অন্যান্য

এনসিপির ২২ নেতাকর্মীর একযোগে পদত্যাগ

মারিয়া রহমান মে ১৫, ২০২৬
এনসিপির লোগো ও প্রতীক
এনসিপির লোগো ও প্রতীক

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদ্য ঘোষিত চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক কমিটি থেকে একযোগে ২২ নেতাকর্মী পদত্যাগ করেছেন। তাদের মধ্যে একাধিক যুগ্ম আহ্বায়ক, যুগ্ম সদস্যসচিব, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সদস্য রয়েছেন।

শুক্রবার (১৫ মে) সকালে পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বর্তমান কমিটির দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ রাফসান জানি রিয়াজ। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) মীর মোহাম্মদ শোয়াইবকে আহ্বায়ক এবং আরিফ মঈনুদ্দীনকে সদস্যসচিব করে ১৬৮ সদস্যের এ কমিটি ঘোষণা করা হয়।

পদত্যাগী নেতাদের অভিযোগ, কমিটিতে অযোগ্য ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকজন দায়িত্বশীল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, টাকার বিনিময়ে পদ বাণিজ্য, নারী কেলেঙ্কারি ও মামলা বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তারা।

পদত্যাগী দপ্তর সম্পাদক রাফসান জানি রিয়াজ বলেন, দলের জন্য যারা নিবেদিতপ্রাণ ও ত্যাগী, তাদের মূল্যায়ন করা হয়নি। আমরা এ কমিটির পুনর্মূল্যায়ন চাই। আমরা কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে বিষয়টি জানাব।

পদত্যাগ করা সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হুজ্জাতুল ইসলাম সাঈদ বলেন, আদর্শ, নৈতিকতা ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক চর্চার প্রত্যাশা থেকে আমরা এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলাম। কিন্তু সাম্প্রতিক কমিটি গঠন ও বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে আমরা হতাশ। রাজনৈতিক সংগঠনে দুর্নীতি ও ব্যক্তিস্বার্থের চর্চা গ্রহণযোগ্য নয়। ভবিষ্যতেও তারা জনস্বার্থ, ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক সংস্কৃতির পক্ষে কাজ করবেন বলে জানান।

পদত্যাগ করা নেতাকর্মীদের মধ্যে আছেন- সৈয়দ এহছানুল হক (যুগ্ম আহ্বায়ক), কামরুল কায়েস (যুগ্ম আহ্বায়ক), মো. সোহরাব চৌধুরী (যুগ্ম সদস্যসচিব), হামিদুল ইসলাম (যুগ্ম সদস্যসচিব), বদিউল আলম (যুগ্ম সদস্যসচিব), মোহাম্মদ সরোয়ার আলম (যুগ্ম সদস্যসচিব) ও ইকবাল মাসুদ (যুগ্ম সদস্যসচিব), রকিবুল ইসলাম (সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদক), ডা. মাহতাব উদ্দিন আহমদ (সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক), হুজ্জাতুল ইসলাম সাঈদ (সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক), সাদমানুর রহমান চৌধুরী (সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক), সুফি মোহাম্মদ মিনহাজ (সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক), মোহাম্মদ কারিওল মাওলা (সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক), মোহাম্মদ আকরাম হোসেন (সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক), মোশাররফ হোসেন রবিন (সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক), নুরুল আবছার সাইবান (সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক), মোস্তফা রাশেদ আজগর (সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক), মোহাম্মদ রাফসান জানি রিয়াজ (দফতর সম্পাদক), মো. নুরুদ্দীন (সমাজকল্যাণ সম্পাদক), মোহাম্মদ বেলাল হোসেন (সহ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক), মো. ওমর সাঈদ (সদস্য) ও তাহজীব চৌধুরী (সদস্য)।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অন্যান্য

আরও দেখুন
ভ্রমণের রোমাঞ্চ নষ্ট করে দিচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া : জরিপ

  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত তথ্য দেখার কারণে নতুন কোনো গন্তব্যে গিয়ে আগের মতো বিস্ময় বা রোমাঞ্চ অনুভব করছেন না অনেক পর্যটক। ভ্রমণের আগে অতিরিক্ত তথ্য ঘাঁটায় নতুন জায়গা অনেকের কাছেই আগে থেকেই পরিচিত মনে হচ্ছে।   ইউরোনিউজের এক প্রতিবেদনে প্রকাশিত এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।   জরিপে ইউরোপ, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও লাতিন আমেরিকার ১০ হাজার ৬৮৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন। এতে দেখা যায়, ৭৪ শতাংশ পর্যটক ভ্রমণের আগে গন্তব্য সম্পর্কে এত বেশি তথ্য সংগ্রহ করেন যে সেখানে পৌঁছে নতুন কিছু আবিষ্কারের সুযোগ খুব কম থাকে।   এছাড়া ৬৮ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, প্রথমবার কোনো জায়গায় গেলেও অনলাইনে আগে থেকেই এত ছবি ও ভিডিও দেখার কারণে সেটি তাদের কাছে পরিচিত মনে হয়েছে। আর ৬৪ শতাংশ বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখে রাখায় বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ও ভিউপয়েন্ট সহজেই চিনতে পেরেছেন।   জরিপ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কিরিল লিয়াখ বলেন, মানুষ ভ্রমণের আগে অনিশ্চয়তা কমাতে তথ্য খোঁজে। এতে ভ্রমণ সহজ হয়, কিন্তু নতুন জায়গা প্রথমবার দেখার বিশেষ অনুভূতিটি অনেকটাই হারিয়ে যায়।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভ্রমণের স্বতঃস্ফূর্ততা ধরে রাখতে বিশেষজ্ঞরা কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে অনলাইনের পরিবর্তে ভ্রমণবিষয়ক গাইডবুক ব্যবহার, স্থানীয় বাসিন্দা বা পর্যটন তথ্যকেন্দ্র থেকে পরামর্শ নেওয়া এবং নির্দিষ্ট পরিকল্পনার বাইরে হেঁটে নতুন জায়গা ঘুরে দেখা।   অতিরিক্ত অনলাইন নির্ভরতা কমিয়ে কিছুটা অজানাকে জায়গা দিলে ভ্রমণের আনন্দ ও নতুন কিছু আবিষ্কারের অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ হতে পারে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ২৩, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় শাস্তির মুখে ৩ নারী পুলিশ কর্মকর্তা

ছবি : সংগৃহীত

স্ত্রীসহ সাংবাদিক আশফাকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন পিছিয়ে দিল আদালত

ছবি: সংগৃহীত

এমপি নজরুলের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা, কারাগারে এক আসামি

ছবি: সংগৃহীত
সরকারকে চাপে ফেলতে জামায়াতের কৌশল কী?

সম্প্রতি ১১ দলীয় ঐক্যের বরিশাল বিভাগীয় সমাবেশে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘‘গণভোট ব্যর্থ হলে এই সরকারকেও ব্যর্থ করে দেওয়া হবে। তার মতে, গণভোটের রায় নিয়ে সরকার ভুল পথে আছে। এ পথ পরিহার করে গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ২৫ জুলাই সিলেটের সমাবেশের আগেই এ দাবি মেনে নিন, অন্যথায় ঢাকায় মহাসমাবেশের জন্য প্রস্তুত থাকুন।   গণভোটের রায় বাস্তবায়নের বিষয়ে একই সমাবেশে জামায়াত আমিরের সুরেই কথা বলেছেন দলটির অন্যতম শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। সরকারের কোনও সিদ্ধান্ত কিংবা কর্মকাণ্ডে অনিয়ম বা ভুলত্রুটি হলে সংসদীয় বিরোধী দল তার যৌক্তিক সমালোচনা করতে পারে। কিন্তু জামায়াত আমিরের এমন বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে—তাঁর এই বক্তব্য কতটা যুক্তিসঙ্গত, জামায়াত কীভাবে সরকারকে ব্যর্থ করবে? ২৫ জুলাই সিলেটের সমাবেশের আগে যদি জামায়াতের দাবি মেনে না নেওয়া হয়—তাহলে ঢাকায় দলটির মহাসমাবেশে কী ঘোষণা আসবে? জামায়াত কি বড় কোনও আন্দোলনের পথে যাবে? এক্ষেত্রে জামায়াতের সক্ষমতাই বা কতটুকু? তারা কী সত্যিই সরকারকে বড় কোনও ধাক্কা দিতে পারবে, নাকি আমিরের বক্তব্য কেবল কথার কথা? রাজনৈতিক মহলে এ নিয়ে নানা বিশ্লেষণ চলছে।   জানতে চাইলে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘গণভোটের বিষয়টি পরে আসি। বিরোধী দল হিসেবে সংসদ বাণিজ্যচুক্তি ও বাজেট নিয়ে তেমন জোরালো ভূমিকা রাখতে পারেনি তারা। এখন আবার জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে মাঠ গরম করতে চায়। আমরা মনে করি, গণভোটে রাষ্ট্রপতির নামে যে ধরনের অধ্যাদেশ দেওয়া হয়েছে, তা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কারণ বিদ্যমান সংবিধান তো স্থগিত করা হয়নি। গণঅভ্যুত্থানের পর তো এটি বাতিলও করা হয়নি। তাই সরকার ও বিরোধী দল পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়ে বিষয়টি নিয়ে এক ধরনের ‘রাজনীতি’ করছে। আর এখানে জামায়াতের যে অবস্থান, সেটিও বিতর্কিত। তবে আমরা মনে করি—তারা যদি হুঙ্কার দিয়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে পারে, সেটা ভালো কথা। কিন্তু বাস্তবে দলটির সে ধরনের সামর্থ্য আছে বলে মনে হয় না।   জামায়াত আমিরের হুঁশিয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে সরকারকে বারবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। সবশেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবির আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, সরকার স্বাধীন বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন ও নির্বাচন কমিশন চায় না। তারা আগের ফ্যাসিবাদী ধারায় সব কিছু রাখতে চায়। এ জন্যই গণভোটের রায় মানতে চায় না। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই—এ রায় বাংলার মাটিতে বাস্তবায়ন হবেই।   তিনি আরও বলেন, জনগণকে অপমান করার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। ৭০ শতাংশ মানুষ যে রায় দিয়েছে, তা অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে। আমরা সংসদে ও রাজপথে লড়াই করবো। সংসদে দাবি আদায় হলে ভালো, আর না হলে রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে। একবিন্দুও ছাড় দেওয়া হবে না। জামায়াত আমির বলেন, ‘‘গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কোনও ছাড় দেওয়া হবে না। কোনও টালবাহানা মেনে নেওয়া হবে না। আমাদের অনেক লোভ দেখানো হয়েছে, কিন্তু আমরা তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছি। জনগণের সঙ্গে আমরা বেইমানি করবো না, তাদের রায়কে অপমান করবো না। যদি গণভোটের রায় বাস্তবায়িত না হয়, তাহলে জনগণ গণতন্ত্র ও নির্বাচনি প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা হারাবে। সেই ধিক্কারের পাত্র বিরোধীদল হতে চায় না।   সরকারকে কড়া সতর্কতা নাহিদের গণভোটের রায় বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে বরিশালে ১১ দলীয় ঐক্যের একই সমাবেশে সরকারকে কড়া সতর্ক করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘‘গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়ন না হলে আবারও গণঅভ্যুত্থানের মতো কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন। এখনও হরতাল-অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়নি। তবে প্রয়োজনে যেকোনও সময় এমন কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হবে।’’ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপির চেয়ারম্যান গণভোট ও জুলাই সনদের পক্ষে প্রচারণা চালালেও নির্বাচনের পর এটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না।   প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে এনসিপি'র আহ্বায়ক বলেন, ‘‘দেশের জনগণ আপনাকে ক্ষমতা দিয়েছে, তার মানে এই নয় যে যা খুশি তা-ই করবেন।’’ জাতীয় নির্বাচনের আগ পর্যন্ত বিএনপির আন্দোলন নিয়ে তিনি বলেন, ‘‘বিএনপি মূলত গণতন্ত্রের জন্য নয়, ক্ষমতার জন্য আন্দোলন করেছে।   সরকারকে ব্যর্থ করতে জামায়াতের পরিকল্পনা কী জামায়াত সরকারকে কীভাবে ব্যর্থ করবে জানতে চাইলে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যজোটের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘ক্ষমতার মালিক জনগণ, আর গণভোটের রায় দিয়েছে জনগণ। এই গণরায় যদি মেনে নেওয়া না হয় তাহলে জনগণ তো কোনোভাবেই মেনে নেবে না। ক্ষমতায় কে আছে সেটা জনগণ দেখবে না। মালিক যদি ইচ্ছে করে তাহলে প্রতিনিধি পাল্টে ফেলতে পারে।    তিনি বলেন, ‘‘বিএনপি গণভোটের রায়কে প্রত্যাখ্যান করে জাতির সঙ্গে বেইমানি করেছে। জনগণের মূল্যবান রায় বাস্তবায়নের জন্য জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১১ দল সংসদের পাশাপাশি রাজপথে আন্দোলন করে যাচ্ছে। আমরা এ বিষয়ে আগেও বলেছি, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা না হলে আমরা (জামায়াত) জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে নামবো। সরকারের উচিত কোনও ধরনের টালবাহানা না করে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা।   জামায়াত আমিরের বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘জামায়াত আমির তো ভুল কিছু বলেননি। গণভোট যদি ব্যর্থ হয়, জনগণের রায় যদি কার্যকর না হয়—তাহলে জনগণ তো প্রতিরোধ গড়ে তুলবেই। চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান তার সাক্ষী। জনগণ চাইলে সবকিছু সম্ভব। সেহেতু সরকারের উচিত সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত সময়ের মধ্যে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা।   আমিরের বক্তব্যকে কীভাবে দেখছে বিএনপি? গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে জামায়াত আমিরের বক্তব্যের বিষয়ে লক্ষীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও সরকারদলীয় হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘এই সংসদ হলো জামায়াত আমিরের ভাষায় ‘মজলুমের সংসদ’। এখানে যারা আছেন, সবাই গত ১৭ বছরে কোনও না কোনোভাবে নির্যাতিত। এখানে সংসদ সদস্য আরমান সাহেবের মতো মানুষ আছেন, যিনি ৮ বছর গুম ছিলেন। এখানে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী আছেন, যিনি আয়নাঘরে ছিলেন। এখানে মিনিমাম ১৫ জন এমপি আছেন, যারা গুম হয়েছেন। ওনার কথা ধরেই আমি বলবো, এটা মজলুমের সংসদ। অতএব, উনি জ্ঞানী মানুষ, ওনার একটা বিরাট দায়িত্ব। আমি বিশ্বাস করি, এই দায়িত্ব উনি পালন করবেন।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘রাজনীতির মাঠে অনেকে অনেক কথা বলেন, উনিও অনেক কথা বলেন। কিন্তু অবশ্যই উনি জাতীয় ঐকমত্য যেটা সবাই চাচ্ছেন, উনি চাচ্ছেন, আমরাও চাচ্ছি। উনি নিজেই সুন্দর বনের মধু ঠোঁটে লাগিয়ে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। অতএব, আমি মনে করি এগুলো মাঠের কথা। এগুলো আমাদের সংসদকে কার্যকর করার জন্য যে ভূমিকা, মানুষের আকাঙ্ক্ষার যে সংসদ, সেই সংসদে একজন সত্যিকারের বিরোধীদলের নেতা হিসেবে উনি ভূমিকা রাখছেন এবং আগামী দিনেও রাখবেন, এটাই আমি বিশ্বাস করি।’   অপরদিকে জামায়াতের আমিরের বক্তব্যকে ভিন্নভাবে দেখছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘‘বিরোধীদলীয় নেতা নিজেদের দাবি আদায়ে যেকোনও বক্তব্য দিতে পারেন। তবে কোনও কিছুই যেন বাড়াবাড়ির পর্যায়ে না যায়, সেদিকেও খেয়াল রাখা উচিত। তিনি জামায়াত আমিরের বক্তব্যকে রাজনৈতিক হিসেবেই দেখতে চান।   বিএনপির এই নেতা বলেন, গণভোট, জুলাই সনদ সবগুলোর ব্যাপারেই সরকার পজিটিভ। কিন্তু বিরোধী দল কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে পারছে না যে এগুলো সরকার প্রতিষ্ঠা করবে। এটা বিরোধী দলের সমস্যা।’’ জামায়াত আমিরের বক্তব্যের বিষয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘‘বিরোধী দলের নেতা শফিকুর রহমান সাহেব একটু আগ বাড়িয়েই কথা বলছেন বলে আমার ধারণা। উনি ধৈর্যহারা হচ্ছেন। আর ওনার যদি এত ক্ষমতা থাকে বা থাকতো, তাহলে তো উনিই সরকারই গঠন করতেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

তথ্য-উপাত্ত যাচাই শেষে এমপি নজরুলের বিষয়ে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেবে জামায়াত

স্ত্রী দাবি করা নারীসহ গাজী নজরুল ইসলাম ও উম্মে সালমা। ছবি : সংগৃহীত

দ্বিতীয় স্ত্রী নাকি চাকরির সুপারিশ? ভাইরাল ভিডিও নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ডাকসু নেত্রী

ছবি : সংগৃহীত

সরকার পরিচালনায় শরিকদের পরামর্শ নেবে বিএনপি

ছবি - সংগৃহীত
দেশের স্বার্থে সংস্কারের দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে: হাসনাত আবদুল্লাহ

এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন করতে দেশের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সংস্কারের দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে। নির্বাচনের আগে আমরা জনগণকে বলেছিলাম, আমাদের ফ্রিতে ভোট দিন, আমরা ফ্রিতে সার্ভিস দেব। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আমরা জনগণের পক্ষে কথা বলে যাচ্ছি।     সোমবার (২০ জুলাই) বিকালে পিরোজপুর সিও অফিস চত্বর থেকে শুরু করে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের সামনে এনসিপির পদযাত্রা কর্মসূচি শেষে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।      হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, গত পাঁচ মাসে সংসদে কোনো রক্ত চক্ষুকে ভয় পাইনি। মিডিয়া মাফিয়া, ভূমি খেকো, ব্যাংক ডাকাত ও ভোটচোরদের বিরুদ্ধে চোখে চোখ রেখে কথা বলে যাচ্ছি। আগে এস আলম ব্যাংক ও দেশের সম্পদ লুট করেছে, কেউ বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতি করেছে। জনগণের সম্পদ লুটের এই সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে।     তিনি বলেন, দুর্নীতি, লুটপাট ও দখলদারত্বের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। জনগণের সম্পদ রক্ষায় কোনো ধরনের আপস করা হবে না।     সমাবেশে বক্তব্য দেন- এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য আলী আহসান জুনায়েদ, কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আরিফুর রহমান, জেলা এনসিপির আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির, পিরোজপুর-৩ আসনের এনসিপির এমপি প্রার্থী শামীম হামিদী প্রমুখ।     এ সময় হাসনাত আবদুল্লাহ পিরোজপুর জেলা এনসিপির সদস্য সচিব মইনুল আহসান মুন্নাকে পিরোজপুর পৌরসভার মেয়র পদে দলের প্রার্থী ঘোষণা করেন।

মারিয়া রহমান জুলাই ২০, ২০২৬
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।

বিচারপ্রার্থীর মামলায় সততা ও দায়িত্বশীলতার তাগিদ প্রধান বিচারপতির

ছবি: সংগৃহীত

হান্নান মাসউদের কাছে হেরে এবার নতুন দায়িত্বে বিএনপি নেতা

প্রতীকী ছবি

ফেস ভেরিফিকেশনে ধরা প্রক্সি জালিয়াতি, সচিবালয়ে এসে কারাগারে ৪ জন

0 Comments