অন্যান্য

এক লেখাতেই বিদেশে উচ্চশিক্ষার পুরো প্রক্রিয়া

খবর৭১ ডেস্ক, নভেম্বর ৩০, ২০২৫ 0

ধরে নিচ্ছি আপনি দেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজে ব্যাচেলর্স বা মাস্টার্স করছেন। আপনার প্রথম কাজ হওয়া উচিত যতটা সম্ভব ভালো রেজাল্ট করা। সাধারণভাবে ৪.০০ এর মধ্যে ৩.৫০কে স্ট্যান্ডার্ড সিজিপিএ হিসেবে ধরা হয়। এর বেশি হলে ভালো, কম হলেও সমস্যা নেই। তবে খুব কম হলে চ্যালেঞ্জ বাড়বে। তবুও চেষ্টা করলে যেকোনো সিজিপিএ নিয়েই আপনি বিদেশে কোনো না কোনো প্রোগ্রামে ফুল স্কলারশিপ, ফুল ফান্ডিং বা আংশিক টিউশন ফিসহ পড়ার সুযোগ পেতে পারেন। রেজাল্ট ভালো থাকলে অবশ্যই প্রতিযোগিতা কমবে। তাই শেষ সেমিস্টার হলেও সর্বোচ্চ চেষ্টা করে রেজাল্ট উন্নত করার চেষ্টা করুন।

এরপর মনোযোগ দিন আইইএলটিএস বা অন্য কোনো ইংরেজি ভাষা পরীক্ষায়, যেমন টোফেল। কিছু দেশে ডুওলিংগো বা মিডিয়াম অব ইন্সট্রাকশন (এমওআই) গ্রহণ করলেও আইইএলটিএস বা টোফেল থাকলে আপনার প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা বাড়ে। তবে সুযোগ না থাকলে ডুওলিংগো বা এমওআই দিয়েও চেষ্টা করতে পারেন। আইইএলটিএস স্কোর ৬.৫ বা তার বেশি হলে স্কলারশিপ পেতে সুবিধা হবে।

বিদেশে জীবন অনেকটা নিজের ওপর নির্ভরশীল। সব কাজ নিজেকেই সামলাতে হয়। তাই মানসিক দৃঢ়তা গুরুত্বপূর্ণ। এজন্যই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আবেদনকারীর লিডারশিপ কোয়ালিটি গুরুত্ব দিয়ে দেখে। যাদের নেতৃত্বগুণ রয়েছে, তারা সাধারণত মানসিকভাবে দৃঢ় হয়, তাদের মাঝে শৃঙ্খলা থাকে, তারা সমস্যা দেখে ভয়ে পালিয়ে না গিয়ে সেটা মোকাবেলা করে বা সমাধানের চেষ্টা করে। তাই আবেদনপত্রে আপনার নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা ফুটিয়ে তুলুন। টিমওয়ার্ক, সামাজিক ও সেবামূলক কার্যক্রম, খেলাধুলা বা বিষয়ভিত্তিক প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ—এসব অভিজ্ঞতা আপনাকে নিশ্চিতভাবে বাড়তি সুবিধা দেবে।

এরপর তথ্য সংগ্রহ ও পরিকল্পনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, বিভিন্ন থার্ড-পার্টি প্ল্যাটফর্ম এবং সোশ্যাল মিডিয়ার উচ্চশিক্ষাবিষয়ক গ্রুপগুলো অনেক সহায়ক। প্রথমে ঠিক করুন কোন প্রোগ্রামে এবং কোন দেশে মাস্টার্স বা পিএইচডি করতে চান। আমার ব্যক্তিগত মত হলো, এক দেশ বা এক প্রোগ্রামে সীমাবদ্ধ না থেকে কয়েকটি দেশ ও প্রোগ্রাম বিবেচনায় রাখলে সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। আমি মনে করি, ইংরেজিভাষী দেশগুলো প্রথম অগ্রাধিকার হতে পারে। ভাষাগত সুবিধা, চাকরির সুযোগ এবং ভবিষ্যতে সেখানে সেটেলমেন্টের সম্ভাবনা থাকে। এরপর ইউরোপের দেশগুলো, তারপর আরব দেশের কথা ভাবা যায়, আর সবশেষে এশিয়ান দেশগুলো। অবশ্য একেকজনের প্রায়োরিটি ভিন্ন হতে পারে।

দেশ ও প্রোগ্রাম ঠিক হয়ে গেলে আপনার প্রোফাইলের সঙ্গে মিল আছে এবার বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করুন। অন্তত ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা করুন। প্রতিটির আবেদনের শেষ তারিখ (ডেডলাইন) নোট করে নিন। কাজটা যত গুছিয়ে করবেন, পুরো যাত্রাটি তত সহজ হবে। এজন্য একটি নোটবুক রাখতে পারেন অথবা গুগল ডকস, শিটস, এক্সেল বা গুগল কিপ ব্যবহার করতে পারেন।

ডেডলাইন মাথায় রেখে স্টেটমেন্ট অব পারপাস (এসওপি), মোটিভেশন লেটার এবং দুই পৃষ্ঠার বেশি নয়—এমন সিভি সুন্দর করে লিখুন। এসবের জন্য ইউটিউব বা গুগলে প্রচুর টিউটোরিয়াল পাওয়া যায়। শিক্ষকদের সঙ্গে আগেই কথা বলে রিকমেন্ডেশন লেটার সংগ্রহ করুন। নিজের সার্টিফিকেটগুলোও গুছিয়ে রাখুন। এরপর যথাসময়ে আবেদন করুন।

যদি ইন্টারভিউ নেওয়া হয়, সেজন্য প্রস্তুতি নিন। ২–৩টি অনলাইন কোর্স করতে পারেন। এক্ষত্রে কোর্সেরা একটি ভালো প্ল্যাটফর্ম। এগুলো সিভিতে যেমন গ্রহণযোগ্যতা বাড়াবে, তেমনি আপনি যে বিষয়ে পড়তে যাচ্ছেন তার বেসিক ধারণা তৈরি করবে এবং ইন্টারভিউতেও কাজে লাগবে।

ইন্টারভিউতে মূলত দেখা হয়, আপনার মোটিভেশন কতটা, সিভিতে দেওয়া অভিজ্ঞতা কতটা সত্যিকার অর্থে আপনার, এবং যে প্রোগ্রামে আবেদন করেছেন সে সম্পর্কে আপনার ধারণা আছে কি না। তাই এগুলো মাথায় রেখে প্রস্তুতি নিলেই যথেষ্ট।

সবশেষে অ্যাডমিশন পেয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসে ভিসার জন্য আবেদন করুন। ভিসা হয়ে গেলে বিমান টিকিট কাটুন, বাসা ঠিক করুন—বিশ্ববিদ্যালয় বা স্থানীয় স্টুডেন্ট কমিউনিটির সাহায্য নিতে পারেন। নির্দিষ্ট দিনে ব্যাগ গুছিয়ে বিমানে উঠে পড়লেই শুরু হবে আপনার নতুন জীবন।

লেখক : সাকলাইন মোস্তাক, পিএইচডি শিক্ষার্থী, যুক্তরাষ্ট্র

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অন্যান্য

আরও দেখুন
ফাইল ছবি
গণমাধ্যমের ওপর নির্লজ্জ হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে : বিরোধীদলীয় নেতা

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছে, গণমাধ্যমের ওপর ‘নির্লজ্জ হস্তক্ষেপ’ করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) মিরপুরে এতিমদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে এ কথা বলেন তিনি। দলীয় কারণে কারো ওপর যেন জুলুম না হয় সেদিকে সরকারকে নজর রাখার আহ্বান জানান শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সরকারি দল ও বিরোধী দল মিলেমিশে দেশ চালাবে। সরকার বিরোধী দলের পরামর্শ না মানলে সংসদে কঠোর প্রতিবাদ গড়ে তোলা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তিনি বলেন, জামায়াত কোনোভাবে স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর হুমকি মেনে নেবে না।

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

সংরক্ষিত আসনে আলোচনায় তানজিন চৌধুরী

ছবি : সংগৃহীত

জামিনে কারামুক্ত আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য

ছবি : সংগৃহীত

বাসাটার জন্য অনেক মায়া লাগছে : আসিফ নজরুল

সাবেক এনসিপি নেতা ডা. তাসনিম জারা | ছবি : সংগৃহীত
পরিবহনমন্ত্রীর বক্তব্যের কঠোর সমালোচনায় তাসনিম জারা

সড়ক পরিবহনমন্ত্রীর চাঁদা আদায়কে ‘সমঝোতা’ বা ‘অলিখিত বিধি’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার প্রেক্ষিতে তীব্র সমালোচনা করেছেন সাবেক এনসিপি নেতা ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা।   তিনি বলেন, মন্ত্রী যাকে সমঝোতা বলছেন, তা বাস্তবে চালকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া একটি অবৈধ প্রক্রিয়া। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক স্ট্যাটাসে পরিবহনমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এসব বলেন জারা।     স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট রুটে গাড়ি চালাতে গেলে চালকদের বাধ্যতামূলকভাবে নির্দিষ্ট সংগঠন বা গোষ্ঠীকে টাকা দিতে হয়। একেই যদি সমঝোতা বলা হয়, তাহলে একটি অনিয়মকে বৈধতার ভাষা দেওয়া হচ্ছে। এর আগে বৃহস্পতিবার সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পরিবহন খাতের চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘সড়কে পরিবহনের চাঁদা যেটা বলা হয়, সেভাবে আমি চাঁদা দেখি না। মালিক সমিতি, শ্রমিক সমিতি আছে, তারা তাদের কল্যাণে এটা ব্যয় করে। এটা অলিখিত বিধির মতো। চাঁদা আমি সেটাকে বলতে চাই, যেটা কেউ দিতে চায় না বা বাধ্য করা হয়। মালিক সমিতি নির্দিষ্ট হারে টাকা তুলে মালিকদের কল্যাণে ব্যবহার করতে চায়। কতটুকু ব্যবহার হয় সেটা নিয়ে হয়ত বিতর্ক আছে। কিন্তু তারা সমঝোতার ভিত্তিতে এ কাজটা করে।’ এদিকে জারা তার স্ট্যাটাসে লিখেন, সড়কের চাঁদা আদায়কে ‘সমঝোতা’ বা ‘অলিখিত বিধি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী। ওনার এই বক্তব্য নিয়ে আমার কিছু মন্তব্য ও প্রশ্ন রয়েছে। মন্ত্রী যেটিকে ‘সমঝোতা’ বলছেন, তা বাস্তবে চালকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া একটি পদ্ধতি। কোনো চালক যখন নির্দিষ্ট রুটে গাড়ি চালাতে যান, তখন তাকে নির্দিষ্ট সংস্থাকে টাকা দিতেই হয়। একে সমঝোতার মোড়ক দেওয়া মানে হলো একটি অনিয়মকে বৈধতার ভাষা দেওয়া। এই অবৈধ লেনদেনের সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের পকেটে। বাসভাড়া বৃদ্ধির অন্যতম কারণ সড়কের এই অলিখিত চাঁদা। পণ্যবাহী ট্রাক থেকে এভাবে টাকা আদায়ের ফলে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বেড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত এই অর্থ পরিশোধ করেন সাধারণ যাত্রী ও ভোক্তাই। সাবেক এই এনসিপি নেত্রী আরও বলেন, মন্ত্রী নিজেই বলেছেন, ‘যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, তাদের আধিপত্য থাকে।’ তাহলে কি আমরা ধরে নেব, এই অর্থ আদায় প্রক্রিয়া রাজনৈতিক ক্যাডারদের পৃষ্ঠপোষকতার একটি মাধ্যম? যদি তা না হয়, তাহলে এর স্বচ্ছ ব্যাখ্যা প্রয়োজন। তিনি স্ট্যাটাসে বলেন, রাস্তায় টাকা তোলা বন্ধ করুন। যদি মালিক বা শ্রমিক সমিতির কল্যাণ তহবিলে অর্থের প্রয়োজন হয়, তাহলে তা আনুষ্ঠানিক ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে আদায় করা হোক। ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বা বার্ষিক রেজিস্ট্রেশন ফি-র সাথে যুক্ত করে এই অর্থ সংগ্রহ করা যেতে পারে। জারা স্ট্যাটাসে লিখেন, সড়কে যে কোটি কোটি টাকা তোলা হচ্ছে, তার পূর্ণাঙ্গ অডিট নিশ্চিত করুন। প্রকাশ করুন এই অর্থ আসলে কার কল্যাণে ব্যয় হচ্ছে? সাধারণ চালক-শ্রমিকের জন্য, নাকি কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তির পকেটে? এই অর্থ শেষ পর্যন্ত আসে সাধারণ মানুষের কাছ থেকেই। এটি চালক বা মালিকের ব্যক্তিগত অর্থ নয়। এটি যাত্রী ও ভোক্তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া ব্যায়। সরকারের দায়িত্ব সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা। আপনারা অনিয়মকে ‘অলিখিত বিধি’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আমাদের হতাশ করবেন না।

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

শিক্ষাক্রম রিভিউ করা হবে: নতুন শিক্ষামন্ত্রী

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিক। ছবি : সংগৃহীত

সদিচ্ছা থাকলে সংসদ থেকেও ভালো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব : শাহদীন মালিক

সংগৃহীত ছবি

চাঁদাবাজির তথ্য জানতে ওয়েবসাইট চালু করেছেন মির্জা ফখরুল

ছবি : সংগৃহীত
স্কুলে শুরু হলো ঈদের ছুটি, কতদিন বন্ধ থাকবে স্কুল

পবিত্র রমজান মাসে স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে রমজানসহ আরও কয়েকটি ছুটি মিলিয়ে মোট ৩৬ দিনের টানা ছুটিতে যাচ্ছে স্কুলগুলো। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রণালয় থেকে নতুন শিক্ষাপঞ্জি প্রকাশ করে এ তথ্য জানানো হয়। বিভিন্ন মহলের আলোচনা ও মতামত পর্যালোচনার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, রমজান মাসের ছুটি বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়ে আগামী ২৬ মার্চ পর্যন্ত চলবে। ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার হওয়ায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীরা ২৮ মার্চ পর্যন্ত মোট ৩৮ দিন ছুটি ভোগ করতে পারবেন। এর আগে রমজান মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার বিষয়টি উচ্চ আদালতে গড়ায়। একজন আইনজীবীর করা রিটের পর হাইকোর্ট বিভাগ স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। পরে সরকার ওই আদেশের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট-এর চেম্বার আদালতে গেলে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করা হয়। ফলে রমজান মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখতে সরকারের বাধা ছিল না। তবে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে শেষ পর্যন্ত স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রমজান মাসে শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় অনুশীলন, ইবাদত-বন্দেগি ও পারিবারিক পরিবেশে সময় দেওয়ার সুযোগ করে দিতেই এ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি গরম আবহাওয়া ও শিক্ষার্থীদের শারীরিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। সূত্র জানায়, নির্ধারিত ছুটির পর যথাসময়ে পাঠদান কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এ সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় একাডেমিক প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য শিক্ষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এদিকে আকস্মিক ছুটির ঘোষণায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও, কেউ পাঠ্যসূচি শেষ করা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পাঠ্যসূচির ঘাটতি পূরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও বিকল্প পরিকল্পনা গ্রহণের কথাও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

ফ্যাসিবাদের সেই অন্ধকার সময়ে আর ফিরতে চাই না : জামায়াত আমির

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ছবি : সংগৃহীত

রমজানের ছুটির ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা আছে : শিক্ষামন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

রোজায় প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ থাকবে

0 Comments