ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ শুরুর প্রেক্ষিতে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগমনী বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ছয়টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ এয়ারফিল্ড ও ফ্লাইট ইনফরমেশন রিজিয়ন (এফআইআর) সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের নির্ধারিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
তবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিজি-১২২ (মাস্কাট-চট্টগ্রাম-ঢাকা) ওমানের মাস্কাট থেকে স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় চট্টগ্রামের উদ্দেশে সফলভাবে উড্ডয়ন করেছে।
চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বাতিল হওয়া বহির্গমণ ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এর ফ্লাইট বিজি-১৪৭ (ঢাকা-চট্টগ্রাম-দুবাই), যার চট্টগ্রাম থেকে সম্ভাব্য ছাড়ার সময় ছিল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিট। একই সংস্থার ফ্লাইট বিজি-১৫১ (ঢাকা-চট্টগ্রাম-শারজাহ), যার সম্ভাব্য ছাড়ার সময় ছিল সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিট। এছাড়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিএস-৩৩৩ (ঢাকা-চট্টগ্রাম-দোহা), যা সন্ধ্যা ৫টা ২৫ মিনিটে চট্টগ্রাম ত্যাগ করার কথা ছিল, সেটিও বাতিল করা হয়েছে।
আগমনী ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বাতিল হয়েছে- এয়ার আরাবিয়ার ফ্লাইট জি৯-৫২০ (শারজাহ-চট্টগ্রাম), ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিএস-৩৪৪ (দুবাই-চট্টগ্রাম) এবং সালাম এয়ারের ফ্লাইট ওভি-৪০৩ (মাস্কাট-চট্টগ্রাম)। সংশ্লিষ্ট দেশগুলো থেকে এসব ফ্লাইটের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী যাত্রা সম্ভব হয়নি।
জনসংযোগ কর্মকর্তা জানান, উল্লেখিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটগুলো বজায় রাখার জন্য স্ব স্ব এয়ারলাইন্সসমূহ কাজ করছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
হজ ইস্যুতে আলোচনার জন্য সম্প্রতি ঢাকাস্থ সৌদি দূতাবাসে গিয়ে দেশটির রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়াহর সঙ্গে বৈঠক করেছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। স্বাগতিক দেশের একজন মন্ত্রীর সরাসরি বিদেশি দূতাবাসে গিয়ে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক করার এ ঘটনায় কূটনৈতিক অঙ্গনে অলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। বর্তমান ও সাবেক কূটনীতিকরা বলছেন প্রটোকল ও কূটনৈতিক শিষ্টাচার অনুযায়ী এটি ‘নজিরবিহীন’ ঘটনা। তারা বলছেন, কূটনৈতিক রীতি অনুযায়ী কোনো দাপ্তরিক বা স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনার প্রয়োজন হলে বিদেশি রাষ্ট্রদূতদেরই মন্ত্রীর কার্যালয়ে আসার কথা; মন্ত্রীর রাষ্ট্রদূতের কাছে যাওয়ার রীতি নেই। ‘মহৎ উদ্দেশ্যে’ হলেও প্রথা ভেঙে এভাবে বিদেশি দূতাবাসে গিয়ে সাক্ষাৎ করা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে দেশের অবস্থান দুর্বল করে। ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৭ সালের হজে বাংলাদেশের জন্য ‘ব্যাকআপ আবাসন’ ১ শতাংশ বহাল রাখার অনুরোধ জানাতে গত ২০ জুলাই রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত সৌদি দূতাবাসে যান ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ। সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় আবাসন ২ শতাংশ নির্ধারণ করায় হজের খরচ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, যা রোধ করতে মন্ত্রী সৌদি রাষ্ট্রদূত আবিয়াহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রচলিত কূটনৈতিক প্রথা অনুযায়ী, বিশেষ প্রয়োজনে বৈঠকের প্রয়োজন হলে স্বাগতিক দেশের মন্ত্রীর দপ্তরে বিদেশি দূতদের আমন্ত্রণ জানানো বা ডেকে পাঠানোই নিয়ম। বিশেষ ক্ষেত্রে তৃতীয় কোনো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আলোচনা হতে পারে। কিন্তু কোনো বিদেশি দূতাবাসে গিয়ে স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করা একচন মন্ত্রীর জন্য কূটনৈতিক প্রটোকল অনুযায়ী শোভন নয়। এ ছাড়া ‘রুলস অব বিজনেস’ অনুযায়ী কোনো বিদেশি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক বা সাক্ষাতের বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানাতে হয়। এরপর মন্ত্রণালয় কূটনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রেখে প্রাসঙ্গিক যোগাযোগ কীভাবে সম্পাদন করা যায় সে সিদ্ধান্ত নেয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ধর্মমন্ত্রী সৌদি দূতাবাসে যাবেন বা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলাপ করবেন, এ ধরনের কোনো তথ্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়নি। মন্ত্রণালয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানতে পেরেছে, এ ধরনের একটি বৈঠক হয়েছে এবং হজ সংক্রান্ত বিষয়ে আলাপ হয়েছে। ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ বর্তমানে দেশের বাইরে থাকায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কয়েকজন কর্মকর্তার কাছে বক্তব্য জানতে চাইলে তারাও কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি। সরকারের এক কূটনীতিক বলেন, একজন মন্ত্রী যখন বিদেশি দূতাবাসে গিয়ে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দেখা করেন, সেটা প্রটোকল অনুযায়ী শোভন নয়। কূটনৈতিক একটি প্রটোকল আছে, সেটা মানা উচিত। যত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ই হোক, রাষ্ট্রদূত যদি মন্ত্রীর অফিস বা অন্য কোনো ভেন্যুতে দেখা করতেন, তবে সমস্যা হতো না। অফিশিয়াল বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনার জন্য মন্ত্রীর রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দূতাবাসে গিয়ে বৈঠক করা খুবই বেমানান এবং কূটনৈতিক যে প্রটোকল আছে তার বিচ্যুতি। মন্ত্রী গিয়ে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দেখা করেছেন, লবিং করছেন, এটা তো নজিরবিহীন ঘটনা! এ কূটনীতিক আরও বলেন, একজন মন্ত্রী চাইলে বিদেশি দূতাবাসের জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে যেতে পারেন, শোক বইয়ে স্বাক্ষর করতে যেতে পারেন, চ্যান্সারি ভবন উদ্বোধন বা কোনো রাষ্ট্রদূতের বাসায় আমন্ত্রণ জানালেও যেতে পারেন। কিন্তু দূতাবাসে গিয়ে দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বৈঠক করতে পারেন না। এগুলো কূটনৈতিকভাবে আমাদের দুর্বল করে। আরেক কূটনীতিক বলেন, মন্ত্রী হাজিদের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে কথা বলতে গেছেন। বাংলাদেশিদের স্বার্থ নিয়ে আলাপ করতে দূতাবাসে গেছেন। এই আলাপটা ওনার দপ্তরে হতে পারত। মন্ত্রী হয়তো মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে গেছেন, কিন্তু আমাদের প্রটোকলটা মাথায় রাখতে হবে। একজন মন্ত্রী যখন বিদেশি দূতাবাসে গিয়ে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দেখা করেন, সেটা প্রটোকল অনুযায়ী শোভন নয়। সংশ্লিষ্টরা মন্ত্রীকে এই বার্তা দিতে পারতেন, মনে করিয়ে দিতে পারতেন। নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে সাবেক এক রাষ্ট্রদূত বলেন, সাধারণত নিয়ম হলো, যে দেশে রাষ্ট্রদূতরা থাকবেন তারা এসে মন্ত্রী বা সচিবের সঙ্গে দেখা করবেন। যদি অফিশিয়াল কোনো বিষয় হয় তাহলে রাষ্ট্রদূতরা এসে দেখা করবেন এবং সেটা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানিয়ে করা হয়। যদি সোশ্যাল কোনো প্রোগ্রাম হয়, সেখানে যেতে বাধা নেই। অফিসিয়াল কোনো আলাপ থাকলে সেটা অফিসে হওয়া উচিত। কিন্তু কোনো মিশনে গিয়ে মন্ত্রীর বৈঠক করার কথা না বা এ রকম হয় না। সাধারণ প্রটোকল অনুযায়ী এটা হওয়ার কথাও না। এটা দৃষ্টিকটু হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমি তো জানি না, এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। আপনি আমাদের সংশ্লিষ্ট উইংয়ের (পশ্চিম এশিয়া অনুবিভাগ) সঙ্গে কথা বলেন। জানতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবীর বলেন, মিশনের লোকজন মন্ত্রীর কাছে আসবেন, মন্ত্রী সাধারণত মিশনে যান না। এটা সাধারণ অনুশীলনে নেই। কাজেই প্রচলিত কূটনৈতিক যে অনুশীলন, সেই অনুযায়ী এটা ঠিক কাজ হয়েছে বলে মনে করা যায় না। জ্ঞানের অভাব থেকে হয়তো না জেনেই করা হয়েছে। কিন্তু নিজেদের যেটা জানা নেই, সেটা জানার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলা যেত। হয়তো সেটা জরুরি মনে করেন না বলেই এ ধরনের অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশি জনশক্তি রপ্তানির শীর্ষ গন্তব্য সৌদি আরব। দেশটির সঙ্গে হজ, ওমরাহ ছাড়াও নানা স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় রয়েছে। বৃহৎ স্বার্থ থাকার পরও স্বাগতিক দেশের একজন মন্ত্রী প্রটোকল ভেঙে বিদেশি দূতাবাসে গিয়ে সাক্ষাৎ বা বৈঠক করতে পারেন না। একজন মন্ত্রী যখন এ ধরনের কাজ করেন, তখন কূটনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল হয়, কূটনীতিকদের জন্য দরকষাকষি করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই কূটনৈতিক প্রটোকলের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলদের আরও সতর্ক হওয়া দরকার।
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে নসিমনের মুখোমুখি সংঘর্ষে নসিমনচালক ও তার সহকারী নিহত হয়েছেন। শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে উপজেলার হাসাড়া–বাড়ৈখালী সড়কের লস্করপুর চকেরপাড়া নতুন রাস্তা মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বল্লভদী এলাকার আইয়ুব আলীর ছেলে মজনু (৩৬) এবং শিবরামপুর এলাকার মৃত সাধন মনি দাসের ছেলে দুলাল মনি দাস (৪২)। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, হাসাড়া এলাকায় কাঠ নামিয়ে নসিমন নিয়ে বাড়ৈখালীর দিকে ফিরছিলেন চালক। পথে লস্করপুর নতুন রাস্তা মোড়ে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ঢাকাগামী বৈশাখী পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নসিমনটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে নসিমনের চালক ও সহকারী গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা আহত দুজনকে উদ্ধার করে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনার পর বাসচালক ঘটনাস্থল থেকে বাস নিয়ে পালিয়ে যান। নিহত দুলাল মনি দাসের ভাই স্বপন মনি দাস জানান, শিবরামপুর হাট উপলক্ষে কাঠ নিয়ে হাসাড়া এলাকায় গিয়েছিলেন তার ভাই। সেখান থেকে ফেরার পথে বাসের ধাক্কায় তিনি ও নসিমনচালক প্রাণ হারান। শ্রীনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। দুর্ঘটনায় জড়িত বাসটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জুয়েল মিয়া বলেন, নিহতদের মরদেহ পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। এ ঘটনায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলায় এখনো জলাবদ্ধতা ও বন্যার প্রভাব রয়ে গেছে। তবে হবিগঞ্জ, রাঙামাটি, বান্দরবান, রামগড় ও লামাসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। শনিবার (২৫ জুলাই) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের জেলা ও উপজেলা তথ্য অফিসগুলোর সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, চট্টগ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় মাইকিংসহ বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত বসতবাড়িতে প্রবেশ না করা, বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা এড়ানো, সাপের কামড় থেকে সতর্ক থাকা এবং ত্রাণ গ্রহণের নামে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন না করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। এদিকে হবিগঞ্জ, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার, মৌলভীবাজার, রাঙামাটি ও বান্দরবানের অধিকাংশ এলাকায় বন্যার পানি নেমে গেছে। কক্সবাজারে নদ-নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার নিচে রয়েছে এবং গত ২৪ ঘণ্টায় কোনো পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেনি। মৌলভীবাজারে বন্যার কারণে কৃষিজমি, পুকুর এবং গ্রামীণ সড়কের কিছু ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি পুনর্বাসন কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বন্যা ও পাহাড়ধস-পরবর্তী সময়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের সহায়তায় কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।