জাতীয়

ঘোড়াঘাটের সুরা মসজিদটির উপযুক্ত সংস্কার প্রয়োজন : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬

পৌরাণিক কাহিনী আর নানা জনশ্রুতি নিয়ে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলার ঐতিহাসিক নিদর্শন সুরা মসজিদ। তবে দর্শনার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় এই মসজিদটির দ্রুত ও উপযুক্ত সংস্কার প্রয়োজন। 

মন্ত্রী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা ও মুসল্লিরা মনে করেন, প্রাচীন স্থাপত্যশৈলীর ঐতিহাসিক এই মসজিদটির দ্রুত ও উপযুক্ত সংস্কার প্রয়োজন। তারা মসজিদটির সংস্কারের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। 

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন এমপি নির্বাচন পূর্ববর্তী প্রচারণার সময় এই মসজিদটি পরিদর্শন করেন। সেসময় তিনি এই মসজিদের অবকাঠামো উন্নয়নসহ ঐতিহাসিক নিদর্শনটি মনোরম পরিবেশ আকারে সংস্কার করার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। 

ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, সরকারের কাছে আমাদের আবেদন এই ঐতিহাসিক মসজিদটির মূল অবকাঠামো ঠিক রেখে যুগ উপযোগী সংস্কার করা হোক। এতে ঐতিহাসিক নিদর্শনটি রক্ষা পাবে। মসজিদ সংরক্ষণের জন্য মসজিদ এলাকায় একটি বাউন্ডারি ওয়াল ও বড় গেট করে এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান তিনি। এছাড়াও পবিত্র রমজান মাসে এই মসজিদের মুসল্লিদের জন্য ইফতার ও তারাবির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। 

৫০০ বছরের প্রাচীন স্থাপত্যের সাক্ষী এই সুরা মসজিদ। দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদ থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে ঘোড়াঘাট-হিলি স্থলবন্দরে পাকা রাস্তার পাশে চোরগাছা মৌজায় অবস্থিত। দৃষ্টিনন্দন এ মসজিদের নির্মাণ কারুকার্য এক নজর দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন ছুটি আসেন পর্যটকরা।

সুরা মসজিদের নির্মাণ নিয়ে বহু জনশ্রুতি প্রচলিত আছে। অনেকেই এই মসজিদকে সৌর মসজিদ বলে আখ্যায়িত করে থাকেন। আবার কেউ বলে সূর মসজিদ। আবার অনেকের কাছে সম্রাট শাহ সুজা মসজিদ নামেও পরিচিত।

স্থানীয়দের মতে ‘সূর’ শব্দের অর্থ ‘অপদেবতা’ বা ‘জিন’। জনশ্রুতি রয়েছে, শত শত বছর আগে জিনেরা এক রাতে মসজিদটি নির্মাণ করেন। আজও অনেকেই এই জনশ্রুতিতে বিশ্বাস করেন।

মসজিদটির কারুকার্য ও নির্মাণশৈলী দেখে কেউ কেউ ধারণা করেন ১৬ শতকের সুলতানি আমলে হোসেন শাহীর শাসন আমলে এটি নির্মাণ করা হয়। এই মসজিদকে আসমানি বা গায়েবি অর্থাৎ লোক চক্ষুর আড়ালে তৈরি হওয়া মসজিদ বলেও দাবি করা হয়। 

স্থানীয় প্রবীণদের মতে, মোগল সম্রাটের আমলে বাংলার সুবেদার শাহ সুজা এই মসজিদ নির্মাণ করেন। তাই তারা একে শাহ সুজা মসজিদ নামে ডাকেন। 

তবে এর নির্মাণ ও গঠনশৈলী দেখে ধারণা করা হয়, শাহ সুজার ক্ষমতা গ্রহণের অনেক আগেই এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে। যেহেতু এই মসজিদটিতে কোনো শিলালিপি নেই, তাই গঠনশৈলীর উপর ভিত্তি করে সম্ভাব্য নির্মাণকাল বের করা হয়েছে। স্থাপত্যশৈলী ও নির্মাণ কালের কলা কৌশল পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ধারণা করা হয়।

বড় মসজিদটির বাইরের দিকের আয়তন উত্তর-দক্ষিণে ৪০ ফুট এবং পূর্ব-পশ্চিমে ২৬ ফুট। ৪ ফুট উঁচু মজবুত প্লাটফর্মের উপর মসজিদের অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে।

এর প্রধান কক্ষের আয়তন ভেতরে ১৬ দশমিক ১৬ ফুট। প্রধান কক্ষের সাথে যুক্ত আছে ৬ ফুট প্রশস্ত রাস্তা। পুরো মসজিদের দেয়ালে অসংখ্য খোপ কাটা মৌলক টেরাকোটার অলংকরণ। যা এর ইমারতের বাহ্যিক সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে।

সুলতানি আমলের বিরল স্থাপত্য সুরা মসজিদ প্রধানত দুটি ভাগে বিভক্ত। নামাজের কক্ষ ও বারান্দা। মসজিদের উপরে বর্গাকার ও গম্বুজ বিশিষ্ট নামাজ কক্ষ এবং ছোট ৩ টি গম্বুজ বিশিষ্ট একটি বারান্দা রয়েছে। নামাজের কক্ষটি দৈর্ঘ্যে ও প্রস্থে ৭ দশমিক ৮৪ মিটার। বারান্দার মাপ ৪ দশমিক ৮৪ মিটার লম্বা ও ২ দশমিক ১২ মিটার চওড়া।

চুন সুরকির সাহায্যে ছোট আকৃতির ইট দ্বারা নির্মিত মসজিদের দেওয়াল ১ দশমিক ৮০ মিটার প্রশস্ত। নামাজ কক্ষের ৪ কোণে ৪টি ও বারান্দায় দুটি কালো পাথরের মিনার রয়েছে। মসজিদে প্রবেশের জন্য পূর্ব দিকে ৩ টি ও উত্তর দক্ষিণ দিকে একটি খিলানকৃত প্রবেশ পথ আছে। মসজিদের ভিতরে কেবলা দেয়ালে তিনটি সুন্দরভাবে অলংকৃত পাথরের তৈরি অবতল মেহরাব রয়েছে। মসজিদে ইটের সাথে পাথরের ব্যবহার, দেওয়ালের মাঝে পাথরের স্তম্ভ ও ইটের গাঁথুনি চোখে পরার মত। এছাড়া প্রত্যেক দরজার নিচে চৌকাঠ রয়েছে। সেগুলো পাথরের তৈরি। পূর্ব পাশে মসজিদে প্রবেশের সিঁড়ি রয়েছে। 

এখানকার কালো বেলে পাথর বাংলার পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত রাজমহল থেকে আনা হয়েছে বলে মনে করা হয়। প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী মসজিদটি দেখার জন্য আসেন।

অনেকে আসেন এখানে মানত করা গরু খাসি কুরবানি দিয়ে রান্না করে আশ-পাশের লোকজনকে খাওয়ানোর জন্য।

স্থানীয়দের মতে, প্রয়োজনীয় সংস্কার করে মসজিদটি সংরক্ষণ করা হলে এর সৌন্দর্য যেমন অটুট থাকবে, দর্শনার্থীর সংখ্যাও বাড়বে। 

মসজিদের ইমাম মওলানা মো. ইনামুল হক বলেন, আমি এই মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়াই। দিনাজপুর জেলার প্রাচীন এ স্থাপত্যের সাক্ষী এ মসজিদটি প্রায় পাঁচশত বছর আগে নির্মিত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা মসজিদটি দেখার জন্য আসেন। দর্শনার্থীরা কেউ নামাজের জন্য আবার কেউ মানত শোধ করার জন্য আসেন।


০০০০০০০০০০০

শোষণমুক্ত দেশ গড়তে সবার সহযোগিতা কামনা জয়নুল আবদিন ফারুকের

নোয়াখালী, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শোষণমুক্ত সমাজ ও দেশ গড়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রশাসনসহ সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সাবেক বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক। এ সময় তিনি অতীতের সকল ভেদাভেদ ভুলে পুরো উদ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশ মতো কাজ করার অঙ্গীকার করেন।  

আজ মঙ্গলবার উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সেনবাগ পৌরসভা ও উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন। 

নোয়াখালী-২ (সেনবাগ-সোনাইমুড়ী আংশিক) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, আইনশৃঙ্খলা, মাদক, শিক্ষা, চিকিৎসা, স্বাস্থ্য বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন ও ইমাম মোয়াজ্জেমদের ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা শুরু হয়ে গেছে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, ঈদের আগে বিজিএফ কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের আছে।

উপজেলা পরিষদের সভা কক্ষে সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) নুর পেয়ারা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জয়নুল আবদিন ফারুক এ সব কথা বলেন। 

এ সময় সেনবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল বাশার, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রাদিয়া আফরোজ, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. বোরহান উদ্দিন, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা খুরশিদ ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেজাউল করিম, এলজিইডি প্রকৌশলী সাবিনা ইয়ামিন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আমিনুল হক, সেনবাগ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি ম্যানেজার মিনারুল ইসলামসহ বিভাগীয় কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণ উপস্থিত ছিলেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অস্ত্র ও হত্যা মামলায় ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ডেভিড ইমন ১০ দিনের রিমান্ডে

  অস্ত্র ও হত্যা মামলায় চট্টগ্রামের তালিকাভুক্ত ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।   রোববার (২ আগস্ট) চট্টগ্রামের একটি আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।   হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ জানান, হত্যা ও অস্ত্র মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে প্রতিটি মামলায় সাত দিন করে মোট ১৪ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। শুনানি শেষে আদালত দুই মামলায় মোট ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।   ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময়গত ২৯ জুলাই যশোরের ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে ডেভিড ইমনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।   চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানায়, গত ১৩ জুন পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডেভিড ইমনের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে গ্রেপ্তার আসামিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজি ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।   পুলিশের তথ্যমতে, ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ ১৩টি মামলা রয়েছে। এছাড়া একাধিক হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগও তদন্তাধীন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ০২, ২০২৬

সততার সঙ্গে নতুন ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলদের দায়িত্ব পালনের আহ্বান অ্যাটর্নি জেনারেলের

ছবি : সংগৃহীত

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশ সদস্যদের আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজধানীতে জামাতার ছুরিকাঘাতে মা-মেয়ে নিহত

শাহ আমানত বিমানবন্দরে ৮২ লাখ টাকার স্বর্ণসহ ভারতীয় নাগরিক আটক

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৮২ লাখ টাকা মূল্যের ৪২৭ গ্রাম স্বর্ণসহ এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তামিম আনসারী নামের ওই ব্যক্তি ভারতের চেন্নাইয়ের তামিল নাড়ু এলাকার বাসিন্দা। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে এই স্বর্ণ নিয়ে আসেন। তার আন্ডারওয়্যারের ভেতর থেকে এগুলো উদ্ধার করা হয়।     চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (জনসংযোগ) প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল জানান, শনিবার (১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টায় শারজাহ থেকে এয়ার এরাবিয়ার একটি ফ্লাইটে ভারতীয় নাগরিক তামিম আনসারী চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। বিমানবন্দরের কাস্টমস হলের গ্রিন চ্যানেল অতিক্রমের সময় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তার দেহ তল্লাশি করা হয়। পরে তার আন্ডারওয়্যারের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকানো অবস্থায় ক্যাপসুলসদৃশ্য ৯টি বস্তু উদ্ধার করা হয়। বিমানবন্দরে কাস্টমস কর্মকর্তাদের চোখ ফাঁকি দিতে পেস্ট আকারে এসব স্বর্ণ গলিয়ে আনা হয়।   তিনি জানান, জানা গেছে, এই স্বর্ণের ওজন ৪২৭ গ্রাম। যার বর্তমান বাজার মূল্য ৮১ লাখ ৬৬ হাজার ৩৭৫ টাকা। আটক ব্যক্তিকে পতেঙ্গা থানা পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।    আটক তামিম আনসারী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কাস্টমস কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, তিনি নিয়মিত এই রুটে যাতায়াত করেন এবং কাপড়ের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ০২, ২০২৬

কোনো প্রতিভা প্রতিবন্ধকতার কারণে থেমে থাকবে না: আইসিটিমন্ত্রী

বিএনপি জাতীয় মুনাফেক এবং বেইমানের দল: রাবি শিবির সেক্রেটারি

রাষ্ট্রপতি পদের আলোচনায় এবার হেভিওয়েট তিন নাম

ছবি: সংগৃহীত
গ্যাসের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই: পেট্রোবাংলা

সরকার বর্তমানে গ্যাসের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা করেনি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা)।   সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি সংক্রান্ত প্রকাশিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে এ তথ্য জানায় সংস্থাটি। শনিবার (১ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পেট্রোবাংলা জানায়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে স্পষ্ট করা হচ্ছে যে, এই মুহূর্তে সরকারের গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা নেই। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।   এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে তা নিয়ে শিল্প, বাণিজ্য ও আবাসিক গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। তবে পেট্রোবাংলার সর্বশেষ এই বক্তব্যে সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে যে, বর্তমানে গ্যাসের দাম বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত বা পরিকল্পনা নেই।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

দেশের সব বন্দর ২৪ ঘণ্টা চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

চীনের এআই জোটে যোগ দিচ্ছে বাংলাদেশ

আয়নাঘরে যারা দেয়াল টেনেছে তাদেরও বিচারের আওতায় আনছি: চিফ প্রসিকিউটর

0 Comments