স্বাস্থ্য

হামের টিকা ও ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল গ্রহণে ৩৯ লাখ শিশুর ব্যবধান কেন?

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

দেশে হাম প্রাদুর্ভাবের মধ্যে রোগটির প্রতিষেধক বা টিকা পেয়েছে যেই শিশুরা, সেই একই বয়সিদের খাওয়ানো হয়েছে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল। অথচ কাগজ-কলমে দুই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিশু সংখ্যায় ব্যবধান ৩৮ লাখ ৮২ হাজার ৮৯৩ জন!

 

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলেছেন, ভিটামিন ‘এ’ প্লাস কর্মসূচির তুলনায় হাম-রুবেলা কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা প্রায় চার মিলিয়ন কম হলেও সরকারি হিসাবে কী করে টিকার কাভারেজ ১০৩ শতাংশ হলো? তাহলে কি লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করার ক্ষেত্রে বড়সড় কোনো গলদ আছে?

 

আবার শিশুদের ইমিউনিটি বাড়ানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ জৈব যৌগ উপাদান ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানোর লক্ষ্য ও পূরণ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা। এর মধ্যে হাম কিংবা উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে বাস্তবে কোনো উল্লেখযোগ্য সফলতাও আসে নাই।

 

দুই কর্মসূচিরই শিশুর বয়স ৬ থেকে ৫৯ মাস জানিয়ে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) এক কর্মকর্তা বলেন, “ইপিআইয়ের টার্গেট শিশু হয়েছে আন্ডারএস্টিমেড, আর পুষ্টি প্রতিষ্ঠানেরটা (ভিটামিন এ প্লাস কর্মসূচি) হয়েছে ওভার।

 

হাম-রুবেলা প্রতিরোধে জরুরি টিকাদান কর্মসূচিতে মোট এক কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ হাজার শিশুকে টিকাদানের লক্ষ্য ঠিক করা হয়। মাস দুয়েক আগে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।

 

হামের শুক্রবারের বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত এক কোটি ৮৪ লাখ ৭৭ হাজার ৬১৬ জন শিশুকে প্রতিষেধক দেওয়া হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার ১০৩ শতাংশ।

 

এর মধ্যে গত ২৮ জুন সারাদেশে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন পালিত হয়েছে, যা দুর্গম অঞ্চলে চলেছে আরো চারদিন ধরে।

 

এখন পর্যন্ত কী পরিমাণ ভিটামিন এ খাওয়ানো হয়েছে, এমন প্রশ্নের উত্তরে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের (আইপিএনএইচ) পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী বৃহস্পতিবার বলেন, “আমাদের টার্গেট ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৬১ হাজার ৫৬৪ জন শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর। তবে এ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ২ কোটি ২৩ লাখ ৬০ হাজার ৫০৯ জন শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে।

 

এ ক্যাম্পেইনের আগে গত ২৫ জুন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বলেছিলেন, “জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস কর্মসূচির আওতায় ২ কোটি ৪০ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

 

আর স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন গত রোববার ক্যাম্পেইন উদ্বোধন করে বলেন, “সারাদেশের বাচ্চাদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু করেছি; যার মধ্যে ছয় মাস থেকে ১১ মাস বয়সি ৩৫ লাখ শিশুকে নীল রঙের এবং ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সি দুই কোটি ২০ লাখ শিশুকে লাল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে। দুটি মিলে ২ কোটি ৫৫ লাখের বেশি শিশুদের এই ভিটামিন ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, ২ কোটি ২৩ লাখ ৬০ হাজার ৫০৯ জন শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে। আর হামের বুলেটিনের পরিসংখ্যান অনুসারে, টিকা নিয়েছে এক কোটি ৮৪ লাখ ৭৭ হাজার ৬১৬ জন শিশু।

 

গলদ কোথায়?

ভিটামিন এ প্লাস কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রা কীভাবে ঠিক করা হয়েছিল, এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মোহাম্মদ ইউনুস আলী বলেন, “আমরা দেশের সব সিভিল সার্জনের কাছে শিশুদের তথ্য চেয়েছিলাম, তাদের থেকে পাওয়া তথ্য একসঙ্গে করে আমরা ক্যাপসুল খাওয়ানোর শিশুদের সংখ্যা নির্ধারণ করেছি।

 

হামের টিকাদানের চেয়ে ক্যাপসুল খাওয়ানোতে শিশুদের সংখ্যার তারতম্য নিয়ে তিনি বলেন, “সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) কেন্দ্র কীভাবে তথ্য সংগ্রহ করেছে জানা নাই। আমরা আমাদের পদ্ধতিতে শিশুদের তালিকা করেছি।

 

হামের টিকাদান কর্মসূচি এবং ভিটামিন এ প্লাস কর্মসূচির সঙ্গে সম্পৃক্ত তিন কর্মকর্তা-বিশেষজ্ঞ বলেন, মাইক্রোপ্ল্যান করে টিকাদানের যে লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়, এবার সেটি ঠিক করার মতো ‘পর্যাপ্ত সময় মেলেনি’। গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত মাইক্রোপ্ল্যানের জন্য সাধারণত দুই থেকে তিন মাস সময়ের দরকার পড়ে। এবার টিকার ক্যাম্পেইন মে মাসের শুরুতে হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু হামের প্রাদুর্ভাবের কারণে তরিঘড়ি করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। ফলে মে মাসের ক্যাম্পেইন শুরু হয় এপ্রিল মাসের ২০ তারিখ।

 

একজন বিশেষজ্ঞ বলেন, “ইপিআই জুন মাসের আগে টিকা ক্যাম্পেইনের পক্ষে ছিল না। কিন্তু সরকারি চাপ এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় টিকা দেওয়া শুরু হয়।

 

হামের প্রাদুর্ভাব ও মৃত্যু বেড়ে যাওয়ায় সমালোচনার মধ্যে সরকার জরুরি ভিত্তিতে দেশের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ৩০টি উপজেলায় ৫ এপ্রিল থেকে ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস বা পাঁচ বছর বয়সি টিকা দেওয়া শুরু করে। এরপর ১২ এপ্রিল শুরু হয় চার সিটি করপোরেশন এলাকায়। ২০ এপ্রিল সারা দেশে একই বয়সি শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে সরকার, যা শেষ হয় ২০ মে।

 

ইপিআই সম্পর্কে ওয়াকিবহাল—স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমন এক কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এবার পরিস্থিতির কারণে মাঠ পর্যায়ের পরিকল্পনা বা ‘মাইক্রোপ্ল্যানের’ জন্য সেভাবে সময় পাওয়া যায়নি। তাই ২০২২ সালের পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুসারে টিকার জন্য টার্গেট শিশুর সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়।

 

তার ভাষ্য, জরুরি ক্যাম্পেইনের জন্য ২ কোটি ১০ লাখের মতো টিকা সংগ্রহ করা হয়েছিল।

 

“সেই হিসাবে ক্যাম্পেইনে আরো শিশু টিকা পাওয়া কথা।”

 

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান-আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান ২৭ জুন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “টিকাদানের ক্ষেত্রে গ্যাভি মূলত পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব অনুসরণ করে। আর সর্বশেষ পরিসংখ্যানে আমাদের শিশুদের সংখ্যা কিছুটা কম দেখানো হয়েছে। এই একটি কারণে টিকাদান এবং ক্যাপসুল খাওয়ানোর টার্গেট শিশু সংখ্যার বড় ব্যবধান দেখা দিতে পারে।

 

“দ্বিতীয়ত, ইপিআইয়ের টিকাদানের ক্ষেত্রে এবার খুব ভালোভাবে মাইক্রোপ্ল্যান হয়নি, সেটি আরেকটি কারণ হতে পারে।

 

সব শিশুর হামের টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, “এটি ছাড়া হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।

 

টিকার ‘কাভারেজ’ নিয়ে প্রশ্ন

সরকারি হিসাবে লক্ষ্যের তুলনায় ১০৩ শতাংশ টিকাদানের তথ্য দেওয়া হলেও লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণেই যে গলদ আছে তা ভিটামিন এ প্লাস কর্মসূচিতে স্পষ্ট। দেশে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সি শিশুর ‘প্রকৃত সংখ্যা’ কত তা জানার সুযোগ নেই। তবে ‘প্রকৃত সংখ্যার’ চাইতে ‘কম সংখ্যক’ শিশুকে টিকা দেওয়ায় এখনো হাম নিয়ন্ত্রণে আসেনি না বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ।

 

সরকারি হিসাবেই শুক্রবার পর্যন্ত হাম ও উপসর্গে ৭২৪ জনের প্রাণ গেছে। প্রতিদিনই এ পরিসংখ্যানে নতুন নতুন নাম যোগ হচ্ছে।

 

সরকারি টিকার ‘কাভারেজ’র তথ্য নিয়ে সন্দিহান জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হোসেন।

 

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সরকারি যে টার্গেট শিশু—তারা কাভারেজের অংশ হয়েছে। সেখানে দেশের সব শিশু অন্তর্ভুক্ত নাও থাকতে পারে।

 

“সর্বশেষ ক্যাম্পেইনের আগে পর্যাপ্ত সময় পায়নি, তাই হয়তো মাইক্রোপ্ল্যানে অনেক শিশু বাদ পড়েছে। কিন্তু মহামারী মোকাবিলায় সবাইকে টিকা দেওয়া জরুরি।

 

টিকার ‘কাভারেজ’ নিয়ে সংশয় রয়েছে আরেক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বেনজির আহমেদেরও।

 

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “একটি এলাকায় টিকার কাভারেজ যদি ৯৫ শতাংশের বেশি হয়, তাহলে সেই এলাকায় হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

 

সরকারের ১০০ শতাংশের বেশি ‘কাভারেজের’ দাবির বিষয়ে অধ্যাপক বেনজির বলেন, “টিকার কাভারেজ সরকার যা বলছে তা হয়তো সঠিক নয়।

 

“কারণ শতভাগ টিকা কাভারেজ হলে এত সময় পর অবশ্যই হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসতো, যেটি হয়নি। এটি থেকে বোঝা যায়, টিকার কাভারেজে সমস্যা আছে।

 

তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসের দাবি, টিকার ‘কাভারেজ’ খুব ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

 

তিনি গত ১৮ জুন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, “বর্তমানে হামের সংক্রমণ, নিশ্চিত হাম রোগী এবং মৃত্যুর সংখ্যা আগের চেয়ে কমে গেছে। আর হাম একবারে কমে যাবে না। ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। আশা করি, জুন মাসের শেষে একেবারে কমে যাবে।

 

স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী রোববার বলেন, “এত বড় সংখ্যা ব্যবধানের একটি বিষয় হতে পারে যে, আমাদের দেশের কিছু জায়গায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আওতায় আগেই হামের টিকা দেওয়া হয়েছে।

 

তিনি বলেন, “টিকা কাভারেজে সংখ্যার ভুল হওয়ার কথা নয়। কারণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা আমাদের টার্গেট শিশু সংখ্যা নির্ধারণে সাহায্য করে। তবে বিষয়টা নিয়ে আমরা আরেক বার মিলিয়ে দেখব।

 

তবে জনস্বাস্থ্য ও টিকা বিশেষজ্ঞ তাজুল ইসলাম এ বারী মনে করেন, এবার আসলে লক্ষ্যমাত্রায় গলদ হয়েছে।

 

টিকার কাভারেজ সরকারিভাবে যা দেখানো হচ্ছে, সেটি ঠিক নয়। ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর সংখ্যাই সঠিক। হার্ড ইমিউনিটি অর্জনের ক্ষেত্রে ৯৫ শতাংশ টিকার কাভারেজ প্রয়োজন, তা থেকে আমরা দূরে আছি। এ জন্য হামের সংক্রমণ কমছে না। দ্রুত শিশুদের টিকা দিতে হবে।

 

সার্বিক বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন শুক্রবার বলেন, “দুটারই টার্গেট শিশুর সংখ্যা সঠিক। তবে টিকার গ্রহণের ভীতি থেকে অনেক বাচ্চা টিকা নেয়নি, সে কারণে টিকা ক্যাম্পেইনে শিশুর সংখ্যা কম হয়েছে। আর ক্যাপসুলের ক্ষেত্রে সেটা বেশি হয়েছে।

 

তবে আমাদের টিকার ক্যাম্পেইন শেষ হলেও বাদ পরা শিশুদের এখনো টিকা দেওয়া হচ্ছে৷ আশা করি, বাদ পড়া বড় সংখ্য শিশুরাও টিকার আওতায় আসবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

স্বাস্থ্য

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
হার্ট অ্যাটাকের আগে শরীর যেসব সংকেত দেয়

বিশ্বজুড়ে অকালমৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে— হৃদরোগ। সাধারণ মানুষের ধারণা, বুকে কিংবা কাঁধ থেকে বাঁ হাতে তীব্র ব্যথাই বোধহয় হার্ট অ্যাটাকের একমাত্র লক্ষণ। তা ঠিক নয়; বড় কোনো অঘটন ঘটার অনেক আগেই হৃদযন্ত্র অত্যন্ত গোপনে এবং নিঃশব্দে কিছু সংকেত দিতে শুরু করে। হৃদরোগের ক্ষেত্রে শরীর অনেক আগেই ছোট ছোট সতর্কবার্তা পাঠায়।    কিন্তু সচেতনতার অভাবে আমরা সেগুলোকে ‘বয়স বাড়ছে’ কিংবা ‘সাধারণ ক্লান্তি’ ভেবে এড়িয়ে যাই। এই গোপন সংকেতগুলো আগভাগে চিনতে পারলে অকাল হার্ট অ্যাটাক এবং হার্ট ফেইলিওরের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।   চলুন জেনে নেওয়া যাক, হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আগে শরীর কোন সংকেত দেয়— হৃদরোগীদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকেরও বেশি মানুষ মূল সমস্যা ধরা পড়ার আগেই তারা এ সমস্যায় ভোগেন। অনেক ক্ষেত্রে মূল রোগ দেখা দেওয়ার প্রায় পাঁচ বছর আগেই এ লক্ষণটি দেখা দেয়। আমাদের শরীরের ছোট ধমনিগুলোতে রক্ত সঞ্চালন বাধা পেলে যে সমস্যা তৈরি হয়, হৃৎপিণ্ডের মূল ধমনিতেও ঠিক একই পরিস্থিতি ঘটতে থাকে। তাই কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই এমন সমস্যা দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।   অল্প কয়েকটি সিঁড়ি ভাঙা, সামান্য হাঁটাহাঁটি বা ঘরের ছোটখাটো কাজ করতেই যেন দম আটকে আসে? আমরা অনেকেই এটাকে ‘শরীরের ফিটনেস কমে যাওয়া’ বা ‘ক্লান্তি’ ভেবে ভুল করি। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয়— ‘ডিসপনিয়া‘। আপনার হৃৎপিণ্ড যে পর্যাপ্ত পরিমাণে রক্ত পাম্প করতে পারছে না অথবা ফুসফুসের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে— এটি তার প্রমাণ।   আর নতুন জুতা শক্ত হওয়ার কারণে কিংবা দীর্ঘ সময় বিমানে বা বাসে বসে জার্নি করার পর পায়ে সামান্য ফোলা ভাব হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু পা, গোড়ালি বা নিচের অংশে ক্রমাগত ফ্লুইড জমতে থাকা বা ফুলে যাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক। এর অর্থ হতে পারে— আপনার হৃদযন্ত্র সঠিকভাবে রক্ত সারা শরীরে সরবরাহ করতে পারছে না। ফলে রক্ত ও পানি পায়ে গিয়ে জমছে। এটি হার্ট ফেইলিওর বা কিডনির সমস্যার অন্যতম নীরব লক্ষণ।   এ ছাড়া ফোলা ভাব, অস্বাভাবিক ক্লান্তি এবং শ্বাসকষ্ট হলো হার্ট ফেইলিওরের প্রাথমিক উপসর্গ। মানুষ প্রায়শই এগুলোকে বার্ধ্যক্যের লক্ষণ মনে করে এড়িয়ে যায়। অথচ সময়মতো এ সংকেতগুলো ধরে সঠিক লাইফস্টাইল পরিবর্তন ও চিকিৎসা শুরু করলে বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব।   এখন প্রশ্ন আসতে পারে— সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক কী? সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক হলো— এমন এক ধরনের সমস্যা, যেখানে বুকে তীব্র ব্যথা বা অস্বস্তি থাকে। এতে রোগী অনেক সময় বুঝতেই পারেন না যে, তার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে, তবে শরীর কিছু সূক্ষ্ম সংকেত দেয়।   ১. বুকে ব্যথা ছাড়াও শরীর গোপনে হৃদরোগের ইঙ্গিত দিতে পারে।   ২. পুরুষের শারীরিক ক্ষমতার অভাব হৃদরোগের প্রাথমিক সংকেত হতে পারে।   ৩. সামান্য পরিশ্রমে বা সিঁড়ি ভাঙতে গিয়ে হাঁপিয়ে ওঠা হৃৎপিণ্ড দুর্বল হওয়ার লক্ষণ। এতে হার্ট অ্যাটাক দেখা দিতে পারে।   ৪. পায়ের পাতা বা গোড়ালিতে পানি জমা ও ফোলা ভাব হার্ট ফেইলিওরের লক্ষণ হতে পারে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বে হামে আক্রান্তে শীর্ষে বাংলাদেশ, ছয় মাসে রোগী ৪২ হাজার

রাতে ঘুমানোর আগে ব্যায়াম করছেন এক তরুণী | ছবি: সংগৃহীত

রাতে ঘুম দ্রুত আনতে ৭টি সহজ ব্যায়াম

কিশমিশ শুধু শক্তির জোগানই দেয় না, বরং শরীরের নানা জটিল সমস্যা দূর করতেও দারুণ কার্যকর | ছবি : সংগৃহীত

টানা ৩০ দিন ভেজানো কিশমিশ, শরীরে আসতে পারে ৫ পরিবর্তন

ছবি - সংগৃহীত
‘সরকারি হাসপাতালই যেন মানুষের একমাত্র ভরসার জায়গা হয়’: প্রধানমন্ত্রী

সরকারি হাসপাতালই যেন মানুষের একমাত্র ভরসার জায়গা হয়ে ওঠে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, যেভাবেই হোক গ্রামের মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সহজ করতে হবে। তাদের জন্য সন্তোষজনক চিকিৎসাসেবা ও পর্যাপ্ত ওষুধ নিশ্চিত করতে হবে।   সোমবার (২০ জুলাই) বিকালে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।    প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা আরও উন্নত ও সহজ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সরকারি হাসপাতালে গিয়ে যেন কোনো ভোগান্তি ছাড়াই সবাই সহজে চিকিৎসা পান এবং চিকিৎসার জন্য অন্য কোথাও যেতে না হয়। একইসঙ্গে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের আরও আন্তরিক হতে হবে।     বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্যখাতে আরও কয়েকটি বিষয়ে নির্দেশনা দেন। বৈঠকের শুরুতে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত পাঁচ মাসে স্বাস্থ্য খাতের অর্জন সম্পর্কে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চান।   জবাবে তারা জানান, বিগত সরকারগুলো স্বাস্থ্যখাত একেবারে খাদের কিনারে নিয়ে গেছে। প্রান্তিক মানুষের যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি কঠিন হয়ে পড়েছে। সেই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য তারা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।   সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে এমন অভিযোগ দেখা যায় যে, উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসক থাকলেও রোগীরা সন্তোষজনক চিকিৎসাসেবা পান না। চিকিৎসকদের দায়িত্বে অবহেলার বিষয় উঠে আসে। এ ব্যাপারে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।     কিডনি রোগীদের চিকিৎসার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী খুবই আন্তরিক। তিনি কিডনি রোগীদের দুর্ভোগ লাঘবে জেলা পর্যায়ে ৫০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, জেলা পর্যায়ে যেখানে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার আছে, সেগুলো ৫০ শয্যায় সম্প্রসারণ করা হবে এবং আগামী তিন বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সারাদেশের উপজেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে। এর মধ্যে প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল গড়ে তোলা ও লজিস্টিক সাপোর্ট নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।     বৈঠকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ৫১ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সরকারি উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়। ১০১ শয্যায় উন্নীত করতে প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামো স্থাপনের বিষয়ে বিস্তারিত উপস্থাপন করেন গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলীরা। এ সময় তারা অবকাঠামোর নকশাসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।  

মারিয়া রহমান জুলাই ২০, ২০২৬
ফাইল ছবি

ভালো ঘুম চান? রাতে করুন এই ৭টি সহজ ব্যায়াম

ছবি : সংগৃহীত

ডিমেনশিয়ার প্রায় অর্ধেক ঝুঁকি ঠেকানো সম্ভব : বিশেষজ্ঞরা

ছবি: সংগৃহীত

রাতের খাবার বাদ দিলে শরীরে কী কী ক্ষতি হতে পারে?

ছবি : সংগৃহীত
৫০ বছরে পুরুষের টেস্টোস্টেরন কমেছে অর্ধেক

বিশ্বজুড়ে পুরুষদের শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোনের গড় মাত্রা আশঙ্কাজনক হারে কমছে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, গত ৫০ বছরে টেস্টোস্টেরনের গড় মাত্রা কমেছে অর্ধেকের বেশি। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলছেন, মানবসমাজ এখন পুরুষদের প্রজননক্ষমতার ব্যাপক সংকটের মুখে।   গত মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বার্ষিক সভায় বসেছিলেন ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব হিউম্যান রিপ্রোডাকশন অ্যান্ড এমব্রায়োলজির সদস্যরা। সেখানেই গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়। এতে দেখা গেছে, ১৯৭২ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে পুরুষদের গড় টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমেছে ৫৪ শতাংশ।   টেস্টোস্টেরন হরমোন পুরুষের বয়ঃসন্ধি, পেশি গঠন, শুক্রাণু উৎপাদন ও যৌন আকাঙ্ক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ওজন ও ডায়াবেটিস প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন গবেষকেরা। এর সঙ্গে পরিবেশগত কিছু বিষয়ের প্রভাব রয়েছে বলে তাঁদের ধারণা। বিভিন্ন গৃহস্থালি পণ্যে থাকা এন্ডোক্রাইনের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিও টেস্টোস্টেরন হরমোন কমার বড় কারণ হতে পারে।   বিশ্বজুড়ে পুরুষদের প্রজননস্বাস্থ্য বড় সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করেন ইসরায়েলের হিব্রু ইউনিভার্সিটি-হাডাসা ব্রাউন স্কুল অব পাবলিক হেলথ অ্যান্ড কমিউনিটি মেডিসিনের অধ্যাপক হাগাই লেভিন। তাঁর মতে, পুরুষদের প্রজননস্বাস্থ্যের জন্য বিষয়টি যতটা আশঙ্কার, ততটা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।   হাগাই লেভিন বলেন, ‘৫০ বছরে পুরুষদের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ৫০ শতাংশের বেশি কমে যেতে আমরা দেখেছি। এর অর্থ প্রতিবছর গড়ে ১ শতাংশের বেশি হারে টেস্টোস্টেরন কমেছে। এটি আকস্মিক ঘটনা নয়, কোনো পরিসংখ্যানগত ভুলও নয়।’   পুরুষের প্রজননক্ষমতা আসলেই কমছে কি না এবং কমলেও কেন কমছে, তা নিয়ে বিতর্ক চলছে। এ পটভূমিতে পুরুষের টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা কমে যাওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।   একই গবেষক দল এর আগে পুরুষদের শুক্রাণু নিয়ে গবেষণা করেছিল। তাতে দেখা গিয়েছিল, গত ৪০ বছরে পুরুষদের শুক্রাণুর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। সে তথ্যও বেশ আলোড়ন তৈরি করেছিল।   তবে এসব দাবি বিজ্ঞানী মহলে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক ও রিপ্রোডাক্টিভ এন্ডোক্রাইনোলজি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চান্না জয়সেনা গার্ডিয়ানকে বলেন, পুরুষের টেস্টোস্টেরন নিয়ে সর্বশেষ এসব পর্যবেক্ষণকে ‘বাস্তবতার নিরিখে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা’ হিসেবেই দেখা উচিত।   চান্না জয়সেনা বলেন, ‘ইতিহাসের ভিন্ন ভিন্ন সময়কাল ধরে এসব গবেষণা চালানো হয়েছে। এ বিষয়টিই আমাকে গবেষণায় পাওয়া ফলাফলের ব্যাপারে সত্যিই আশ্বস্ত করেছে। দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি,পুরুষদের প্রজননস্বাস্থ্যের অবনতি ঘটেছে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রবণতা আরও বেড়েই চলেছে।’

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

প্যাকেটবন্দি চিকিৎসা সরঞ্জাম যাচ্ছে ভাঙারির দোকানে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবায় নতুন সম্ভাবনা, এগিয়ে ‘অল সমাধান’

শরীর অপবিত্র হলে যত দ্রুত পারা যায় গোসলের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করা উচিত | ছবি : সংগৃহীত

গোসলের সেরা সময় কখন? জানালেন বিশেষজ্ঞরা

0 Comments