অর্থনীতি

ব্যবসায় প্রবৃদ্ধি, তবুও ৩ মাসে তিতাস গ্যাসের লোকসান ২৪৯ কোটি

আক্তারুজ্জামান নভেম্বর ১৩, ২০২৫

দেশের সবচেয়ে বড়ো গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি পিএলসির ব্যবসায় প্রবৃদ্ধি হওয়া সত্ত্বেও বড়ো লোকসান হয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্র মালিকানাধীন এ কোম্পানিটির আয় হয়েছে সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকার বেশি। এই আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৭ শতাংশ বেশি। তা সত্ত্বেও উৎপাদন খরচের চাপে আলোচিত সময়ে কোম্পানির ২৪৯ কোটি টাকার বেশি লোকসান হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে কোম্পানির তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের সার সংক্ষেপ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে, কোম্পানির নিজস্ব ওয়েবসাইটে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

 

প্রতিবেদন দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে তিতাস গ্যাসের আয় হয়েছে ৯ হাজার ৬৫৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। আগের বছরের একই সময়ে যা হয়েছিল ৮ হাজার ২৬৭ কোটি ৬১ লাখ টাকা। অর্থাৎ আলোচিত তিন মাসে কোম্পানির আয় বেড়েছে ১ হাজার ৩৮৮ কোটি ১৩ লাখ টাকা বা ১৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

 

আলোচ্য সময়ে তিতাসের গ্যাস উত্তোলন ও সঞ্চালন বাবদ খরচ হয়েছে ৯ হাজার ৮২৬ কোটি ২৭ লাখ টাকা, যা কোম্পানির মোট আয়ের চেয়েও ১৭০ কোটি ৫৩ লাখ টাকা বেশি। এই বড়ো উৎপাদন ব্যয়ের ভারে কোম্পানিটি সার্বিকভাবে বড়ো লোকসান করেছে।

 

চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে তিতাস গ্যাসের কর পরবর্তী নিট লোকসান হয়েছে ২৪৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা। আগের বছরের একই সময়ে এই লোকসান হয়েছিল ১৮৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ আলোচিত তিন মাসে কোম্পানির লোকসান বেড়েছে ৬০ কোটি ৬১ লাখ টাকা বা ৩২ দশমিক ১৩ শতাংশ।

 

তিতাস গ্যাস ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে লোকসানে রয়েছে। ওই বছর কোম্পানির নিট লোকসান হয়েছিল ১৬৫ কোটি ১৪ লাখ টাকা। পরের বছরে এই লোকসান আরো বেড়ে ৭৪০ কোটি ৮ লাখ টাকা হয়েছিল। সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যা আরো বেড়ে ৭৭২ কোটি ৪ লাখ টাকা নিট লোকসান হয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অর্থনীতি

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ–চীন বাণিজ্য সম্পর্ক নতুন মোড় নিচ্ছে

বাংলাদেশকে শতভাগ পণ্যে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা দিচ্ছে চীন। তবে এ সুবিধা পেয়েও দেশটিতে পণ্য রপ্তানি বাড়ানো যায়নি। দুই দেশের মধ্যে প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বার্ষিক বাণিজ্যের মধ্যে ১৯ বিলিয়ন ডলারই চীনের অনুকূলে; বাংলাদেশের বাণিজ্য ১ বিলিয়ন ডলারেরও কম। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে এ বৈষম্য কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।   সূত্রগুলো জানায়, প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি ও প্রযুক্তি সহযোগিতাসহ ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বাণিজ্যঘাটতি কমানো, এলডিসি-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং বড় উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে চীনা অর্থায়ন। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়টি এত গুরুত্ব পাচ্ছে যে, বাংলাদেশের অবকাঠামো প্রকল্পে সহজ শর্তে অর্থায়নের জন্য চীনের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্যচুক্তির (এফটিএ) বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।   বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে চীন শতভাগ পণ্যে শুল্ক সুবিধা দিচ্ছে। এলডিসি উত্তরণের পর এই সুবিধা আর পাওয়া যাবে না।   সে কারণে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) দুই দেশের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কর্মকর্তারা জানান, এফটিএ চুক্তি করতে দুই দেশের মধ্যে একটি যৌথ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরে সমীক্ষার রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য ‘ভৌত বা প্রত্যক্ষ আলোচনা’ শুরুর বিষয়ে অগ্রগতি হতে পারে।   কৃষিপণ্য রপ্তানিতে সমঝোতা স্মারক : চীনে কৃষিপণ্য বিশেষ করে আম ও কাঁঠাল রপ্তানিতে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হতে পারে। চীনের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস সম্প্রতি বাংলাদেশি তাজা আম আমদানির ফাইটোস্যানিটারি (উদ্ভিদ স্বাস্থ্যবিষয়ক) প্রয়োজনীয়তা অনুমোদন করেছে। এ সফরে এ-সংক্রান্ত দ্বিপক্ষীয় প্রোটোকল চূড়ান্ত ও কার্যকর হতে পারে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বাংলাদেশের কৃষি খাতের জন্য এ সফরের সবচেয়ে বড় অর্জন হতে পারে চীনের বিশাল বাজারে আম ও কাঁঠাল রপ্তানির প্রটোকল স্বাক্ষর।    বাণিজ্য ও বিনিয়োগ-সংক্রান্ত যেসব বিষয় আলোচনায় থাকছে : প্রধানমন্ত্রীর সফরে পণ্য রপ্তানির পাশাপাশি সেবা খাতে চীনের বিনিয়োগ বাড়িয়ে বাণিজ্যঘাটতি কমানোর বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বাড়াতে সম্প্রতি চট্টগ্রামের আনোয়ারায় একটি ইকোনমিক জোনের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। মোংলায় দ্বিতীয় আরেকটি চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে বড় ধরনের অগ্রগতি হতে পারে। ডিজিটাল অর্থনীতি এবং তথ্য-প্রযুক্তিতে দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ জোরদার করতে একটি বিশেষ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হতে পারে। দুই দেশের মুদ্রা বিনিময় সহজ করতে বাংলাদেশে চীনের ব্যাংক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবের পাশাপাশি ‘বাংলাদেশ ব্যাংক’ এবং চীনের ‘ন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল রেগুলেটরি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’-এর মধ্যে ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স নিয়ন্ত্রণ-সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে। এ ছাড়া অবকাঠামো খাতে সহায়তা হিসেবে মোংলা পোর্টের আধুনিকায়ন ও সংস্কারের জন্য একটি ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি সইয়ের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে। চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু সংস্কার ও নতুন নবম চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে দুই দেশের মধ্যে লেটার অব এক্সচেঞ্জ বিনিময় হতে পারে। বহুল আলোচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা এবং সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে চীনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে। বাংলাদেশ চীনের গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এউও)-এ আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হতে সমঝোতা স্মারক সই করতে পারে। এ ছাড়া ব্রিকস ও আরসিইপি জোটে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিতে চীনের সমর্থন চাওয়া হবে।   বাংলাদেশ-চীন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিসিআই) প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, চীন আমাদের শতভাগ শুল্ক সুবিধার মাধ্যমে যে সুযোগটি দিয়েছে তা কাজে লাগানো যায়নি। এখন সময় তো কাজে লাগানোর। আমরা ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ নামে একটি ব্রান্ড হিসেবে চীনে পরিচিত হতে চাই।   সে লক্ষ্যে, প্রধানমন্ত্রীর সফর কেন্দ্র করে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূতের কাছে কিছু সুনির্র্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বিসিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে। এর মধ্যে চীনের বিভিন্ন শহরে ৩০টি আউটলেট স্থাপন, যেখানে বাংলাদেশি পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি হবে; টেকনোলজি ট্রান্সফার : চীনা প্রযুক্তি বিষয়ে বাংলাদেশিদের দক্ষতা বাড়াতে ২০টি পলিটেকনিক স্কুল স্থাপন; এবং বাংলাদেশে একটি ব্যাংক স্থাপন, যার মাধ্যমে দুই দেশের মুদ্রা বিনিময়ের পাশাপাশি বাণিজ্যিক এলসি করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

স্বর্ণ ও রুপার আজকের বাজারদর

ছবি: সংগৃহীত

রিজার্ভ চুরির পরও সুইফটের সার্ভার রুমে নিরাপত্তা দুর্বলতা, বলছে অন্তর্বর্তী সরকারের কমিটি

সংগৃহীত ছবি

রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড, এক বছরে ৩০.৩২ বিলিয়ন ডলার আয়

সংগৃহীত ছবি
সৌর শক্তিতে পাকিস্তানের অগ্রগতি থেকে শিক্ষা নিতে হবে: সিপিডি

বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে গতিশীল করতে নীতিগত সংস্কার, কর ও শুল্ক হ্রাস এবং সহজ অর্থায়ন নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, পাকিস্তানের সাম্প্রতিক ‘সৌর বিপ্লব’ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার ক্ষেত্র হতে পারে, বিশেষ করে রুফটপ সোলার ও বিতরণভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্প্রসারণে।     মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘পাকিস্তানে সৌর বিপ্লব: জাতীয় বাজেটের দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশের জন্য শিক্ষা’ শীর্ষক এক সংলাপের আয়োজন করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।     সংলাপে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে অগ্রসর হওয়ার রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা ইতিবাচক হলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।     সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, “পাকিস্তানে স্বল্প সময়ে সৌরবিদ্যুতের বিস্তৃত ব্যবহার বিদ্যুৎ খাতের চিত্র বদলে দিয়েছে। বাংলাদেশও জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারে।”     তিনি জানান, এবারের বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বৈদ্যুতিক যান (ইভি) ও ব্যাটারি শিল্পে কিছু কর ও রাজস্ব সুবিধা রাখা হয়েছে। তবে কৃষি খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।     তিনি আরও বলেন, “জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচির অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে সরকারি প্রতিষ্ঠানের ছাদ ব্যবহার করে প্রায় ৩ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।”     সংলাপে উপস্থাপিত ‘সোলার রাশ’ শীর্ষক প্রবন্ধে মোহাম্মদ বাসিত ঘৌরি বলেন, “বাংলাদেশ সৌরবিদ্যুতের রূপান্তরের এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। তবে উচ্চ কর, অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা এবং নীতিগত জটিলতা এ খাতের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে।”     তিনি জানান, ২০২৫ অর্থবছরে পাকিস্তানে সৌর প্যানেল আমদানি ১৭ দশমিক ৯ গিগাওয়াটে পৌঁছেছে, যা দেশটির গ্রিড সক্ষমতার চেয়েও বেশি। বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ২৮ থেকে ৩৮ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ স্থাপিত হয়েছে, যার বড় অংশই বিতরণভিত্তিক ব্যবস্থায়। তার ভাষ্যে, বিদ্যুতের উচ্চমূল্য ও গ্রিড ব্যবস্থার ওপর আস্থাহীনতা পাকিস্তানে সৌরবিদ্যুতের দ্রুত বিস্তারের প্রধান কারণ। পাশাপাশি চীনে উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে সৌর প্যানেলের দাম কমে যাওয়া এই খাতে ‘সোলার রাশ’ তৈরি করেছে।     তিনি আরও বলেন, “পাকিস্তানে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ৭৩ লাখ পরিবার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, যার বড় অংশই গ্রামীণ এলাকায়।” সৌরবিদ্যুতের কারণে বিপুল পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ কমেছে এবং আমদানি ব্যয় সাশ্রয় হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।    সংলাপে উপস্থাপিত আরেকটি গবেষণা প্রবন্ধে বলা হয়, বাংলাদেশের সোলার হোম সিস্টেম একসময় বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অফ-গ্রিড কর্মসূচি ছিল এবং দুই কোটির বেশি মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এনেছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই কর্মসূচির গতি কমে এসেছে এবং অনেক সিস্টেম অকার্যকর হয়ে পড়েছে।     গবেষণায় বলা হয়, দেশে বর্তমানে নেট-মিটারিংভিত্তিক রুফটপ সোলার স্থাপনার সংখ্যা সীমিত হলেও তা ধীরে ধীরে বাড়ছে। তবে উচ্চ কর, নেট মিটারিং অনুমোদনের জটিলতা, অর্থায়নের ঘাটতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়হীনতা খাতটির বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে।     অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ বলেন, “সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে কর-সুবিধা দিয়েছে এবং সেচ পাম্পসহ বিভিন্ন খাতে সৌরশক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে।”     বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক নীতি সহায়তা ও বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশও পাকিস্তানের মতো দ্রুতগতির সৌর রূপান্তরের পথে এগোতে পারে। 

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

প্রবাসীদের জন্য নতুন ‘টাকা হিসাব’ চালু করল বাংলাদেশ ব্যাংক

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বব্যাংকের ১৫০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা পাচ্ছে বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত

দেউলিয়া ৫ প্রতিষ্ঠানের ক্ষুদ্র আমানতকারীদের জন্য স্বস্তির খবর

ছবি: সংগৃহীত
দ্রুত পেনশন কার্যক্রম সম্পাদনের তাগিদ সিএজি’র

সম্মানিত পেনশনারদের পেনশন কার্যক্রম দ্রুত ও স্বচ্ছতার সাথে সম্পাদনের লক্ষ্যে বাংলাদেশের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি) মো. নূরুল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে সোমবার (২২ জুন) সিএজি কার্যালয়ে সিজিএ, সিজিডিএফ এবং এডিজি (অর্থ), বাংলাদেশ রেলওয়ে কার্যালয়ের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে Online Pension Tracking & Management System (OPTMS)-এর অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।    উক্ত সভায় Online Pension Tracking & Management System (OPTMS)-এর সর্বশেষ অগ্রগতির ওপর একটি উপস্থাপনা প্রদান করা হয় । উপস্থাপনায় জানানো হয় যে, হিসাব মহানিয়ন্ত্রক এর কার্যালয়, কন্ট্রোলার জেনারেল ডিফেন্স ফাইন্যান্স এর কার্যালয় এবং অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অর্থ) এর কার্যালয় সমূহে অবসর-উত্তর (Post-Retirement) অটোমেশনের সফলতার ধারাবাহিকতায় অবসর-পূর্ব (Pre-retirement) পর্যায়ের কার্যক্রমকে ডিজিটাল ও স্বয়ংক্রিয় করার লক্ষ্যে Online Pension Tracking & Management System (OPTMS) প্রস্তুত করা হয়েছে। এই সিস্টেসের মাধ্যমে সম্মানিত পেনশনার পেনশন আবেদন জমাদানের পর তার পেনশন ফাইলের সর্বশেষ অগ্রগতি কোন কার্যালয়ের কোন পর্যায়ে রয়েছে তা নিজেই অনলাইনে দেখতে পাবেন। উক্ত কার্যক্রম সফলভাবে ও অতি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সিজিএ, সিজিডিএফ ও এডিজি (অর্থ), বাংলাদেশ রেলওয়ে কার্যালয়কে এসপিএফএমএস কর্মসূচির সংশ্লিষ্ট কম্পোনেন্টের কারিগরি টিমের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ও  সর্বাত্মাক সহাযোগিতা নিশ্চিতকরণের জন্য সিএজি মো. নূরুল ইসলাম নির্দেশ প্রদান করেন।  সভায় OPTMS-এ সিজিএ কার্যালয়ের সুপারিশসমূহ অন্তর্ভুক্তকরণ, সিজিডিএফ ও এডিজি (অর্থ), বাংলাদেশ রেলওয়ে এর সংশ্লিষ্ট Business Process দ্রুত প্রস্তুত ও প্রেরণ, ইএলপিসি (ELPC) ইস্যুর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন এবং সার্ভিস স্টেটমেন্ট সংক্রান্ত বিষয়ে পেনশনভোগীদের ভোগান্তি হ্রাসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেন। বাংলাদেশের কম্পট্রোলার এন্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি) আশা প্রকাশ করেন যে, সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগে OPTMS দ্রুত পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করবে এবং এর মাধ্যমে দেশের পেনশনভোগীরা অধিক স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সময়োপযোগী ডিজিটাল পেনশন সেবা লাভ করবেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

স্বর্ণ বেচাকেনায় ভ্যাট কমেছে, স্বস্তিতে ক্রেতা-বিক্রেতা

ছবি: সংগৃহীত

অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে দুই বছর লাগবে, সমৃদ্ধির আশা চতুর্থ-পঞ্চম বছরে: অর্থমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

পাঁচ আর্থিক প্রতিষ্ঠান, দায়িত্বে বসছে প্রশাসক

0 Comments