সৌদি আরব তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে সরে এসে খনিজ সম্পদভিত্তিক নতুন কৌশলের দিকে জোর দিচ্ছে। রিয়াদের দাবি, দেশটির মরুভূমির গভীরে প্রায় ২ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের খনিজ সম্পদ রয়েছে—যেখানে সোনা, তামা ও লিথিয়ামের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ‘রেয়ার আর্থ’সহ বিভিন্ন বিরল উপাদানের উপস্থিতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এসব খনিজ বৈদ্যুতিক গাড়ি, উইন্ড টারবাইন ও উন্নত কম্পিউটিং/এআই চিপ তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয় বলে সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষণে বলা হয়েছে।
এই সম্ভাব্য খনিজ ভাণ্ডার কাজে লাগাতে আগামী এক দশকে প্রায় ১১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ—এমন তথ্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক বাজারে বিরল খনিজের উত্তোলন ও শোধনাগারে চীনের প্রভাব বড় হওয়ায় পশ্চিমা দেশগুলোর দীর্ঘদিনের উদ্বেগ রয়েছে; সৌদির এ উদ্যোগ বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
এ প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবে বিরল খনিজ শোধনাগার (রিফাইনারি) স্থাপনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়–সমর্থিত উদ্যোগসহ একাধিক যৌথ প্রকল্পের খবরও প্রকাশিত হয়েছে। এসব প্রকল্পের লক্ষ্য হিসেবে চীনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নতুন প্রসেসিং সক্ষমতা গড়ে তোলার বিষয়টি সামনে এসেছে।
তবে খনি উন্নয়ন ও খনিজ প্রক্রিয়াজাতকরণ দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল উদ্যোগ—সম্পূর্ণ অবকাঠামো দাঁড়াতে বহু বছর সময় লাগতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ সতর্ক করছে। একই সঙ্গে পরিবেশগত ঝুঁকি, পানি-সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে বলেও বিশ্লেষণে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, ডিজিটাল ডেটাবেইস ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ জোরদার করে খনিজ খাতকে অর্থনীতির নতুন ভিত্তি হিসেবে দাঁড় করানোই তাদের লক্ষ্য। পর্যবেক্ষকদের মতে, উদ্যোগটি সফল হলে এটি কেবল সৌদির ‘ভিশন’ভিত্তিক অর্থনৈতিক রূপান্তর নয়—বিশ্বের ক্রিটিক্যাল মিনারেলস সরবরাহ শৃঙ্খলও নতুনভাবে সাজিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মনে করছে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে তেহরান। সিএনএনের প্রতিবেদনে দুইটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, তেহরান এখন চাইলে যে কোনও সময় এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ করার সক্ষমতা অর্জন করেছে। এর ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব বিস্তারের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার পেয়েছে ইরান। শুক্রবার তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রত্যাশার মধ্যেই এই মূল্যায়ন সামনে এলো। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুক্তিটির মূল লক্ষ্য হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা। একই সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা ও নিষেধাজ্ঞা শিথিলসহ পরবর্তী আলোচনার শর্ত হিসেবেও বিষয়টি বিবেচিত হচ্ছে। তবে গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, সংঘাত চলাকালে ইরান দেখিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তারা হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারে এবং প্রয়োজন হলে পুরো নৌ চলাচল বন্ধ করে দিতে সক্ষম। সিএনএন আরও জানিয়েছে, যুদ্ধের সময় উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করার সক্ষমতাও প্রদর্শন করেছে ইরান। একটি সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ভবিষ্যৎ আলোচনায় এটি তেহরানের জন্য আরও একটি কৌশলগত চাপ প্রয়োগের উপায় হয়ে উঠতে পারে। মার্কিন এক শীর্ষ কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা এবং সমঝোতায় গ্রহণ করা অন্যান্য প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করলে ইরান এই চুক্তি থেকে কোনও সুবিধা পাবে না। তিনি সম্ভাব্য সুবিধাগুলোর বিস্তারিত জানাননি। তবে বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হলে যুক্তরাষ্ট্রও ধীরে ধীরে তাদের অবরোধমূলক ব্যবস্থা কমাবে। ওই কর্মকর্তা বলেন, ইরান প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করলে ছাড় মিলবে এবং পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বজায় থাকবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উভয় পক্ষ জলপথ পুনরায় খুলে দেওয়া এবং বর্তমান সংঘাতের অবসানে একমত হয়েছে বলে মনে হলেও, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা ভেঙে গেলে ইরান অর্থনৈতিকভাবে পারমাণবিক বিকল্প বিবেচনা করছিল। এই পরিকল্পনার আওতায় ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত প্রধান মিত্র হুথিদের ব্যবহার করে বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করার চেষ্টা করা হতে পারে। লোহিত সাগর ও ভারত মহাসাগরকে সংযুক্তকারী এই জলপথও বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকাকালে এটি আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এদিকে সোমবার জি-৭ সম্মেলনে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে বৈঠকের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালি ইতোমধ্যে আংশিকভাবে খুলে গেছে এবং শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে সমঝোতা স্মারকে সই করলে এটি পুরোপুরি উন্মুক্ত হবে। ট্রাম্প বলেন, তারা ইতোমধ্যে শনাক্ত হওয়া কয়েকটি মাইন খুঁজে বের করার কাজ করছে। তবে জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। শুক্রবার এটি পুরোপুরি খুলে যাবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের খুব বেশি সহায়তার প্রয়োজন হবে না। কারণ আমাদের এমন একটি চুক্তি হয়েছে, যার অধীনে প্রণালিটি খোলা থাকবে এবং সেখানে কোনও টোল থাকবে না। এ বিষয়টি নিয়ে কিছুটা মতবিরোধ ছিল, তবে এটি টোলমুক্ত থাকবে। তবে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া এবং অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি কমানোর পরও ইরানকে একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া থেকে কীভাবে বিরত রাখা হবে, সে বিষয়ে ট্রাম্প কোনও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি। সূত্র: উইয়ন নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের লনে গত সপ্তাহের শেষে আয়োজিত ‘আলটিমেট ফাইটিং চ্যাম্পিয়নশিপ’ (ইউএফসি) মিক্সড মার্শাল আর্ট অনুষ্ঠানে এক পরিকল্পিত হামলা নস্যাতের দাবি করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। গতকাল মঙ্গলবার এ দাবি করে তারা। আদালতের নথিতে জানা গেছে, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আদালতের নথিতে এফবিআই অভিযোগ করেছে, হামলাকারীরা বিস্ফোরক ভর্তি ড্রোন ব্যবহার করে হোয়াইট হাউসের উত্তর পাশে আঘাত করার পরিকল্পনা করেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল, সেখানে উপস্থিত অতিথিদের একটি নির্দিষ্ট বের হওয়ার রাস্তার (এক্সিট) দিকে ঠেলে দেওয়া। এরপর সেই রাস্তা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় রাজনীতিবিদ ও অন্যান্য মানুষের ওপর স্নাইপারদের (উন্নত রাইফেলধারী বন্দুকধারী) দিয়ে গুলি চালানো। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদ্যাপনের অংশ হিসেবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ৮০তম জন্মদিনে এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তাঁর সঙ্গে বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা, অনুদানকারী এবং প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত এ পাঁচ ব্যক্তি সরকারবিরোধী বিভিন্ন ষড়যন্ত্রতত্ত্বে বিশ্বাসী বলে মনে হচ্ছে। কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনসংক্রান্ত তদন্তের ফাইলগুলো যেভাবে সামলানো হয়েছে, তা নিয়ে ক্ষোভ থেকেও তাঁরা এ হামলায় আংশিকভাবে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন। নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন এমন আইনপ্রণেতাদের নিশানা বানানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন, যাঁরা ইসরায়েলপন্থী গোষ্ঠীগুলোর কাছ থেকে নির্বাচনী প্রচারণার অনুদান পেয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এফবিআই পরিচালক ক্যাশ প্যাটেল বলেন, ‘১০ জুন এফবিআই ও আমাদের সহযোগী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ওয়াশিংটন ডিসির “ইউএফসি আমেরিকা ২৫০” অনুষ্ঠানে একটি সম্ভাব্য হুমকির বিষয়ে জানতে পারে। এই ঘটনার সঙ্গে ন্যাশনাল ক্যাপিটাল রিজিয়নের বাইরের কিছু ব্যক্তি জড়িত ছিলেন।’ হেফাজতে নেওয়া পাঁচজনের মধ্যে অন্তত তিনজনের বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অন্যান্য অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র ও অস্ত্রসংক্রান্ত অপরাধ। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা এখনো আদালতে নিজেদের দোষী বা নির্দোষ হওয়ার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেননি। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের আইনজীবীদের কোনো তথ্যও পাওয়া যায়নি। ফক্স নিউজ ডিজিটাল জানিয়েছে, এ গোষ্ঠীতে ২৩ জনের মতো জড়িত থাকতে পারেন। কর্তৃপক্ষ এ ষড়যন্ত্রের কথা জানতে পারে যখন ওহাইও অঙ্গরাজ্যের স্থানীয় পুলিশকে এক মা ফোন করেন। ১৯ বছর বয়সী সন্দেহভাজন টাইসেন প্রপারের মা পুলিশকে জানান, তাঁর ছেলে বেশ কিছু অস্ত্র কিনেছে এবং অনলাইনে সন্দেহভাজন কিছু মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। এফবিআই-এর একটি হলফনামা অনুযায়ী, টাইসেন প্রপার পরে এফবিআই এজেন্টদের কাছে স্বীকার করেছেন যে ইউএফসি অনুষ্ঠানে একটি সমন্বিত হামলার পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি জানতেন। এদিকে ফ্রান্সের এভিয়ানে জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে থাকা ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি এ পরিকল্পিত হামলার বিষয়ে কিছু শোনেননি। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, কর্তৃপক্ষ এ ধরনের সহিংসতার পেছনের আন্ডারগ্রাউন্ড বা গোপন নেটওয়ার্কগুলো খতিয়ে দেখার চেষ্টা করছে। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘মোটা অঙ্কের অর্থায়ন এবং বড় ধরনের সমন্বয় ছাড়া ২৩ জন ওয়াশিংটন ডিসির মতো জায়গায় এত বড় একটি সন্ত্রাসী হামলা চালানোর পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেন না।’ ভ্যান্স আরও বলেন, ‘এটি শুধু কয়েকজন উগ্র মানুষের পাগলামি নয়, এটি ছিল একটি সুসমন্বিত ও পরিকল্পিত সন্ত্রাসী ষড়যন্ত্র।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চক্তি ঘোষণার পরও লেবাননে থামছে না ইসরাইলি হামলা। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে একাধিক ড্রোন হামলা চালিয়েছে দখলদার ইসরাইলি বাহিনী। এতে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরান ইসরাইলকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। বলেছে, দক্ষিণ লেবাননে হামলা বন্ধ না করলে ইসরাইলকে কঠোর জবাব দেবে ইরান। আলজাজিরার প্রতিবেনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনা চলার মধ্যেই লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের নাবাতিয়েহ গভর্নরেটে একাধিক ইসরাইলি হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। লেবাননের জাতীয় বার্তাসংস্থা (এনএনএ) এ তথ্য জানিয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) মাইফাদুন এলাকায় দুটি গাড়ি লক্ষ্য করে পৃথক ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। একই সময়ে শৌকিন গ্রামেও আরেকটি গাড়িতে হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘ ও নাজুক আলোচনার পুরো সময়জুড়ে ইরানি কর্মকর্তারা বারবার বলে আসছিলেন, যে কোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে লেবাননে ইসরাইলি হামলা বন্ধ করতে হবে। যদিও সমঝোতা স্মারকের (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) বিস্তারিত ও চূড়ান্ত বিবরণ এখনও প্রকাশ করা হয়নি, তবে সংঘাতে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ গত সোমবার বলেছেন, ওই চুক্তিতে ‘লেবাননসহ সব ফ্রন্টে’ সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও মঙ্গলবার বলেন, দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের অব্যাহত দখলদারিত্ব ওই চুক্তির লঙ্ঘন হবে। তিনি বলেন, ‘এই যুদ্ধে দখল করা এলাকা থেকে ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহার না হলে যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ হয়েছে বলা যাবে না।’ ইরানের শীর্ষ যৌথ সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সও সতর্ক করেছে, দক্ষিণ লেবাননে হামলা বন্ধ না করলে ইসরাইলকে ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। এদিকে লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। লেবাননে যুদ্ধ বন্ধ করতে, ঘরবাড়ি ধ্বংস করা বন্ধ করতে এবং দখল করা লেবাননের ভূখণ্ড থেকে সেনা প্রত্যাহারে ইসরাইলকে বাধ্য করছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতার ঘোষণা আসার পরপরই ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের দখলদারিত্ব অব্যাহত থাকবে। বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ বলেছে, ইরান তাদের আশ্বস্ত করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরবর্তী দফার আলোচনায় তেহরান লেবানন থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করবে। প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২ মার্চ পুনরায় সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর থেকে লেবাননে ইসরাইলি হামলায় অন্তত তিন হাজার ৮২৬ জন নিহত এবং ১১ হাজার ৮৫১ জন আহত হয়েছেন বলে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।