পশ্চিমা দেশগুলো গ্রিনল্যান্ডে সামরিক উপস্থিতি বাড়ালে প্রয়োজনে পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ।
মস্কো থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।।
বুধবার রুশ আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ল্যাভরভ বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ডে যদি সামরিকীকরণ করা হয় এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক সামরিক সক্ষমতা তৈরি করা হয়, তাহলে আমরা পাল্টা ব্যবস্থা নেব। যার মধ্যে সামরিক-প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাও থাকবে।’
সম্প্রতি ইউরোপের কয়েকটি দেশ গ্রিনল্যান্ডে ছোট ছোট সেনা দল পাঠিয়েছে। এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বেশ কয়েকবার জানান, তিনি আর্কটিক দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করতে চান।
প্রায় ৫৭ হাজার মানুষের বসবাস গ্রিনল্যান্ডে। এটি ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। গত মাসে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি থেকে সরে আসেন।
তিনি জানান, ন্যাটোর প্রধান মার্ক রুটের সঙ্গে একটি ‘ফ্রেমওয়ার্ক’ চুক্তিতে পৌঁছেছেন, যার মাধ্যমে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বাড়ানো হবে।
এর আগে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ না নিলে রাশিয়া বা চীন তা নিয়ন্ত্রণে নিতে পারে।
ল্যাভরভ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডকে নিজেদের মধ্যে বিষয়টি মীমাংসা করতে হবে। ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের বাসিন্দাদের ‘দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক’ হিসেবে বিবেচনা করে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে গ্রিনল্যান্ড স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আলোচনাতেই তাদের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রশ্নে কোনো আপস হবে না।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ইরানে যুদ্ধের প্রতিবাদ করার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সেনা ও তাদের পরিবারের সদস্যসহ ৬০ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। সোমবার (২০ এপ্রিল) ওয়াশিংটন ডিসির কংগ্রেস ভবনের ক্যানন হাউস অফিস বিল্ডিংয়ে ইরান যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেন সাবেক সেনা সদস্যরা। এ বিষয়ে তুরস্কের ডেইলি সাবাহ পত্রিকা জানিয়েছে, সোমবার মার্কিন ক্যাপিটল প্রাঙ্গণে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর যুদ্ধের প্রতিবাদে অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সেনা সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। এ সময় কয়েকজন যুদ্ধাহতসহ যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সেনা ও তাদের পরিবারের সদস্যসহ ৬০ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। ক্যানন হাউস অফিস বিল্ডিংয়ের রোটান্ডায় সমবেত হওয়া এই প্রতিবাদকারীদের অনেকের গায়েই সামরিক পোশাক ছিল। তারা সেখানে "ইরানে যুদ্ধ বন্ধ করো" এবং "আমরা আরেকটি যুদ্ধের ব্যয়ভার বহন করতে পারবো না" লেখা ব্যানার প্রদর্শন করেন। এ সময় তারা অত্যন্ত শান্ত ও দৃঢ়ভাবে অবস্থান নেন। প্রতিবাদ চলাকালীন সাবেক সেনাসদস্যরা একটি পতাকা ভাঁজ করার অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। এর মাধ্যমে তারা এই যুদ্ধে নিহত এবং ভবিষ্যতে যুদ্ধ পুনরায় শুরু হলে প্রাণ হারাতে পারেন এমন মার্কিন সেনাদের প্রতি সম্মান ও শোক জ্ঞাপন করেন। এছাড়া, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর শুরু করা এই যুদ্ধে নিহত ইরানিদের স্মরণে অনেক প্রতিবাদকারীর হাতে লাল টিউলিপ ফুল দেখা যায়। গ্রেপ্তারের আগে 'সেন্টার অন কনসায়েন্স অ্যান্ড ওয়ার’-এর নির্বাহী পরিচালক মাইক প্রিসনার এক বিবৃতিতে বলেন, "এই যুদ্ধ ইতিমধ্যে চরম অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এবং এটি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি সংকটে পরিণত হয়েছে। ইতিমধ্যে ১০০-এর বেশি সেনাসদস্য সিও (বিবেকবান আপত্তিকারী) হিসেবে নথিপত্র জমা দিতে শুরু করেছেন। যদি আরও বেশি মানুষ সোচ্চার হন, তবে ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধ থেকে পিছিয়ে আসতে বাধ্য হবে।" উল্লেখ্য, 'সিও' বলতে সেইসব সেনাসদস্যদের বোঝানো হয় যারা নৈতিক কারণে কোনো যুদ্ধে অংশ নিতে অস্বীকার করেন। ক্যাপিটল পুলিশ অবাধ্যতার অভিযোগে অন্তত ৬০ জন আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তার করেছে বলে সংগঠনটি নিশ্চিত করেছে।
লেবাননে এক ফরাসি শান্তিরক্ষী নিহতের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। সোমবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, সাম্প্রতিক এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছে। ফ্রান্স এ ঘটনার জন্য হিজবুল্লাহকে দায়ী করেছে। জাতিসংঘ সদর দপ্তর থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। শনিবার ওই শান্তিরক্ষী হামলার শিকার হন। সে সময় তার ইউনিটটি লেবাননে জাতিসংঘ অন্তর্বর্তী বাহিনীর (ইউনিফিল) একটি ঘাঁটির দিকে যাচ্ছিল, যা হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের সংঘর্ষে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ওই হামলায় একজন ফরাসি শান্তিরক্ষী নিহত হন ও আরও তিন জন আহত হন। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ও ইউনিফিলের প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন।’
বিশ্বব্যাংক সাম্প্রতিক এক সিদ্ধান্তে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চল থেকে সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার অর্থনৈতিক অঞ্চলের (এমইএনএ) সঙ্গে যুক্ত করেছে। এ পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে ‘বৃহৎ মধ্যপ্রাচ্য’ বা এমইএনএএপি নামে নতুন একটি ভূ-অর্থনৈতিক বলয়ের সূচনা হয়েছে। যদিও ভৌগোলিক অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে, অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। এটি কার্যকর হয়েছে ২০২৫ সালের জুলাই থেকে। বিশ্বব্যাংকের মতে, পাকিস্তানের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরেই উপসাগরীয় অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত বিপুলসংখ্যক প্রবাসীর পাঠানো রেমিট্যান্স দেশটির অর্থনীতির বড় ভিত্তি। পাশাপাশি জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রেও মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা রয়েছে। এসব কারণে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সম্পর্ক দক্ষিণ এশিয়ার তুলনায় মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে বেশি ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এ পরিবর্তনের ফলে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক ভারসাম্যে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। পাকিস্তান আলাদা হয়ে যাওয়ায় এ অঞ্চলে ভারতের প্রভাব আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক সহযোগিতা কাঠামো, বিশেষ করে সার্ক, আরও দুর্বল হয়ে পড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে পাকিস্তানের জন্য এ পরিবর্তনে নতুন সুযোগও তৈরি হতে পারে। উপসাগরীয় অঞ্চলের বড় বিনিয়োগ, অর্থায়ন ও শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়তে পারে। অন্যদিকে ঝুঁকিও কম নয়। তেলের দামের ওঠানামা বা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতা সরাসরি পাকিস্তানের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। ২০২৪ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় বিশ্বব্যাংকের বরাদ্দ ছিল প্রায় ১৫.৯ বিলিয়ন ডলার, যেখানে এমইএনএ অঞ্চলে ছিল মাত্র ৪.৬ বিলিয়ন ডলার। ফলে নতুন কাঠামোয় পাকিস্তান তুলনামূলক কম সহায়তা পেতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে পাকিস্তান এ নতুন বলয়ে যোগ দেওয়ার পরই তাদের পাশে দাড়িয়েছে সৌদি আরব। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রাখা ৫ বিলিয়ন ডলারের আমানতের মেয়াদ বাড়ানো এবং অতিরিক্ত ৩ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ সহায়তা পাকিস্তানের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই পুনর্বিন্যাসে দক্ষিণ এশিয়ার জনসংখ্যার চিত্রেও পরিবর্তন এসেছে। আগে প্রায় ২০০ কোটির এই অঞ্চলের জনসংখ্যা এখন কমে প্রায় ১৭০ কোটিতে দাঁড়িয়েছে। এতে ভারতের অংশ বেড়ে ৮৬ শতাংশ হয়েছে, আর অন্যান্য দেশের অংশ সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বব্যাংকের এই সিদ্ধান্ত দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক সংহতি দুর্বল করতে পারে। পাশাপাশি অঞ্চলটিকে আরও দেশভিত্তিক কৌশলের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।