বিশ্ব

ব্রিটেনের শীর্ষ করদাতাদের তালিকায় রাজা চার্লস

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ২৬, ২০২৬
ছবি - সংগৃহীত
ছবি - সংগৃহীত

দীর্ঘ দশ বছরব্যাপী সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার পরও ঐতিহ্যবাহী বাকিংহাম প্যালেসে আর সপরিবারে থাকছেন না ব্রিটিশ রাজা চার্লস। রাজপরিবারের কর্মকর্তারা গতকাল (২৫ জুন) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর মধ্য দিয়ে প্রায় দুই শতাব্দী পর ব্রিটিশ রাজাদের প্রধান কার্যালয় ও প্রধান বাসভবন হিসেবে বাকিংহাম প্যালেস ব্যবহারের ঐতিহাসিক অধ্যায়ের অবসান ঘটতে যাচ্ছে।

 

একই সঙ্গে গতকাল কর্মকর্তারা প্রথমবারের মতো রাজার কর দেওয়ার হিসাব প্রকাশ্যে এনেছেন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজা চার্লস কর বাবদ ১ কোটি ২৯ লাখ পাউন্ড (প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার) পরিশোধ করেছেন, যা তাকে ব্রিটেনের শীর্ষ ১০০ করদাতার তালিকায় স্থান দিয়েছে। ২০২২ সালে রানি এলিজাবেথের মৃত্যুর পর রাজপরিবারের আর্থিক হিসাব-নিকাশ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সমালোচনা বাড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আর্থিক বিষয়ে আরও বেশি স্বচ্ছতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল রাজপরিবার।

 

আগামী বছর বাকিংহাম প্যালেসের দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার কাজ শেষ হবে। তবে রাজা চার্লস তার পুরোনো বাসস্থান লন্ডনের 'ক্ল্যারেন্স হাউস'-এই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বাকিংহাম প্যালেসের এই সংস্কার প্রকল্পের আওতায় মূলত জরাজীর্ণ বৈদ্যুতিক সংযোগ, পাইপলাইন এবং হিটিং সিস্টেম পরিবর্তন করা হচ্ছে।

 

২০১৭ সালে যখন এই সংস্কার কাজ শুরু হয়, তখন আশা করা হয়েছিল এটিই হবে ব্রিটিশ রাজাদের প্রধান বাসভবন; যেমনটি ১৮৩৭ সালে রানি ভিক্টোরিয়ার সিংহাসন আরোহণের পর থেকে হয়ে আসছিল।
রাজার কোষাধ্যক্ষ জেমস চ্যালমার্স জানিয়েছেন, বাকিংহাম প্যালেস সপরিবারে থাকার জন্য ব্যবহৃত না হলেও বিদেশি অতিথিদের স্বাগত জানানোসহ সব ধরনের রাষ্ট্রীয় ও আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের প্রধান কেন্দ্র হিসেবেই বহাল থাকবে।

 

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, 'এটি রাজতন্ত্রের প্রধান কার্যালয় এবং আমাদের জাতীয় ভবনগুলোর মুকুট হিসেবেই থাকবে। মহামান্য যখনই লন্ডনে থাকবেন, ভবনের ছাদে রাজকীয় পতাকা সগর্বে উড়তে থাকবে।'

জানা গেছে, ২০১৯ সালের পর থেকে রাজা চার্লস বা প্রয়াত রানি এলিজাবেথ কেউই বাকিংহাম প্যালেসে রাত কাটাননি। তবে প্যালেসে রাজার ব্যক্তিগত কক্ষগুলো আগের মতোই সংরক্ষিত থাকবে। প্রতি বছর প্রায় ৭ লাখ দর্শনার্থী এই ঐতিহাসিক ভবনটি পরিদর্শন করেন। এখন থেকে সাধারণ মানুষের জন্য এই প্রাসাদে প্রবেশের সুযোগ আরও বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন জেমস চ্যালমার্স।

 

আইন অনুযায়ী ব্রিটিশ রাজাকে আয়কর, ক্যাপিটাল গেইনস বা উত্তরাধিকার কর দিতে হয় না। তবে ১৯৯৩ সাল থেকে রানি এলিজাবেথ যেভাবে স্বেচ্ছায় কর দেওয়া শুরু করেছিলেন, রাজা চার্লসও সেই ধারা বজায় রেখেছেন। কিন্তু এর আগে কখনো কর পরিশোধের সুনির্দিষ্ট অংক প্রকাশ করা হয়নি।

 

১৩৯৯ সাল থেকে চলে আসা নিয়ম অনুযায়ী, ব্রিটিশ রাজারা 'ডাচি অব ল্যাঙ্কাস্টার' নামক বিশাল এক ভূসম্পত্তি থেকে ব্যক্তিগত আয় পেয়ে থাকেন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই সম্পত্তি থেকে রাজার আয় ছিল ২ কোটি ৫২ লাখ পাউন্ড। এর বাইরেও তার অন্যান্য সম্পদ ও বিনিয়োগ থেকে আয় রয়েছে।

 

কোষাধ্যক্ষ চ্যালমার্স জানান, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রাজা চার্লস ১ কোটি ১৭ লাখ পাউন্ড কর দিয়েছেন। ২০২২ সালে সিংহাসনে বসার পর থেকে এ পর্যন্ত তিনি ৩ কোটি পাউন্ডের বেশি কর পরিশোধ করেছেন।

ব্যক্তিগত আয়ের পাশাপাশি রাজপ্রাসাদের রক্ষণাবেক্ষণ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন এবং যাতায়াত খরচের জন্য সরকারের কাছ থেকে বার্ষিক অনুদান (সভেরেন গ্রান্ট) পেয়ে থাকেন রাজা। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এই অনুদানের পরিমাণ দাঁড়াবে ১৩ কোটি ৭৯ লাখ পাউন্ড। তবে চ্যালমার্স জানান, রাজার স্পষ্ট ইচ্ছার কারণেই ২০২৭-২৮ অর্থবছরে এই অনুদান কমিয়ে ১০ কোটি পাউন্ড করা হবে এবং ২০৩১-৩২ অর্থবছর পর্যন্ত তা অপরিবর্তিত থাকবে।

 

২০১৬ সালে বাকিংহাম প্যালেসের সংস্কার কাজের তহবিল জোগাতে অনুদান বরাদ্দের নীতিমালায় যে পরিবর্তন আনা হয়েছিল, তার চেয়ে বর্তমান বরাদ্দ প্রায় ৬ কোটি পাউন্ড বেশি। এই বরাদ্দের যৌক্তিকতা নিয়ে চ্যালমার্স বলেন, 'এটি কোনো ব্ল্যাঙ্ক চেক (উন্মুক্ত বরাদ্দ) নয়।' বরাদ্দের পরিমাণ যেন সুসংগত থাকে, তা নিশ্চিত করার জন্য সব ধরনের সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা রয়েছে।

 

এদিকে সিংহাসনের উত্তরাধিকারী প্রিন্স উইলিয়াম ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৭৭ লাখ ৬০ হাজার পাউন্ড কর দিয়েছেন বলে তার কার্যালয় জানিয়েছে। পাশাপাশি একটি বন্ধ কারাগার থেকে পাওয়া ১৫ লাখ পাউন্ড ভাড়া তিনি স্থানীয় সম্প্রদায়ের কল্যাণে দান করার নির্দেশ দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, সেনাবাহিনী, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা এবং স্কুলগুলোর কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে রাজপরিবারের মুনাফা করার যে সমালোচনা উঠেছিল, চার্লস ও উইলিয়াম তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

সূত্র: রয়টার্স

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

রাজপ্রাসাদ কিনলেন জাকারবার্গ

আয়ারল্যান্ডে প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো গথিক শৈলীর একটি ঐতিহাসিক দুর্গ বা রাজপ্রাসাদ কিনেছেন মেটা প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ ও তার স্ত্রী প্রিসিলা চ্যান। ‘স্ট্র্যানক্যালি ক্যাসল’ নামের এই রাজপ্রাসাদটি ৪৪০ একর জমির ওপর অবস্থিত। অর্থদাতা প্রতিষ্ঠান ফাইন্যান্সিয়ার মাইকেল অ্যালেন-বাকলির পরিবারের কাছ থেকে প্রাসাদটি কেনা হয়েছে, তবে এর সঠিক ক্রয়মূল্য প্রকাশ করা হয়নি। গত বৃহস্পতিবার জাকারবার্গের মুখপাত্র ব্রায়ান বেকার আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।   ব্রায়ান বেকার ‘দ্য নিউ ইয়র্ক পোস্ট’-কে বলেন, মার্ক ও তার পরিবার এই ঐতিহাসিক বাড়িটির যত্ন নেওয়া অব্যাহত রাখতে পেরে রোমাঞ্চিত। তারা আয়ারল্যান্ডে সময় কাটানোর জন্য মুখিয়ে আছেন, যেখানে মেটার আন্তর্জাতিক সদর দফতর অবস্থিত।   ব্ল্যাকওয়াটার নদীর তীরে অবস্থিত এই প্রাসাদটি ৩ তলা বিশিষ্ট এবং ১৬ হাজার বর্গফুট এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। এর বিক্রয়মূল্য জানা না গেলেও প্রাসাদটির আনুমানিক মূল্য ২ কোটি ৩০ লাখ ডলার থেকে ৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারের মধ্যে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   প্রাসাদটি আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন থেকে প্রায় ১২৫ মাইল দূরে অবস্থিত, যেখানে মেটার আন্তর্জাতিক সদর দফতর ও শহরের বাইরে একটি ডেটা সেন্টার রয়েছে। জাকারবার্গ ও তার পরিবার মূলত যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেও আয়ারল্যান্ড সফরের সময় এই সম্পত্তি ব্যবহার করবেন।   স্ট্র্যানক্যালি ক্যাসলটি ১৮২৭ থেকে ১৮৩০ সালের দিকে নির্মিত হয়েছিল। তৎকালীন ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ জন কেলির জন্য স্থপতি জেমস এবং জর্জ রিচার্ড পেইন এটি নকশা করেছিলেন। এর স্থাপত্যে বেলেপাথর ও চুনাপাথরের কারুকাজ ব্যবহার করা হয়েছে। অ্যালেন-বাকলি পরিবার গত ২৫ বছরে দুর্গটি একাধিকবার সংস্কার করেছে। এটি বর্তমানে সরকারঘোষিত তালিকাভুক্ত সংরক্ষিত একটি স্থাপত্য।   ‘দ্য হাউসেস অব আয়ারল্যান্ড’ বইয়ে প্রাসাদটির জাঁকজমক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। লেখক ব্রায়ান ডি ব্রেফনি এবং রোজমেরি ফোলিয়ট একে এতটাই বিলাসবহুল হিসেবে বর্ণনা করেছেন যে, সেখানে রান্নাঘর থেকে ডাইনিং রুমে পৌঁছাতে প্রায় ৪.৫ মিনিট সময় হেঁটে যেতে হয়।   সূত্র: উইয়ন নিউজ

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ২২, ২০২৬

কংগ্রেসে প্রথম আফগান-আমেরিকান হিসেবে ইতিহাস গড়লেন আয়েশা

ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার হামলায় কিয়েভে গুদামে আগুন, ২৪ ঘণ্টায় ২০০-এর বেশি সংঘর্ষ

ছবি: সংগৃহীত

আর্কটিক সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজ পাঠাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া

ছবি: সংগৃহীত
শিশুদের গোপনীয়তা লঙ্ঘনের মামলায় যুক্তরাষ্ট্রকে ৪০ কোটি ডলার দেবে টিকটক

শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রকে ৪০ কোটি ডলার দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে টিকটক। শিশুদের গোপনীয়তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম বড় নিষ্পত্তি। শনিবার বিবিসি এ খবর প্রকাশ করেছে।    ২০২৪ সালে টিকটক ও এর মূল প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সের বিরুদ্ধে মামলা করে মার্কিন বিচার বিভাগ। অভিযোগ ছিল, ১৩ বছরের কম বয়সী লাখো শিশুর কাছ থেকে প্রতিষ্ঠানটি বিপুল পরিমাণ ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করেছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের শিশুদের অনলাইন গোপনীয়তা সুরক্ষা আইন বা কপপার লঙ্ঘন।   চুক্তি অনুযায়ী, টিকটক ও বাইটড্যান্স তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন বিচার বিভাগকে ৩০ কোটি ডলার দেবে। পরে মার্কিন ফেডারেল ট্রেড কমিশনের সঙ্গে ২০১৯ সালের একটি সমঝোতা আদেশ প্রত্যাহার হলে আরও ১০ কোটি ডলার দিতে হবে।   যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রেট শুমেট বলেন, মামলাটি শুরুর সময়ের তুলনায় বর্তমানে শিশু ও অভিভাবকেরা বেশি সুরক্ষা পাচ্ছেন।   এর আগে শিশুদের গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ইউটিউব ২০১৯ সালে ১৭ কোটি ডলার এবং এপিক গেমস ২০২২ সালে ২৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার জরিমানা দিয়েছিল।   মার্কিন সরকারের অভিযোগ অনুযায়ী, মামলাটি দায়েরের সময় টিকটকে ১৭ কোটির বেশি কিশোর ব্যবহারকারী ছিল। কিন্তু প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহারকারীদের বয়স যথাযথভাবে যাচাই করতে এবং ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে অভিভাবকের অনুমতি নিতে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।   মামলার পর টিকটকের মালিকানা, গোপনীয়তা নীতি এবং তরুণ ব্যবহারকারীদের জন্য প্ল্যাটফর্ম নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে বলে মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে।   এদিকে টিকটকের যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রমের মালিকানাতেও পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রমের ৮১ শতাংশ একটি বিনিয়োগকারী জোটের মালিকানায় রয়েছে, আর বাইটড্যান্সের হাতে রয়েছে ১৯ শতাংশ অংশীদারি।   সূত্র: বিবিসি

মারিয়া রহমান আগস্ট ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

হরমুজকে ‘আমেরিকান ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখছেন ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তান সীমান্তে নিরাপত্তা বাহিনীর বড় অভিযান, নিহত ৪৯ সশস্ত্র যোদ্ধা

ছবি: সংগৃহীত

সিরিয়ার সামরিক ঘাঁটিতে ইসরায়েলি হামলা, নিন্দা জানাল ১২ দেশ

বেলজিয়ামের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রেভো।
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলো বৈধ নয়: বেলজিয়াম

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নতুন বসতি নির্মাণের পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে বেলজিয়াম। দেশটি ইসরায়েলের ই-১ বসতি প্রকল্পে নির্মাণকাজের জন্য দরপত্র আহ্বানের সিদ্ধান্তকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেছে।  ইরাকি বার্তাসংস্থা শাফাক নিউজ এ খবর প্রকাশ করেছে।  বেলজিয়ামের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রেভো বলেছেন, ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। একই সঙ্গে এটি ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘সরায়েলি বসতিগুলো অবৈধ।’ ই-১ প্রকল্প বন্ধ ও বসতি সম্প্রসারণ থামানোর আহ্বান জানিয়ে ১১টি দেশ যৌথ বিবৃতিও দিয়েছে। বেলজিয়ামের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, কানাডা, ফ্রান্স, ইতালি, নরওয়ে, নিউজিল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্য ও সুইডেন ওই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছে। দেশগুলো সতর্ক করে বলেছে, ই-১ এলাকায় বসতি নির্মাণ করা হলে পশ্চিম তীর কার্যত বিভক্ত হয়ে পড়বে। এতে ভবিষ্যতে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ভৌগোলিক সংযোগও বাধাগ্রস্ত হবে। গত ১৮ আগস্ট ইসরায়েল ই-১ এলাকায় ১ হাজার ২৩৪টি আবাসিক ইউনিট নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে। পুরো প্রকল্পে প্রায় ৩ হাজার ৪০১টি বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রায় ১২ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত ই-১ অঞ্চলটি অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেম ও ইসরায়েলি বসতি মালে আদুমিমের মাঝখানে অবস্থিত। ইসরায়েলের বসতি সম্প্রসারণের কারণে ফিলিস্তিনিদের উত্তর ও দক্ষিণ পশ্চিম তীরের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে বলে দীর্ঘদিন ধরে আশঙ্কা করে আসছে আন্তর্জাতিক মহল। ইসরায়েলি মানবাধিকার সংগঠন ইর আমিম, বিমকম ও পিস নাও এবং ফিলিস্তিনি বাসিন্দারা প্রকল্পের বিরুদ্ধে জরুরি আবেদন করেছেন। আইনি চ্যালেঞ্জ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্মাণের দরপত্র স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলোকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বড় অংশ আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় অবৈধ বলে মনে করে। তবে ইসরায়েল এই অবস্থান প্রত্যাখ্যান করে।

মারিয়া রহমান আগস্ট ২২, ২০২৬
ছবি: শাফাক নিউজ থেকে নেওয়া

দক্ষিণ লেবাননে আবারও ইসরায়েলি বিমান হামলা

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্য, যুক্তরাষ্ট্রের চাপে পড়ছে ইরাক

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন হুমকির জবাবে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি তেহরানের

0 Comments