‘ভোটের আগে সবাই গাও-হাত লাড়ে, ভোট চায়। কয়, এটা দিমু সেটা দিমু। কিন্তু ভোটের পর কেউ আর খোঁজ নেয় না। কোনো কাজে গেলে কয়, তুই কে!’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেওয়া প্রসঙ্গে এভাবেই মনের ক্ষোভ প্রকাশ করেন নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের সাঁওতাল পল্লীর বাসিন্দা কবিরাজ হেমম্রম।
বর্তমানে সাপাহার উপজেলার ফুরকুটিডাঙ্গা গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে থাকলেও এলাকায় যাবেন ভোট দিতে। তবে তাঁর কণ্ঠে প্রকাশ পায় বেশিরভাগ আগের রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি এক ধরনের অনাস্থা। এবারের নির্বাচন নিয়ে যথেষ্ট ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন তিনি।
শুধু কবিরাজ হেমরমই নন, নওগাঁ-১ (সাপাহার-পোরশা-নিয়ামতপুর) আসনে সাঁওতালসহ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অধিকাংশ মানুষের মনের কথা অনেকটা এমনই।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সাপাহার উপজেলার শাহাবাজপুর, খিদিরপুর, লক্ষ্মীপুর ও ফুরকুটিডাঙ্গা গ্রামে সরেজমিন ঘুরে কথা হয় অন্তত ৫০ থেকে ৬০ জন বাসিন্দার সঙ্গে। তাদের কথায় উঠে অভিযোগ হিসেবে উঠে আসে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবতার বিস্তর ফারাকের গল্প।
শাহাবাজপুর আদিবাসীপাড়ার জগেন কিস্কু, লগেন কিস্কু ও অঞ্জলি মূরমু বলেন, নির্বাচনের আগে প্রার্থীরা এলাকার উন্নয়নে গালভরা প্রতিশ্রুতি দিলেও জয়ের পর তাদের এলাকায় দেখা পাওয়া দুষ্কর। তাঁরা বলেন, ‘ভোটের সময় নেতাকর্মীরা বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার আশ্বাস দেন।
কিন্তু ভোটের পর এসব ভাতার কার্ড চাইতে গেলে উল্টো টাকা দাবি করা হয়। টাকা ছাড়া কার্ড মেলে না।”
তাঁদের অভিযোগ, শাহবাজপুর সাঁওতাল পল্লীর তিন-চারজন বয়স্ক পুরুষ ও বিধবা নারীর নাম জনপ্রতিনিধিদের হাতে তুলে দেওয়া হলেও তাদের নামে কোনো ভাতা দেওয়া হয়নি। তাঁদের গ্রামে প্রবেশ ও বের হওয়ার কোনো রাস্তা নেই। আগের সরকারের আমলে সবাই প্রতিশ্রুতি দিলেও আজও তা বাস্তবায়ন করেনি।
তাঁরা বলেন, ‘আমাদের পল্লীতে প্রবেশ ও বাহির হওয়ার রাস্তাসহ সাঁওতাল সম্প্রদায়ের সামাজিক উন্নয়নের কথা ভাবেন—আমরা এমন প্রার্থীকেই ভোট দেব।
ফুরকুটিডাঙ্গা গ্রামের মঙ্গল কিস্কু, গনেশ মুরমু ও সুনিল হেমব্রমসহ অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবার তারা হুজুগে নয় বরং বুঝেশুনে ভোট দিতে চান। তাদের দাবি, প্রার্থীকে সৎ, যোগ্য এবং ভালো মানুষ হতে হবে। সুখে-দুঃখে পাশে থাকবে এবং রাস্তাঘাটসহ এলাকার উন্নয়ন করবেন—এমন প্রার্থীকেই তাঁরা ভোট দেবেন। তারা জানান, এবার প্রার্থীরা অনেক প্রতিশ্রুতি দিলেও তারা কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী।
এই জনপদসংশ্লিষ্ট আসনে পাঁচজন প্রার্থী থাকলেও আদিবাসী সম্প্রদায়ের আলাপ-আলোচনায় উঠে আসছে মূলত দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর নাম। তাঁরা হলেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম। তাঁদের মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ধারণা সাঁওতাল সম্প্রদায়ের ভোটারদের।
আদিবাসী পল্লীগুলোতে এখন নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করছে। উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে মুখিয়ে আছেন তাঁরা। তবে তাদের সবার মনে একটিই প্রত্যাশা, নির্বাচনের পর নির্বাচিত প্রতিনিধি যেন তাদের ভুলে না যান এবং প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এলাকার উন্নয়নে কাজ করেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি এই সম্প্রদায়ের মানুষ ব্যালটের মাধ্যমেই তাদের যোগ্য প্রতিনিধি বেছে নেবেন বলে জানান তাঁরা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ১৫ মাস বয়সী শিশুকে অপহরণের অভিযোগে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন নাছিমা বেগম (২৫) ও তাঁর স্বামী বোরহান উদ্দিন (৩০)। আজ শনিবার সকালে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, হাসপাতালের পঞ্চম তলায় ১৫ মাস বয়সী নাতনি নিয়ে বসেছিলেন এক বৃদ্ধা। হাসপাতালে বৃদ্ধার তিন দিন বয়সী আরেক নাতি ভর্তি ছিল। গত শুক্রবার বেলা ৩টায় নাছিমা বেগম নামের এক নারী এসে আলাপ জুড়ে দেন বৃদ্ধার সঙ্গে। এ সময় কান্না শুরু করেন বৃদ্ধার নাতনি। চিপস কিনে দেবেন বলে শিশুটিকে হাসপাতালের নিচে নিয়ে যান নাছিমা। পরে ফিরে না আসায় খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে চান্দগাঁও থানার এক কিলোমিটার এলাকা থেকে নাজেহাদ নামের ওই শিশুকে উদ্ধার করে এবং অপহরণে জড়িত নাছিমা বেগম ও তাঁর স্বামী বোরহান উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। অপহৃত শিশুর বাবার নাম সোহেল রানা। তাঁদের গ্রামের বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালী। পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে সোহেল রানার স্ত্রী তসলিমা তাঁর ছোট বোনের সদ্য প্রসব করা মেয়েকে নিয়ে চকরিয়া থেকে চমেক হাসপাতালে আসেন। সঙ্গে ছিলেন তসলিমার মা ও মেয়ে। নবজাতকের মা প্রসবজনিত জটিলতা নিয়ে চকরিয়ার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হাসপাতালের ষষ্ঠ তলায় ৩২ নম্বর এনআইসিইউ ওয়ার্ডে নবজাতককে ভর্তি করা হয়। চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুল আলম আশেক বলেন, তসলিমা নবজাতককে নিয়ে এনআইসিইউ ওয়ার্ডের ভেতরে ছিলেন। তাঁর মা ও মেয়ে পঞ্চম তলার বারান্দায় বিছানা পেতে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। শুক্রবার বিকেলে নাছিমা গিয়ে তসলিমার বান্ধবী পরিচয় দিয়ে বৃদ্ধার সঙ্গে ভাব জমান। একপর্যায়ে বৃদ্ধার নাতনি নাজেহাদকে নিয়ে চলে যান। পরে শিশুটির বাবা সোহেল রানা মামলা করেন। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নাছিমার অবস্থান শনাক্ত করে এক কিলোমিটার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান এসআই নুরুল আলম আশেক।
কক্সবাজার টেকনাফে সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে মানুষের ঘরবাড়ি, পানিবন্দি হয়েছে শত শত পরিবার, নষ্ট হয়েছে অনেক ফসল, মানুষ কর্মস্থল বা অন্য কোনো কাজকর্ম করতে পর্যন্ত হিমশিম খেতে হচ্ছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুর থেকে পুরো টেকনাফ উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। কক্সবাজার-৪ আসনের এমপি শাহজাহান চৌধুরী বৃষ্টিতে ভিজে প্রতিটি পাড়া বা গ্রামে গিয়ে পানিবন্দি মানুষের খোঁজ নেন এবং নিজ হাতে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। তিনি বলেন, হঠাৎ বৃষ্টির কারণে আপনারা যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা নিয়ে এসেছি। পরে আপনাদের উন্নয়নের জন্য ধাপে ধাপে বিভিন্ন সহযোগিতা প্রদান করা হবে। তবে কেউ যেন অতি বৃষ্টিতে ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস বা অবস্থান না করেন সেই বিষয়ে স্থানীয়দের সতর্ক করেন এমপি শাহজাহান চৌধুরী। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম অনীক চৌধুরী, টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসাইন, হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আলী, উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা হাবিবুর রহমানসহ অনেকেই। সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়াজুল ইসলাম জানান, অতি বৃষ্টির কারণে মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। গত ৮ দিন ধরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে দ্বীপে কোনো নৌযান চলাচল নেই। তবুও দ্বীপের বাসিন্দাদের জন্য সরকারে পক্ষ থেকে ৩ টন চালসহ বেশ কিছু ত্রাণসামগ্রী প্রদান করা হয়েছে। টেকনাফ আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, টানা বৃষ্টিতে প্রতিদিন ৯৫ থেকে ৯৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হচ্ছে।
মায়ের মৃত্যুর কারণে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে জানাজায় অংশ নিয়েছেন জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার আলোচিত কয়েদি আবুল হায়াত। শুক্রবার (১০ জুলাই) প্যারোলে মুক্তি পাওয়ার পর মায়ের দাফন সম্পন্ন শেষে পুনরায় তাকে জয়পুরহাট কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়েছে। কারাগার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আবু্ল হায়াতের মা তাহেরা বেগম (৬৫) বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মারা যান। মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে আবুল হায়াত প্যারোলে মুক্তির আবেদন জানান। আইনি প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার তাকে ২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে আবুল হায়াত দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মামলায় জয়পুরহাট কারাগারে বন্দি ছিলেন। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, চুরি, ছিনতাইসহ একাধিক ডাকাতির মামলা চলমান। সম্প্রতি তাকে অস্ত্র মামলায় ৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে কারাসূত্রে জানা গেছে। পুলিশ ও কারা কর্তৃপক্ষের কঠোর নিরাপত্তায় আবুল হায়াত তার নিজ গ্রামে মায়ের জানাজা ও দাফন কার্যে অংশ নেন। দাফন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরপরই তাকে পুনরায় জয়পুরহাট জেলা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুক্তারুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্যারোলে মুক্তির নিয়ম অনুযায়ী ২ ঘণ্টার জন্য কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে জানাজা শেষে আসামিকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জয়পুরহাট জেলা কারাগারের জেলার তোফায়েল আহম্মেদ খাঁন জানান, অস্ত্র মামলায় ৭ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবুল হায়াতের মায়ের মৃত্যুতে তার আবেদনের ভিত্তিতে জানাজায় অংশ নিতে ২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়।