তুরস্কের কাছে থাকা রাশিয়ার তৈরি অত্যাধুনিক এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) কাছে বিক্রির প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে দেখছে মস্কো। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইকে জানিয়েছে। তবে আলোচনা এখনও চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
২০১৯ সালে রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ কেনার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। এর জেরে আঙ্কারাকে মার্কিন পঞ্চম প্রজন্মের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কর্মসূচি থেকে বাদ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্পের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে সংরক্ষিত তুরস্কের জন্য তৈরি ছয়টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানও এখনো হস্তান্তর করা হয়নি।
২০২৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর ওয়াশিংটন ও আঙ্কারার সম্পর্ক উন্নতির পথে এগোয়। এরপর থেকেই এস-৪০০ ইস্যুর সমাধান এবং তুরস্কের এফ-৩৫ কর্মসূচিতে পুনরায় অন্তর্ভুক্তি দুই দেশের আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে ওঠে।
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২০ সালের ন্যাশনাল ডিফেন্স অথরাইজেশন অ্যাক্ট (এনডিএএ) অনুযায়ী, এফ-৩৫ কর্মসূচিতে ফিরতে হলে তুরস্ককে নিশ্চিত করতে হবে যে তাদের কাছে আর এস-৪০০ ব্যবস্থা নেই। একই আইন তুরস্কের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের শর্তও কঠোর করে।
গত দেড় বছর ধরে সংকট সমাধানে বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একটি প্রস্তাবে এস-৪০০-এর গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ খুলে যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করে সিস্টেমটি অকার্যকর করার কথা ছিল। তবে এতে নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহারের নিশ্চয়তা না থাকায় বিকল্পটি গ্রহণযোগ্য হয়নি।
রুশ ও তুর্কি সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এস-৪০০ তৃতীয় কোনো দেশের কাছে বিক্রির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। সেই দেশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাম সামনে এসেছে।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, তৃতীয় কোনো দেশের কাছে এস-৪০০ বিক্রির বিষয়ে তুরস্কের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
একটি রুশ সূত্র জানিয়েছে, তুরস্কের প্রস্তাবের জবাবে মস্কোর অবস্থান ছিল, কেন নয়? তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সঙ্গে রাশিয়া চাইবে, ইউএইর কাছে বিক্রি হলেও আঙ্কারার সঙ্গে স্বাক্ষরিত মূল চুক্তির সব শর্ত কঠোরভাবে মেনে চলা হোক।
তুর্কি সূত্রগুলোর দাবি, সংযুক্ত আরব আমিরাত ইতোমধ্যে রাশিয়ার তৈরি প্যান্টসির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করছে এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের উৎস বৈচিত্র্যময় করার নীতির অংশ হিসেবেই এস-৪০০ কেনার বিষয়টি বিবেচনা করছে।
তবে কয়েকজন ইউরোপীয় বিশ্লেষকের মতে, চলমান আঞ্চলিক সংঘাতে ইরানকে রাশিয়ার সমর্থনের কারণে আবুধাবি ও মস্কোর মধ্যে কিছু কৌশলগত অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। ফলে সম্ভাব্য চুক্তির রাজনৈতিক দিকও গুরুত্ব পাচ্ছে।
তবে এস-৪০০ বিক্রির চুক্তি তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে সম্পন্ন হলে সেটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, অতীতে মস্কো এস-৪০০ ফেরত নিতে রাজি হয়নি। সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করা হয়।
এই চুক্তিতে সম্মতি দেওয়ার বিনিময়ে রাশিয়া তুরস্কের কাছ থেকে বিভিন্ন কৌশলগত সুবিধা চাইতে পারে। বিশেষ করে দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস সরবরাহ চুক্তির নবায়ন নিয়ে চলমান আলোচনায় মস্কো বিষয়টিকে দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বৃহস্পতিবার রাতে দক্ষিণ ইরানের কেশম দ্বীপে একটি বড় আকারের বোমা হামলা চালায়। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, একটি বেসামরিক বাড়িতে আঘাত হানে ওই বোমাটি। ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করেন, ওই বোমাটি একটি বেসামরিক বাড়িতে আঘাত হানে। এতে এক দম্পতি এবং তাদের দুই বছর বয়সী ছেলে নিহত হয়। কর্মকর্তারা আরও জানান, পরিবারের অন্য দুই সন্তান এই হামলায় বেঁচে যায়। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের ভিডিও ও স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হামলায় সম্ভবত ২ হাজার পাউন্ড (প্রায় ৯০০ কেজি) ওজনের একটি বোমা ব্যবহার করা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত সবচেয়ে বড় প্রচলিত বোমাগুলোর একটি। অস্ত্র বিশেষজ্ঞরা কেশম দ্বীপে হামলার পর তৈরি হওয়া গর্তের আকার এবং সেখানে পাওয়া গোলাবারুদের খণ্ডাংশ পরীক্ষা করে ধারণা করেন যে, সম্ভবত মার্ক-৮৪ বোমা ব্যবহার করা হয়েছিল। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস আরও জানায়, হামলার স্থান ও সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর কার্যক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। একজন মার্কিন কর্মকর্তা দ্য জেরুজালেম পোস্টকে বলেন, বৃহস্পতিবার ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পরিধি ছিল আগের রাতের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। তিনি আরও বলেন, হামলাগুলো ছিল বিস্তৃত, ব্যাপক এবং উল্লেখযোগ্য প্রভাববাহী। ইরানি কর্মকর্তারা দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে জানান, এই হামলার ফলে আশপাশের প্রায় ২০টি পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। অন্যদিকে, প্রকাশিত ফুটেজে দেখা যায়, বিস্ফোরণের ফলে উড়ে যাওয়া ধ্বংসাবশেষ গর্ত থেকে ২০০ ফুটেরও বেশি দূরে গিয়ে পড়েছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের তদন্তে দাবি করা হয়েছে, ওই বাড়ির আশপাশে কোনো সামরিক স্থাপনা ছিল না। এছাড়া, হামলার পর ইরানি কর্তৃপক্ষ কোনো সামরিক হতাহতের খবরও প্রকাশ করেনি। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তারা বেসামরিক হতাহতের প্রতিবেদনের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তবে কারা লক্ষ্যবস্তু কী ছিল, কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, বা বেসামরিক লোকজনকে সুরক্ষার জন্য কী ধরনের সতর্কতা নেয়া হয়েছিল—এসব বিষয়ে কিছু জানায়নি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড।
গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের উত্তর-পশ্চিমে আত্তিকা অঞ্চলের সাথা এলাকায় দুটি ‘বেল’ হেলিকপ্টারের সংঘর্ষে ২ জন নিহত হয়েছেন। রবিবার (২ আগস্ট) ওই এলাকায় দাবানল নিয়ন্ত্রণের সময় এ সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়। দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিৎসোতাকিস এ দুর্ঘটনায় ২ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘটনাকে ‘মর্মান্তিক দুর্ঘটনা’ উল্লেখ করে গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি জানান, পোর্তো জারমেনো এলাকায় বড় ধরনের দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করার সময় নিহত দুজনের একজন ছিলেন গ্রিক সমন্বয়কারী ও অন্যজন ডেনিশ পাইলট। তিনি তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। গ্রিক ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আত্তিকা-বেওতিয়া সীমান্তে জ্বলতে থাকা বড় দাবানল নিয়ন্ত্রণে অংশ নেওয়া ইজারা করা দুটি বেল হেলিকপ্টারের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। প্রতিবেদনে জানা গেছে, দুটি হেলিকপ্টারে মোট ৪ জন আরোহী ছিলেন। তাদের মধ্যে ২ জন গ্রিক ও ২ জন বিদেশি নাগরিক ছিলেন। একটি হেলিকপ্টারের ব্রিটিশ পাইলট ও গ্রিক ফায়ার সার্ভিসের একজন লিয়াজোঁ কর্মকর্তা জীবিত উদ্ধার হন। তাদের চিকিৎসার জন্য এথেন্সের ২৫১ এয়ার ফোর্স জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। অপর দুজনকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করা হলে পরে তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়।
ভারতের উত্তরপ্রদেশের হামিরপুর জেলায় ৪৪ লাখ রুপি বিমার অর্থ হাতিয়ে নিতে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডকে সড়ক দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দিতে মরদেহের ওপর গাড়ি চালিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে তদন্তকারীরা। খবর এনডিটিভির। নিহত নারীর নাম রীতা। পুলিশ জানায়, ঘটনার পর স্বামী অমর সিং নিজেই থানায় গিয়ে স্ত্রী নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ করেন। তবে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার কথাবার্তায় অসঙ্গতি ধরা পড়লে পুলিশ সন্দেহ করে। পরে কঠোর জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন। পুলিশের দাবি, বিমার টাকা পাওয়ার লোভে অমর সিং তিন সহযোগীকে নিয়ে লাঠি ও রড দিয়ে রীতাকে পিটিয়ে হত্যা করেন। এরপর ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখাতে তার মরদেহের ওপর গাড়ি চালিয়ে দেন। গত বুধবার গভীর রাতে হামিরপুরের লালপুরা এলাকার বৈঠকা ধাম মন্দিরের কাছে রীতার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য তা পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে রীতার শরীরে ১২টির বেশি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এছাড়া দুটি কিডনি ছাড়া শরীরের প্রায় সব অভ্যন্তরীণ অঙ্গ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ছিল। রীতার বাবা সর্বেশ কুমার জানান, প্রথম স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি কানপুরে বসবাস শুরু করেন। সেখানে অমর সিংয়ের সঙ্গে পরিচয় হয় এবং দুই বছর আগে তারা বিয়ে করেন। আগের সংসারে রীতার তিন মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। পরিবারের দাবি, মাত্র দুই মাস আগে অমর সিং রীতার নামে ৪৪ লাখ রুপির জীবনবিমা করান এবং প্রথম কিস্তি হিসেবে ২ লাখ ৬০ হাজার রুপি জমা দেন। হামিরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অরবিন্দ কুমার ভার্মা জানান, অভিযুক্ত স্বামী ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।