খেলাধুলা

হতাশা থাকলেও হাল ছাড়েননি মোসাদ্দেক

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

আক্ষেপ, হতাশা, লড়াই, এই শব্দগুলিই গত কয়েক বছরে ছিল মোসাদ্দেক হোসেনের নিত্য সঙ্গী। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে মৌসুমের পর মৌসুম অসাধারণ পারফর্ম করেও জাতীয় দলের দুয়ার খোলা পাননি। কখনও কখনও মুষড়ে পড়েছেন। তবে নুইয়ে পড়েননি। নতুন করে লড়াইয়ে নেমেছেন। মনের কোণে আশার প্রদীপ যে জ্বলছিল! জাতীয় দলের ফেরার দিনটিতে দুর্দান্ত অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে দলকে জিতিয়ে এই অলরাউন্ডার শোনালেন সেই সময়ের গল্প।

 

প্রায় চার বছর পর ওয়ানডে দলে ফিরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ৭০ বলে ৮৬ রানের অপরাজিত ইনিংস উপহার দেন মোসাদ্দেক। পরে দুটি উইকেট ও দুর্দান্ত একটি ক্যাচ নিয়ে তিনিই জেতেন ম্যান অব দা ম্যাচের পুরস্কার।

 

এই ম্যাচের আগে সবশেষ ওয়ানডে খেলেন তিনি ২০২২ সালের অগাস্টে। ওই বছরের নভেম্বরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর জাতীয় দল থেকে ছিটকে পড়েন, সেই দূরত্ব আর ঘোচাতে পারছিলেন না। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট ও বিপিএলে তার পারফরম্যান্স উল্লেখযোগ্য কিছু ছিল না। কিন্তু একদিনের ম্যাচের সংস্করণে ঘরোয়া ক্রিকেটে দেশের মূল প্রতিযোগিতা ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে মৌসুমের পর মৌসুম তার পারফরম্যান্স ছিল অবিশ্বাস্য।

 

সংখ্যাগুলোর দিকে তাকালে চোখ কপালে উঠতে পারে অনেকের।

 

২০২২-২৩ মৌসুমে ৪৭ গড় ও ৯৬.৬২ স্ট্রাইক রেটে ৬৫৮ রান। ওভারপ্রতি ৪.৫৩ রান দিয়ে ১৬ উইকেট।

 

২০২৩-২৪ মৌসুমে ৭৯.২০ গড় ও ১২৩.৭৫ স্ট্রাইক রেটে ৩৯৬ রান। ওভারপ্রতি ৩.৮৪ রান দিয়ে ২০ উইকেট।

 

২০২৪-২৫ মৌসুমে ৪৮.৭০ গড় ও ১০৬.৩৩ স্ট্রাইক রেটে ৪৮৭ রান। ওভারপ্রতি ৪.০৪ রান দিয়ে ৩০ উইকেট।

 

এবার দলে ডাক পাওয়ার আগ পর্যন্ত ৭৭.৫০ গড়ে ও ১২৯.১৬ স্ট্রাইক রেটে ৩১০ রান। ওভারপ্রতি ৩.৭৪ রান দিয়ে ১২ উইকেট।

 

সঙ্গে ছিল দুর্দান্ত নেতৃত্বও। বিশেষ করে, গত মৌসুমে কঠিন বাস্তবতার মধ্যে যেভাবে তার নেতৃত্বে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আবাহনী লিমিটেড, সেটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে ঘরোয়া ক্রিকেটের ইতিহাসে।

 

এমন অতিমানবীয় অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের পরও জাতীয় দলের ডাক না এলে তাড়না মরে যাওয়াও অস্বাভাবিক নয়।

 

মোসাদ্দেকও নিজের সঙ্গে লড়েছেন। যখনই হতাশা গ্রাস করেছে, তখনই আবার নিজেকে জাগিয়ে তুলেছেন সুদিন ফেরার আশায়।

 

“হতাশা ছিল। খুব সহজ সময় ছিল না আমার জন্য। আমার লড়াইয়ের সময়টা হয়তো অনেকেই আপনারা দেখেছেন, হয়তো অনেকে দেখেননি। ওই জায়গা থেকে আমি সবসময় ধৈর্য ধরার চেষ্টা করেছি এবং নিজের কাজগুলো করার চেষ্টা করেছি। এটা মাথার মধ্যে ছিল যে, একটা সুযোগ যখন আসবে, সেই সুযোগ যেন ভালোভাবে নিতে পারি।

 

গত কয়েক বছর ধরে ঘরোয়া ক্রিকেটে যেভাবে খেলছিলাম, এই বিশ্বাসটা ছিল যে এটা চালিয়ে যেতে পারলে একটা না একটা সময়ে আমার সুযোগ আসবে। যতটুকু না চেয়েছি, আল্লাহ তার থেকে অনেক বেশি দিয়েছেন।

 

একসময় সীমিত ওভারের ক্রিকেটে নিয়মিত মুখই ছিলেন বাংলাদেশ দলে। সেই সময়টা অতীত হয়ে গেছে অনেক আগেই। অনেক লড়াই আর অপেক্ষার পর অবশেষে কাঙ্ক্ষিত সময়ের দেখা পেয়েছেন।

 

জাতীয় দল থেকে দূরে থাকার দীর্ঘ এই প্রহরে অনুভূতিগুলোয় মরচে পড়ে গিয়েছিল। তবে ফেরার পর সতীর্থদের ভালোবাসায় দূর সরে গেছে সব অস্বস্তি।

 

আমি কৃতজ্ঞ টিম ম্যানেজমেন্টের প্রতি। উনারা যেভাবে আমার পাশে থেকেছেন, খেলার শুরুর আগে যেভাবে স্বাধীনতা আমাকে দিয়েছেন, আমাকে স্রেফ বলা হয়েছে আমার খেলাটাকে উপভোগ করতে। ওই জিনিসটা খেলার সময় মাথার মধ্যে ছিল না যে অনেকদিন পরে এসেছি বা কিছু। পরিস্থিতি যা দাবি করছিল, আমার কাছে মনে হয়েছে যে, ওভাবে করেই যাওয়া উচিত। আমি স্রেফ আমার কাজটা করার চেষ্টা করেছি।

 

অধিনায়ক থেকে শুরু করে সবাই সাপোর্ট করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে যেহেতু আমি এতদিন পরে এসেছি, ওরা সবাই মিলে চাইছে যেন আমি ওই অনুভূতি না পাই যে এতদিন পরে এসেছি। আবারও পুরো দলের প্রতি কৃতজ্ঞ।

 

দলে সুযোগ পাওয়া কেবল ছিল মোসাদ্দেকের একটি জয়। তবে মূল পরীক্ষা তো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। পারফর্ম করার চ্যালেঞ্জ তো আছেই, সঙ্গে আছে পাহাড় সমান চাপও। জাতীয় দলে ফিরে যদি পারফর্ম করতে না পারেন, তাহলে স্রেফ ‘ঘরোয়া ক্রিকেটের বাঘ’ তকমা নিয়েই হয়তো শেষ করতে হতো ক্যারিয়ার।

 

সেই ম্যাচে যখন তিনি ক্রিজে গেলেন, ১৪০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে দল তখন বেশ বিপদে। সেখান থেকেই আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে আর উদ্ভাবনী নানা শটে দলকে নিয়ে গেছেন এমন স্কোরে, যেখান থেকে দল পেয়েছে ৮৬ রানের জয়।

 

পেছনের প্রেক্ষাপট আর ম্যাচের পরিস্থিতি বিবেচনায় এই পারফরম্যান্সকে নিজের ক্যারিয়ারের সেরা বললেন ৩০ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার।

 

বলা যায়… এরকম চাপের মুহূর্তে সেরা ম্যাচ। যদি আপনারা উইকেট সকাল থেকেই দেখেন, আমরা ড্রেসিং রুমেও কথা বলছিলাম, ৩০০-৩২০ রানের উইকেট ছিল। খুবই ভালো উইকেট। যখন আমাদের (পরপর) দুইটা উইকেট পড়ে যায়, আমাদের জন্য একটু কঠিন হয়ে যায়। লিটনের আউটটা যদি ওই সময়টাতে না হতো, হয়তোবা আমরা ৩০০-৩২০ করতে পারতাম।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

খেলাধুলা

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ শেষে ক্রিকেটকে বিদায় বলবেন ডিন এলগার

দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক ডিন এলগার চলতি বছরের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ মৌসুম শেষে পেশাদার ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন।  ৩৯ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার প্রোটিয়ার ব্যাটিং লাইনআপের শীর্ষে থেকে ১২ বছর কাটিয়েছেন। ৮৬টি টেস্টে ৩৭.৯২ গড়ে তিনি ৫,৩৪৭ রান করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ১৪টি সেঞ্চুরি এবং ২০১৭ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলা ১৯৯ রানের ইনিংসটি তার ক্যারিয়ার-সেরা। এলগার ১৮টি ম্যাচে প্রোটিয়াদের নেতৃত্বও দিয়েছেন। এর মধ্যে ছিল ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে কেপ টাউনে ভারতের বিপক্ষে তার শেষ টেস্টটি, যেখানে চোট পাওয়া টেম্বা বাভুমার পরিবর্তে তিনি আবারও অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট খেলার সুযোগ ক্রমশ কমে আসায় তিনি এসেক্সের হয়ে খেলার চুক্তি করেন। সেখানে গত তিন মৌসুমে তার দৃঢ়চেতা বাঁ-হাতি ব্যাটিং এবং টেস্ট ক্রিকেটে প্রমাণিত দক্ষতা তাকে অ্যালাস্টেয়ার কুকের আদর্শ উত্তরসূরি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। উল্লেখ্য, কুক ২০২৩ সালের শেষে অবসর নিয়েছিলেন। অবসরের বিষয়ে এলগার বলেন, আমার মনে হয় এটাই এখন সঠিক সময়। বয়স তো আর কমছে না, ৩৯ বছর হয়ে গেছে। দেশে আমার পরিবার, সন্তানরা রয়েছে।   তাদের নিয়ে কিছু সামলানোর বিষয় রয়েছে। এখন আমার জন্য সঠিক সময় হলো বাড়িতে থাকা এবং আমার সঙ্গী ও সন্তানদের পাশে থাকা। এখন পর্যন্ত যাত্রাটা দারুণ ছিল। যদিও এটি পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি, তবে মৌসুম শেষে আমি অবসর নেব। ২১ বছরের পেশাদার ক্যারিয়ারে এলগার ৫০০টিরও বেশি ম্যাচ খেলেছেন; এর মধ্যে সারে ও সমারসেটের হয়ে কাউন্টি ক্রিকেটে খেলার অভিজ্ঞতাও রয়েছে।   ২০০৬ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এরপর ফ্রি স্টেট ও নাইটস দলের হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজের অবস্থান শক্ত করেন এবং ২০১২ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটান। এলগার বলেন, আমি ভাগ্যবান যে বারো বছর ধরে আমার দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরেছি এবং এরপর অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পেয়েছি। এটি আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম গর্বের মুহূর্ত। আমি কোথা থেকে উঠে এসেছি সেই যাত্রার দিকে তাকালে মনে হয় না খুব বেশি মানুষ আমার এমন ক্যারিয়ার গড়ার ব্যাপারে খুব একটা আশাবাদী ছিল; আর দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে খেলা চালিয়ে যাওয়ার কথা তো ভাবাই যায় না।   নিজের ক্যারিয়ারের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এলগার ২০২২ সালে লর্ডসে বেন স্টোকসের ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস ব্যবধানে জয়কে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আমার সময়ে অনেক গর্বের মুহূর্ত এসেছে। তবে অধিনায়ক হিসেবে লর্ডসে ইংল্যান্ডকে হারানো নিঃসন্দেহে তার মধ্যে অন্যতম। এটি আমার কাছে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।   এসেক্সের ক্রিকেট পরিচালক ক্রিস সিলভারউড বলেন, এলগারের ক্যারিয়ার দীর্ঘস্থায়িত্ব, মানসিক দৃঢ়তা এবং ক্রিকেটের প্রতি গভীর নিষ্ঠার এক অনন্য উদাহরণ। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ক্যারিয়ারে একজন প্রবীণ ও অভিজ্ঞ ওপেনিং ব্যাটার হিসেবে তার খ্যাতি এসেক্সে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছিল। বিশেষ করে ক্লাবের তরুণ খেলোয়াড়দের গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তিনি বড় ভূমিকা রেখেছেন। একই সঙ্গে তিনি এলগারের অবসর পরবর্তী জীবনের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইনস্টাগ্রাম বার্তা থেকে বাংলাদেশ দলে, সুলিভান ভাইদের তিক্ত-মধুর অভিজ্ঞতা

ছবি- এএফপি

বাংলাদেশকে গুঁড়িয়ে প্রথমবার টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে স্টার্ক

ছবি: সংগৃহীত

১০০ মিলিয়ন ইউরোয় মরক্কোর বিশ্বকাপ তারকাকে দলে নিল ম্যান সিটি

ছবি: সংগৃহীত
মেসির সামনে ক্যারিয়ারের বিরল এক রেকর্ডের শঙ্কা

লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারে রেকর্ডের সংখ্যা অগণিত। সাফল্যের পাশাপাশি ব্যর্থতার কঠিন সময়ও পার করেছেন আর্জেন্টাইন এই মহাতারকা। তবে এবার ইন্টার মিয়ামির হয়ে এমন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি তিনি, যা তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে খুব কমই দেখা গেছে।   টানা চার ম্যাচে জয়হীন ইন্টার মিয়ামি। আগামী শনিবার সিএফ মন্ট্রিয়েলের বিপক্ষে ম্যাচে জয় না পেলে মেসির পেশাদার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে দীর্ঘ জয়হীন ধারার রেকর্ডে পৌঁছে যাবে দলটি।   সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ামির পারফরম্যান্সে হতাশা বাড়ছে। সর্বশেষ টরন্টোর বিপক্ষে ২-১ গোলে হারের পর টানা চার ম্যাচে জয়হীন রয়েছে দলটি। এই চার ম্যাচে মেসি ব্যক্তিগতভাবে খুব একটা নিষ্প্রভ ছিলেন না। তাঁর নামের পাশে রয়েছে দুটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট। কিন্তু তাঁর পারফরম্যান্স দলকে জয় এনে দিতে পারেনি।   ২০১৩ সালের সেই রেকর্ড: মেসির পেশাদার ক্যারিয়ারে সবচেয়ে দীর্ঘ জয়হীন সময় এসেছিল ২০১৩ সালে। তখন তিনি খেলতেন বার্সেলোনায়। সেই সময়ে টানা পাঁচ ম্যাচে জয় পায়নি কাতালান ক্লাবটি। ওই পাঁচ ম্যাচের মধ্যে চারটিতে ড্র এবং একটিতে হার ছিল।   মন্ট্রিয়েলের বিপক্ষে মিয়ামি জয় না পেলে সেই পাঁচ ম্যাচের ধারার সমান হয়ে যাবে মেসির বর্তমান জয়হীন সময়।   এর আগে ২০২৫ সালেও মিয়ামি টানা চার ম্যাচ জয়হীন থাকার অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিল। তবে সেবার দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়ে পরের পাঁচ ম্যাচেই জয় পেয়েছিল দলটি।   এবারও একইভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা মেসি ও তাঁর সতীর্থদের। তবে শুধু আক্রমণ নয়, মিয়ামির রক্ষণ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।   রক্ষণ নিয়েও বাড়ছে উদ্বেগ: ২০২৬ সালে মিয়ামির রক্ষণভাগের দুর্বলতা ক্রমেই স্পষ্ট হয়েছে। মে মাসের পর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ম্যাচেই প্রতিপক্ষকে গোল করা থেকে বিরত রাখতে পারেনি দলটি।   ফলে মন্ট্রিয়েলের বিপক্ষে ম্যাচটি শুধু জয়হীন ধারা থামানোর সুযোগ নয়, রক্ষণভাগের দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠারও বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে মেসি ও ইন্টার মিয়ামির জন্য।   মেসির মতো এত দীর্ঘ ও বর্ণিল ক্যারিয়ারের খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রে টানা পাঁচ ম্যাচ জয়হীন থাকা খুবই বিরল। তাই মন্ট্রিয়েলের বিপক্ষে ম্যাচটি ব্যক্তিগতভাবেও আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে আর্জেন্টাইন মহাতারকার জন্য।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ফুটবল ক্লাব মালিক কারা?

ছবি: সংগৃহীত

ধ্বংসস্তূপ থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর মিশনে পাকিস্তানের নেতৃত্বে ফিরছেন বাবর

ছবি: সংগৃহীত

সরকারি অর্থায়ন না থাকায় ব্রাজিল-বাংলাদেশ প্রীতি ম্যাচ নিয়ে অনিশ্চয়তা

ছবি: সংগৃহীত
লাল বলের লড়াইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশ ‘এ’ দলে রিশাদ-সাইফউদ্দিন

রিশাদ হোসেনের টেস্ট সম্ভাবনা নিয়ে দেশের ক্রিকেটে আলোচনা হয়েছে নানা সময়েই। সেই দাবি কি জানাতে পারবেন এই লেগ স্পিনার? বড় দৈর্ঘ্যের ক্রিকেটে একজন পেস বোলিং অলরাউন্ডারের খোঁজ চলছে অনেক দিন ধরে। মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন কি হতে পারেন একজন বিকল্প? প্রশ্নগুলোর জবাব মিলতে পারে সামনেই। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে দ্বিতীয় চার দিনের ম্যাচের বাংলাদেশ ‘এ’ দলে রাখা হয়েছে দুজনকেই।   স্কোয়াডে থাকা মানেই ম্যাচ খেলার নিশ্চয়তা নয়। তবে একাদশে জায়গা পেলে তাদের পারফরম্যান্স দেখার কৌতূহল থাকবে অনেকেরই।   তাদের এই সুযোগটি অবশ্য এসে গেছে অনেকটা হুট করেই। বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে থাকা ক্রিকেটারদের ভিসার মেয়াদ বাড়াতে না পারায় এই ব্যবস্থা নিতে হয়েছে বলে জানালেন দলের সঙ্গে থাকা নির্বাচক নাদিফ চৌধুরি।   ইমার্জিং দলের হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে ‘এ’ দলে যোগ দেওয়া মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, এনামুল হকের ভিসার মেয়াদ না বাড়ায় দেশে ফিরতে হচ্ছে। চোটের কারণে ছিটকে গেছেন শাহাদাত হোসেন, জাকির হাসান ও ইকবাল হোসেন ইমন। এই পাঁচ ক্রিকেটারের সঙ্গে প্রথম ম্যাচের দল থেকে বাদ পড়েছেন কালাম সিদ্দিকি।   জাতীয় দলের পাশাপাশি হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দল বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় আছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় আছে ইমার্জিং দল ও ‘এ’ দল। একসঙ্গে চার দলের খেলা থাকায় দল নির্বাচনে বেশ বিপাকে পড়েছেন নির্বাচকরা।   নাদিফের কণ্ঠে অসহায়ত্বই ফুটে উঠল সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে।   ভিসা ইস্যু একটা বড় সমস্যা হয়েছিল। আমরা মেলাতে পারছিলাম না। চোট মিলিয়ে একটা বাজে অবস্থায় পড়ে গিয়েছি। এখন বাধ্য হয়ে সাদা বলে যারা খেলে, ওদেরকেই খেলাতে হবে। কোনো উপায় নেই।   একটা আঁটসাঁট সূচি হয়ে গেছে। সবার প্রাপ্যতা আর ভিসা একটা বড় সমস্যা হয়েছে। ঠিকমতো গোছানো হয়নি এই দলটা, একসঙ্গে সব দলের খেলা। আপনারাও দেখছেন হয়তো ৪-৫ জন ওপেনার (এক সঙ্গে খেলাতে হচ্ছে), তারপর সাদা বলের খেলোয়াড়দের খেলাচ্ছি। আসলে সমস্যা হয়ে গেছে।”   এই পরিস্থিতিই সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে রিশাদ ও সাইফের জন্য।   দক্ষিণ আফ্রিকায় ‘এ’ দলের একদিনের ম্যাচের সিরিজের জন্য মিরপুরে নিয়মিত সাদা বলে অনুশীলন করছিলেন সাইফ। এখন এই সিরিজে মাঠে নামার আগে তাকে খেলতে হবে লাল বলে। চোটজর্জর ক্যারিয়ারে সবশেষ প্রথম শ্রেণির ম্যাচটি তিনি খেলেছেন সেই ২০২২ সালের ডিসেম্বরে।   রিশাদ সবশেষ প্রথম শ্রেণির ম্যাচটি খেলেছেন গত নভেম্বরে জাতীয় লিগে। তবে জাতীয় দলের ব্যস্ততা না থাকলে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে মোটামুটি নিয়মিতই খেলে থাকেন তিনি।   রিশাদ-সাইফ উদ্দিনের পাশাপাশি দ্বিতীয় ম্যাচের দলে আছেন জাকের আলি ও মুশফিক হাসান। অস্ট্রেলিয়া সফরের টেস্ট দলে এই দুই ক্রিকেটারকে ফেরত আনা হয়েছিল ‘এ’ দলের হয়ে খেলানোর জন্য। তবে ভিসা জটিলতায় প্রথম চারদিনের ম্যাচের দলে যোগ দিতে পারেননি তারা।   এছাড়া নুরুল হাসান সোহান, তাওহিদ হৃদয় ও রেজাউর রহমান রাজাকে রাখা হয়েছে দ্বিতীয় চার দিনের ম্যাচের দলে। সম্প্রতি জিম্বাবুয়ে সফরে টেস্ট অভিষেক হওয়া হৃদয়ের কাঁধে থাকবে এই ম্যাচে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব। সোহান খেলেছেন ১১ টি টেস্ট। রেজাউর নানা সময়েই খেলেছেন ‘এ’ দল, বিসিবি একাদশ ও অন্যান্য দলে। টেস্ট স্কোয়াডেও জায়গা পেয়েছিলেন তিনি। তবে অভিষেক হয়নি।   বাংলাদেশ ‘এ’ দল স্কোয়াড: মোহাম্মদ নাঈম শেখ, মাহমুদুল হাসান জয়, আফিফ হোসেন, পারভেজ হোসেন ইমন, তাওহিদ হৃদয় (অধিনায়ক), হাসান মুরাদ, নাঈম হাসান, আল ফাহাদ, রেজাউর রহমান রাজা, জাকের আলি, মুশফিক হাসান, নুরুল হাসান সোহান, রিশাদ হোসেন ও মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৬, ২০২৬
ব্রাজিল ফুটবল দল। ছবি : এএফপি

সরকারি অর্থ নয়, স্পনসর আনলে ব্রাজিলের ঢাকা সফর সম্ভব: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের বিপক্ষে আফগানিস্তানের টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত

কাউন্টিতে শরিফুলের বদলে কেন্টে যাচ্ছেন খালেদ

0 Comments