চলতি বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে ফ্রান্স বনাম প্যারাগুয়ে ম্যাচের পর ফরাসি মহাতারকা কিলিয়ান এমবাপেকে উদ্দেশ্য করে বর্ণবাদী মন্তব্য করে তোপের মুখে পড়েছিলেন প্যারাগুয়ের সিনেটর চেলেস্তে আমারিলা। তবে, নিজের ভুল স্বীকার করা তো দূরের কথা, উল্টো এখন এমবাপের বিরুদ্ধেই মানহানি ও অপবাদের অভিযোগে আইনি লড়াইয়ের হুমকি দিয়ে বসলেন এই ‘সসি’ নারী সিনেটর!
আমারিলার আইনজীবী গুইলার্মো দুয়ার্তে কাকাভেলোস ফরাসি দৈনিক লা প্যারিসিয়ানকে জানিয়েছেন, এমবাপে তাঁর মক্কেলের মন্তব্যের যে প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন, তার ওপর ভিত্তি করে প্যারাগুয়ের আদালতে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। কাকাভেলোস বেশ চনমনে গলায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি প্যারাগুয়ের আদালত এই অভিযোগ গ্রহণ করে, তবে এমবাপের সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড হতে পারে; যা ফ্রান্স ও প্যারাগুয়ের মধ্যকার প্রত্যর্পণ চুক্তির শর্ত পূরণ করার জন্য যথেষ্ট!
এই পুরো আইনি নাটকের সূত্রপাত মূলত আমারিলার বর্ণবাদী মন্তব্যের পর এমবাপের কড়া জবাবকে কেন্দ্র করে। রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড এমবাপের ফরাসি জাতীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করার পর, এমবাপে এই সিনেটরকে প্রকাশ্যেই ‘তার পদের অযোগ্য এক ঘৃণ্য নারী’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।
তবে এই মামলার ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে ফরাসি প্রসিকিউটরদের হাতে। আমারিলার সেই জাতিগত ও বর্ণবাদী আপত্তিকর মন্তব্যের বিরুদ্ধে ফ্রান্সে ইতিমধ্যে একটি তদন্ত শুরু হয়েছে। ফরাসি আইন অনুযায়ী, এই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সিনেটর আমারিলার নিজেরই এক বছরের জেল এবং ৪৫ হাজার ইউরো জরিমানা হতে পারে।
তবে আমারিলার আইনজীবীর দাবি, তাঁর মক্কেল কোনো রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা হিসেবে নয়, বরং একজন সাধারণ ফুটবল সমর্থক হিসেবে নিজের ‘বাক-স্বাধীনতা’ জোরে ওই মন্তব্য করেছিলেন, তাই ক্ষমা চাওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না!
মাঠের বাইরের এই কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি এখন আর ফুটবলে সীমাবদ্ধ নেই, তা পৌঁছে গেছে দুই দেশের প্রেসিডেন্টদের দরবারেও। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রো প্রকাশ্যে এমবাপের পাশে দাঁড়িয়ে এই বর্ণবাদী আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। অন্যদিকে, বেগতিক দেখে প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা তড়িঘড়ি করে এই নারী সিনেটরের বক্তব্য থেকে দূরত্ব বজায় রেখে সোজা জানিয়েছেন, আমারিলার এই মন্তব্য প্যারাগুয়ের মূল্যবোধকে বিন্দুমাত্র প্রতিনিধিত্ব করে না।
প্যারাগুয়ের সিনেটে এই কুৎসিত মন্তব্যের জন্য যখন আমারিলাকে আনুষ্ঠানিকভাবে তিরস্কার করা হচ্ছিল, ঠিক তখনই তিনি বিতর্কের বারুদে নতুন করে ঘি ঢেলে দেন। ম্যাচ শেষের এক ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি এমবাপের বিরুদ্ধে চরম অহংকার ও অসম্মানের অভিযোগ আনেন।
আমারিলার দাবি, ম্যাচ শেষ হওয়ার পর প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল হ্যান্ডশেক করার জন্য হাত বাড়ালেও এমবাপ্পে তা বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এড়িয়ে যান এবং এর পরপরই গিলের ছিটকে দেওয়া বল এমবাপ্পের পিঠে গিয়ে আঘাত করে।
এই ‘হ্যান্ডশেক বিতর্ক’ সামনে এনে আমারিলা প্রমাণ করতে চাইছেন, এমবাপ্পে মোটেও সুবিধার লোক নন! ফুটবল মাঠের লড়াই ছাপিয়ে এক বিশ্বসেরা স্ট্রাইকার বনাম এক জেদি নারী সিনেটরের এই আন্তর্জাতিক যুদ্ধ আগামী দিনে কোন রূপ নেয়, তা দেখতে মুখিয়ে আছে পুরো ক্রীড়াবিশ্ব।
তথ্যসূত্র: মারকা
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
প্রায় দুই বছর পর আবারও ওয়ানডে ক্রিকেটে দেখা যেতে পারে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকে। তবে ওয়ানডেতে ফেরার মূল কারণ ৫০ ওভারের ক্রিকেট নয়, বরং দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজের প্রস্তুতি। টেস্টকে সামনে রেখেই ওয়ানডে সিরিজের কয়েকটি ম্যাচে খেলতে চান অজি পেসার। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে কামিন্সের সঙ্গে ওয়ানডে দলে যোগ দিতে পারেন অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণের আরও দুই বড় তারকা মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজেলউড। বিশ্বকাপের পর থেকে তারাও ওয়ানডেতে নিয়মিত ছিলেন না। ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর কামিন্স মাত্র দুটি ওয়ানডে খেলেছেন। ২০২৪ সালের নভেম্বরে পাকিস্তানের বিপক্ষে মেলবোর্ন ও অ্যাডিলেইডে হওয়া ম্যাচ দুটিই ছিল তার সর্বশেষ ওয়ানডে। সেই সিরিজেই শেষবার একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ওয়ানডে খেলেছিলেন কামিন্স, স্টার্ক ও হ্যাজেলউড। চোট, বিশ্রাম এবং টেস্ট ক্রিকেটকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কারণে গত দুই বছরে ওয়ানডে থেকে অনেকটাই দূরে ছিলেন কামিন্স। তার অনুপস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়ার ওয়ানডে নেতৃত্ব দিয়েছেন স্টিভেন স্মিথ, মিচেল মার্শ ও জশ ইংলিস। স্টার্ক ও হ্যাজেলউডও অবশ্য খুব বেশি ওয়ানডে খেলেননি। ২০২৩ বিশ্বকাপের পর অস্ট্রেলিয়া মোট ২৮টি ওয়ানডে খেলেছে। এর মধ্যে স্টার্ক খেলেছেন মাত্র ৭টি এবং হ্যাজেলউড ১১টি। দুজনের সর্বশেষ ওয়ানডে ছিল গত বছরের অক্টোবরে ভারতের বিপক্ষে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরু হবে আগামী ৯ অক্টোবর। তার আগে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়ার কথা ওয়ানডে সিরিজ। এর আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলবে অস্ট্রেলিয়া। তবে সেখানে থাকছেন না কামিন্স। বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শেষ করে কামিন্স জানিয়েছেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় ওয়ানডে সিরিজের কিছু ম্যাচে খেলার পরিকল্পনা রয়েছে তার। তবে তার মূল লক্ষ্য থাকবে লাল বলের ক্রিকেট। কামিন্সের ভাষায়, দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়ানডে সিরিজের ছয় ম্যাচের মধ্যে তিনি সম্ভবত এক থেকে তিনটি ম্যাচ খেলতে পারেন। তার মতে, ওই সিরিজের প্রস্তুতিও মূলত টেস্টকে কেন্দ্র করেই হবে। বাংলাদেশের সিরিজের পর কিছুদিন বোলিং থেকে বিশ্রাম নিয়ে জিম অনুশীলন চালিয়ে যাবেন এবং এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার সিরিজের প্রস্তুতি শুরু করবেন তিনি। ফক্স স্পোর্টসের সঙ্গে আলোচনায় স্টার্ক ও হ্যাজেলউডও একই ধরনের পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে ওয়ানডেতে ফেরার পেছনে দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট সিরিজই প্রধান কারণ হলেও আগামী বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপও অস্ট্রেলিয়ার ভাবনায় রয়েছে। শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে দক্ষিণ আফ্রিকাতেই বেশিরভাগ ম্যাচ খেলবে অস্ট্রেলিয়া। একই সময়ে তাদের সামনে রয়েছে ব্যস্ত টেস্ট সূচি—এক বছরের মধ্যে প্রায় ২০-২১টি টেস্ট খেলার চ্যালেঞ্জ। ফলে আপাতত টেস্ট ক্রিকেটই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট সফরটিও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ২০১৮ সালের বহুল আলোচিত বল টেম্পারিং কাণ্ডের পর এই প্রথম দেশটিতে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। দুই দলের সর্বশেষ টেস্ট সিরিজে অস্ট্রেলিয়া নিজেদের মাঠে ২-০ ব্যবধানে জিতেছিল। তবে গত বছর বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে চমক দেখিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। নিজেদের ঘরের মাঠে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে সিরিজটি কঠিন হবে বলেই মনে করছেন কামিন্স। দুই বছর আগে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ভালো সিরিজ খেললেও গত বছর লর্ডসে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছিল তার দল। এবার দক্ষিণ আফ্রিকার ভিন্ন কন্ডিশন, অপরিচিত পিচ এবং আলাদা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে অস্ট্রেলিয়াকে। তবে এই ভিন্নতাই টেস্ট ক্রিকেটের সৌন্দর্য বলে মনে করেন কামিন্স। নতুন পরিবেশে কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলতে তাই মুখিয়ে আছেন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক।
কলকাতা থেকে ব্রাজিলে ফেরার পথে ঢাকায় নেমে পড়লেন ব্রাজিল ফুটবলের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল। বিমানবন্দর থেকে সোজা জাতীয় স্টেডিয়ামে—আয়োজনটা এতটাই আকস্মিক যে প্রশ্ন উঠতে দেরি হয়নি, আসলে কী খুঁজছে ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন? ৩ অক্টোবর কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। সেই ম্যাচের ভেন্যু আগেই ঘুরে দেখেছেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। কলকাতা থেকে দেশে ফেরার পথে বিকেল ৩টার দিকে তারা হুট করে প্রবেশ করেন ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে। মাঠের ঘাস থেকে ড্রেসিংরুম, মিডিয়া বক্স থেকে গ্যালারি—কোনো কিছুই বাদ যায়নি খুঁটিয়ে দেখা থেকে। এমনকি ডাগআউট আর গ্যালারির চেয়ারে বসেও পরখ করেছেন পরিবেশ, যেন প্রতিটি কোণ মেপে নিতে চেয়েছেন নিজের চোখে। আধ ঘণ্টারও বেশি সময় তাদের সঙ্গী ছিলেন বাফুফের মাঠ ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন ও বাফুফের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পেশাদার ভঙ্গিতে ইকবাল বললেন, ‘নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে বাংলাদেশে খেলার ব্যাপারে আগ্রহী ব্রাজিল, এমনকি বাংলাদেশের বিপক্ষেও মাঠে নামার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে দলটি। ‘ভারত ম্যাচের আগে ঢাকায় অনুশীলনের সুযোগ থাকবে কি না, সে বিষয়ে এখনই স্পষ্ট কিছু জানাননি ব্রাজিল প্রতিনিধিরা। ইকবালের ভাষায়, মাঠ ও স্টেডিয়ামের পরিবেশ দেখে নিজেদের ফেডারেশনকে প্রতিবেদন দেবে প্রতিনিধিদল। প্রয়োজনে মাঠ আরেকটু গুছিয়ে নিলে আরেকবার ফিরে আসারও ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন প্রতিনিধিদলের সদস্য। স্টেডিয়াম পরিদর্শন সেরে হোটেলে কয়েক ঘণ্টার বিশ্রাম শেষে প্রতিনিধিদের রাতেই দেশ ছাড়ার কথা ছিল। মাঝে সন্ধ্যায় বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন ব্রাজিল জাতীয় দলের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা, যা এই সংক্ষিপ্ত সফরকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলছে। আসলে আলোচনার সুতোটা আরও লম্বা, আরও জটিল। ২৫ ও ২৯ সেপ্টেম্বর অস্ট্রেলিয়ায় দুটি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। ভারতের পথে রওনা দেওয়ার আগে ৩০ সেপ্টেম্বর বা ১ অক্টোবর ঢাকায় অনুশীলন-বিরতি নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও চলছে গুঞ্জন। অর্থাৎ শুধু একটি পরিদর্শনেই থেমে থাকছে না বিষয়টা, অস্ট্রেলিয়া থেকে সরাসরি ভারতে না গিয়ে মাঝপথে ঢাকায় থামার একটা সমীকরণও এখন আলোচনায়। সবচেয়ে বড় প্রশ্নটা অবশ্য রয়ে যাচ্ছে—ভবিষ্যতে সত্যিই কি বাংলাদেশের মাঠে নামবে পাঁচবারের বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিল? জাতীয় স্টেডিয়ামের প্রতিটি কোণ যেভাবে খুঁটিয়ে দেখলেন প্রতিনিধিরা, তাতে সম্ভাবনার আঁচ পাওয়া গেলেও এখনো তা নিছক জল্পনা। ফেডারেশনের ভেতরের আলোচনা, প্রতিবেদন আর সিদ্ধান্ত—এসব ধাপ পেরিয়ে তবেই স্পষ্ট হবে আসল ছবিটা। ততদিন ঢাকার ফুটবলপ্রেমীদের ভাগ্যে জুটবে শুধু অপেক্ষা, স্বপ্ন আর জল্পনার এক মিহি মিশেল। ব্রাজিলের মতো ফুটবল-পরাশক্তির এমন আনুষ্ঠানিক আগ্রহ বাংলাদেশের জন্য বিরল এক মুহূর্ত বইকি। মাঠ প্রস্তুতির প্রশ্নে বাফুফে কতটা দ্রুত সাড়া দেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক জয় তুলে নিয়ে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার দৌড়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছিল বাংলাদেশ। তবে ম্যাকাইয়ে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ইনিংস ও ৫১ রানে হেরে সেই পথ কিছুটা কঠিন হয়ে গেছে। অবশ্য হারের পরও ফাইনালের দৌড় থেকে ছিটকে যায়নি নাজমুল হোসেন শান্তর দল। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ শেষে ৬ ম্যাচে বাংলাদেশের জয় ৩টি, হার ১টি এবং ড্র ২টি। ৪০ পয়েন্ট নিয়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় চতুর্থ স্থানেই আছে তারা। তবে ম্যাকাইয়ের হারে পয়েন্ট শতাংশ কমে হয়েছে ৫৫.৫৬। ডারউইনে প্রথম টেস্ট জয়ের পর বাংলাদেশের পিসিটি ছিল ৬৬.৬৭। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে পয়েন্ট শতাংশ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের সামনে এখনো ছয়টি টেস্ট বাকি। এই ম্যাচগুলো ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঘরের মাঠে, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তাদের মাটিতে এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে খেলবে বাংলাদেশ। প্রতিটি সিরিজে রয়েছে দুটি করে টেস্ট। ফাইনালে জায়গা করে নিতে সাধারণত অন্তত ৬০ শতাংশ পয়েন্ট প্রয়োজন হতে পারে। সেই হিসাবে বাকি ছয় ম্যাচ থেকে বাংলাদেশের প্রয়োজন আরও ৪৭ পয়েন্ট। অর্থাৎ সমীকরণ নিজেদের পক্ষে রাখতে অন্তত চারটি টেস্টে জয় দরকার হবে। তিন জয় ও দুই ড্র পেলেও পয়েন্ট শতাংশ দাঁড়াবে ৫৮.৩৩-এ, যা ফাইনালে ওঠার জন্য যথেষ্ট নাও হতে পারে। চলতি চক্রে বাংলাদেশের শুরুটা হয়েছিল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অ্যাওয়ে সিরিজ দিয়ে। গলে প্রথম টেস্ট ড্র করার পর কলম্বোয় দ্বিতীয় টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হারে বাংলাদেশ। এরপর ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে দুই ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়ায় শান্তর দল। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইনেও আসে ঐতিহাসিক জয়। তবে ম্যাকাইয়ের বড় হারে আবারও কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে তারা। বাকি ছয় টেস্টে বাংলাদেশের সামনে তাই কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সবশেষ টেস্ট জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ ২০২৪ সালের নভেম্বরে কিংস্টনে, ১০১ রানে। ঘরের মাঠে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজে ২০০৯ সালে তাদের হোয়াইটওয়াশও করেছিল বাংলাদেশ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও সুখস্মৃতি আছে বাংলাদেশের। ২০১৬ সালের সিরিজে চট্টগ্রামে ২২ রানে হারলেও মিরপুরে ১০৮ রানের জয় পেয়েছিল তারা। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশের রেকর্ড খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। দুই দলের ১৬ টেস্টের একটিতেই জয় পায়নি বাংলাদেশ, ড্র হয়েছে দুটি। অন্যদিকে ম্যাকাইয়ে বাংলাদেশকে হারিয়ে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে অস্ট্রেলিয়া। ৮০.০০ পয়েন্ট শতাংশ নিয়ে শীর্ষে রয়েছে তারা। দ্বিতীয় স্থানে দক্ষিণ আফ্রিকার পয়েন্ট শতাংশ ৭৫.০০, আর ৭২.২২ পয়েন্ট শতাংশ নিয়ে তৃতীয় নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশের পর পঞ্চম স্থানে রয়েছে ভারত। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তান ইতোমধ্যে ফাইনালের দৌড় থেকে ছিটকে গেছে।