায়।
নাসিমা বেগম নামে এক গৃহকর্মী বলেন, যে বাসায় কাজ করি তারা ঈদে গ্রামের বাড়ি গেছে। তাই এবার কোরবানির মাংস পাইনি। বাচ্চারা মাংস খেতে চেয়েছিল, তাই রাস্তার পাশ থেকে ৭০০ টাকা দিয়ে এক কেজি মাংস কিনলাম।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
সেনাসদস্যদের সঙ্গে পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ ভাগাভাগি করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন তিনি। এদিন মা, বাবা ও ভাইয়ের কবরও জিয়ারত করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে বিডিআর বিদ্রোহে নিহত সেনা কর্মকর্তাদের কবর জিয়ারত করে দোয়া করেন তিনি। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা সেনানিবাসে অফিসার, জেসিও ও সৈনিকদের সঙ্গে ঈদ প্রীতিভোজে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানস্থলে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হক। এ সময় প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত সেনাসদস্যদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, বহু বছর পর নিজের পুরোনো ও স্মৃতিবিজড়িত সেনানিবাস এলাকায় এসে অত্যন্ত আনন্দিত ও আবেগতাড়িত হয়ে পড়েছেন তিনি। সেনানিবাসের এই পরিবেশ, শৃঙ্খলা, সহযোদ্ধাসুলভ বন্ধন ও সেনাসদস্যদের আন্তরিকতা তাঁর কাছে বিশেষভাবে স্মরণীয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উন্নত পেশাদার মান, দায়িত্ববোধ এবং দুর্যোগ মোকাবিলাসহ দেশের যেকোনো প্রয়োজনে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর ঐতিহ্য তাঁকে গভীরভাবে গর্বিত করে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রত্যেক সদস্য ভবিষ্যতেও একই নিষ্ঠা, পেশাদারত্ব ও দেশপ্রেম নিয়ে জাতির সেবায় নিয়োজিত থাকবেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান, ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ আশিকুর রহমান এবং ২৫ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম। মা–বাবা ও ভাইয়ের কবর জিয়ারত এর আগে সকালে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ শেষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাবা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে যান প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান। প্রথমে তাঁরা দুজন একান্তে কবর জিয়ারত করেন। এরপর তারেক রহমান বিএনপির নেতাদের নিয়ে মা–বাবার কবরে ফাতেহা পাঠ করেন এবং বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। পরে কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ। পরে প্রধানমন্ত্রী বনানীতে ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর কবরে যান। সেখানেও ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত করেন তিনি। নিহত সেনা কর্মকর্তাদের কবর জিয়ারত সকালে প্রধানমন্ত্রী বনানী সামরিক কবরস্থানে যান। প্রথমে তিনি স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে শ্বশুর নৌবাহিনীর সাবেক প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের কবর জিয়ারত করেন। পরে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী ও জুবাইদা রহমান বিডিআর বিদ্রোহে নিহত সেনা কর্মকর্তাদের কবর প্রাঙ্গণে যান। সেখানে স্মৃতিস্তম্ভের সামনে দাঁড়িয়ে নিহত ব্যক্তিদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন তাঁরা। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সমাজকল্যাণ ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন।
পরিবার-স্বজন থেকে হাজার মাইল দূরে, পারস্য উপসাগরের বুকে ভাসমান জাহাজেই কাটল ৩১ বাংলাদেশি নাবিকের ঈদুল আজহা। ইরানের অনুমতি না মেলায় এখনো দেশে ফিরতে পারেননি বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’র নাবিকরা। ঈদুল ফিতরের পর এবার কোরবানির ঈদও তাদের কাটাতে হলো জাহাজে বসেই। স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করার আশায় বুক বাঁধলেও শেষ পর্যন্ত তা আর সম্ভব হয়নি। বুধবার (২৭ মে) স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় জাহাজটির নেভিগেশন ব্রিজে অনুষ্ঠিত হয় ঈদের জামাত। জাহাজের মাস্টার মো. শফিকুল ইসলাম খানর ইমামতিতে নামাজ আদায় করেন ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক। ঈদের নামাজ শেষে মোনাজাতে দেশের শান্তি, পরিবারের সুস্থতা এবং দ্রুত ঘরে ফেরার আকুতি জানান তারা। জানা গেছে, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি কাতার থেকে স্টিল কয়েল নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায় ‘বাংলার জয়যাত্রা’। পরদিনই মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরু হলে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে জটিলতায় পড়ে জাহাজটি। গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ইরানের কঠোর বিধিনিষেধের কারণে এখনো হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি মেলেনি জাহাজটির। এ সময় অন্য অনেক দেশের জাহাজ পার হওয়ার অনুমতি পেলেও বাংলাদেশি এই জাহাজটি এখনো অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। নাবিকদের পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা ও নাবিকদের একাধিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত পারস্য উপসাগর ত্যাগের অনুমতি পাওয়া যায়নি। ঈদ উপলক্ষে জাহাজে বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হলেও প্রিয়জনদের কাছ থেকে দূরে থাকার কষ্ট কাটেনি নাবিকদের। অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন গুনছেন তারা। ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘কবে নাগাদ হরমুজ প্রণালি পার হতে পারব, এখনো নিশ্চিত নই। দীর্ঘ তিন মাস ধরে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে আমরা সাগরে আটকে আছি।’
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, একটি ভঙ্গুর অর্থনীতিকে সঠিক স্থানে এনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সময় প্রয়োজন। দেশের মানুষের কাছে একটাই আকুতি, একটাই আবেদন; সেই সময়টুকু আমাদের একটু দেন। আমরা একটি কল্যাণকর রাষ্ট্রের দিকেই এগোচ্ছি। নির্বাচিত সরকার হিসেবে আমরা আপনাদের কাছে দায়বদ্ধ। আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে চট্টগ্রাম নগরীর উত্তর কাট্টলীতে নিজ বাড়ির দারুস সালাম জামে মসজিদে ঈদুল আযহার নামাজ আদায় করেন অর্থমন্ত্রী। এরপর তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, কোরবানির ঈদে সাধারণত জিনিসপত্রের দাম বাড়ে, এবার কমেছে। আমরা এই ধারাটা অব্যাহত রাখতে চাই। আপ্রাণ চেষ্টা করা হচ্ছে দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার। আশা করি, ক্রমান্বয়ে কমে আসবে। তবে একটু সময় দিতে হবে। আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করা হবে। চট্টগ্রামের ইতিহাসে প্রথম অর্থমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার দেশবাসীকে অর্থনীতির গতিপথের দিশা দেখাবেন আমির খসরু। বাজেটকে সামনে রেখে দেশের অর্থনীতির হালচাল সাংবাদিকদের কাছে সংক্ষেপে তুলে ধরেন তিনি। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘খালি প্রবৃদ্ধির কথা চিন্তা করলে তো হবে না। সাধারণ মানুষকে অর্থনীতির সুফল পেতে হবে। দ্রব্যমূল্য যদি সাধারণ মানুষের আওতার বাইরে চলে যায়, তাহলে তো তারা অর্থনীতির সুফল থেকে বঞ্চিত হবে।’ আমির খসরু বলেন, ‘আমরা বিগত সরকারগুলোর কাছ থেকে দেশের একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছি। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলছে। এমন পরিস্থিতিতেও সেই ভঙ্গুর অর্থনীতিকে সঠিক জায়গায় আনতে হচ্ছে। আমরা সমৃদ্ধির পথে যাব, ইনশাআল্লাহ।’ ঈদুল আযহা মানে শুধু পশু জবাই করে মাংস খাওয়া নয় বলেও মন্তব্য করেন আমির খসরু। তিনি বলেন, ‘ঈদুল আযহা মানে হচ্ছে ত্যাগ। আমাদের ত্যাগ করা শিখতে হবে। নিজে ত্যাগ করে দেশের জন্য, মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। প্রতিবেশীর জন্য করতে হবে। মোট কথা ত্যাগের যে মহিমা, সেটা ধারণ করতে হবে। সবকিছু আমাকেই পেতে হবে—এই চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। দেশে সবাই যেন সবাইকে সম্মান করে, এমন পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে বলেও মত দেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।