চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের খাটরা বিলওয়াই এলাকার তরুণ জুম্মান তপদার এখন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী (ইউএস আর্মি)-এর সদস্য। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই তরুণের এমন অর্জনে আনন্দিত তার পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসী।
জুম্মান তপদার খাটরা বিলওয়াই গ্রামের তপদার বাড়ির বাসিন্দা। তিনি বিল্লাল হোসেন তপদার ও শাহনাজ বেগম দম্পতির ছোট ছেলে। পাঁচ সদস্যের পরিবারে তাঁর দুই বোন ও এক ভাই।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জীবিকার তাগিদে ২০২৩ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান জুম্মান। নতুন দেশে গিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার পাশাপাশি ইউএস আর্মিতে যোগ দেওয়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি।
সেই লক্ষ্য পূরণে কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের পাশাপাশি ইউএস আর্মিতে যোগদানের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করেন জুম্মান। একপর্যায়ে সফলভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার সুযোগ পান তিনি।
জুম্মানের এই অর্জনে উচ্ছ্বসিত তার পরিবার ও স্বজনেরা। স্থানীয় বাসিন্দারাও তাঁর সাফল্যকে হাজীগঞ্জের জন্য গর্বের বিষয় হিসেবে দেখছেন। তাঁরা জুম্মানের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও কর্মজীবনের সাফল্য কামনা করেছেন।
জুম্মানের পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। তাঁর এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, পরিবার ও নিজ এলাকার জন্যও সম্মানের বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের খাটরা বিলওয়াই এলাকার তরুণ জুম্মান তপদার এখন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী (ইউএস আর্মি)-এর সদস্য। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই তরুণের এমন অর্জনে আনন্দিত তার পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসী। জুম্মান তপদার খাটরা বিলওয়াই গ্রামের তপদার বাড়ির বাসিন্দা। তিনি বিল্লাল হোসেন তপদার ও শাহনাজ বেগম দম্পতির ছোট ছেলে। পাঁচ সদস্যের পরিবারে তাঁর দুই বোন ও এক ভাই। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জীবিকার তাগিদে ২০২৩ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান জুম্মান। নতুন দেশে গিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার পাশাপাশি ইউএস আর্মিতে যোগ দেওয়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি। সেই লক্ষ্য পূরণে কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের পাশাপাশি ইউএস আর্মিতে যোগদানের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করেন জুম্মান। একপর্যায়ে সফলভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার সুযোগ পান তিনি। জুম্মানের এই অর্জনে উচ্ছ্বসিত তার পরিবার ও স্বজনেরা। স্থানীয় বাসিন্দারাও তাঁর সাফল্যকে হাজীগঞ্জের জন্য গর্বের বিষয় হিসেবে দেখছেন। তাঁরা জুম্মানের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও কর্মজীবনের সাফল্য কামনা করেছেন। জুম্মানের পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। তাঁর এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, পরিবার ও নিজ এলাকার জন্যও সম্মানের বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ফাইন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান ও ফ্রেন্ডস ক্লাবের নবনির্বাচিত সভাপতি ইসরাফিল খসরু বলেছেন, রাজনীতি রাজনীতির জায়গায়, ক্রীড়া ক্রীড়ার জায়গায় থাকবে। ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত রাখতে হবে। শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে নগরীর ফ্রেন্ডস ক্লাব প্রাঙ্গণে ক্লাবটির ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি কথা বলেন। জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে সাবেক সদস্য, কর্মকর্তা ও ক্রীড়া সংগঠকদের মিলনমেলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ইসরাফিল খসরু বলেন, ‘আমি মনে করি আমাদের সমাজে ভালো মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। আমরা যদি একতাবদ্ধ থাকি তাহলে ইনশাআল্লাহ আমরা চট্টগ্রামের স্পোর্টসকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব এবং চট্টগ্রামের স্পোর্টসের হারানো স্বর্ণযুগ আবার ফিরে আসবে। আপনারা চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনের প্রতিকৃতি। আপনারা ক্রীড়া সংগঠক, আপনাদের হাত ধরে চট্টগ্রামের খেলাধুলা আজ এই অবস্থানে এসেছে।’ তিনি বলেন, ‘আমাকে মন্ত্রীর ছেলে, বিসিবির পরিচালক, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, নবী চৌধুরীর নাতি অনেকভাবে পরিচিত করা হলেও সবকিছু ছাপিয়ে আমি সবচেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি আমার মূল পরিচয়, আমি চট্টগ্রামের সন্তান। এটাকে আমি নিজের মধ্যে ধারণ করতে না পারলে চট্টগ্রামকে নিয়ে কাজ করার যে পরিকল্পনা আমি করেছি, তা করতে পারব না। তাই আমাদের চট্টগ্রামকে মনে-প্রাণে ধারণ করতে হবে।’ চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে আবেগময় বক্তব্যে বিসিবি পরিচালক বলেন, ‘আমি যদিও রাজনীতি করি, তবুও একটি কথা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চাই, ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত রাখতে হবে। রাজনীতি রাজনীতির জায়গায়, স্পোর্টস স্পোর্টসের জায়গায় থাকবে। আমি এখানে এসেছি একজন স্পোর্টসম্যান হিসেবে, চট্টগ্রামের সন্তান হিসেবে, রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে নয়।’ ফ্রেন্ডস ক্লাবের দেওয়া সম্মানের কথা উল্লেখ করে ইসরাফিল খসরু বলেন, ‘চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডস ক্লাব আমাকে যে সম্মান দেখিয়েছে তাতে আমি অনেক সম্মানিত বোধ করছি। আমি চট্টগ্রামের সকল ক্লাবকে নিয়ে কাজ করতে চাই। সবাই আমার কাছে আসবেন। আমার ওপেন ডোর পলিসি। আমি সহযোগিতা করার চেষ্টা করব। অনেক ক্ষেত্রে পারব, হয়তো অনেক ক্ষেত্রে পারব না।’ ফ্রেন্ডস ক্লাবের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা হলেন আমার অভিভাবক। আপনারা আমাদের পথ দেখাবেন, পলিসি সেট করে দেবেন। আমার কাজ হলো তা সম্পন্ন করে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া।’ খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরে ইসরাফিল খসরু বলেন, ‘স্পোর্টসের মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক বিকাশ সাধিত হয়। একটি সুন্দর রাষ্ট্র গড়তে যে মূল্যবোধ প্রয়োজন, তা খেলাধুলার মধ্যে পাওয়া যায়। কেউ ভালো স্পোর্টসম্যান হলে ভালো নাগরিক হতে পারবেন।’ চট্টগ্রামে লিগ আয়োজন না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের লিগগুলো চট্টগ্রামে হচ্ছে না, দুই বছর হয়ে যাচ্ছে। খেলা যদি মাঠে না গড়ায় তাহলে খেলোয়াড় সৃষ্টি হবে না। খেলোয়াড়রা হল মূল চালিকাশক্তি।’ খেলোয়াড়দের যথাযথ সম্মান দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘আর একটা বিষয়, আমরা বাংলাদেশে খেলোয়াড়দের যথাযথ সম্মানটা দিই না। আপনি যদি খেলোয়াড়দের সম্মান দিতে না পারেন তাহলে খেলাধুলা আগাবে না। এটা ক্রীড়া সংগঠকদের মাথায় রাখতে হবে।’ খেলা মাঠে গড়ানোর তাগিদ দিয়ে ইসরাফিল খসরু বলেন, ‘ক্লাব ফুটবল, ক্রিকেট, হকিসহ সবগুলো ইভেন্টে লিগগুলো চালু করতে হবে। বাংলাদেশে খেলাধুলাকে বাঁচিয়ে রাখার মূল জায়গা হলো ক্লাবগুলো। লিগ না হলেও প্রত্যেকটা ক্লাব নিজের জায়গা থেকে খেলাধুলাকে বাঁচিয়ে রেখেছে।’ তিনি বলেন, ‘খেলাধুলা হচ্ছে, তবে আমাদের পরিকল্পিত খেলাধুলার দিকে আবার ফিরে যেতে হবে। লিগগুলো চালু করতে হবে। চালু করতে হলে এর সঙ্গে জড়িত বিষয়গুলো নিয়ে একসঙ্গে শুরু করতে হবে।’ চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়াম প্রসঙ্গে ইসরাফিল খসরু বলেন, ‘আমি আপনাদের আশ্বস্ত করে বলতে চাই, অর্থমন্ত্রী, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। চট্টগ্রাম স্টেডিয়ামকে কোনো নির্দিষ্ট খেলার জন্য দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এই জেলা স্টেডিয়াম উন্মুক্ত থাকবে সব ইভেন্টের জন্য।’ ফ্রেন্ডস ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রথম পর্বের আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন সাবেক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীর প্রতীক, সিজেকেএস ক্লাব সমিতির উপদেষ্টা হাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শাহাবুদ্দীন শামীম, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মহানগর ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও ক্রীড়া সংগঠক নুর, ক্লাবের সাবেক সভাপতি সৈয়দ আবুল বশর, সাবেক কর্মকর্তা একরামুল করিম এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক শ্যামা প্রসাদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সিজেকেএস কাউন্সিলর আমিনুল ইসলাম, ফরিদ আহমেদ, শাহাবুদ্দিন মো. জাহাঙ্গীর, আ ন ম ওয়াহিদ দুলাল, আলী আহসান রাজু, মো. সরওয়ার আলম মনি, এনামুল হক, সোহেল আহমেদ, হারুনুর রশীদ, সজিব বিকাশ বড়ুয়া টুটুল, সাবেক খেলোয়াড় ও কোচ নাজিম উদ্দীন নাজু, মনোয়ার হোসেন মুন্নাসহ ক্লাবের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা, ক্রীড়া সাংবাদিক ও সাবেক খেলোয়াড়রা। সভায় ক্লাবের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহীন আফতাব রেজা চৌধুরী ক্লাবের নবনির্বাচিত সভাপতি ইসরাফিল খসরু, সাধারণ সম্পাদক মান্না মজুমদার ও কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ফজলে রাব্বি খানকে পরিচয় করিয়ে দেন। পরে ক্লাবের পক্ষ থেকে তাদেরসহ অন্যান্য অতিথিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। এ সময় সিনিয়র সদস্যদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়।
কালুরঘাট ফেরীর ইজারা আদায়ের জন্য দ্বিতীয় দফা টেন্ডারে চারটি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে। আগামী তিন বছর ফেরী থেকে ইজারা আদায়ের লক্ষ্যে সড়ক ও জনপথ বিভাগ চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে দ্বিতীয় দফা টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছিল। টেন্ডারে চারটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আমানত শাহ এন্টারপ্রাইজ এবারও সর্বোচ্চ (প্রথম দফা টেন্ডারের মতো) দরদাতা হিসেবে ফেরীর ইজারা নেয়ার জন্য ৭ কোটি ১ লাখ টাকায় দরপত্র দাখিল করেছে। প্রথম দফা টেন্ডারে আমানত শাহ্ এন্টারপ্রাইজ ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকার দর দাখিল করেছে সর্বোচ্চ পর্যায়ের দরদাতা ছিল। এদিকে দ্বিতীয় দফা টেন্ডারে টে–নাইট লিমিটেড ৪ কোটি ৯৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং মাহফুজ এন্ড ব্রাদার্স আড়াই কোটি টাকায় ফেরীর তিন বছরের জন্য ইজারা নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে দরপত্র দাখিল করেছে। চারটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইদ্রিস এন্ড সন্স দরপত্র দাখিল করলেও কোনো পে অর্ডার দাখিল করেনি। যার ফলে এই দরপত্রটি বাতিল করা হয়েছে। গতবারের চেয়ে এবার ফেরীর ইজারা আদায়ে তিনগুণের বেশি দর উঠেছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের রহমতগঞ্জ নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে গত ২০ আগস্ট দাখিলকৃত টেন্ডার ওপেন করা হয়। এতে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্রম তালিকায় দেখা যায়, আমানত শাহ এন্টারপ্রাইজ সর্বোচ্চ ৭ কোটি ১ লাখ টাকায় ফেরীর ইজারা নিতে দরপত্র দাখিল করে। এই প্রতিষ্ঠানকে এক নম্বরে রাখা হয়েছে। দ্বিতীয় তালিকায় থাকা টে–নাইট লিমিটেড ৪ কোটি ৯৭ লাখ ৪০ হাজার টাকায় ইজারা নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে দরপত্র দাখিল করেছে, যা আমানত শাহ এন্টারপ্রাইজ থেকে ২ কোটি ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা কম। এই ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগ চট্টগ্রাম রহমতগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোসলেহউদ্দীনকে কয়েকবার ফোন করার পরও তিনি রিসিভ করেননি। তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগের রহমতগঞ্জ নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে আগামী ৩ বছরের জন্য ২০২৯ সাল পর্যন্ত কালুরঘাট ফেরী ইজারা দেয়ার জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। প্রথম দফায় টেন্ডারে কাঙ্ক্ষিত দর না পাওয়ায় সড়ক ও জনপথ বিভাগ দ্বিতীয় দফায় টেন্ডার আহ্বান করে। উল্লেখ্য, কালুরঘাট ফেরী ইজারার প্রথম দফায় আহ্বানকৃত টেন্ডার ওপেন করা হয়েছিল গত ১৫ জুলাই। প্রথম দফা টেন্ডারে সর্বোচ্চ ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকার দর দাখিল করেছিল আমানত শাহ্ এন্টারপ্রাইজ। এরপর দ্বিতীয় দরদাতা হিসেবে ২ কোটি ৫০ লাখ দর দাখিল করেছে মাহফুজ এন্ড ব্রাদার্স। সড়ক ও জনপথ বিভাগ চট্টগ্রামের রহমতগজ্ঞের নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কালুরঘাট ফেরীর চলমান ইজারা প্রক্রিয়ার মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর। টোল নীতিমালা অনুযায়ী চলমান ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার ন্যূনতম চার মাস পূর্বে নতুন ইজারাদার নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশনা রয়েছে। এই প্রেক্ষিতে আগামী তিন বছরের জন্য ফেরীর টোল আদায়ের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। সূত্র জানায়, এর আগে ২০২৩ সালে এই কালুরঘাট ফেরী সার্ভিস চালাতে ইজারাদার নির্বাচন করতে চট্টগ্রাম সড়ক বিভাগের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীকে সাত দফা টেন্ডার আহ্বান করতে হয়েছিল। সর্বশেষ ২ কোটি ১৪ লাখ টাকায় সর্বোচ্চ দরদাতা হিসাবে আমরিন অ্যান্ড ব্রাদার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে তিন বছরের জন্য এই ফেরী সার্ভিস ইজারা দেয়া হয়েছিল। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠান তিনবছর ধরে ফেরী থেকে ইজারা আদায়ে করে আসছে।