ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা ই-রিটার্ন দাখিল করতে অসমর্থ হলে আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলে আবেদন করার সুযোগ পাবেন। এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
আগেই ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা কিছুটা শিথিল করা হয়েছিল। তখন জানানো হয়, ই-রিটার্ন দাখিল করতে অক্ষম হলে আগের মতো সরাসরি আবেদন করা যাবে। এবার সেই আবেদনের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে কয়েক দফা সময় বাড়ানোর পর শেষবারের মতো এই সময়সীমা ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হলো। এর একদিন আগে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা দ্বিতীয় দফায় এক মাস বাড়িয়ে ৩১ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়।
চলতি করবর্ষে সাধারণ ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক হলেও ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ করদাতা, শারীরিকভাবে অক্ষম বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা এবং মৃত করদাতার পক্ষে আইনজীবী প্রতিনিধিদের ক্ষেত্রে এই বাধ্যবাধকতা প্রযোজ্য নয়।
তবে এসব ক্ষেত্রে আইনজীবী প্রতিনিধি বা প্রবাসী করদাতারা চাইলে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন, যদিও তা বাধ্যতামূলক নয়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জাতীয় সংসদের হুইপ এডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই। আমরা দেশকে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের সুবিধা বিবেচনায় প্রয়োজনীয় সব কিছুই করা হবে। আজ বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টায় জেলার মাধনগর রেল স্টেশনে চিলাহাটি থেকে রাজশাহী যাতায়াতকারী আন্তঃনগর বরেন্দ্র এক্সপ্রেস ট্রেনের স্টপেজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক ও নাটোর জেলা পরিষদের প্রশাসক রহিম নেওয়াজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ এবং জেলা বিএনপির সদস্য নাসিম উদ্দিন। উল্লেখ্য, চিলাহাটি থেকে রাজশাহী যাতায়াতকারী আন্তঃনগর ট্রেন বরেন্দ্র এক্সপ্রেস আজ থেকে নাটোরের মাধনগর রেল স্টেশনে স্টপেজ পাওয়ায় এই এলাকা থেকে ট্রেনে চলাচল করতে ইচ্ছুক যাত্রীদের দীর্ঘদিনের চলাচলের প্রত্যাশা পূরণ হলো।
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম ছেড়ে প্রিয়জনের কাছে ফেরার আনন্দে এখন মুখর ঘরমুখো মানুষের ঢল। রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল ও নগরের বিভিন্ন প্রবেশপথে বইছে এক অন্যরকম আবেগঘন জোয়ার। ঈদকে ঘিরে সাত দিনের দীর্ঘ ছুটিতে দেশের বিভিন্ন জেলায় স্বস্তিদায়ক পরিবেশে বাড়ি ফিরছেন মানুষ। লম্বা এই ছুটি যেন ঈদের আনন্দকে আরও দ্বিগুণ করে তুলেছে। প্রতি বছরের মতো এবারও স্বজন-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের আশায় নগরী ছেড়ে নীড়ে ফিরছেন হাজারো মানুষ। এবার ট্রেনের টিকিট পেতে তেমন কোনো বিড়ম্বনা না থাকায় এবং পরিবহনগুলোতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ কম থাকায় যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে। ধাপে ধাপে নগরী ছাড়ার কারণে যাত্রাপথে চাপ থাকলেও তা নিয়ন্ত্রিত রয়েছে। ফলে প্রায় সবার চোখেমুখে আনন্দের ছটা। এদিকে ঘরমুখো মানুষের স্রোতে চট্টগ্রাম নগরী অনেকটাই ফাঁকা হতে শুরু করেছে। ব্যস্ত সড়কগুলোতে নেই আগের চিরচেনা যানজটের দৃশ্য। বুধবার (১৮ মার্চ) ভোর থেকেই চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ট্রেন ছেড়ে যাওয়ায় ভিড় থাকলেও যাত্রীদের মধ্যে উৎফুল্লতা বিরাজ করছে। আগের মতো হুড়োহুড়ি বা অস্বস্তির পরিবেশও তেমন দেখা যায়নি। একই সময় দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে নগরের প্রবেশপথ ও বাস টার্মিনালগুলোতেও ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২১ মার্চ দেশে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে। নগরের বহদ্দারহাট, নতুন ব্রিজ, কদমতলী আন্তঃজেলা বাস কাউন্টারসহ গরীবুল্লাহশাহ মাজার এলাকায় সকাল থেকেই ঘরমুখো যাত্রীদের ভিড় চোখে পড়ে। গরীবুল্লাহশাহ মাজারে দূরপাল্লার এসি বাস কাউন্টারগুলোতে আগেই ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শেষ হয়েছে। যাত্রীরা নির্ধারিত সময়ে এসে নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা দিচ্ছেন। তবে যাত্রীর চাপের তুলনায় বাস টার্মিনালে কিছুটা গাড়ির সংকট দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কাউন্টার মালিকরা জানান, যেসব গাড়ি ইতোমধ্যে ছেড়ে গেছে সেগুলো ফিরে এলে টিকিট সংকট কমে আসবে। বর্তমানে যাত্রীর তুলনায় গাড়ি কম রয়েছে। চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) শেখ মো. সেলিম বলেন, “এখানে নিরাপত্তার কোনো শঙ্কা নেই। যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে পুলিশের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে। যানজট নিরসন ও ভাড়া তদারকিতেও আমরা কাজ করছি।” বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্র জানায়, গত ৩ মার্চ থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হয়। ১৩ মার্চ থেকে অগ্রিম টিকিটধারী যাত্রীদের যাত্রা শুরু হয়েছে। যাত্রীসেবার কথা বিবেচনায় রেখে এবার শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হচ্ছে, ফলে ভোগান্তি অনেকটাই কমেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে রেলস্টেশন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। ‘টিকিট যার, ভ্রমণ তার’ নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। টিকিট যাচাই শেষে যাত্রীদের প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, ফলে স্টেশনে শৃঙ্খলা বজায় রয়েছে। চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আবু জাফর মজুমদার বলেন, ‘ঈদযাত্রায় এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক রয়েছে। বুধবার সকাল থেকে যাত্রীদের চাপ আরও বেড়েছে। প্রতিটি ট্রেন নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ছেড়ে যাচ্ছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রেলওয়ে পুলিশ, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, আনসারসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।’ রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী-আরএনবি’র চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের ইন্সপেক্টর আমান উল্লাহ আমান বলেন, ‘যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে আরএনবি সজাগ রয়েছে। টিকিট দেখেই প্রবেশ করানো হচ্ছে। টিকিটবিহীন যাত্রী প্রবেশে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ট্রেনের ছাদে ভ্রমণের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে।’ নগরীর পূর্ব মাদারবাড়ী এলাকার বাসিন্দা সাব্বির হোসেন পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়ি সিলেটে যাওয়ার জন্য স্টেশনে অপেক্ষা করছিলেন। বাসের চেয়ে ট্রেনকে প্রাধান্য দিয়ে তিনি বলেন, ‘গ্রামে ঈদ করার আনন্দই আলাদা। তাই যানজট ও ভোগান্তি এড়াতে আগেই রওনা দিয়েছি। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আগেভাগেই বাড়ি যাচ্ছি।’ রাউজান উপজেলার নোয়াজিষপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, ‘সারা বছর ঢাকায় চাকরি করি। রমজানের শেষের দিকে কয়েক দিনের ছুটি পেয়ে গ্রামে চলে এসেছি। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে পারা সত্যিই অনেক আনন্দের।’ একইভাবে ঢাকায় কর্মরত ফটিকছড়ির মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘শহরের ব্যস্ততার মাঝে পরিবারকে খুব মিস করি। ছুটি পেলেই গ্রামে চলে আসি। এখানে এসে মনে হয় ঈদের আনন্দ আগেই শুরু হয়ে গেছে।’ আন্তঃজেলা বাস মালিক সমিতির সচিব মনোয়ার হোসেন জানান, ঈদ উপলক্ষে প্রতিদিন চট্টগ্রাম থেকে আন্তঃজেলার প্রায় ১ হাজার ২০০টি এসি ও নন-এসি বাস ছেড়ে যাচ্ছে। ১৬ মার্চ থেকে অগ্রিম টিকিটধারী যাত্রী পরিবহন শুরু হয়েছে। এসব বাসে প্রতিদিন প্রায় ৪০ হাজারের বেশি যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। বহদ্দারহাটে আন্তঃজেলা বাস চালক করিম মিয়া বলেন, ‘রাস্তায় গাড়ির চাপ অনেক বেশি। কিন্তু যাত্রীদের মুখে বাড়ি ফেরার আনন্দ দেখলে আমাদের কষ্ট আর মনে থাকে না। আমরা চেষ্টা করছি সবাই যেন নিরাপদে তাদের পরিবারের কাছে পৌঁছাতে পারে। আমাদের ছুটি না থাকলেও মানুষকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়াটাই এক ধরনের তৃপ্তি।’ সব মিলিয়ে, এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক পরিবেশে এগিয়ে চলেছ—যেখানে প্রতিটি যাত্রাই প্রিয়জনের কাছে ফিরে যাওয়ার এক আবেগঘন গল্প।
ঈদুল ফিতরের সরকারি ছুটির মধ্যেও দাপ্তরিক কাজে সক্রিয় রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজধানীর গুলশানের বাসভবন থেকে তিনি জরুরি সরকারি কার্যক্রম সম্পন্ন করছেন এবং বিভিন্ন সিটি করপোরেশনসহ সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নিচ্ছেন। বুধবার (১৮ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ঈদের ছুটি চললেও প্রধানমন্ত্রী তার বাসভবন থেকে নিয়মিতভাবে সরকারি কাজ করছেন। দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম, বিশেষ করে খাল খনন কর্মসূচির অগ্রগতি ও এর বাস্তবায়ন পরিস্থিতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের থেকে তথ্য নিচ্ছেন। আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী সিটি করপোরেশনগুলোর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট মেয়র ও প্রশাসকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন। অন্যদিকে ঈদযাত্রার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়েও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সরকারি ছুটি থাকা সত্ত্বেও সচিবালয়ে অফিস করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি ফার্মার্স কার্ড বাস্তবায়ন কমিটির সভাসহ মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।