জাতীয়

দেশ পুনর্গঠনে কোনো বাধা মানবে না সরকার: প্রধানমন্ত্রী

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে তার সরকার কোনো বাধা মেনে নেবে না। জনগণের সমর্থন থাকলে বিএনপি দেশকে এগিয়ে নেওয়ার কাজে দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোরে ফ্যামিলি কার্ডধারী নারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এই দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই, সামনে এগিয়ে নিতে চাই। বিএনপির সব রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস জনগণ। যতদিন জনগণের সমর্থন বিএনপির সঙ্গে থাকবে, ততদিন কোনো বাধা আমাদের থামাতে পারবে না।’ দল-মত, ধর্ম ও শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণে দেশকে এগিয়ে নেওয়াই সরকারের লক্ষ্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

 

সভায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উপকারভোগীদের অভিজ্ঞতাও শোনেন প্রধানমন্ত্রী। পারুল আখতার নামে এক নারী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার পর তার সংসারের অভাব অনেকটাই কমেছে এবং তিনি এর সুফল পাচ্ছেন। ভবিষ্যতেও এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

 

এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ বোনদের কাছ থেকে শুনলাম, ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার পর তাদের সংসার পরিচালনায় কিছুটা হলেও স্বস্তি এসেছে। আমাদের লক্ষ্যই হচ্ছে দেশের মা-বোনদের জীবনমানের উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো।’

 

দেশের প্রতিটি নারীর হাতে ধাপে ধাপে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে সরকারের পাশাপাশি জনগণের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নারী সমাজ যদি সরকারের পাশে থাকে, তাহলে আমরা পর্যায়ক্রমে সারা দেশে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে পারব। এই কর্মসূচির মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। নারীরা যেমন শিক্ষায় এগিয়ে যাবেন, তেমনি অর্থনৈতিকভাবেও আরও শক্তিশালী হবেন।’

 

সরকারের উন্নয়ন দর্শন তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘করব কাজ, গড়ব দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ। সবার জন্য একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।’

 

ধর্মীয় সম্প্রীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষ যুগ যুগ ধরে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছে। ভবিষ্যতেও কোনো ধরনের বিভেদ নয়, মানবিকতার ভিত্তিতে সবাইকে সঙ্গে নিয়েই দেশ পুনর্গঠন করতে চায় সরকার।

 

অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। গৌরনদীর কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী বরিশাল নগরের উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে সিটি করপোরেশন এলাকার ত্রিশ গোডাউন বধ্যভূমি-সংলগ্ন সাগরদী খালপাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের সঙ্গে ৩৪ দেশের ভিসা অব্যাহতি চুক্তি, সুবিধা পাবেন যেসব পাসপোর্টধারী

বাংলাদেশের সঙ্গে বর্তমানে ৩৪টি দেশের ভিসা অব্যাহতি চুক্তি রয়েছে। তবে সব দেশের ক্ষেত্রে একই ধরনের সুবিধা প্রযোজ্য নয়। ৩১টি দেশের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্তে কূটনৈতিক ও সরকারি পাসপোর্টধারীরা ভিসা ছাড়াই ভ্রমণ করতে পারেন। দুটি দেশের ক্ষেত্রে শুধু কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের জন্য এই সুবিধা রয়েছে। আর একটি দেশের ক্ষেত্রে সব ধরনের পাসপোর্টধারী ভিসা ছাড়াই ভ্রমণ করতে পারেন।   সোমবার (২৪ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহির্গমন শাখা-২ থেকে প্রকাশিত তালিকায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। চলতি বছরের ১ জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান ভিসা অব্যাহতি চুক্তির ভিত্তিতে তালিকাটি তৈরি করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও বাংলাদেশের সঙ্গে ভিসা অব্যাহতি চুক্তিতে আবদ্ধ দেশগুলোর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।   স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকা অনুযায়ী, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, মিয়ানমার, চিলি, লাওস, বেলারুশ, কম্বোডিয়া, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, কুয়েত, রাশিয়া, শ্রীলঙ্কা, তুরস্ক, ভারত, চীন, ব্রুনেই, ওমান, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল, কাতার, বতসোয়ানা, কসোভো, দক্ষিণ কোরিয়া, সার্বিয়া, আর্জেন্টিনা, কাজাখস্তান, থাইল্যান্ড, তিমুর-লেস্তে, গাম্বিয়া, পাকিস্তান ও মঙ্গোলিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক ও সরকারি পাসপোর্টধারীদের ভিসা অব্যাহতি চুক্তি রয়েছে। তবে এসব দেশের ক্ষেত্রে চুক্তির শর্ত, কার্যকারিতা ও অবস্থানের মেয়াদ এক নয়।   জাপান ও উজবেকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের ভিসা অব্যাহতি চুক্তি শুধু কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের জন্য প্রযোজ্য। তবে তালিকায় উজবেকিস্তানের চুক্তিকে এখনো প্রস্তাবিত ভিসা ওয়েভার অ্যাগ্রিমেন্ট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর দুই দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হলেও এটি এখনো কার্যকর হয়নি।   মালদ্বীপের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নাগরিকদের সব ধরনের পাসপোর্টের জন্য ভিসা অব্যাহতি সুবিধা রয়েছে। তবে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে মালদ্বীপে গেলে এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে না। দক্ষিণ কোরিয়া ও মালদ্বীপের ক্ষেত্রে দুই দেশের নাগরিকরা সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত ভিসা ছাড়া অবস্থান করতে পারেন।   চুক্তি অনুযায়ী দেশভেদে ভিসা ছাড়া অবস্থানের মেয়াদ ভিন্ন।  সিঙ্গাপুরের সঙ্গে চুক্তিতে ৯০ দিন, ভিয়েতনাম, মিয়ানমার, চিলি, তুরস্ক, লাওস ও বেলারুশের সঙ্গে ৯০ দিন পর্যন্ত থাকার সুযোগ রয়েছে। ভারতীয় কূটনৈতিক ও সরকারি পাসপোর্টধারীদের জন্য এই মেয়াদ ৪৫ দিন।    এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, রাশিয়া, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, ব্রুনেই, ওমান, সার্বিয়া, ব্রাজিল, কাতার, কসোভো, বতসোয়ানা, আর্জেন্টিনা, কাজাখস্তান ও পাকিস্তানের সঙ্গে চুক্তিতে সাধারণত ৩০ দিনের ভিসা অব্যাহতি সুবিধা রয়েছে।   চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক, সরকারি ও সাধারণ সরকারি চাকরির পাসপোর্টধারীদের জন্য পারস্পরিক ভিসা অব্যাহতি চুক্তি রয়েছে। সেখানে অবস্থানের নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি।   স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকায় কয়েকটি চুক্তিকে ‘প্রস্তাবিত ভিসা ওয়েভার অ্যাগ্রিমেন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   তিমুর-লেস্তের সঙ্গে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর চুক্তি স্বাক্ষর হলেও এটি এখনো কার্যকর হয়নি। মঙ্গোলিয়ার সঙ্গে ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর এবং উজবেকিস্তানের সঙ্গে একই বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর চুক্তি স্বাক্ষর হলেও এসব চুক্তিও এখনো কার্যকর হয়নি।   গাম্বিয়ার সঙ্গে ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ কূটনৈতিক ও সরকারি পাসপোর্টধারীদের জন্য পারস্পরিক ভিসা অব্যাহতি চুক্তি স্বাক্ষর হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরে গাম্বিয়ার সঙ্গে চুক্তি কার্যকর ও বাস্তবায়নের বিষয়ে নোটিশও প্রকাশ করেছে।   অন্যদিকে, পাকিস্তানের সঙ্গে ২০২৫ সালের ২৪ আগস্ট ঢাকায় স্বাক্ষরিত চুক্তিতে কূটনৈতিক ও সরকারি পাসপোর্টধারীদের জন্য ৩০ দিনের ভিসা অব্যাহতির সুবিধা রয়েছে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আলাদা নোটিশও প্রকাশ করেছে।    ভিসা অব্যাহতি মানেই সব বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য ভিসা ছাড় নয়। বেশিরভাগ চুক্তিই কূটনৈতিক ও সরকারি পাসপোর্টধারীদের জন্য। সাধারণ বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের ক্ষেত্রে কোন দেশে ভিসা লাগবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট দেশের নিজস্ব ভিসানীতি অনুযায়ী আলাদাভাবে যাচাই করতে হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সংসদে দায়িত্ব পালন করবেন ৩ মন্ত্রী

৫ কেজি কুশসহ শাহজালালে দুই ভারতীয় গ্রেফতার

রোহিঙ্গাদের ঢল নেমেছিল ৯ বছর আগে: প্রত্যাবাসন এখনও দুঃস্বপ্ন

সরকার ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ স্টার্টআপ তহবিল গঠন করেছে : মাহবুব আনাম

তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাণিজ্যিকভাবে রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ স্টার্টআপ তহবিল গঠন করেছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেছেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের শক্তিশালী, জ্ঞানভিত্তিক ও উদ্ভাবননির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাত, শিল্পোদ্যোক্তা, গবেষক ও বিনিয়োগকারীদের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন।   সোমবার (২৪ আগস্ট) ঢাকার শেরাটন হোটেলের গ্র্যান্ড হলরুমে ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যে উদ্ভাবনভিত্তিক ইকোসিস্টেম উন্নয়ন’ শীর্ষক নেটওয়ার্কিং সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তর পর্বের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। শুধু প্রচলিত পণ্য ও সেবার উৎপাদন বাড়ালেই বৈশ্বিক বাজারে দেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখা সম্ভব হবে না। এ জন্য উচ্চ মূল্যসংযোজনী শিল্পের বিকাশ এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।   তিনি বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও তরুণ উদ্যোক্তারা নিয়মিত নতুন নতুন উদ্ভাবন নিয়ে কাজ করছেন। তবে প্রযুক্তি হস্তান্তর, নিয়ন্ত্রক অনুমোদন, মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের নানা সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক উদ্ভাবন সফলভাবে ব্যবসায়িক পর্যায়ে যেতে পারছে না। এই বিচ্ছিন্নতা দূর করতে সরকার উদ্ভাবক, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী ও সরকারি সংস্থাগুলোকে যুক্ত করে একটি ‘এন্ড-টু-এন্ড ইনোভেশন ইকোসিস্টেম’ গড়ে তুলছে।   উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, কেবল সরকারের পক্ষে এ কাজ করা সম্ভব নয়। সরকার প্রয়োজনীয় নীতিগত কাঠামো ও সহায়ক পরিবেশ তৈরি করবে। তবে উদ্ভাবনের বাণিজ্যিকীকরণ, বিনিয়োগ এবং নতুন প্রযুক্তি গ্রহণে প্রধান ভূমিকা বেসরকারি খাতকেই নিতে হবে।   বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি দেশীয় শিল্পোদ্যোক্তাদেরও অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সিলেট, রাজশাহী ও যশোরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় স্থাপিত হাই-টেক ও ইনোভেশন পার্কগুলোতে আধুনিক অবকাঠামো ও জমি প্রস্তুত রয়েছে। এসব পার্কে নতুন শিল্প স্থাপনে দেশীয় উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসা উচিত।   এদিকে, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্য সামনে রেখে আগামী ১২ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার নভোথিয়েটারে অনুষ্ঠিত হবে ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’। মেলা ও সংশ্লিষ্ট আয়োজনে উদ্ভাবক, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়, স্টার্টআপ, শিল্প খাত, বিনিয়োগকারী ও নীতিনির্ধারকদের এক প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   সভায় সভাপতিত্ব করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এর লক্ষ্য হলো উদ্ভাবক, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়, স্টার্টআপ, শিল্প খাত, বিনিয়োগকারী ও নীতিনির্ধারকদের এক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা। এর মাধ্যমে প্রযুক্তির বাণিজ্যিকীকরণ ত্বরান্বিত করা, টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা এবং জাতীয় উদ্ভাবন ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   সভায় এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হক, ব্যবসায়ী নেতা তপন চৌধুরী, বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খানসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ২৪, ২০২৬

ওসমান হাদি হত্যা মামলা: অস্ত্র বিক্রেতা মাজেদুলকে জামিন দেননি হাইকোর্ট

ঈদ-ই মিলাদুন্নবীর অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব ইউনুস আলী

ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত ও কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষমতা পাচ্ছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)।
ফৌজদারি তদন্তে এপিবিএনের ক্ষমতা অনুমোদন মন্ত্রিসভার

ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত ও কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষমতা পাচ্ছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। এজন্য ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইন, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।   সোমবার (২৪ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘দ্য আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নস অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৯’-এর অধীনে গঠিত এপিবিএনকে অধিক জনবান্ধব করার লক্ষ্যে বিদ্যমান অধ্যাদেশটি যুগোপযোগী করে বাংলায় ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইন, ২০২৬’-এর খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি জনমত যাচাইয়ের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।   প্রস্তাবিত আইনে বিদ্যমান অধ্যাদেশটি রহিত করার বিধান রাখা হয়েছে। তবে ওই অধ্যাদেশের অধীনে সম্পাদিত কার্যক্রমের হেফাজতের বিধান থাকছে।     খসড়া আইন অনুযায়ী, পুলিশ বাহিনীর অধীন এ ব্যাটালিয়ন পুলিশের একজন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে।   এপিবিএনকে জননিরাপত্তা রক্ষা, ভিআইপি ব্যক্তিদের নিরাপত্তা, সরকার ঘোষিত স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা এবং সন্ত্রাস, মাদক, মানবপাচার, ধর্ষণ ও মানবতাবিরোধী কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করবে এ ব্যাটালিয়ন।   প্রস্তাবিত আইনে ফৌজদারি কার্যবিধি ও প্রচলিত অন্যান্য আইন প্রতিপালন সাপেক্ষে এপিবিএনের সদস্যদের ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত ও কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া আইনে বিশেষ আদালত ও সংক্ষিপ্ত আদালত গঠন এবং বিচার পদ্ধতির বিধান রাখার প্রস্তাব আছে।     মন্ত্রিসভা বৈঠকে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইন, ২০২৬’-এর খসড়াটি লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

মারিয়া রহমান আগস্ট ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

চলতি অর্থবছরে ৩.৬৫ লাখ টন সার আমদানি করবে সরকার

ছবি: সংগৃহীত

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আগ্রহী বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

গণমাধ্যমে অন্যায় পদক্ষেপ হলে বিরোধী দলকে প্রতিবাদের আহ্বান সম্পাদকদের

0 Comments