সারাদেশ

গ্যাস সংকটের শেষ কোথায়?

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

 এলএনজি কার্গো আসায় আপাতত গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও দেশের জ্বালানি সংকট একেবারে স্বাভাবিক হচ্ছে না। তৃতীয় এলএনজি টার্মিনাল চালু না হওয়া পর্যন্ত গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে আসা কঠিন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

সরকারের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, নতুন একটি টার্মিনাল নির্মাণ ও চালু করতে অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে। ফলে ততদিন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়েই চলতে হবে জ্বালানি খাতকে। স্থায়ী সমাধানে নতুন টার্মিনাল নির্মাণের পাশাপাশি গ্যাস অনুসন্ধানেও জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

অগ্নিকাণ্ডের পর প্রকট সংকট

 

গত ২১ জুলাই মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর দেশে জ্বালানি সংকট প্রকট আকার ধারণ করে। একদিকে গ্যাসের সংকট, অন্যদিকে গ্যাসের অভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোও ঠিকমতো চলতে পারেনি। এতে এ খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়।

 

পরে টার্মিনালটি মেরামত করে চালু করা হলেও এলএনজি কার্গো না থাকায় আবার গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে দেশের দৈনিক গ্যাস সরবরাহে বড় ঘাটতি তৈরি হয়। এর প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প ও সার্বিক জ্বালানি ব্যবস্থাপনায়। সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি তুলে ধরে জনগণের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করা হয়। খোদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও দুঃখ প্রকাশ করে বার্তা দেন।

 

এ ঘটনার এক মাস পেরিয়ে গেলেও সংকট এখনও পুরোপুরি কাটেনি। এমনকি আজ রবিবার (২৩ আগস্ট) পেট্রোবাংলার সন্ধ্যা ৬টার হিসাবে, মোট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে ২ হাজার ৩৮২ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে ১ হাজার ৬২৪ এবং এলএনজি থেকে সরবরাহ আরও বেড়ে ৭৫৮ মিলিয়ন ঘনফুট পাওয়া গেছে।

 

দৈনিক ঘাটতি ১ হাজার ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট

 

পেট্রোবাংলার হিসাবে, এখন দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়েও সর্বোচ্চ ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। এর মধ্যে এলএনজি থেকে ১ হাজার এবং বাকি ১ হাজার ৬০০ মিলিয়ন আসে দেশীয় গ্যাস থেকে। অর্থাৎ দৈনিক ঘাটতির পরিমাণ ১ হাজার ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

 

এই পরিস্থিতিতে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন আরও কমে গেলে সংকট বাড়তে থাকবে। আবার সরকার মহেশখালীতে একাধিক টার্মিনাল নির্মাণ করবে, সেই ব্যবস্থাও নেই। মহেশখালী থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত যে পাইপলাইন রয়েছে, তা দিয়ে আর ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি গ্যাস আনা সম্ভব নয়। অর্থাৎ মহেশখালীতে তৃতীয়টির পর চতুর্থ টার্মিনাল নির্মাণ করতে হলে একই সঙ্গে নতুন পাইপলাইন নির্মাণেরও উদ্যোগ নিতে হবে। যা ব্যয় ও খরচসাপেক্ষ বলে মনে করা হয়।

 

সরকারের বক্তব্য

 

গত ১৬ আগস্ট এক অনুষ্ঠানে দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট দ্রুত সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ছয় মাস কিংবা এক বছরের মধ্যে এ সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে অন্তত ২ বছর সময় লাগতে পারে।

 

তিনি বলেন, ‘গ্যাস ও বিদ্যুৎ নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। ৬ মাস কিংবা ১ বছরে এর সমাধান হবে না। ন্যূনতম দুই বছর লাগবে। একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল তৈরি করতেই প্রায় দেড় থেকে দুই বছর সময় লাগতে পারে। ফলে এর আগে গ্যাস সংকটের স্থায়ী সমাধান করা কঠিন।’

 

এর আগে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু গত ১৩ আগস্ট এক অনুষ্ঠানে বলেন, আগামী ২০২৯ সালের মধ্যে দেশে আরও নতুন এফএসআরইউ স্থাপন এবং অভ্যন্তরীণ গ্যাস অনুসন্ধান বাড়াতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। বর্তমান সংকট সাময়িক এবং সরকার মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধকালীন তৎপরতার মতো পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

 

তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছর অনুসন্ধান না করে শুধু আমদানির ওপর ভিত্তি করে দেশটাকে একটি জায়গায় নিয়ে আসা হয়েছে। আবার আমদানির জন্য হলেও যদি ইনফ্রাস্ট্রাকচারটা তৈরি ঠিকমতো করতো, দুটো এফএসআরইউর জায়গায় যদি চারটি এফএসআরইউ বসাতো, তাহলে আজকে এই সমস্যাটা দেখতে হতো না। আমেরিকা থেকে একটি বড় দল বিনিয়োগের জন্য আসছে, তারা এফএসআরইউতে বিনিয়োগ করতে চায়। তাদের আগ্রহের বিষয়ে দ্রুত চিঠি দিতে অনুরোধ করা হয়েছে।

 

নতুন টার্মিনালে গ্যাস পেতে দুই বছর

 

জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানায়, সরকার মহেশখালীতে নতুন একটি এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। চীনা কোম্পানি সিএনইসিকে কাজ দেওয়ার বিষয়টি অনুমোদন হলেও এখনও চুক্তি সই হয়নি। চীনা কোম্পানিটি চুক্তি সইয়ের পর ২২ মাসের মধ্যে টার্মিনাল নির্মাণ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ফলে দ্রুত চুক্তি হলেও নতুন টার্মিনাল থেকে গ্যাস পেতে প্রায় দুই বছর বা তার চেয়ে বেশি সময় প্রয়োজন হতে পারে। তবে এর মধ্যে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমে গেলে সংকট বাড়তে পারে।

 

দেশীয় গ্যাসেও তাৎক্ষণিক সমাধান নেই

 

নিজস্ব গ্যাস উৎপাদন বাড়িয়েও তাৎক্ষণিক সংকট সমাধানের সুযোগ নেই। স্থলভাগে বড় কোনও গ্যাস খনি পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। এমনকি যেসব খনি থেকে গ্যাস তোলা হচ্ছে, প্রায় প্রতিদিনই সেখানকার উৎপাদনের পরিমাণ কমছে। দেশের সবচেয়ে বেশি গ্যাস উৎপাদনকারী বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন এখন গত তিন বছরের তুলনায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট কমে গেছে।

 

সূত্র জানায়, দেশের দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ২ হাজার ৭৫৪ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে ২০-২১ আগস্টের হিসাবে এসব গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস উৎপাদন হয়েছে ১ হাজার ৬২৯ দশমিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ মোট উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ৫৯ শতাংশ গ্যাস উত্তোলন করা হয়েছে।

 

এর মধ্যে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) গ্যাসক্ষেত্রগুলোর দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ৮৫১ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ৪৭৪ দশমিক ১ মিলিয়ন ঘনফুট। সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের (এসজিএফএল) সক্ষমতা ১৪৩ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও উৎপাদন হয়েছে ১৩৮ দশমিক ৭ মিলিয়ন ঘনফুট। আর বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) গ্যাসক্ষেত্রগুলোর ১৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট সক্ষমতার বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১১০ দশমিক ৩ মিলিয়ন ঘনফুট।

 

আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর পরিচালিত জালালাবাদ, মৌলভীবাজার, বিবিয়ানা ও বাঙ্গুরা গ্যাসক্ষেত্র মিলিয়ে এসব ক্ষেত্রের দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ৬১৫ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ৯০৬ দশমিক ৭ মিলিয়ন ঘনফুট।

 

শুধু টার্মিনাল নয়, দরকার গ্যাস অনুসন্ধানও

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল টার্মিনাল বানালেই হবে না। গ্যাস কেনার জন্য পর্যাপ্ত অর্থও থাকতে হবে। আমদানি নির্ভরতা যত বাড়বে, জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় তত বাড়বে। সে জন্য বিকল্প চিন্তাও করতে হবে। সরকার অবশ্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিস্তারে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। তবে সেটিও সময় ও ব্যয়সাপেক্ষ বিষয়।

 

এর বাইরে দেশীয় উৎপাদনও বাড়াতে হবে। যেসব বিদ্যমান খনি রয়েছে, সেখানকার উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি ডিপ ড্রিলিং, নতুন খনি খোঁজা এবং সাগরে অনুসন্ধান জোরদার করতে হবে। যদি সাগরে গ্যাস অনুসন্ধান শুরু হয়, তাহলে ১০ বছরের আগে গ্যাস গ্রিডে আনার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

 

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম শামসুল আলম মনে করেন, গ্যাস সংকট কাটাতে নেওয়া বড় উদ্যোগগুলোর সুফল পেতে দুই থেকে পাঁচ, এমনকি সাত বছরও সময় লাগতে পারে। তবে প্রতি বছর পাঁচ-ছয়টি করে গ্যাসকূপ অনুসন্ধান করা গেলে এবং যদি গ্যাস পাওয়া যায়, তাহলে পাঁচ বছরের মধ্যে গ্যাসের অভাব অনেকটাই দূর করা সম্ভব।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
বিজয়নগরে পাঁচ হাজার পিস ইয়াবাসহ পাঁচ মাদক কারবারি গ্রেফতার।
বিজয়নগরে অটোরিকশাসহ পাঁচ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে পাঁচ হাজার পিস ইয়াবাসহ পাঁচ মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।     সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) উপজেলার হরষপুর ইউনিয়নের দেওয়ান বাজার এলাকা থেকে একটি অটোরিকশায় তল্লাশি চালিয়ে ইয়াবা জব্দ করা হয়। এ সময় ইয়াবা বহনকারী অটোরিকশাটিও জব্দ করা হয়েছে।       গ্রেফতার মাদক কারবারিরা হলেন, উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের মো. আজগর আলীর ছেলে মো. কবির হোসেন, একই গ্রামের মো. তাজুল ইসলামের ছেলে জাহিদুল ইসলাম, কাজী আবুল ফায়েজের ছেলে হান্নান কাজী (রুবেল), মৃত সেলিম মিয়ার ছেলে আব্দুল্লাহ এবং মৃত নুরুল হক ভূঁইয়ার ছেলে শহিদ ভূঁইয়া।       বিজয়নগর থানার ওসি আহসান উল্লাহ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অটোরিকশাটি আটক করে তল্লাশি চালিয়ে পাঁচ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে। এ সময় পাঁচ মাদক কারবারি যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য আইনে মামলা রুজু করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে মালবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত, বন্ধ ট্রেন চলাচল

ছবি: সংগৃহীত

ভারত থেকে এলো সাড়ে ৩ লাখ কেজি ইলিশ

বিয়ের অনুষ্ঠানের কথা বলে ২ নৃত্যশিল্পীকে ধর্ষণের অভিযোগ: আসকের ক্ষোভ

বেনাপোল দিয়ে ভারত থেকে সাড়ে ৩ লাখ কেজি ইলিশ আমদানি

যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে গত দুই মাসে বিপুল পরিমাণে ইলিশ মাছ আমদানি করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে এই স্থলবন্দর দিয়ে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৬ কেজি ইলিশ বাংলাদেশে এসেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বেনাপোল ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন অফিসার সজীব সাহা।   ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ দুই মাসে মোট ২২টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এসব মাছ আমদানি করেছেন। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো, বেনাপোলের মেসার্স সততা ফিস, মেসার্স রাব্বি এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স সততা ফিস ফিড, মেসার্স ফেমাস ট্রেডার্স, মেসার্স রিয়ান্স হাব, যশোরের মেসার্স এইচ এম আর ইন্টারন্যাশনাল, মেসার্স এন. কে ইন্টারন্যাশনাল, মেসার্স সুরাইয়া ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, মেসার্স আরকিন ইন্টারন্যাশনাল, বাগআঁচড়ার মেসার্স জনতা ফিস, ঢাকার মেসার্স স্বর্ণালী এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স শরীফ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, মেসার্স রুপা এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স মারিয়াম এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স সাজ্জাদ এন্টারপ্রাইজ, যাত্রাবাড়ি, খুলনার মেসার্স বিশ্বাস ইন্টারন্যাশনাল, সাতক্ষীরার মেসার্স জান্নাত এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স আশিক এন্টারপ্রাইজ ও পাবনার মেসার্স নোমান এন্টারপ্রাইজসহ ২২টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান।   বেনাপোল স্থলবন্দর ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন কার্যালয়ের পরিদর্শক আশওয়াদুল আলম বলেন, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেই বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৬ কেজি ইলিশ আমদানি করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জুলাই মাসে ২৯ হাজার ৪৪০ কেজি ইলিশ মাছ বাংলাদেশে এসেছে। এছাড়া আগস্ট মাসে ১৯টি আমদানি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আরও ৩ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৬ কেজি ইলিশ আমদানি করা হয়েছে। আমদানি করা এসব ইলিশের মূল্য দেখানো হয়েছে ৬ কোটি ৯২ লাখ ৯৪ হাজার ৫১০ টাকা। এরমধ্যে জুলাইয়ে আমদানি করা ইলিশের মূল্য ছিল ৩৫ লাখ ৪৮ হাজার ৭৯৬ টাকা এবং আগস্টে ৬ কোটি ৫৭ লাখ ৪৫ হাজার ৭১৪ টাকা।   খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ইলিশ আমদানি হওয়ায় বেনাপোল, শার্শা, বাগআঁচড়া, নাভারণ, যশোর বড় বাজারসহ জেলার বিভিন্ন মাছের বাজারে ইলিশের সরবরাহ বেড়েছে। তবে ব্যবসায়ীদের কাছে এসব মাছ ‌‌‘মিয়ানমারের ইলিশ’ নামে পরিচিত। ক্রেতাদের অভিযোগ, দেশি ইলিশ মনে করে এসব মাছ কিনে প্রতারিত হচ্ছেন তারা। স্বাদ ও গন্ধে দেশি ইলিশের সঙ্গে বিস্তর পার্থক্য থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতাকে তা জানানো হচ্ছে না।   যশোরের আড়তদারদের ভাষ্য, মিয়ানমারের এসব মাছ ভারত হয়ে বেনাপোল বন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশ করছে। তবে বেনাপোল স্থলবন্দর ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, বেনাপোল দিয়ে আসা ইলিশ ভারতীয় ইলিশ। মিয়ানমার থেকে যে ইলিশ আসছে সেগুলো চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে প্রবেশ করে। তবে বাজারে মিয়ানমারের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে বলে তারা নিশ্চিত করেছেন।   এদিকে একটি সূত্রের দাবি, অনেক ইলিশ অবৈধভাবেও দেশে এসেছে। গত ২২ জুলাই বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে সাদা মাছের ঘোষণা দিয়ে আমদানি করা ১২ কার্টন (প্রায় ৩৬০ কেজি) ভারতীয় ইলিশ মাছ। যা জব্দ করে বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।   যশোর বড় বাজারে ইলিশ কিনতে আসা লোন অফিসপাড়ার বাসিন্দা সাজেদুর রহমান বলেন, দেশি ইলিশ মনে করেই তিনি একটি মাছ কিনেছেন। পরে খাওয়ার পর বুঝতে পারেন, মাছটির স্বাদ ও গন্ধ দেশি ইলিশের মতো নয়। তার অভিযোগ, দেখতে প্রায় একই হওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের পক্ষে বিদেশি ও দেশি ইলিশের পার্থক্য বোঝা কঠিন।   বাজারের ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১ কেজি ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম ওজনের দেশি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি প্রায় ৩ হাজার ৩০০ থেকে ৩ হাজার ৪০০ টাকা দরে। বিপরীতে ১ কেজি ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম ওজনের কথিত মিয়ানমারের ইলিশের দাম প্রায় ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজি। অর্থাৎ আকারে বড় হলেও বিদেশি ইলিশের দাম দেশি ইলিশের তুলনায় অনেক কম। ফলে স্বাভাবিকভাবেই যশোরের বাজারে ‘সস্তার’ ক্রেতাদের একটি বড় অংশ কম দামের মাছের দিকে ঝুঁকছেন।   সরেজমিনে দেখা গেছে, যশোর বড় বাজারের পদ্মা ফিস, গৌরব ফিস, মেসার্স তিতাস ফিস ও মেসার্স জামান ফিসসহ কয়েকটি আড়তে এসব মাছ ওঠানো হচ্ছে। অন্যদিকে বেনাপোল স্থলবন্দরের আমদানি তথ্য বলছে, আগস্ট মাসেই ইলিশ আমদানির পরিমাণ জুলাইয়ের তুলনায় প্রায় ১১ গুণ বেড়েছে। জুলাইয়ে যেখানে ২৯ হাজার ৪৪০ কেজি ইলিশ আমদানি হয়েছিল, আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৬ কেজিতে। এই বিপুল পরিমাণ মাছের একটি অংশ যশোরের বাজারে আসার ফলে দেশি ইলিশের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।   বড় বাজারের মাছ ব্যবসায়ী মেসার্স শেখ পিয়ারু ফিসের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ পিয়ারু জানান, এসব মাছ বার্মা (মিয়ানমার) থেকে ভারত হয়ে আসছে বলে তিনি জানেন। দেশি ইলিশ ব্যবসায়ী সত্যপদ, এরশাদ ও মো. আলমগীরসহ কয়েকজন বলেন, কম দামে বড় আকারের এসব বিদেশি ইলিশ বাজারে আসায় দেশি ইলিশের বিক্রি কমে গেছে। ক্রেতারা দামের পার্থক্যের কারণে বিদেশি মাছ কিনছেন। এতে প্রকৃত দেশি ইলিশ ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।   ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বিদেশি ইলিশকে দেশি ইলিশের নামে বিক্রি করা হলে একই সঙ্গে দুটি পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতারণার শিকার হচ্ছেন ক্রেতারা এবং বাজার হারাচ্ছেন দেশি ইলিশের ব্যবসায়ীরা।   যশোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুল মামুন বলেন, আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করি। তবে ব্যবসায়ীরা আমদানি করা মাছ দেশি বলে বিক্রি করলে আমাদের আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারি না। কারণ বিষয়টি মৎস্য আইনে কাভার করে না।   জানতে চাইলে যশোর জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. সেলিমুজ্জামান বলেন, আমদানি করা ইলিশ অবশ্যই ঘোষণা দিয়ে বিক্রি করতে হবে। এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

অপেক্ষার ১৫২ দিন পর বাবার কবরের পাশে শায়িত আফগান নাগরিক হাসমত

সংকট মোকাবিলায় সরকার অদক্ষতার পরিচয় দিয়েছে: আযাদ

দেশে সারের সংকট নেই, বিতরণে মনিটরিং জোরদারের নির্দেশ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ ২৬ বছর পর আদালতে নুর মুহাম্মদ, আত্মসমর্পণের নেপথ্যে যে কারণ

বয়স ১০৪ বছর। শরীর ভেঙে পড়েছে, স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলাও করতে পারেন না। নিয়মিত ওষুধ ও চিকিৎসা লাগে। জীবনের এই শেষ প্রান্তে এসে নুর মুহাম্মদের চাওয়া ছিল খুব সন্তানদের কাছে ফিরে তাদের সঙ্গে বাকি দিনগুলো কাটানো। সেই আশাতেই ২৬ বছর আত্মগোপনে থাকার পর আদালতে আত্মসমর্পণ করেছিলেন তিনি।     পরিবারের আশা ছিল, বয়স ও অসুস্থতা বিবেচনায় জামিন পাবেন। তাহলে জীবনের শেষ কটা দিন সন্তানদের সঙ্গে কাটাতে পারবেন। কিন্তু সেই আশা পূরণ হয়নি। ২৬ বছর আগের ডাকাতি ও জোড়া খুনের মামলায় আত্মসমর্পণের পর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।   গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক ফারজানা ইয়াসমিনের আদালতে আত্মসমর্পণ করেন নুর মুহাম্মদ। আপিলের শর্তে জামিনের আবেদন করেছিলেন তিনি। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।   নুর মুহাম্মদ কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার রশিদাবাদ ইউনিয়নের বেরুয়াইল গ্রামের বাসিন্দা।   নুর মুহাম্মদের আইনজীবী ফয়সাল আহমেদ বলেন, তার মক্কেলের বয়স ১০৪ বছর। তিনি স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারেন না এবং বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছেন। নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ প্রয়োজন। বয়স ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় মানবিক কারণে তাকে জামিন দেওয়ার আবেদন করা হয়েছিল।   আদালতের বেঞ্চ সহকারী মিজানুর রহমান জানান, অসুস্থতার কারণে নিজ খরচে পরিবহনের মাধ্যমে কারাগারে যাওয়ার আবেদনও করেছিলেন নুর মুহাম্মদ। আদালত সেই আবেদনও নামঞ্জুর করেন।   নুর মুহাম্মদের ছেলে আবদুল করিম বলেন, বাবা একসময় কিশোরগঞ্জ শহরের বড়বাজার এলাকায় কাপড়ের ব্যবসা করতেন। পরে সন্তানদের নিয়ে নরসিংদীতে চলে যান। সেখানে ছেলেদের সঙ্গে জুট মিলে কাজ করতেন। কিন্তু মামলায় জড়িয়ে পড়ার পর স্বাভাবিক জীবন আর ফিরে পাননি।   তিনি বলেন, মামলায় সাজা হওয়ার বিষয়টি প্রথমদিকে বাবা জানতেন না। পরে জানতে পেরে ভয় পেয়ে আত্মগোপনে চলে যান। দীর্ঘদিন পরিবারের কাছ থেকেও দূরে থাকতে হয়েছে তাকে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই আত্মগোপনের জীবন আরও কঠিন হয়ে পড়ে। স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারেন না, নিয়মিত ওষুধ লাগে। যে বাসায় এতদিন লুকিয়ে ছিলেন, সম্প্রতি সেখানেও থাকা তার জন্য কষ্টকর হয়ে ওঠে। তখনই পরিবারের সবাই মিলে তাকে আদালতে আত্মসমর্পণ করানোর সিদ্ধান্ত নেন।   করিম বলেন, বাবা আর কয়দিন বাঁচবে। আমাদের সঙ্গে থাকলেও ভয় ছিল, কেউ ষড়যন্ত্র করে তাকে ধরিয়ে দিতে পারে। এ জন্য তিনি আমাদের সঙ্গেও থাকতেন না। এখন আমরা সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। জামিন পেলে জীবনের বাকি সময়টা আমাদের সঙ্গে কাটাবেন—এটাই চেয়েছিলাম।’   করিমের দাবি, তার বাবা ডাকাতি ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। পারিবারিক বিরোধের জেরে ষড়যন্ত্র করে তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছিল। তার এক ফুফাতো বোনকে বাজিতপুরের পিরিজপুর এলাকার এক ব্যক্তি জোর করে বিয়ে করেছিলেন। পরে নুর মুহাম্মদ তাকে সেখান থেকে এনে অন্যত্র বিয়ে দেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ ওই ব্যক্তি পরে বড়বাজারের ডাকাতির ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়ে রিমান্ডে নুর মুহাম্মদের নাম জড়িয়ে দেন। তার বাবাকে কয়েক দফা রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছিল। পরে স্বীকার করলে কিছু হবে না—এমন আশ্বাসে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।   নুর মুহাম্মদের ছোট ভাই জাল মাহমুদও (৮৮) ভাইকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তিনি বলেন, আমার ভাই নির্দোষ। ষড়যন্ত্র করে তাকে ওই মামলায় জড়ানো হয়েছে। এখন তার বয়স ১০৪ বছর। শেষ বয়সে অন্তত সন্তানদের কাছে থাকার সুযোগ দেওয়া হোক।   জাল মাহমুদ জানান, ৭০-৮০ বছর আগে তার ভাই নুর মোহাম্মদ তাদের বাড়ি ছাড়েন। এরপর তিনি শহরের কানিকাটা রেললাইনের পাশে শশুরবাড়ি এলাকায় জায়গা কিনে বসবাস শুরু করেন। তার ভাইয়ের সাত ছেলে ও তিন মেয়ে সন্তান রয়েছে।   স্থানীয় বাসিন্দা চাঁন মিয়া ও আক্কাস মিয়াও নুর মুহাম্মদকে ভালো মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। পরিবারের দাবি, ডাকাতির সময় নুর মুহাম্মদ নরসিংদীতে ছিলেন। তবে মামলার নথিতে নুর মুহাম্মদের বিরুদ্ধে দেওয়া সাজা এবং তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির তথ্য রয়েছে।   যে মামলায় ২৬ বছর পর কারাগারে মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০০ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাতে কিশোরগঞ্জের বড়বাজার এলাকার ব্যবসায়ী মো. ফেরদৌসের দোকানে ডাকাতি হয়। এ সময় মোশাররফ হোসেন ও আবদুল কবির নিহত হন। ডাকাতেরা দোকানের সিন্দুক থেকে ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ১১০ ভরি স্বর্ণ লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ফেরদৌস কিশোরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০০২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৪ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। পরে মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়।   ২০০৩ সালের ১৬ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল নুর মোহাম্মদসহ আটজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। বিচার চলাকালে হারিছ মিয়া নামে এক আসামি মারা যান। পরে ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে ২০০৭ সালের ১৯ আগস্ট উচ্চ আদালত আলমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন এবং অন্য আসামিদের সাজা কমিয়ে দেন। ওই রায়ে নুর মুহাম্মদের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।    মামলার নথি অনুযায়ী, রায় ঘোষণার সময়  নুর মুহাম্মদ পলাতক ছিলেন। এর আগে জামিন নিয়ে তিনি আত্মগোপনে চলে গিয়েছিলেন।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ফেনীতে পুলিশের অভিযানে ২১ পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে কাভার্ড ভ্যান-মাইক্রোবাস সংঘর্ষ, নিহত ২

ছবি: সংগৃহীত

ফটিকছড়িতে ডেভিড ইমনের সহযোগী শুটার হারুন গ্রেফতার

0 Comments