স্বাস্থ্য

হামের টিকা ও ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল গ্রহণে ৩৯ লাখ শিশুর ব্যবধান কেন?

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

দেশে হাম প্রাদুর্ভাবের মধ্যে রোগটির প্রতিষেধক বা টিকা পেয়েছে যেই শিশুরা, সেই একই বয়সিদের খাওয়ানো হয়েছে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল। অথচ কাগজ-কলমে দুই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিশু সংখ্যায় ব্যবধান ৩৮ লাখ ৮২ হাজার ৮৯৩ জন!

 

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলেছেন, ভিটামিন ‘এ’ প্লাস কর্মসূচির তুলনায় হাম-রুবেলা কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা প্রায় চার মিলিয়ন কম হলেও সরকারি হিসাবে কী করে টিকার কাভারেজ ১০৩ শতাংশ হলো? তাহলে কি লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করার ক্ষেত্রে বড়সড় কোনো গলদ আছে?

 

আবার শিশুদের ইমিউনিটি বাড়ানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ জৈব যৌগ উপাদান ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানোর লক্ষ্য ও পূরণ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা। এর মধ্যে হাম কিংবা উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে বাস্তবে কোনো উল্লেখযোগ্য সফলতাও আসে নাই।

 

দুই কর্মসূচিরই শিশুর বয়স ৬ থেকে ৫৯ মাস জানিয়ে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) এক কর্মকর্তা বলেন, “ইপিআইয়ের টার্গেট শিশু হয়েছে আন্ডারএস্টিমেড, আর পুষ্টি প্রতিষ্ঠানেরটা (ভিটামিন এ প্লাস কর্মসূচি) হয়েছে ওভার।

 

হাম-রুবেলা প্রতিরোধে জরুরি টিকাদান কর্মসূচিতে মোট এক কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ হাজার শিশুকে টিকাদানের লক্ষ্য ঠিক করা হয়। মাস দুয়েক আগে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।

 

হামের শুক্রবারের বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত এক কোটি ৮৪ লাখ ৭৭ হাজার ৬১৬ জন শিশুকে প্রতিষেধক দেওয়া হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার ১০৩ শতাংশ।

 

এর মধ্যে গত ২৮ জুন সারাদেশে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন পালিত হয়েছে, যা দুর্গম অঞ্চলে চলেছে আরো চারদিন ধরে।

 

এখন পর্যন্ত কী পরিমাণ ভিটামিন এ খাওয়ানো হয়েছে, এমন প্রশ্নের উত্তরে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের (আইপিএনএইচ) পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী বৃহস্পতিবার বলেন, “আমাদের টার্গেট ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৬১ হাজার ৫৬৪ জন শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর। তবে এ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ২ কোটি ২৩ লাখ ৬০ হাজার ৫০৯ জন শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে।

 

এ ক্যাম্পেইনের আগে গত ২৫ জুন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বলেছিলেন, “জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস কর্মসূচির আওতায় ২ কোটি ৪০ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

 

আর স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন গত রোববার ক্যাম্পেইন উদ্বোধন করে বলেন, “সারাদেশের বাচ্চাদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু করেছি; যার মধ্যে ছয় মাস থেকে ১১ মাস বয়সি ৩৫ লাখ শিশুকে নীল রঙের এবং ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সি দুই কোটি ২০ লাখ শিশুকে লাল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে। দুটি মিলে ২ কোটি ৫৫ লাখের বেশি শিশুদের এই ভিটামিন ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, ২ কোটি ২৩ লাখ ৬০ হাজার ৫০৯ জন শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে। আর হামের বুলেটিনের পরিসংখ্যান অনুসারে, টিকা নিয়েছে এক কোটি ৮৪ লাখ ৭৭ হাজার ৬১৬ জন শিশু।

 

গলদ কোথায়?

ভিটামিন এ প্লাস কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রা কীভাবে ঠিক করা হয়েছিল, এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মোহাম্মদ ইউনুস আলী বলেন, “আমরা দেশের সব সিভিল সার্জনের কাছে শিশুদের তথ্য চেয়েছিলাম, তাদের থেকে পাওয়া তথ্য একসঙ্গে করে আমরা ক্যাপসুল খাওয়ানোর শিশুদের সংখ্যা নির্ধারণ করেছি।

 

হামের টিকাদানের চেয়ে ক্যাপসুল খাওয়ানোতে শিশুদের সংখ্যার তারতম্য নিয়ে তিনি বলেন, “সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) কেন্দ্র কীভাবে তথ্য সংগ্রহ করেছে জানা নাই। আমরা আমাদের পদ্ধতিতে শিশুদের তালিকা করেছি।

 

হামের টিকাদান কর্মসূচি এবং ভিটামিন এ প্লাস কর্মসূচির সঙ্গে সম্পৃক্ত তিন কর্মকর্তা-বিশেষজ্ঞ বলেন, মাইক্রোপ্ল্যান করে টিকাদানের যে লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়, এবার সেটি ঠিক করার মতো ‘পর্যাপ্ত সময় মেলেনি’। গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত মাইক্রোপ্ল্যানের জন্য সাধারণত দুই থেকে তিন মাস সময়ের দরকার পড়ে। এবার টিকার ক্যাম্পেইন মে মাসের শুরুতে হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু হামের প্রাদুর্ভাবের কারণে তরিঘড়ি করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। ফলে মে মাসের ক্যাম্পেইন শুরু হয় এপ্রিল মাসের ২০ তারিখ।

 

একজন বিশেষজ্ঞ বলেন, “ইপিআই জুন মাসের আগে টিকা ক্যাম্পেইনের পক্ষে ছিল না। কিন্তু সরকারি চাপ এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় টিকা দেওয়া শুরু হয়।

 

হামের প্রাদুর্ভাব ও মৃত্যু বেড়ে যাওয়ায় সমালোচনার মধ্যে সরকার জরুরি ভিত্তিতে দেশের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ৩০টি উপজেলায় ৫ এপ্রিল থেকে ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস বা পাঁচ বছর বয়সি টিকা দেওয়া শুরু করে। এরপর ১২ এপ্রিল শুরু হয় চার সিটি করপোরেশন এলাকায়। ২০ এপ্রিল সারা দেশে একই বয়সি শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে সরকার, যা শেষ হয় ২০ মে।

 

ইপিআই সম্পর্কে ওয়াকিবহাল—স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমন এক কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এবার পরিস্থিতির কারণে মাঠ পর্যায়ের পরিকল্পনা বা ‘মাইক্রোপ্ল্যানের’ জন্য সেভাবে সময় পাওয়া যায়নি। তাই ২০২২ সালের পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুসারে টিকার জন্য টার্গেট শিশুর সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়।

 

তার ভাষ্য, জরুরি ক্যাম্পেইনের জন্য ২ কোটি ১০ লাখের মতো টিকা সংগ্রহ করা হয়েছিল।

 

“সেই হিসাবে ক্যাম্পেইনে আরো শিশু টিকা পাওয়া কথা।”

 

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান-আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান ২৭ জুন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “টিকাদানের ক্ষেত্রে গ্যাভি মূলত পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব অনুসরণ করে। আর সর্বশেষ পরিসংখ্যানে আমাদের শিশুদের সংখ্যা কিছুটা কম দেখানো হয়েছে। এই একটি কারণে টিকাদান এবং ক্যাপসুল খাওয়ানোর টার্গেট শিশু সংখ্যার বড় ব্যবধান দেখা দিতে পারে।

 

“দ্বিতীয়ত, ইপিআইয়ের টিকাদানের ক্ষেত্রে এবার খুব ভালোভাবে মাইক্রোপ্ল্যান হয়নি, সেটি আরেকটি কারণ হতে পারে।

 

সব শিশুর হামের টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, “এটি ছাড়া হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।

 

টিকার ‘কাভারেজ’ নিয়ে প্রশ্ন

সরকারি হিসাবে লক্ষ্যের তুলনায় ১০৩ শতাংশ টিকাদানের তথ্য দেওয়া হলেও লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণেই যে গলদ আছে তা ভিটামিন এ প্লাস কর্মসূচিতে স্পষ্ট। দেশে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সি শিশুর ‘প্রকৃত সংখ্যা’ কত তা জানার সুযোগ নেই। তবে ‘প্রকৃত সংখ্যার’ চাইতে ‘কম সংখ্যক’ শিশুকে টিকা দেওয়ায় এখনো হাম নিয়ন্ত্রণে আসেনি না বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ।

 

সরকারি হিসাবেই শুক্রবার পর্যন্ত হাম ও উপসর্গে ৭২৪ জনের প্রাণ গেছে। প্রতিদিনই এ পরিসংখ্যানে নতুন নতুন নাম যোগ হচ্ছে।

 

সরকারি টিকার ‘কাভারেজ’র তথ্য নিয়ে সন্দিহান জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হোসেন।

 

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সরকারি যে টার্গেট শিশু—তারা কাভারেজের অংশ হয়েছে। সেখানে দেশের সব শিশু অন্তর্ভুক্ত নাও থাকতে পারে।

 

“সর্বশেষ ক্যাম্পেইনের আগে পর্যাপ্ত সময় পায়নি, তাই হয়তো মাইক্রোপ্ল্যানে অনেক শিশু বাদ পড়েছে। কিন্তু মহামারী মোকাবিলায় সবাইকে টিকা দেওয়া জরুরি।

 

টিকার ‘কাভারেজ’ নিয়ে সংশয় রয়েছে আরেক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বেনজির আহমেদেরও।

 

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “একটি এলাকায় টিকার কাভারেজ যদি ৯৫ শতাংশের বেশি হয়, তাহলে সেই এলাকায় হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

 

সরকারের ১০০ শতাংশের বেশি ‘কাভারেজের’ দাবির বিষয়ে অধ্যাপক বেনজির বলেন, “টিকার কাভারেজ সরকার যা বলছে তা হয়তো সঠিক নয়।

 

“কারণ শতভাগ টিকা কাভারেজ হলে এত সময় পর অবশ্যই হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসতো, যেটি হয়নি। এটি থেকে বোঝা যায়, টিকার কাভারেজে সমস্যা আছে।

 

তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসের দাবি, টিকার ‘কাভারেজ’ খুব ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

 

তিনি গত ১৮ জুন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, “বর্তমানে হামের সংক্রমণ, নিশ্চিত হাম রোগী এবং মৃত্যুর সংখ্যা আগের চেয়ে কমে গেছে। আর হাম একবারে কমে যাবে না। ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। আশা করি, জুন মাসের শেষে একেবারে কমে যাবে।

 

স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী রোববার বলেন, “এত বড় সংখ্যা ব্যবধানের একটি বিষয় হতে পারে যে, আমাদের দেশের কিছু জায়গায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আওতায় আগেই হামের টিকা দেওয়া হয়েছে।

 

তিনি বলেন, “টিকা কাভারেজে সংখ্যার ভুল হওয়ার কথা নয়। কারণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা আমাদের টার্গেট শিশু সংখ্যা নির্ধারণে সাহায্য করে। তবে বিষয়টা নিয়ে আমরা আরেক বার মিলিয়ে দেখব।

 

তবে জনস্বাস্থ্য ও টিকা বিশেষজ্ঞ তাজুল ইসলাম এ বারী মনে করেন, এবার আসলে লক্ষ্যমাত্রায় গলদ হয়েছে।

 

টিকার কাভারেজ সরকারিভাবে যা দেখানো হচ্ছে, সেটি ঠিক নয়। ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর সংখ্যাই সঠিক। হার্ড ইমিউনিটি অর্জনের ক্ষেত্রে ৯৫ শতাংশ টিকার কাভারেজ প্রয়োজন, তা থেকে আমরা দূরে আছি। এ জন্য হামের সংক্রমণ কমছে না। দ্রুত শিশুদের টিকা দিতে হবে।

 

সার্বিক বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন শুক্রবার বলেন, “দুটারই টার্গেট শিশুর সংখ্যা সঠিক। তবে টিকার গ্রহণের ভীতি থেকে অনেক বাচ্চা টিকা নেয়নি, সে কারণে টিকা ক্যাম্পেইনে শিশুর সংখ্যা কম হয়েছে। আর ক্যাপসুলের ক্ষেত্রে সেটা বেশি হয়েছে।

 

তবে আমাদের টিকার ক্যাম্পেইন শেষ হলেও বাদ পরা শিশুদের এখনো টিকা দেওয়া হচ্ছে৷ আশা করি, বাদ পড়া বড় সংখ্য শিশুরাও টিকার আওতায় আসবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

স্বাস্থ্য

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ডেঙ্গু প্রতিরোধে ডিএনসিসির বিশেষ অভিযান, মাঠে নামছেন ১ হাজার ৫০০ কর্মী

জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ডেঙ্গুর প্রকোপ ঠেকাতে বিশেষ অভিযান শুরু করছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।   শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে ২৪টি দলে ভাগ হয়ে ডিএনসিসির ১ হাজার ৫০০ কর্মী নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি পরিদর্শন, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, উৎসস্থল নির্মূল এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।   শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ডিএনসিসি। ডিএনসিসি জানিয়েছে, শনিবার সকাল ৯টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরপরই ডিএনসিসির বিশেষ অভিযান শুরু হবে।   ডিএনসিসি জানায়, দিবসটি উপলক্ষে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ডিএনসিসির স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে একটি বিশেষ স্টল স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে নগরবাসীর জন্য ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও করণীয় সম্পর্কিত নানা উপকরণ প্রদর্শন করা হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে ডিএনসিসির অঞ্চল-৫, বিশেষ করে সংসদ ভবন ও এর পার্শ্ববর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাসমূহে বিশেষ সোর্স রিডাকশন, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও লার্ভা নিধন কার্যক্রম চালানো হবে।   কার্যক্রম সফল করতে ডিএনসিসির স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে দেওয়া বিশেষ নির্দেশনায় জানানো হয়, অঞ্চল-২, ৩ ও ৪ থেকে নির্ধারিত সংখ্যক সুপারভাইজার ও মশক কর্মী সকালে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও অঞ্চল-৫-এর আশপাশের কেন্দ্রীয় কার্যক্রমে অংশ নেবেন।   তিন অঞ্চলের অবশিষ্ট কর্মী এবং অঞ্চল-১, ৬, ৭, ৮ ও ৯-সহ অন্যান্য সব অঞ্চলের কর্মীরা নিজ নিজ এলাকায় বিশেষ অভিযান চালাবেন। এতে চিহ্নিত হটস্পট ও এডিসের প্রজননস্থলগুলোকে দেওয়া হবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সংশ্লিষ্ট সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে জনবল মোতায়েন ও অগ্রগতি সরাসরি তদারকি (মনিটর) করবেন।   ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ জানায়, আগামীকাল শুধু মশক নিধনই নয়-উৎস ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ ও যথাযথ লার্ভিসাইড প্রয়োগের মাধ্যমে ‘সোর্স রিডাকশন’ কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

এক বছরের আগে শিশুকে মধু কেন নয়? জানুন ঝুঁকির কারণ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতীকী ছবি

ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৭৯০

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ফাইল ছবি

হাম উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ জনের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
ডেঙ্গু ঠেকাতে নগরবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান মেয়র শাহাদাতের

ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সিটি করপোরেশনের মশক নিধন কার্যক্রমের ওপর নির্ভর না করে নগরবাসীকেও নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।   শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গার কমিশনার ঘাটা, দক্ষিণ পাড়া ও বাটারফ্লাই রোড এলাকায় পরিচ্ছন্নতা, মশক নিধন ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি এ আহ্বান জানান।   মেয়র বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ি ও আশপাশে কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। বিশেষ করে প্রতি তিন দিন পরপর জমে থাকা পানি ফেলে দিতে হবে। বাসাবাড়ির আঙিনা, ছাদ, ফুলের টব, বালতি, ড্রাম, এসির নিচের অংশ এবং নির্মাণাধীন ভবন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।   তিনি বলেন, বর্তমানে চট্টগ্রামে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে এডিস মশার প্রজননের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যেই জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভা জন্মাতে পারে। তাই পানি জমতে না দেওয়া এবং জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ করাই ডেঙ্গু প্রতিরোধের অন্যতম কার্যকর উপায়।   চসিকের মশক নিধন কার্যক্রম নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে তা জানানোর আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, কোথাও ওষুধ ছিটানোর ক্ষেত্রে গাফিলতি বা অনিয়ম দেখা গেলে নাগরিকরা বিষয়টি সিটি করপোরেশনকে জানাতে পারবেন। ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি অভিযোগ জানানোর সুযোগ রয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   মেয়র আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে যত্রতত্র প্লাস্টিক, পলিথিন, ডাবের খোসা বা পরিত্যক্ত পাত্র ফেলে রাখা উচিত নয়। এসব বস্তুতে বৃষ্টির পানি জমে এডিস মশার বংশবিস্তারের উপযোগী পরিবেশ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি বাড়ির ছাদ, আঙিনা ও আশপাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।   ডেঙ্গুতে প্রাণহানির ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে মেয়র বলেন, কোনো মানুষের মৃত্যু কাম্য নয়। ডেঙ্গুতে যাতে আর কোনো প্রাণহানি না ঘটে, সে লক্ষ্যে সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে।   তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নগরবাসীর পাশে রয়েছে এবং ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তবে শুধু সরকারি উদ্যোগে এ রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। প্রত্যেক নাগরিক নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখলে এবং পানি জমতে না দিলে ডেঙ্গুর প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।   এ সময় চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমাম হোসেন রানা, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
রোগীদের সঙ্গে কথা বলছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. সাখাওয়াত হোসেন। আজ শুক্রবার সকালে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

মুগদা হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, বাইরে পরীক্ষা করানোর অভিযোগ

সংগৃহীত ছবি

জ্বর হলে কি গোসল করা উচিত? জানুন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

হাম প্রতিরোধে ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন টিকাদান কর্মসূচির ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

পাথরকুচি পাতা একটি অত্যন্ত পরিচিত ঔষধি উদ্ভিদ।
পাথরকুচি পাতার ১১ অসাধারণ গুণ

পাথরকুচি পাতা একটি অত্যন্ত পরিচিত ঔষধি উদ্ভিদ, যা ঔষধি গুণাগুণের জন্য গ্রামীণ চিকিৎসা ও আয়ুর্বেদে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি বিশেষ করে কিডনির পাথর দূর করতে এবং মূত্রনালির নানা সমস্যা নিরাময়ে দারুণ কার্যকর বলে পরিচিত। চলুন জেনে নেওয়া যাক, পাথরকুচি পাতার প্রধান প্রধান উপকারিতা ও এর ব্যবহার—   ১. মূত্রনালি ও কিডনির সমস্যা দূরীকরণে কিডনির পাথর অপসারণ পাথরকুচি পাতার রস কিডনি ও গলব্লাডারের পাথর গলাতে সাহায্য করে থাকে। সাধারণত সকালে খালি পেটে ২-৩টি পাতা চিবিয়ে বা রস করে খাওয়া হয়। মূলত কিডনির পাথর অপসারণে পাথরকুচি পাতা সাহায্য করে থাকে।    ২. মূত্রনালির সংক্রমণ দূর করে এটি ডায়াবেটিস রোগ নিরাময়ে কাজ করে শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বের করে দেয়। এ ছাড়া  প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া ও ইনফেকশন কমাতে এ পাতার রস অত্যন্ত কার্যকরী।    ৩. পেটের সমস্যা ও হজম প্রক্রিয়া পেট ফাঁপা ও গ্যাস পেট ফুলে যাওয়া বা প্রস্রাব আটকে থাকার মতো সমস্যায় সামান্য চিনির সঙ্গে ১-২ চামচ পাথরকুচির পাতার রস হালকা গরম করে পানির সঙ্গে মিশিয়ে খেলে আরাম পাওয়া যায়।   ৪. ডায়রিয়া ও আমাশয় জন্ডিস বা লিভারের সমস্যাসহ রক্ত আমাশয় ও সাধারণ ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণে এ পাতার রস হালকা গরম পানির সঙ্গে খাওয়ার চল রয়েছে।    ৫. ঠাণ্ডা ও ত্বকের যত্ন পুরোনো সর্দি-কাশি পুরোনো সর্দি ও কাশির সমস্যায় পাতার রস হালকা গরম করে মধুর সঙ্গে মিশিয়ে দিনে দুবার খেলে উপকার পাওয়া যায়।   ৬. ক্ষত ও ফোঁড়া ত্বকের কোনো স্থানে ফোঁড়া হলে বা মাংসপেশি থেঁতলে গেলে পাথরকুচি পাতা বেটে সরাসরি প্রলেপ দিলে দ্রুত উপশম হয়।    ৭. ত্বকের যত্নে পাথরকুচি পাতায় প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে, যা ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। সঙ্গে সঙ্গে এর মধ্যে জ্বালা-পোড়া কমানোর ক্ষমতা থাকে। যারা ত্বক সম্পর্কে অনেক সচেতন, তারা পাথরকুচি পাতা বেটে ত্বকে লাগাতে পারেন। ব্রণ ও ফুস্কুড়ি জাতীয় সমস্যা দূর হয়ে যাবে।   ৮. পাইলস ও অর্শ রোগ পাথরকুচি পাতার রসের সঙ্গে গোলমরিচ মিশিয়ে পান করলে পাইলস ও অর্শ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।      ৯. জন্ডিস নিরাময়ে পাথরকুচি পাতা জন্ডিসের মহৌষধ। লিভারের যে কোনো সমস্যা থেকে রক্ষা করতে তাজা পাথরকুচি পাতা ও এর জুস অনেক উপকারী।   ১০. উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ আমরা তো জানি, পাথরকুচি পাতার গুণাগুণ। কিন্তু উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে এবং মূত্রথলির সমস্যা থেকে পাথরকুচি পাতা তুলনা হয় না। চিরতরে মুক্তি দিতে পারে এই পাতা মূত্রথলির সমস্যা থেকে।   ১১. শরীর জ্বালাপোড়া দুই চামচ পাথর কুচি পাতার রস আধাকাপ গরম পানিতে মিশিয়ে দু’বেলা সেবনে  শরীরের জ্বালাপোড়া দূর হয়।   কিছু জরুরি সতর্কতা প্রতিদিন ৪-৫টির বেশি পাথরকুচি পাতা খাওয়া উচিত নয়। এ ছাড়া গর্ভবতী নারী, স্তন্যদায়ী মা এবং শিশুদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এটি খাওয়ানো একদম নিষেধ। দীর্ঘমেয়াদি যে কোনো চিকিৎসায় ভেষজ উপাদান ব্যবহারের আগে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক। 

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
প্রতীকী ছবি

স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সহায়ক যে ১০ খাবার

ছবি: সংগৃহীত

ডেঙ্গুতে একদিনে ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৫৭১

ছবি: সংগৃহীত

মাতৃমৃত্যু কমানো ও নবজাতকের টিটেনাস নির্মূলে বাংলাদেশের প্রশংসা ডব্লিউএইচওর

0 Comments