চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশিদের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ডাকা অপারেশনাল কর্মবিরতিতে বন্দরের পরিচালন কার্যক্রমে প্রায় অচলাবস্থা চলছে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে বন্দর জেটিতে জাহাজ থেকে কনটেইনার ও পণ্য ওঠা-নামার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
বন্দরের কর্মচারী ও বন্দরে নিয়োজিত বেসরকারি শ্রমিকেরা কেউ কাজে যোগ না দেওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে এনসিটি ইজারা দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গতকাল (৩০ জানুয়ারি) এ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল।
কর্মসূচি অনুযায়ী আজ (শনিবার) সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সব ধরনের পরিচালন কার্যক্রম বন্ধ রেখে কর্মবিরতি এবং রোববার একইভাবে ৮ ঘণ্টা প্রশাসনিক ও অপারেশনাল কার্যক্রম স্থগিত রাখার কর্মসূচি দেওয়া হয়।
সকাল ৮টায় কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর বন্দরের তিনটি টার্মিনাল জিসিবি, সিসিটি ও এনসিটিতে পরিচালন কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এই তিন টার্মিনালে জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠা-নামার কার্যক্রমে প্রায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। শুধু এনসিটিতে বেসরকারি ডিপো থেকে আনা রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার জাহাজে তোলার কার্যক্রম চলছে।
বন্দর জেটি ও টার্মিনাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বার্থ অপারেটরস, শিপহ্যান্ডলিং অপারেটরস অ্যান্ড টার্মিনাল অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বোটসোয়া) সভাপতি ফজলে একরাম চৌধুরী বলেন, ‘জেনারেল কার্গো বার্থ বা জিসিবি টার্মিনালে জাহাজ থেকে কনটেইনার ও পণ্য ওঠানো-নামানোর জন্য আমরা শ্রমিক বুকিং দেওয়ার চেষ্টা করেও পারিনি। যন্ত্রপাতির অপারেটররাও কাজে যোগ দেননি। এ কারণে জিসিবিতে পরিচালন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।’
চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খোকন বলেন, কর্মসূচিতে কর্মচারী ও শ্রমিকেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছেন। বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে আমাদের এই কর্মসূচি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
শ্রম আইন লঙ্ঘন করে স্থায়ী কাজে ঠিকাদারি শ্রমিক নিয়োগ বাতিল করে ফিল্ড টেকনিশিয়ান ও অফিস স্টাফদের ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো (বিএটি) বাংলাদেশের স্থায়ী কর্মী হিসেবে নিয়োগসিহ ৪ দাবিতে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান ও মানববন্ধন করেছে প্রতিষ্ঠানটির শ্রমিকরা। আজ রবিবার (৩০ আগস্ট) সকালে বিএটিবি’র ফিল্ড টেকনিশিয়ান এবং অফিস স্টাফ শ্রমিক কল্যাণ ইউনিয়নের উদ্যোগে রাজধানীর বিজয়নগরে শ্রম ভবনের সামনে এক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে মন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসেবে মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন তারা। মানববন্ধন ও সমাবেশ শেষে সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করতে গেলে মন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসেবে মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন দুই শতাধিক শ্রমিক। তাদের ৪ দাবি হলো, ফিল্ড টেকনিশিয়ান পদকে বিএটি বাংলাদেশের স্থায়ী ও মূল কাজের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা; দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত ফিল্ড টেকনিশিয়ানদের অবিলম্বে বিএটিবির স্থায়ী শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ দেয়া; শ্রম আইন ও শ্রম বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিকার নিশ্চিত করা এবং দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার করা; এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম রোধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর হস্তক্ষেপ করা। বিএটিবিতে চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে শ্রম ভবনের সামনের সড়কে দুই ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন ও সমাবেশ শেষে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত সচিব) মো. ফরহাদ সিদ্দিকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন আন্দোলনকারী ফিল্ড টেকনিশিয়ান ও অফিস স্টাফদের প্রতিনিধিরা। এ সময় বিএটিবি’র ফিল্ড টেকনিশিয়ান এবং অফিস স্টাফ শ্রমিক কল্যাণ ইউনিয়নের সভাপতি আরিফুল ইসলাম বলেন, আমরা ২০১০ সাল থেকে অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে বছরব্যাপী ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানিতে স্থায়ী ধরনের কাজ করে আসছি। অর্থাৎ বিএটির তামাক চাষি নির্বাচন, চাষির সঙ্গে এগ্রিমেন্ট, বীজ বিতরণ, বীজতলা প্রস্তুতকরণ, চারার পরিচর্যা ও পর্যবেক্ষণ, চাষিদের সার ও কীটনাশক বিতরণ, নগদ টাকা ঋণের মাধ্যমে বিতরণ, তামাক রোপণ, পরিচর্যা ও পর্যবেক্ষণ, বার্ন ও শেড তৈরি, কোম্পানির বিভিন্ন অ্যাপস (বিজয় অ্যাপস, ব্যাটলাইফ অ্যাপস, এগ্রি ৩৬০)-এর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ, তামাকের মাঠে দিকনির্দেশনা, তামাক পাতা সংগ্রহ, কিউরিং, গ্রেডিং, বেল প্রস্তুতকরণ ও পর্যবেক্ষণ, পরিবহন, টিপি ইস্যু এবং লোন পরিশোধ, তামাক কোম্পানির গোডাউন পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছি। তিনি আরও বলেন, বছরের বাকি দুই মাস আমরা পরিবেশ ও জলবায়ু সংরক্ষণে সবুজ সার ও চাষিদের গাছের চারা বিতরণ এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মতো বিভিন্ন সামাজিক দায়িত্ব পালন করে আসছি। যা থেকে কোম্পানিটি প্রচুর মুনাফা এবং সরকারের নিকট থেকে বছরের পর বছর সুনাম কুড়িয়ে আসছে। কিন্তু আমরা সারা বছর বিএটিতে স্থায়ী ধরনের কাজ করার পরও তারা আমাদের সরাসরি নিয়োগ না দিয়ে ঠিকাদারের মাধ্যমে নিয়োগ দিয়ে আসছে। এটি বিদ্যমান শ্রম আইনের চরম লঙ্ঘন। কারণ শ্রম আইন ২০০৬ অনুযায়ী, বছরে ১৮০ দিনের বেশি কাজে ঠিকাদার, আউটসোর্সিং বা থার্ডপার্টি শ্রমিক নিয়োগের সুযোগ নেই। অথচ বহুজাতিক এ সিগারেট কোম্পানি শ্রমিকদের মুনাফার লভ্যাংশসহ ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করতে দীর্ঘ দেড় দশক ধরে ফিল্ড টেকনিশিয়ান ও অফিস স্টাফদের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম’এস এম লজিস্টিকস (প্রাঃ) লিমিটেডের মাধ্যমে নিয়োগ দিয়ে আসছে, যা শ্রম আইনের লঙ্ঘন। ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সামিউল ইসলাম বলেন, আমরা ফিল্ড টেকনিশিয়ানসহ যে পদগুলোতে নিরলসভাবে কাজ করছি, সেখানে আগে কোম্পানি কর্তৃক স্থায়ী জনবল ছিল। কিন্তু বহুজাতিক এই কোম্পানিটি তাদের কোটি কোটি টাকা অতিরিক্ত মুনাফা লাভের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে আমাদের স্থায়ী পদগুলোকে ঠিকাদারি বা আউটসোর্সিং প্রথার আওতায় নিয়ে আসে। এর মাধ্যমে বিগত ১৬ বছর ধরে আমাদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা, শ্রম আইন অনুযায়ী বাৎসরিক ৫% লভ্যাংশ এবং চাকরির ন্যূনতম নিরাপত্তা থেকেও বঞ্চিত করছে। তিনি আরও বলেন, “আমাদের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া অবস্থায় বিএটিবি এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম’এস এম লজিস্টিকস (প্রাঃ) লিমিটেডের চরম শ্রমিক নিপীড়ন ও আইনি চাতুর্যের খতিয়ান আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে কুষ্টিয়া, রংপুর, লালমনিরহাট, চট্টগ্রাম, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, রাজবাড়ী, মানিকগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ঢাকায় সমবেত হয়েছি। বিএটিবির প্রতিটি রিজিওনের রিজিওনাল ম্যানেজার বরাবর লিখিত আবেদন দিয়েছি গত ৭ জুন ২০২৬। একইসঙ্গে শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নে স্থানীয় কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরসহ সংস্থাটির মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত সচিব) মোঃ ফরহাদ সিদ্দিক মহোদয়ের কাছে ১৮ জুন ২০২৬ তারিখে আমরা লিখিত আবেদন জমা দিয়েছি। কিন্তু এখনও পর্যন্ত আমাদের দাবি বাস্তবায়নের কোনো অগ্রগতি না থাকায় আমরা ঢাকায় এসে প্রতিবাদ ও স্মারকলিপি প্রদানে বাধ্য হয়েছি। এসময় তিনি আরও বলেন, চাকরি স্থায়ীকরণের জন্য কুষ্টিয়ায় আল্লারদগা লীফ রিজিওনে ২১ জুলাই এবং রংপুর লীফ রিজিওনে ২২ জুলাই ২০২৬ তারিখে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছি। আমাদের আইনি আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ০৩ আগস্ট ২০২৬ ইং তারিখে রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত শুনানিতে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মহোদয়ের উপস্থিতিতে বিএটিবি’র ডিএলএম ও আরএম এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ তাদের আইনজীবী এবং এম’এস এম লজিস্টিকস (প্রাঃ) লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ডিরেক্টর উপস্থিত ছিলেন। শুনানিতে আমাদের অকাট্য আইনি যুক্তির সামনে কোণঠাসা হয়ে মালিকপক্ষ শেষ পর্যন্ত স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে এবং মুখে বলেছে ‘আইনে যদি সুযোগ থাকে বা শ্রমিকরা আইনে পায়, তবে আমাদের কোম্পানি তাদের স্থায়ী করবে। কিন্তু তারা আজও দাবি বাস্তবায়নের উদ্যোগ না নিয়ে উল্টো আন্দোলনরত শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মামলা, হয়রানিমূলক বদলিসহ নানা ধরনের হুমকি দিয়ে আসছে। রবিবার সকালে শ্রম ভবনে স্মারকলিপি প্রদান শেষে মিছিল নিয়ে সচিবালয়ের সামনে অবস্থান করেন করে বিএটিবি ফিল্ড টেকনিশিয়ান এবং অফিস স্টাফ শ্রমিক কল্যাণ ইউনিয়নের দুই শতাধিক শ্রমিক। পরে সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বরাবর স্মারকলিপি দেন বিএটিবি’র ফিল্ড টেকনিশিয়ান এবং অফিস স্টাফ শ্রমিক কল্যাণ ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ।
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে সরকার আগ্রহী বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। রোববার (৩০ আগস্ট) সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা ওসমানের সঙ্গে বৈঠকে এ কথা বলেন তিনি। বৈঠকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন। এসময় দুই দেশের মধ্যে জনশক্তি রপ্তানি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন এলজিআরডি মন্ত্রী। বৈঠকের শুরুতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফরের কথা উল্লেখ করে সফরটি সফল হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার। পরে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে বিশেষভাবে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি ও অনিবন্ধিত শ্রমিকদের নিবন্ধন, বাংলাদেশের প্রকৌশলীদের মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে হাসপাতাল নির্মাণ, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মালয়েশিয়ায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ এবং খেলাধুলার সামগ্রী উৎপাদনে সহযোগিতার বিষয় উঠে আসে। এছাড়া ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানি, নির্মাণ খাত এবং হালাল ফুডসহ বিভিন্ন খাতে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে জানান, আগামী ছয় মাসে মালয়েশিয়া বাংলাদেশ থেকে প্রায় দুই লাখ জনশক্তি নেয়ার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১০ হাজার কর্মী বিনা খরচে যাওয়ার সুযোগ পাবেন বলেও জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় আট লাখ নিবন্ধিত বাংলাদেশি জনশক্তি রয়েছে। নতুন করে আরও বাংলাদেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় পাঠানো এবং সেখানে অবস্থানরত অনিবন্ধিত শ্রমিকদের নিবন্ধনের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে এ কার্যক্রম শুরু হতে পারে বলে বৈঠকে জানানো হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও কার্যকর অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে রূপ দেয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করে। বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের যানজট নিরসন, ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং গণপরিবহণে শৃঙ্খলা ফেরাতে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রেস উইং জানায়, বৈঠকে এক্সপ্রেসওয়ে ও ফ্লাইওভারগুলোতে দ্রুত টোল আদায়ে আগামী চার মাসের মধ্যে ‘ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন’ (ইটিসি) ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর জন্য একটি বিশেষ অ্যাপ তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। রাজধানীর ভেতরের যানবাহনের চাপ কমাতে ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্থায়ী টার্মিনাল নির্মাণ সময়সাপেক্ষ হওয়ায় ঝিলমিল প্রকল্পে ১৫ একর জমিতে আগামী ৪ মাসের মধ্যে একটি অস্থায়ী বাস টার্মিনাল নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়। যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভারের যানজট নিরসনে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পূর্বপ্রস্তুতকৃত প্রতিবেদন পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুয়েটকে ১৫ দিনের মধ্যে সুপারিশসহ চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে, যা সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক পুলিশ যৌথভাবে বাস্তবায়ন করবে। শহরের মধ্যভাগের যানজট কমাতে কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেট দ্রুত গাবতলীতে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গাবতলী বাস টার্মিনালের পেছনের অংশ সম্প্রসারণ করে সক্ষমতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সড়ক বিভাগ ও ট্রাফিক পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের দ্রুত এই কাজ সম্পন্ন করতে বলা হয়। এছাড়া সচিবালয় ও আশপাশের সড়কে যানজট কমাতে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন ও সম্ভাব্য বিকল্প স্থানগুলোতে পার্কিং ব্যবস্থার সুযোগ খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে, রাজধানীতে অটোরিকশা চলাচল সুশৃঙ্খল ও নিয়ন্ত্রিত করতে খুব শিগগিরই একটি পৃথক নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে বলেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া অনুমোদনহীন ডাবল ডেকার স্লিপার বাস চলাচলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে রাজধানীর যানজট নিরসনে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যকার সমন্বয়হীনতা দূর করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজগুলো শেষ করতে কঠোর বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। উচ্চপর্যায়ের এ বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ, সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।