যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ ভূমিধস জয় নিয়ে ক্ষমতায় এলেও দুই বছরের মাথায় পদত্যাগ করলেন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। সোমবার সকালে ডাউনিং স্ট্রিটে স্ত্রী ও কর্মীদের পাশে নিয়ে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি জানান, ব্রিটেনকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তিনি আর সঠিক ব্যক্তি নন। এর মাধ্যমে গত ১০ বছরের মধ্যে ষষ্ঠ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পদত্যাগ করলেন স্টারমার। ফলে বিগত প্রায় দুই শতাব্দীর মধ্যে দেশটিতে এখন সর্বোচ্চ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ঘন ঘন সরকার পরিবর্তনের ঘটনা ঘটছে।
তার পূর্বসূরিদের মতোই স্টারমারও ২০০৮ সালের আর্থিক মন্দার পর থেকে স্থবির হয়ে পড়া জীবনযাত্রার মান নিয়ে জনগণের ক্ষোভ প্রশমন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তার ওপর কোভিড মহামারির মতো বৈশ্বিক ধাক্কার কারণে ফুলেফেঁপে ওঠা জাতীয় ঋণ সরকারের ব্যয় করার ক্ষমতাকে অনেকটাই বেঁধে ফেলেছে। পাশাপাশি অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলায় ব্যর্থতা দেশে গভীর রাজনৈতিক বিভাজন তৈরি করেছে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীদের উত্থান-পতন নিয়ে ‘দ্য ইম্পসিবল অফিস’ বইয়ের লেখক ও ইতিহাসবিদ অ্যান্থনি সেলডন রয়টার্সকে বলেন, লিজ ট্রাস এবং বরিস জনসনের মতো স্টারমারও একটি স্পষ্ট রূপরেখা তৈরি করে জনগণের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস জোগাতে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে ব্রিটেন এখন এক গভীর গর্তে পতিত হয়েছে। স্টারমারের সম্ভাব্য উত্তরসূরির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অ্যান্ডি বার্নহামও যদি ব্যর্থ হন, তবে ব্রিটেনের ভবিষ্যৎ অন্ধকার।
কেমন ছিলেন স্টারমার, বার্নহামের পথ কি সহজ?কেমন ছিলেন স্টারমার, বার্নহামের পথ কি সহজ?
মার্গারেট থ্যাচার এবং টনি ব্লেয়ারের মতো নেতাদের দেশ ব্রিটেন একসময় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত ছিল, যারা সম্মিলিতভাবে ২১ বছর ক্ষমতায় থেকে আধুনিক ব্রিটেনকে নতুন রূপ দিয়েছিলেন। কিন্তু বৈশ্বিক আর্থিক সংকট ব্রিটেনকে মারাত্মকভাবে আঘাত করে, কারণ দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মূলত বিশাল আর্থিক খাতের ওপর নির্ভরশীল ছিল। পরবর্তী সময়ে সরকারি খাতের ব্যয়সংকোচন নীতি দেশকে ভবিষ্যতের সংকটের মুখোমুখি হওয়ার জন্য দুর্বল করে ফেলে।
২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত টনি ব্লেয়ারই ছিলেন শেষ প্রধানমন্ত্রী, যিনি কোনও দলের সমর্থন ছাড়া একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পুরো মেয়াদ পার করেছিলেন। একসময় ব্রিটেন যেখানে ইতালির ঘন ঘন সরকার পরিবর্তন নিয়ে উপহাস করত, আজ তারা ইতালির জর্জিয়া মেলোনির দিকে ঈর্ষার চোখে তাকাচ্ছে, যিনি প্রায় চার বছর ক্ষমতায় থেকে ইতালীয় প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে দীর্ঘতম মেয়াদে সরকারপ্রধান হতে চলেছেন।
ইনস্টিটিউট অব গভর্নমেন্ট (ইফজি) থিংক ট্যাঙ্কের সিনিয়র ফেলো ও সাবেক অর্থ মন্ত্রণালয় কর্মকর্তা জিল রাটার বলেন, মানুষ দেখছে তাদের নিজেদের জীবন বা তাদের সন্তানদের জীবনযাত্রার কোনও উন্নতি হচ্ছে না। এবং এরপর থেকে আসা প্রতিটি সরকারই তা পরিবর্তনে ব্যর্থ বলে মনে হয়েছে।
২০১৬ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষেবা ব্রেক্সিট ভোট দিয়ে ব্রিটেন তার দীর্ঘমেয়াদি পররাষ্ট্রনীতি ভেঙে ফেলে, যা স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা আন্দোলনকে পুনরায় চাঙ্গা করে তোলে। পরবর্তীতে কোভিড-১৯ মহামারি এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসনের আর্থিক প্রতিক্রিয়ায় ব্রিটেনের জাতীয় ঋণ জিডিপির প্রায় ১০০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছে যায়।
সবকিছু কেন অচল?
সাবেক সরকারি উপদেষ্টা স্যাম ফ্রিডম্যান তার সাম্প্রতিক বই ‘ফেইলড স্টেট: হোয়াই নাথিং ওয়ার্কস অ্যান্ড হাউ উই ফিক্স ইট’-এ যুক্তি দিয়েছেন, ব্রিটেন অতিরিক্ত কেন্দ্রীয়করণ এবং এর মূল রাষ্ট্রীয় দফতরগুলো সংকট মোকাবিলা করার জন্য আকারে খুবই ছোট।
তাছাড়া, ইফজি-এর জিল রাটার এবং ১৯৮৩ সাল থেকে পার্লামেন্টে থাকা ব্রিটেনের অন্যতম দীর্ঘমেয়াদি আইনপ্রণেতা রজার গেল মনে করেন, ব্রিটিশ রাজনীতির সংস্কৃতি আরও খারাপ হয়েছে। চব্বিশ ঘণ্টার টেলিভিশন চ্যানেল এবং সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে রাজনীতিবিদরা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছেন। কনজারভেটিভ আইনপ্রণেতা গেল রয়টার্সকে বলেন, প্রচুর আইন তৈরি হচ্ছে, যার বেশিরভাগই খারাপ এবং বাজেভাবে খসড়া করা। আমাদের আরও পরিপক্ক সরকারের প্রয়োজন।
গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দায়িত্ব নিতে পারেন। ক্ষমতা গ্রহণের পর তাকে দ্রুত একটি মন্ত্রিসভা গঠন এবং দেশের জন্য স্পষ্ট রূপরেখা তৈরি করতে হবে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে স্টারমারের কাছে হেরে যাওয়া কনজারভেটিভ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক ‘সান্ডে টাইমস’-এ লিখেছেন, বার্নহামের একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন, তা না হলে, তিনিও আরেকজন প্রধানমন্ত্রী হবেন যিনি রাতে জেগে ভাববেন; কেন কোনও কিছুই কাজ করছে না।
সূত্র: রয়টার্স
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও আলোচক দলের প্রধান মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, হরমুজ প্রণালি আর আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না। এটি আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ইরানের ব্যবস্থাপনাতেই পরিচালিত হবে। সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসান নিয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন। পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। গালিবাফ বলেন, হরমুজ প্রণালি, লেবানন পরিস্থিতি, ইরানের তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের সম্পদ অবমুক্তির বিষয়ে আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সামরিক সাফল্যকে স্থায়ী ও কার্যকর করতে কূটনীতি অপরিহার্য। যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জিত সাফল্য রাজনৈতিক ও আইনগত স্বীকৃতি না পেলে তার পূর্ণ সুফল পাওয়া যায় না। গালিবাফ বলেন, আলোচনা ও দরকষাকষিও সংগ্রামের একটি অংশ। তাই সামরিক ও কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডকে পরস্পরের বিরোধী হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তিনি দাবি করেন, সুইজারল্যান্ডের এই বৈঠক থেকে ইরান গুরুত্বপূর্ণ কিছু অর্জন করেছে এবং ভবিষ্যতে তার প্রভাব আঞ্চলিক রাজনীতিতেও পড়বে।
বিদেশে আটকে থাকা ইরানের ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার ছাড় করতে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ তথ্য জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। তিনি বলেন, সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর এ বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য রপ্তানির ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞাও সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়েছে। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী ১ আগস্ট পর্যন্ত ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের কাজ করার সুযোগ দিতে ইরান সম্মত হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রায় ১৮ ঘণ্টার টানা আলোচনার পর দুই দেশ এ অগ্রগতিতে পৌঁছায়। আলোচনায় কাতার ও পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ছাড় করা অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য কেনার কাজে ব্যবহার করা হবে। তবে এ বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরানকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য কিনতে বাধ্য করা যাবে না। এই অর্থ কীভাবে ব্যয় হবে, সে সিদ্ধান্ত ইরান নিজেই নেবে। সূত্র: আলজাজিরা।
ইরানের তেল রপ্তানির ওপর থেকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির অংশ হিসেবে ৬০ দিনের একটি লাইসেন্স জারি করেছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। এতে আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল ও সংশ্লিষ্ট পণ্য উৎপাদন, বিক্রি এবং সরবরাহের অনুমতি পেল তেহরান। সোমবার (২২জুন) সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক রিসোর্টে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে চলমান ফলপ্রসূ শান্তি আলোচনা পর এই অনুমোদন দেওয়া হলো। নিষেধাজ্ঞা মওকুফের বিষয়টি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, সুইজারল্যান্ডে ইরানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা একটি সফল চূড়ান্ত চুক্তির জন্য ‘ভালো ভিত্তি’ তৈরি হয়েছে। গেল ২৮ ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের হামলা শুরু করে। জবাবে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে দীর্ঘ আলোচনার একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র। এরই অংশ হিসেবে ইরানি তেলের ওপর থেকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া আলোচনায় আরো গতি পাবে বলে জানান বিশ্লেষকরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বেসেন্ট বলেন, ইরান হরমুজ প্রণালীতে অবাধ ও নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই কাঠামোর অংশ হিসেবে ট্রেজারি বিভাগ ৬০ দিনের একটি সাধারণ লাইসেন্স জারি করেছে, যা ইরানি তেলের উৎপাদন, সরবরাহ ও বিক্রির অনুমোদন দেয়। বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, বছরের পর বছর কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে সীমিত হয়ে পড়া তেল রপ্তানির সুযোগ পুনরুদ্ধার হওয়ায় এটি ইরানের অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের স্বস্তি বয়ে আনতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের আলোচকরা হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ সংকট কমানোর লক্ষ্যে ইরানকে রাজি করাতে এই ছাড়ে সম্মত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এর ফলে আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত ইরানের অপরিশোধিত তেল ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের উৎপাদন, বিক্রি এবং পরিবহনের ক্ষেত্রে আগে থেকে কার্যকর থাকা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় নিষিদ্ধ লেনদেনগুলো সাময়িকভাবে অনুমোদিত থাকবে।