শিক্ষা

হস্তান্তরের আগেই রাবির নতুন হলে ফাটল, শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক

মারিয়া রহমান জুন ২৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মাণাধীন ১০ তলাবিশিষ্ট বিজয়-৭১ হল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের আগেই বিভিন্ন দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। এই ভবনটির নির্মাণকাজ করছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আলোচিত ‘বালিশকাণ্ডের’ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মজিদ সন্স অ্যান্ড কোম্পানি। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভবনে ফাটল বিষয়ে গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটি।

 

এর আগে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই হলেরই মিলনায়তনের ছাদ ঢালাই শেষে ধসে পড়েছিল। এতে ১২ শ্রমিক আহত হয়েছিলেন। তখন উঠে আসে নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি ও নির্মাণকাজের নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি। 

 

এ ছাড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের বহুতল চারটি ভবনের নির্মাণকাজ তিন দফা মেয়াদ বাড়ানোর পর শেষ হওয়ার কথা চলতি মাসে। অথচ কাজ শেষ হয়েছে ৭০ থেকে ৯৫ শতাংশ। বর্তমানে প্রকল্পগুলোর মেয়াদ আরও এক দফা বাড়ানোর প্রস্তুতি চলছে। 

 

প্রকল্পগুলোর নির্মাণ শর্ত অনুযায়ী, নির্ধারিত মেয়াদে কাজ শেষ না হলে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে অসম্পাদিত কাজের মূল্যমানের ওপর দশমিক শূন্য ৫ থেকে দশমিক ১০ শতাংশ জরিমানা গুনতে হবে। এই হিসাবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২৩ কোটি টাকার জরিমানা আদায় না করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিল ছাড় দেওয়া হয়েছে। এ অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে শিক্ষা অডিট অধিদপ্তরের প্রতিবেদনেও।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য প্রথমে ৩৬৩ কোটি টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়। এই প্রকল্পের আওতায় অপরাজিতা (সাবেক প্রস্তাবিত শেখ হাসিনা) হল, বিজয় ৭১ (সাবেক প্রস্তাবিত এ এইচ এম কামারুজ্জামান) হল, ১০ তলা শিক্ষক কোয়ার্টার, ২০ তলা একাডেমিক ভবন, ড্রেন নির্মাণ, শেখ রাসেল মডেল স্কুলসহ বেশ কয়েকটি স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়। পরে একনেক ২০১৯ সালে সংশোধিত আকারে ৫১০ কোটি ৯৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। নির্মাণাধীন এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় তিন দফায় সময় বাড়িয়ে ৩০ জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।

 

 

আলোচিত মজিদ সন্স 

প্রকল্পের আওতায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০ তলা বিজয় ৭১ হলের নির্মাণকাজ পায় রূপপুরে ‘বালিশকাণ্ডে’ তুমুল আলোচিত মজিদ সন্স অ্যান্ড কোম্পানি। তিন দফা মেয়াদ বাড়ানোর পর হলটির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে প্রায় ৯৫ শতাংশ। গত ডিসেম্বরে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কাজটি সম্পন্ন করে হস্তান্তর করার কথা ছিল। 

 

তবে হলটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরের আগেই বিভিন্ন দেয়াল, পিলারের ওপরের পলেস্তারাতে ফাটল দেখা গেছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। উদ্বোধনের আগেই ঝুঁকিতে থাকা শের-ই বাংলা ফজলুল হক হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের একটি ব্লকে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়। 

 

হল সংসদের কার্যনির্বাহী সদস্য সাহিব বিল্লাহ বলেন, নিরাপত্তার জন্য আমাদের নতুন হলে আনা হয়েছে। অথচ উদ্বোধনের আগেই এই ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। এর আগে এই হলের মিলনায়তন ধসে পড়েছিল। এসব কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

 

রাবি শাখা ছাত্রপক্ষের আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা বলেন, আমরা নিরাপত্তার জন্য এসেছিলাম। কিন্তু এখানে আরও বেশি অনিরাপদ মনে হচ্ছে।

 

হল শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মারুফ হাসান জেমস বলেন, নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার হয়েছে কিনা, তা পরীক্ষা করা দরকার। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। ভবনটির বিশেষজ্ঞ তদন্তের দাবি জানাই।

 

এ বিষয়ে মজিদ সন্সের নির্বাহী পরিচালক জারগিছুর রহমান বলেন, ভবনে ফাটলের বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট আসার আগে এ বিষয়ে আমাদের কথা বলা ঠিক হবে না। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

 

এক-তৃতীয়াংশ কাজ বাকি তিন ভবনে 

মজিদ সন্স ২০ তলাবিশিষ্ট একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজও পায়। বর্তমানে ওই ভবনের ১৭ তলার ছাদের ঢালাই শেষ হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন তলার দেয়াল নির্মাণসহ একাধিক কাজ চলমান। নির্মাণাধীন অপরাজিতা হলের অষ্টম তলার ছাদের ঢালাই শেষ হয়েছে। এর বাইরে কয়েকটি তলার দেয়াল নির্মাণের কাজ চলছে। প্রকল্পটির ম্যানেজার জাকির হোসেন সমকালকে বলেন, আমাদের এখানে ৭০ শতাংশের মতো কাজ হয়েছে। আমাদের আরও এক দফা মেয়াদ বাড়াতে হবে। অন্যদিকে ১০ তলা শিক্ষক কোয়ার্টারের সপ্তম তলার ছাদ ঢালাই শেষ হয়েছে। 

 

যা বলছেন কর্তৃপক্ষ ও ছাত্রনেতারা

এ বিষয়ে রাবি শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, আমরা অতীতে দেখেছি উন্নয়নের নামে বিপুল দুর্নীতি ও লুটপাট হয়েছে। ঠিকাদারদের জবাবদিহির অন্যতম মাধ্যম জরিমানা আদায়। সেটি না করেই বিল দিয়ে সাবেক ‘নকীব প্রশাসন’ আগের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে।

 

ক্ষোভ প্রকাশ করে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল কাফি বলেন, মেয়াদ বাড়ানো হয়, কিন্তু প্রকল্প শেষ হয় না। বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, এই বিষয়গুলো খুব হতাশাজনক। বারবার মেয়াদ পেছালে মূলত টেন্ডার সিন্ডিকেটের স্বার্থ রক্ষা হয় আর শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হয়। যাদের কাজ দেওয়া হয়েছে, তাদের কড়া জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত। 

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার প্রধান কর্মকর্তা ও প্রকল্প পরিচালক ওবায়দুর রহমান বলেন, আমাদের প্রকল্পগুলোর বেশির ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে যে কাজ রয়েছে, তা চলমান মেয়াদে শেষ করা সম্ভব হবে না। ফলে আমাদের মেয়াদ বাড়াতে হবে। আমরা চেষ্টা করব বাস্তবসম্মতভাবে মেয়াদ বৃদ্ধি করে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করতে।

 

বিজয়-৭১ হলে ফাটলের বিষয়ে তিনি বলেন, ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তার জন্য তাৎক্ষণিক কোনো ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে হচ্ছে না। বিম ও দেয়ালের সংযোগস্থল কিংবা ভিন্ন অংশে করা প্লাস্টারের কারণে এ ধরনের ফাটল দেখা দিতে পারে। 

 

প্রকল্পের বিল পরিশোধে অডিট আপত্তির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রকল্পের মেয়াদকালে মালপত্রের দাম বাড়লে এবং যৌক্তিক কারণে মেয়াদ বাড়ানো হলে জরিমানার বিষয়টি বিবেচনার সুযোগ থাকে। এখানে নিয়মবহির্ভূত কোনো কিছু ঘটেনি।

 

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল আলীম বলেন, এই প্রকল্পগুলো গ্রহণ করার পর রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, করোনা ভাইরাসসহ নানা বাধা এসেছে। কয়েক দিনের মধ্যেই প্রকল্পের চলমান মেয়াদ শেষ হবে। আমরা চেষ্টা করব আগামী মেয়াদের মধ্যে প্রকল্পগুলো শেষ করতে। 

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

শিক্ষা

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য ইবির ২৪ শিক্ষার্থী মনোনীত

প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক ২০১৯, ২০২০ ও ২০২১-এর জন্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ২৪ শিক্ষার্থী মনোনীত হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, ২০১৯ সালের প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য ইবির আট শিক্ষার্থী মনোনীত হয়েছেন। তারা হলেন—আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের তোহা তরীক, আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের রায়হান আলী, অর্থনীতি বিভাগের মিজানুর রহমান, আইন বিভাগের নাজমুন ইসলাম, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ফিরোজ খান, পরিসংখ্যান বিভাগের সুপ্তি চক্রবর্তী সাধনা, ইলেকট্রিকাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সেলিম রেজা জীবন এবং বায়োটেকনোলজি বিভাগের মুনতাহা বিনতে মুখলেস।   ২০২০ সালের জন্য মনোনীত হয়েছেন আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ওলিউল্লাহ, আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের খাইরুল ইসলাম, অর্থনীতি বিভাগের সোহাগ হোসাইন, আল ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের মোহাম্মদ ইলিয়াস, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের মাহমুদুল হাসান, গণিত বিভাগের দেলোয়ার হোসাইন, ফলিত রসায়ন বিভাগের ফাতেমাজ্জুরা এবং বায়োটেকনোলজি বিভাগের আল আমিন মিলন।   অন্যদিকে, ২০২১ সালের প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য মনোনীত ইবির শিক্ষার্থীরা হলেন—আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের আশিক বিল্লাহ, আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের আতিকুর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সাদিকুর রহমান, আল ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের তারেক মনোয়ার, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের নাহিদুজ্জামান, গণিত বিভাগের রাসেল ইসলাম, ইলেকট্রিকাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের হালিম হোসাইন এবং ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের তামান্না খাতুন।   বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মামুন আল রশীদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য ইবির ২৪ শিক্ষার্থী মনোনীত হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গর্ব ও আনন্দের বিষয়। শিক্ষার্থীদের মেধা, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের স্বীকৃতি হিসেবে এ মনোনয়ন গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় পর এ পদকের জন্য ইবির শিক্ষার্থীদের মনোনয়ন অন্য শিক্ষার্থীদেরও ভালো ফলাফল ও গবেষণায় উৎসাহিত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।   তিনি মনোনীত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করেন।   উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক ২০১৯, ২০২০ ও ২০২১-এর জন্য এবার সারাদেশের ৪৬৯ শিক্ষার্থী মনোনীত হয়েছেন। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মেধাবী শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় উৎসাহিত করা এবং ভালো ফলাফলের স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্যে ইউজিসি এই পুরস্কার চালু করে। ২০০৫ সালে প্রবর্তিত এ পদক বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (সম্মান) বা স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অনুষদভিত্তিক সর্বোচ্চ নম্বর বা সিজিপিএ অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয়।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ০৮, ২০২৬
সুপ্রিম কোর্ট

২০২৭ সালে স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট

ফাইল ছবি

প্রাথমিক প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেডের বেতন চালুর নির্দেশ অর্থ মন্ত্রণালয়ের

ছবি: সংগৃহীত

প্রাথমিক শিক্ষার হালচাল দেখতে মাঠে নামছেন ১৮০ কর্মকর্তা

ছবি: সংগৃহীত
টানা তিন বছর শিক্ষার্থীশূন্য, ৮৬ কারিগরি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি বন্ধের সিদ্ধান্ত

টানা তিন বছর কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি না হওয়ায় দেশের ৮৬টি বেসরকারি ডিপ্লোমা পর্যায়ের কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান অনুমোদন ও স্বীকৃতি বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড।   তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং, ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল এবং ডিপ্লোমা ইন অ্যাগ্রিকালচারসহ বিভিন্ন কারিগরি শিক্ষাক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে।   এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশ ও তাগিদপত্র দিয়েছে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড। সোমবার (৫ অক্টোবর) প্রকাশিত চিঠিতে আগামী ১৬ অক্টোবরের মধ্যে কেন তাদের পাঠদান অনুমোদন বা স্বীকৃতি প্রত্যাহার করা হবে না, তার ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।   বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো প্রতিষ্ঠান সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ করা হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান অনুমোদন চূড়ান্তভাবে বাতিল করা হতে পারে।   কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরিদর্শক প্রকৌশলী বি. এম. আমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, পাঠদান ও স্বীকৃতির ক্ষেত্রে বোর্ডের নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত অবকাঠামো, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ, ফলাফলসহ বিভিন্ন শর্ত পূরণ করতে হয়। এসব শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন বাতিল করার বিধান রয়েছে।   চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, অনুমোদনের শর্ত অনুযায়ী কোনো বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা তিন বছর শিক্ষার্থী ভর্তি না হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পাঠদান অনুমোদন বাতিলযোগ্য।   কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সংযুক্ত তালিকায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ৮৬টি বেসরকারি পলিটেকনিক ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কয়েকটি দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারেনি।   বোর্ড সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শিক্ষার্থী সংকটের কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে কার্যত স্থবির। ফলে নীতিমালায় নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুমোদনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

একাদশে ভর্তির দ্বিতীয় ধাপের ফল প্রকাশ, নিশ্চায়ন ৮ অক্টোবর পর্যন্ত

বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ১০২ গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দিল সরকার

ছবি: সংগৃহীত

দাওরায়ে হাদিসের পরীক্ষা শুরু ২১ জানুয়ারি

ছবি: সংগৃহীত
আগারগাঁওয়ে ইউজিসির নতুন শাখা কার্যালয়ের কার্যক্রম শুরু

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর করার লক্ষ্যে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে একটি নতুন শাখা কার্যালয় চালু করা হয়েছে।   রোববার (৪ অক্টোবর) আগারগাঁওয়ের জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কমপ্লেক্সের ১১তম লিফটে ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যালয়টির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন উপলক্ষে সেখানে দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়।   নতুন শাখা কার্যালয় থেকে ইউজিসির স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানিং অ্যান্ড কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স, জনসংযোগ ও প্রকাশনা এবং অডিট বিভাগের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। পাশাপাশি সভা আয়োজনের জন্য একটি সভাকক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের জন্য পৃথক অফিস কক্ষের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।   উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, কমিশনের বর্তমান ভবনটি অনেক পুরোনো হওয়ায় সেখানে ভূমিকম্পের ঝুঁকি রয়েছে। অন্যদিকে দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ও উচ্চশিক্ষার পরিধি বাড়লেও সে তুলনায় ইউজিসির অবকাঠামো ও জনবল যথেষ্ট নয়।   তিনি জানান, বর্তমানে দেশে ১৮০টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম যথাযথভাবে তদারকি, সমন্বয় ও পরিচালনার জন্য ইউজিসির সক্ষমতা আরও বাড়ানো জরুরি। তবে বর্তমান ভবনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা ও উপযুক্ত কর্মপরিবেশের ঘাটতি রয়েছে।   ইউজিসি চেয়ারম্যান আরও বলেন, পুরোনো ভবনটি ভেঙে আধুনিক ও প্রয়োজনভিত্তিক নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য নতুন ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল (ডিপিপি) প্রস্তুত করা হবে। আগামী দুই বছরের মধ্যে নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শুরু করার লক্ষ্য নিয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।   তিনি বলেন, নতুন ভবন নির্মাণের কাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে ইউজিসির বিভিন্ন বিভাগ পর্যায়ক্রমে বিকল্প স্থানে স্থানান্তর করা হবে। এর অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে কয়েকটি বিভাগ নতুন শাখা কার্যালয় থেকে তাদের দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেছে।   অনুষ্ঠানে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব, অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ চৌধুরী এবং সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

জাবিপ্রবিতে অ্যাকাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি সহযোগিতা নিয়ে সেমিনার

ডিএসসিসির উদ্যোগে ঢাবিতে ২০০ ডাস্টবিন স্থাপন

সংগৃহীত ছবি

নিয়োগে অনিয়ম, যবিপ্রবির সাবেক উপাচার্যসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

0 Comments