হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী বেগম সেলিমা রহমানকে দেখতে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির বিটু।
আজ শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪ টায় তিনি হাসপাতালে যান। এ সময় তিনি বেগম সেলিমা রহমানের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং দায়িত্বরত চিকিৎসকদের কাছ থেকে তার শারীরিক অবস্থা ও চলমান চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।
হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গত ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন সেলিমা রহমান।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
সরকারি মজুত শক্তিশালী করতে ৯ হাজার টন ছোলা এবং ১ কোটি লিটার পরিশোধিত রাইস ব্রান তেল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ছোলা কিনতে ব্যয় হবে প্রায় ৭৬ কোটি টাকা। অস্ট্রেলিয়ার অস্ট-গ্রেইন এক্সপোর্টস থেকে এসব ছোলা কেনা হবে। এক কোটি লিটার রাইস ব্রান তেলের জন্য ব্যয় হবে ১৮১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। চারটি দেশীয় প্রতিষ্ঠান এ তেল সরবরাহ করবে। এছাড়া ফ্রান্সভিত্তিক বহুজাতিক জ্বালানি কোম্পানি টোটাল এনার্জিস থেকে প্রতিমাসে ২ কার্গো করে আগামী ৯ মাসে ১৮ কার্গো এলএনজি আমদানি করবে সরকার। প্রয়োজনে দুই পক্ষের সম্মতিতে বাংলাদেশ আগ্রহী হলে কোম্পানিটি থেকে আরও বেশি এলএনজি আমদানি করতে পারবে। আন্তর্জাতিক ক্রয়ে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অনুসরণ করে এসব এলএনজি আমদানি করবে সরকার। প্রতি কার্গো এলএনজি আমদানিতে প্রতি এমএমসিএফটির দাম পড়বে এশিয়ার স্পট মার্কেটের দাম হিসেবে পরিচিত জাপান-কোরিয়া মার্কার (জেকেএম) প্লাস ০.০৬ মার্কিন ডলার। এটি যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি গানভর থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত যে ১৪ কার্গো এলএনজি আমদানি করা হবে, তার দামের তুলনায় কিছুটা কম। দেশে জরুরি গ্যাসের চাহিদা মেটানোর জন্য টোটাল এনার্জিস এর কাছ থেকে চলতি বছরের অক্টোবর থেকে আগামী বছরের জুন পর্যন্ত প্রতি মাসে ২ কার্গো করে মোট ১৮ কার্গো এলএনজি বা প্রয়োজনে দুই পক্ষের সম্মতিতে আরও অতিরিক্ত কার্গো এলএনজি ক্রয়ের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। কাতার ও ওমান থেকে দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি আমদানির চুক্তি থাকলেও, ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দেশ দুটি চুক্তি অনুযায়ী এলএনজি সরবরাহ করতে না পারায় বাংলাদেশে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এ প্রেক্ষিতে সরকার স্পট মার্কেট থেকে উচ্চ দরে এলএনজি আমদানি করার পাশাপাশি বিকল্প বিভিন্ন উৎস থেকে আমদানির চেষ্টা করছে। এর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি গানভর থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত এলএনজি আমদানির একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষরের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এতে ২০২৬-২৮ মেয়াদে ১৪ কার্গো এলএনজি আমদানিতে দাম ধরা হয়েছে দশমিক ০৮৭৫ ডলার প্রতি এমএমবিটিইউ। এছাড়া আগস্ট-সেপ্টেম্বরে সরবরাহের দুটি কার্গোর দামই প্রতি এমএমবিটিইউতে ২৪ ডলারের বেশি ছিল, যা যুদ্ধের আগে প্রচলিত ১০-১২ ডলারের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। ফলে এই দুই কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়নি।
ঢাকা | ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬: বাংলাদেশিদের জন্য ওমানের শ্রমবাজার উন্মুক্ত করা এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে আজ ঢাকায় আলোচনা হয়েছে। পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে বুধবার সৌজন্য সাক্ষাৎকালে ওমানের রাজপরিবারের সদস্য আল সাইয়্যিদ মোহাম্মদ সালিম আলী আল সাইদ উল্লিখিত বিষয়ে মতবিনিময় করেন। সাক্ষাৎকালে ওমানে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো, দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। ওমানের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশি কর্মীদের অবদানের প্রশংসা করেন আল সাইয়্যিদ মোহাম্মদ সালিম আলী আল সাইদ। দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক কল্যাণে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একইসঙ্গে ওমানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণের সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। বুধবারের এ বৈঠকে নারীদের জন্য বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়—বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে কেয়ারগিভার (পরিচর্যাকারী) হিসেবে কর্মী নিয়োগের সুযোগ বাড়িয়ে শ্রমবাজারে নারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করার বিষয়টিও আলোচিত হয়। সৌজন্য সাক্ষাৎকালে ওমানের শ্রম মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও রাজপরিবারের সদস্য সাইফ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল বুসাইদি এবং বাংলাদেশে ওমানের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স (সিডিএ) ফাতিয়া আহমেদ আল বালুশিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও ভার্সিটিলো গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. কামরুল আহসান এবং দ্য ম্যান্ডেটের সম্পাদকীয় বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব:) ফজলে এলাহী আকবর। ভার্সিটিলো গ্রুপের আমন্ত্রণে ওমানের প্রতিনিধি দলটি ব্যবসায়িক সফরে বাংলাদেশে এসেছে। বিভিন্ন দেশে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনাকারী ভার্সিটিলো গ্রুপের কার্যক্রম ওমানেও রয়েছে। বাংলাদেশের জন্য ওমানের শ্রমবাজার দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র। ২০২৩ সালে ১ লাখ ২৫ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী ওমানে পাড়ি জমিয়েছিলেন। তবে ২০২৪ সাল থেকে দেশটির শ্রমবাজার কার্যত বন্ধ রয়েছে। ওমান প্রতিনিধিদলের এ সফরে দেশটির শ্রমবাজার উন্মুক্তকরণে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির উদ্যোগকে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অভ্যন্তরীণ সার্ভার আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় গত দুই দিন ধরে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া আগুনে বেশ কিছু সরকারি নথিপত্রও পুড়ে গেছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সব নথির ডিজিটাল ব্যাকআপ থাকায় এ নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই। বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিয়োজিত ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, গত সোমবার ভোর ৪টার দিকে প্রকল্পের ২ নম্বর গেটের কাছাকাছি অবস্থিত বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (বিএইসি) পুরনো কার্যালয়ে আগুন লাগে। রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার মো. আবুল হাশেম বলেন, ‘আগুন লাগার পরপরই আমাদের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে দুর্ভাগ্যবশত, এই ঘটনায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের অভ্যন্তরীণ সার্ভারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’ অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে স্টেশন অফিসার জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অফিসের একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রে (এসি) বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। কারণ অনুসন্ধানে রূপপুর কর্তৃপক্ষ অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তিনি আরও বলেন, ‘তদন্ত কমিটি সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছে।’ ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সাইট অফিসের ইনচার্জ মো. রুহুল কুদ্দুস জানান, কিছু নথিপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এটি গুরুতর কোনো সমস্যা নয়, কারণ প্রতিটি ফাইলেরই ব্যাকআপ কপি সংরক্ষিত আছে। তিনি বলেন, সার্ভার স্টেশনে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার কারণে গত দুই দিন ধরে বিদ্যুৎকেন্দ্রের অভ্যন্তরীণ ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হচ্ছে। আজ সকালে দ্য ডেইলি স্টারকে রুহুল জানান, ‘ইন্টারনেট সেবা স্বাভাবিক করার জন্য কাজ চলছে।’ এর আগে, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনের সময় বেশ কয়েকবার এখানকার অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থার অপ্রতুলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। বিভিন্ন সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর মানদণ্ড অনুযায়ী রূপপুরে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর একটি ফায়ার স্টেশন থাকা বাঞ্ছনীয়, যেখানে অন্তত ২০০ জনের বেশি দক্ষ জনবল থাকবে। অথচ বর্তমানে মাত্র ৪৯ জন কর্মী নিয়ে একটি সাধারণ মানের ফায়ার স্টেশন দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। স্টেশন অফিসার হাশেম বলেন, ‘বিদ্যুৎকেন্দ্রের অগ্নি-নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ নিজস্ব প্রশিক্ষিত জনবল নিয়োগ দেবে। যেহেতু বিশেষায়িত জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া এখনও সম্পন্ন হয়নি, তাই বর্তমানে সাধারণ কর্মীরাই দায়িত্ব পালন করছেন।’ তিনি আরও বলেন, তাদের কাছে পর্যাপ্ত সরঞ্জাম রয়েছে এবং প্রয়োজনে পার্শ্ববর্তী স্টেশনগুলোর সহায়তা নেওয়ার সুযোগও আছে। তবে রূপপুর কর্তৃপক্ষ যখন নিজস্ব ফায়ার স্টেশনের পূর্ণ দায়িত্ব নেবে, তখন যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি এককভাবে মোকাবিলা করার মতো সক্ষমতা তাদের তৈরি হয়ে যাবে।